ভুলে যাওয়া ইতিহাস

ভুলে যাওয়া ইতিহাস যে জাতি তার শেকড় চেনে না,
তার পতন অনিবার্য।
(1)

আজ খিলাফত হারানোর ১০২ বছর।কিন্তু ১০০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই আল্লাহ তায়ালার সেনাবাহিনী খোরাসানের ভূমিতে খেলাফতের পতাকা উড়িয়...
03/03/2026

আজ খিলাফত হারানোর ১০২ বছর।
কিন্তু ১০০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই আল্লাহ তায়ালার সেনাবাহিনী খোরাসানের ভূমিতে খেলাফতের পতাকা উড়িয়ে দিয়েছেন।

01/23/2026

পাকিস্তান আন্দোলন ছিল মুসলমানদের একটি ইসলামী শরিয়া পরিচালিত রাষ্ট্র দেওয়ার জন্য।

দেশ ভাগের পর জামাতিদের গুরু সেই ফাকিস্তান সবচেয়ে বেশি সেসব আলেমসমাজ এবং মুসলমানদের হত্যা করেছে যারা পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য তথা শরিয়া নিয়ে সোচ্চার ছিল।

জামাতিরা ক্ষমতায় গেলে সবচেয়ে বেশি সেসব মুসলমানদের নিশ্চিহ্ন করবে, যারা শরিয়া আইনের পক্ষে কথা বলবে। এই দমনপীড়ন স্বয়ং হাসিনাকেও ছাড়িয়ে যাবে। এর প্রমাণ হলো জামাতে নায়বে আমির মার্কিন রাষ্ট্রদূত এর কাছে গিয়ে বলেছে চরমোনাইয়ের ইসলামী আন্দোলন একি উগ্রবাদী গোষ্ঠী।

তো চিন্তা করেন তাইলে, যারা চরমোনাইয়ের মত দ্বীন বিকৃতকারী মডারেট গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকে বলছে উগ্রবাদী গোষ্ঠী, তারা শরিয়ার পক্ষে সোচ্চার মুসলমানদের কত বড় হুমকি মনে করে নিজেদের জন্য? এই শ্রেণীর মানুষ তাদের কাছে হত্যাযোগ্য। তারা ক্ষমতায় আসলে ২০ বছর আগে জর্জ বুশের ঘোষিত ক্রুসেডের কাজ শেষ করবে লাশের স্তুপ ফেলে।

01/23/2026

পাকিস্তান আন্দোলন ছিল মুসলমানদের একটি ইসলামী শরিয়া পরিচালিত একটি রাষ্ট্র দেওয়ার জন্য।

দেশ ভাগের পর জামাতিদের গুরু সেই ফাকিস্তান সবচেয়ে বেশি সেসব আলেমসমাজ এবং মুসলমানদের হত্যা করেছে যারা পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য তথা শরিয়া নিয়ে সোচ্চার ছিল।

জামাতিরা ক্ষমতায় গেলে সবচেয়ে বেশি সেসব মুসলমানদের নিশ্চিহ্ন করবে, যারা শরিয়া আইনের পক্ষে কথা বলবে। এই দমনপীড়ন স্বয়ং হাসিনাকেও ছাড়িয়ে যাবে। এর প্রমাণ হলো জামাতে নায়বে আমির মার্কিন রাষ্ট্রদূত এর কাছে গিয়ে বলেছে চরমোনাইয়ের ইসলামী আন্দোলন একি উগ্রবাদী গোষ্ঠী।

তো চিন্তা করেন তাইলে, যারা চরমোনাইয়ের মত দ্বীন বিকৃতকারী মডারেট গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকে বলছে উগ্রবাদী গোষ্ঠী, তারা শরিয়ার পক্ষে সোচ্চার মুসলমানদের কত বড় হুমকি মনে করে নিজেদের জন্য? এই শ্রেণীর মানুষ তাদের কাছে হত্যাযোগ্য। তারা ক্ষমতায় আসলে ২৫ বছর আগে জর্জ বুশের ঘোষিত ক্রুসেডের কাজ শেষ করবে লাশের স্তুপ ফেলে।

আন্দালুস পতনের ৫৩৩ বছর২ জানুয়ারি ১৪৯২ সালে পতন ঘটে গ্রানাডার। হাতছাড়া হয়ে যায় মুসলমানদের স্বপ্নের আন্দালুস। আলহামরার প্র...
01/03/2026

আন্দালুস পতনের ৫৩৩ বছর

২ জানুয়ারি ১৪৯২ সালে পতন ঘটে গ্রানাডার। হাতছাড়া হয়ে যায় মুসলমানদের স্বপ্নের আন্দালুস।

আলহামরার প্রাচীরের উপর দাঁড়িয়ে দ্বাদশ মুহাম্মাদ আবু আব্দুল্লাহ শেষবারের মতো তাকালেন গ্রানাডার দিকে। মিনার থেকে ভেসে আসা আজানের ধ্বনি আর শোনা যায় না; বাতাসে ভাসছে কেবল খ্রিস্টবাদের বিজয়োল্লাস। চোখ ভিজে আসে তাঁর। এই নগরী শুধু একটি রাজ্য ছিল না, ছিল স্মৃতি, জ্ঞান, সভ্যতা আর শতাব্দীর লালিত এক স্বপ্ন।

পাহাড়ের পথ ধরে নীরবে সরে যেতে যেতে আবু আব্দুল্লাহ থেমে গেলেন। পেছনে ফেলে আসা গ্রানাডার দিকে তাকিয়ে চাপা স্বরে কাঁদলেন। তখন তার মা আয়েশা আল হুরাহ দৃঢ় কণ্ঠে বললেন—
“যে রাজ্য পুরুষের মতো রক্ষা করতে পারলে না, তার জন্য নারীর মতো কাঁদছ কেন?”

সেই কথার সঙ্গে সঙ্গে স্তব্ধ হয়ে গেল এক যুগ, নিভে গেল আটশো বছরের দীপশিখা। গ্রানাডার পতনের সঙ্গে শুধু একটি নগরী নয়, ভেঙে পড়ল মুসলমানদের স্বপ্নের আন্দালুস, ইতিহাসের বুকে রয়ে গেল এক দীর্ঘশ্বাস।

বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা১৫ আগস্ট — কাবুল বিজয় দিবসচার বছর আগের এই দিনে ইসলামি ইমারাতের নেতৃত্বাধীন মুজাহিদিন সেনারা পশ্চিমা ...
08/15/2025

বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা
১৫ আগস্ট — কাবুল বিজয় দিবস
চার বছর আগের এই দিনে ইসলামি ইমারাতের নেতৃত্বাধীন মুজাহিদিন সেনারা পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী বর্বর দখলদারদের আফগান ভূমি থেকে বিতাড়ন করে। পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামি শাসনব্যবস্থা।

পারমাণবিক গণহত্যার প্রথম অধ্যায়: হিরোশিমায় আমেরিকার অপরাধ৮০ বছর আগের ৬ আগস্ট, ১৯৪৫। সময়ের পাতায় একটি তারিখ, কিন্তু মানবে...
08/06/2025

পারমাণবিক গণহত্যার প্রথম অধ্যায়: হিরোশিমায় আমেরিকার অপরাধ

৮০ বছর আগের ৬ আগস্ট, ১৯৪৫। সময়ের পাতায় একটি তারিখ, কিন্তু মানবেতিহাসে একটি কালো অধ্যায়।

সেই দিন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ লগ্নে, তৎকালীন বিশ্বের উদীয়মান পরাশক্তি আমেরিকা জাপানের হিরোশিমা শহরের উপর প্রথমবারের মতো পারমাণবিক বোমা ফেলেছিল। এটি কোনো সামরিক ঘাঁটি ছিল না, ছিল একটি ব্যস্ত বেসামরিক শহর।

এই হামলায় মুহূর্তের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার নিরপরাধ মানুষ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। অসংখ্য মানুষ তৎক্ষণাৎ নিহত হন, আবার অনেকেই পরবর্তীতে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ও বোমার ধ্বংসাত্মক প্রভাবে নানা রোগে ভুগে মৃত্যুবরণ করেন। বহু শিশু জন্মায় বিকলাঙ্গ হয়ে, বহু পরিবার চিরতরে হারায় তাদের প্রিয়জনদের।

এই ঘটনার মাধ্যমে আমেরিকা মানবতার ইতিহাসে পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে গণহত্যার প্রথম রেকর্ড নিজের নামে লিখে নেয়। যুক্তরাষ্ট্র যা দাবি করে ‘যুদ্ধ শেষ করার জন্য দরকার ছিল’—তা আসলে ছিল এক প্রকার চিকিৎসাহীন নিষ্ঠুরতার মহড়া।

যুদ্ধ শেষের আগে জাপানের আত্মসমর্পণের সম্ভাবনা প্রবল ছিল। এমনকি একাধিক ঐতিহাসিক প্রমাণ বলে, জাপান আত্মসমর্পণের পথে এগোচ্ছিল। তা সত্ত্বেও কেন এই বোমা ফেলা হলো?

উত্তর স্পষ্ট: আমেরিকা বিশ্ববাসীকে দেখাতে চেয়েছিল কে আসল ক্ষমতার অধিপতি। এই হামলা ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং সমগ্র বিশ্বের প্রতি একটি শক্তির দম্ভোক্তি। বলা চলে, হিরোশিমা ছিল একটা পরীক্ষাগার, আর লক্ষ প্রাণ ছিল এক নিষ্ঠুর পরীক্ষার শিকার।

হিরোশিমা: এক চলমান কান্না
__
আজও হিরোশিমার মানুষ এই হামলার ভার বয়ে বেড়াচ্ছে।জেনেটিক বিকৃতি, ক্যানসার, মানসিক ট্রমা, এবং সামাজিক ভয়, সব মিলিয়ে এক অনিঃশেষ যন্ত্রণা। এই ভয়াবহতার দায় থেকে আমেরিকা কখনোই প্রকৃতভাবে নিজেকে দায়ী মনে করেনি, বরং বরাবরই নিজের “বিজয়” গাঁথা গেয়েছে। আজও পর্যন্ত আমেরিকা এই কুকর্মার জন্য ক্ষমা চায়নি।

এই অপরাধকে অপরাধ বলার সাহস থাকা দরকার
___
আজকের তথাকথিত মানবাধিকার বিশ্ব, যেখানে শিশুদের এক ফোঁটা চোখের পানিতে মানবতা কাঁদে,
তারা কিভাবে হিরোশিমার লক্ষ প্রাণের মৃত্যুকে সামরিক কৌশল বলে সাদা করে দিতে চায়?
এই হল সেই ন্যায়বিচারের মুখোশধারী সভ্যতা, যেখানে আগ্রাসী রাষ্ট্রের অপরাধও বৈধতা পায়।

হিরোশিমা কেবল ইতিহাস নয়, এটা একটা সতর্কবার্তা। যদি দানবিক শক্তির মুখোশ খুলে সত্যের মুখোমুখি না হই, তবে ভবিষ্যতের হিরোশিমাগুলো ঠেকানো যাবে না।

মুহাম্মাদ বিন কাসিমের বেদনাদায়ক পরিণতি১৮ জুলাই, ৭১৫ খ্রিস্টাব্দইসলামি ইতিহাসের এক হৃদয়বিদারক দিন। এই দিনে আমরা হারিয়েছিল...
07/18/2025

মুহাম্মাদ বিন কাসিমের বেদনাদায়ক পরিণতি

১৮ জুলাই, ৭১৫ খ্রিস্টাব্দ
ইসলামি ইতিহাসের এক হৃদয়বিদারক দিন। এই দিনে আমরা হারিয়েছিলাম এক তরুণ নায়ককে, যিনি ইসলামের পতাকা ভারতের সিন্ধু প্রদেশে প্রথমবারের মতো উত্তোলন করেছিলেন। তিনি ছিলেন মুহাম্মাদ বিন কাসিম আস সাকাফি— শুধু একজন সেনাপতি নন, বরং এক আদর্শ, এক দিগ্বিজয়ী মহানায়ক। তাঁর অপরাধ ছিল তিনি ছিলেন হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের ভাতিজা ও জামাতা। এটাই যথেষ্ট ছিল খলিফা সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিকের রোষের শিকার হওয়ার জন্য।

মাত্র ১৭ বছর বয়সে মুহাম্মাদ বিন কাসিম সিন্ধু বিজয় করে ইসলামের দিগন্ত বিস্তৃত করেন। তাঁর সাহসিকতা, দূরদর্শিতা ও ন্যায়বিচার সিন্ধুর জনগণের হৃদয় জয় করেছিল। বিজিত জনপদে তিনি কোনও দমননীতি নয়, বরং সহানুভূতি ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা করেন।

৭১৪ সালে হাজ্জাজের মৃত্যুর পরের বছর খলিফা হন ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিক। ওয়ালিদের মৃত্যুর পর তার ভাই সুলাইমান খিলাফতের মসনদে বসেন। কিন্তু হাজ্জাজ ছিলেন ওয়ালিদের একান্ত বিশ্বস্ত ও সমর্থক, এবং ভবিষ্যৎ খলিফা নির্বাচনেও তাঁর ভূমিকা ছিল স্পষ্ট। এ কারণেই সুলাইমানের হৃদয়ে জন্ম নেয় হাজ্জাজের প্রতি প্রচণ্ড বিদ্বেষ।

সুলাইমান প্রতিশোধ নিতে শুরু করেন হাজ্জাজের সমস্ত ঘনিষ্ঠ সেনাপতি ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। একে একে সবাইকে পদচ্যুত করা হয়। এরই অংশ হিসেবে মধ্য এশিয়া বিজয়ী কুতাইবা বিন মুসলিম ও সিন্ধু বিজয়ী মুহাম্মাদ বিন কাসিমকেও অপসারণের সিদ্ধান্ত নেন। ইরাকের নতুন গভর্নর করা হয় ইয়াজিদ ইবনে মুহাল্লাবকে এবং সিন্ধুর শাসনক্ষমতায় মুহাম্মাদের স্থলাভিষিক্ত হন ইয়াজিদ ইবনে আবি কাবশা, যিনি হাজ্জাজের শাসনে একসময় বন্দী ও নির্যাতিত হয়েছিলেন।

নতুন গভর্নর ইয়াজিদ মুহাম্মাদ বিন কাসিমকে শিকলে বেঁধে ইরাকে পাঠিয়ে দেন। অথচ মুহাম্মাদ চাইলে তার সেনাবাহিনীকে সাথে নিয়ে স্বাধীন রাজ্য গড়ে তুলতে পারতেন। কিন্তু খেলাফতের প্রতি আনুগত্যই তাঁর বড় পরিচয় ছিল। তিনি বিদ্রোহের বদলে অনুগত্যকেই বেছে নেন। বড় ফিতনার উত্থান হলে যেন খেলাফতে বিদ্রোহ ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য শাসকের অন্যায় হুকুমের কাছেই নিজের জীবন কুরবানি দিয়ে দেন।

নবম শতকের খ্যাতিমান ইতিহাসবিদ আহমাদ ইবনে ইয়াহিয়া আল-বালাযুরী উল্লেখ করেন,
মুহাম্মাদ বিন কাসিমকে হত্যা করা হয় রাজনৈতিক ও পারিবারিক প্রতিহিংসার জেরে। সুলাইমান মুহাম্মাদ বিন কাসিমের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন ছিলেন। কারণ তিনি মনে করতেন, মুহাম্মাদ তারই বিরুদ্ধে একপ্রকার বিদ্রোহ করেছেন এভাবে— হাজ্জাজের আদেশে তিনি এক সময় খেলাফতের উত্তরাধিকার সংক্রান্ত সুলাইমানের অবস্থানকে অস্বীকার করেছিলেন। সম্ভবত সুলাইমান তার ভাই পূর্ববর্তী খলিফা ওয়ালিদের আনুগত্যের কারণেই মুহাম্মাদের প্রতি এত আক্রোশ ছিল।

সিন্ধুর নতুন গভর্নর হিসাবে নিয়োগ পান ইয়াজিদ ইবনু আবি কাবশা, যিনি পূর্বে হাজ্জাজের হাতে অপমানিত ও বন্দী ছিলেন। তিনি ইরাকের নতুন সামরিক গভর্নর ইয়াজিদ ইবনু আল-মুহাল্লাব এবং নতুন অর্থনৈতিক গভর্নর সালিহ ইবনু আব্দুর রহমানের অধীনে কাজ করতেন। সালিহ ছিলেন একজন মুক্ত-ক্রীতদাস, যার ভাইকে হাজ্জাজের শাসনামলে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

খলিফা সুলাইমানের নির্দেশে সিন্ধুর বদলি গভর্নর ইয়াজিদ ইবনু আবি কাবশা মুহাম্মাদ বিন কাসিমকে গ্রেপ্তার করে শিকলে বেঁধে ইরাকে পাঠান। সেখানে সালিহ প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে মুহাম্মাদ বিন কাসিম ও তাঁর আত্মীয়দের উপর নির্মম নির্যাতন চালান এবং শেষ পর্যন্ত তাঁদের হত্যা করেন।

পরবর্তীতে সিন্ধুর অবস্থা
---
মুহাম্মদ বিন কাসিমের বিদায়ের পর নতুন নিয়োজিত গভর্নর ইয়াজিদ বিন আবি কাবশা কিছুদিন পরেই মারা যান। এরপর রাজা দাহিরের পুত্র ব্রাহ্মণাবাদ পুনরায় দখল করে। আনুমানিক ৭২০ খ্রিস্টাব্দে, তাঁকে ক্ষমা করে প্রশাসনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়; ইসলাম গ্রহণের শর্তে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই সে ইসলাম ত্যাগ করে বিদ্রোহ করে বসে; ঠিক সেই সময়ে যখন উমাইয়া খেলাফত উত্তরসূরি সংকটে জর্জরিত ছিল। পরে, জুনায়েদ ইবনে আবদুর রহমান আল-মুররি তাকে (জয়সিয়াহকে) হত্যা করেন এবং সেই অঞ্চল পুনরায় দখল করেন। তবে তাঁর উত্তরসূরিরাও সেই অঞ্চল ধরে রাখতে হিমশিম খেতেন।

আব্বাসীয় আমলে, আনুমানিক ৮৭০ খ্রিস্টাব্দে স্থানীয় আমিররা খেলাফতের প্রতি আনুগত্য ত্যাগ করে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ১০ম শতকের মধ্যে অঞ্চলটি দুটি স্বতন্ত্র রাজ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে— সিন্ধু নদীর নিম্নপ্রবাহে মানসুরাহ এবং উপরপ্রবাহে মুলতান। এ দুটোই ছিল দক্ষিণ এশিয়ায় আরব শাসিত প্রধান রাজ্য। কিছুদিন পর অভিশপ্ত ইসমাইলি শিয়ারা এই অঞ্চলগুলো দখল করে সেখানে একটি স্বাধীন ফাতেমীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে।

তিন শতাব্দী ধরে দক্ষিণ পাকিস্তানের এই আরব বিজয় থমকে থাকে, কারণ উত্তরে এবং পূর্বে ছিল শক্তিশালী হিন্দু রাজারা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটে গজনীর সুলতান মাহমুদের আগমনের মাধ্যমে।
.
একজন তরুণ নায়ক, যিনি জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছিলেন ইসলামের জন্য কীভাবে আত্মোৎসর্গ করতে হয়, শেষ পর্যন্ত নিজ শাসকের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে অকালে ঝরে যান। তাঁর এই করুণ পরিণতি ইতিহাসে আমাদের বলে, বীরত্ব কখনো শুধু শত্রুর মোকাবেলায় নয়, কখনো কখনো নিজ গৃহের ছায়াতলেই সবচেয়ে নির্মমতার শিকার হতে হয়।

07/17/2025

দুঃখজনকভাবে আমরা প্রথম ক্রুসেডের ওপর লেখা আর্টিকেলটি প্রকাশ করতে পারছি না। কারণ গুগল কিপ থেকে কোনোভাবে সেটা ডিলিট হয়ে গেছে। আমরা আর সেটা রিকভার করতে পারিনি।

পাঠকদের দুদিন অপেক্ষায় রাখার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। ইনশাআল্লাহ আমরা আবার প্রবন্ধটি লেখা শুরু করবো ইনশাআল্লাহ।

১৫ জুলাই ১০৯৯ | প্রথম ক্রুসেড এবং ৭০ হাজার লাশ--আজ থেকে ঠিক ৯২৬ বছর আগের এই দিনে প্রথম ক্রুসেডে বর্বর খৃস্টান বাহিনী চরম...
07/15/2025

১৫ জুলাই ১০৯৯ | প্রথম ক্রুসেড এবং ৭০ হাজার লাশ
--

আজ থেকে ঠিক ৯২৬ বছর আগের এই দিনে প্রথম ক্রুসেডে বর্বর খৃস্টান বাহিনী চরম ধূর্ত শিয়া ফাতিমীয়দের থেকে জেরুজালেম দখল করে নেয়। এর ফলে প্রথমবারের মতো জেরুজালেমে ৪৬৪ বছরের মুসলিম শাসনের পতন ঘটে।

শহর দখল করে খৃস্টান বাহিনী ইতিহাসের ভয়ঙ্করতম এক গণহত্যা চালায় শহরের অধিবাসী মুসলিম ও কিছু ইহুদীদের ওপর। নিকটতম ঐতিহাসিক ইবনুল আসিরের মতে ক্রুসেডাররা সেদিন ৭০ হাজার মানুষকে হত্যা করে।

ক্রুসেডার সৈনিক গেস্টা ফ্রাঙ্কোরাম নিজে লিখেছে—
❝ক্রুসেডার সেনাপতি যুবরাজ ট্যানক্রেড ১৬ জুলাই আল আকসা মসজিদের প্রাঙ্গণেই কয়েক হাজার মুসলমানকে জবাই করে হত্যা করে। যাদেরকে প্রথমদিন সে নিজেই ওয়াদা দিয়েছিল আল আকসা মসজিদে আশ্রয় নিলে মসজিদের পবিত্রতার স্বার্থে তাঁদেরকে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। কিন্তু রক্ত পিপাসু ভাইকিং–নরম্যান যুবরাজ নিজ ধর্মের কথিত পবিত্রতার কথাও সেদিন ভুলে গিয়ে মুসলিমদের রক্তের হোলি খেলায় মেতে ওঠে।
মসজিদ প্রাঙ্গণে এত বেশি রক্ত ছিল যে, আমাদের অশ্বারোহীদের পা রক্তে ডুবে গিয়েছিল। সেদিন আমরা কাউকেই রেহাই দিইনি।❞

খ্রিস্টান ধর্মযাজক ফুচার অফ চার্ট্রেস লিখেছে,
❝সেদিন ক্রুসেডাররা নিহতদের শরীর ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে ফেলে। মুসলিম শিশুদের গাছের কাঁটায়, খুঁটিতে বিদ্ধ করে নির্মম উল্লাস করে৷ এটা ছিল রক্তের মহোৎসব।❞

বিস্তারিত আসছে....

ঐতিহাসিক শহীদি আযানের ৯৪ বছর--১৮৪৬ সালে অভিশপ্ত বৃটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মাত্র ৭৫ লাখ রুপির বিনিময়ে মুসলিমদের ভূমিগোট...
07/14/2025

ঐতিহাসিক শহীদি আযানের ৯৪ বছর
--

১৮৪৬ সালে অভিশপ্ত বৃটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মাত্র ৭৫ লাখ রুপির বিনিময়ে মুসলিমদের ভূমিগোটা কাশ্মীর ভূখণ্ডকে আরেক অভিশপ্ত ডোগরা রাজা গুলাব সিং এর কাছে বিক্রি করে দেয়।

ভূমির প্রকৃত মালিক মুসলিমদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার তোয়াক্কা না করে অভিশপ্ত জাতি বৃটিশরা তাদেরই আরেক গোলাম হিন্দু জমিদারদের হাতে মুসলিমদের ভূখণ্ড বিক্রি করে দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই গোটা ভূখণ্ডে অশান্তির দাবানল জ্বলে ওঠে।

এমনই উত্তাল সময়ে কাশ্মীরের উধমপুর জেলায় একজন ব্যবসায়ী ইসলাম গ্রহণ করলে হিন্দুরা তাঁর সম্পত্তি জোরপূর্বক কেড়ে নিয়ে তাঁর হিন্দু ভাইকে দিয়ে দেয়। বাধ্য হয়ে তিনি মামলা করেন। কিন্তু হিন্দু বিচারক তাঁকে শর্ত দিয়ে বসে- পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে না আসলে তিনি আর নিজের জমির মালিক থাকবেন না।

১৯৩১ সালের এপ্রিল মাসের ২৯ তারিখ। কাশ্মীরের মুসলমানরা ঈদুল ফিতরের নামায আদায় করেন। নামাজের ইমামতি করেন মুফতি মুহাম্মদ ইসহাক। নামাযের পর তিনি তাঁর খুতবায় মুসা আলাইহিস সালাম ও অত্যাচারী অহংকারী শাসক ফেরাউনের ঘটনা সম্পর্কিত পবিত্র কুরআনের কয়েকটি আয়াত তিলাওয়াত করে এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন। ধারণা করা হয় তিনি ঐ নওমুসলিম ব্যবসায়ীর জমি হারানোর ঘটনাকে ইঙ্গিত করে ফেরাউনের অত্যাচারের উদাহরণ টানেন।

ঘটনাস্থলে পুলিশের ডি আই জি চৌধুরী রামচাঁদ ও সাব-ইন্সপেক্টর বাবু খেমচাঁদ ডিউটিতে ছিল। মুফতি ইসহাক খুতবায় ফেরাউনকে নিষ্ঠুর ও অত্যাচারী শাসক বললে তৎকালীন ফেরাউন হরি সিং এর গোলাম ঐ পুলিশ কর্মকর্তাদের গায়ে লাগে।
এই দুই পুলিশ কর্মকর্তা তাদের ফেরাউন রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের উস্কানি দেওয়ার অজুহাতে ইমাম মুফতি ইসহাককে ঈদের নামাজ ও পরবর্তী জুমার নামাজেও খুতবা না দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

মুসলমানদের ধর্মপালনে হিন্দু শাসকের এমন ন্যাক্কারজনক হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে আন্দোলনের ডাক দেন ‘ইয়ং মুসলিমস এসোসিয়েশন’ দলের নেতা মীর হোসাইন বখশ। সমগ্র কাশ্মীর উপত্যকা উত্তাল হয়ে ওঠে। লাখ লাখ মুসলমান ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় রাজপথে নেমে আসেন।

বিক্ষোভ সমাবেশের এক পর্যায়ে মুসলমানরা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে রণবীর পেনাল কোডের ২৯৬ নং ধারা অনুযায়ী মুসলমানদের ধর্ম পালনে হস্তক্ষেপের জন্য হিন্দু পরিদর্শকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। কিন্তু হিন্দু ম্যাজিস্ট্রেট “খুতবা জুমুআর নামাজের অংশ নয়” এমন উদ্ভট যুক্তিতে মামলা খারিজ করে দেয়।
ওদিকে আদালত প্রাঙ্গণে উগ্র হিন্দুরা স্লোগান দিতে থাকে, "খেম চাঁদ কি জয়", "হিন্দু ধর্ম কি জয়"!

মুসলমানরা এই পক্ষপাতিত্বমূলক রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভ-সমাবেশ করতে থাকে। অন্য দিকে রাজা হরি সিংয়ের গুণ্ডাবাহিনী ও হিন্দুরা মুসলমানদের সমাবেশে চোরাগুপ্তা হামলা চালাতে থাকে।

এমন উত্তাল পরিস্থিতিতে আগুনে ঢালে কিছু উগ্র হিন্দু যুবক। ১৯৩১ সালের ২০শে জুন শ্রীনগরের হিন্দু অধ্যুষিত এলাকার একটি টয়লেটে কিছু উগ্র হিন্দু যুবক পবিত্র কুরআনের পাতা ছিঁড়ে পৈশাচিক উল্লাসে ফেটে পড়ে।
শ্রীনগরের এ ঘটনার পর গোটা কাশ্মীর উপত্যকায় মুসলমানদের আন্দোলন আরো তীব্রতর হতে থাকে।

কিংবদন্তী আব্দুল কাদির খান
----------------------

“আমার ভাইয়েরা! সময় এসেছে সকল অত্যাচার ও বর্বরতার অবসান ঘটানোর। আমাদের কোনো ফেরাউনি অপশক্তির ছায়া থাকা উচিত নয়। তারা কখনোই আপনাদের শান্ত করার জন্য কুরআন অবমাননার বিচার করবে না। নিজেদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে লড়া ছাড়া আমাদের সামনে দ্বিতীয় আর কোনো পথ খোলা নেই। ওদের মেশিনগান আছে, আমাদের নেই। তাতে কি? আমাদের কাছে ইট আর পাথর তো আছে। তাই দিয়েই লড়ে যাব।”

আবদুল কাদির। সোয়াত উপত্যকা থেকে আসা আবদুল ক্বাদির খান নামের এ যুবক চাকরি করতেন পেশোয়ারে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্টের মেজর বাটের অধীনে। তিনি তার নিয়োগকর্তার সাথে শ্রীনগরে এসেছিলেন গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটাতে। নাসিমবাগের একটি হাউস বোটে অবস্থান করছিলেন।

কুরআন শরীফ ছেঁড়ার ঘটনার পর থেকেই সমগ্র কাশ্মীরে প্রতিদিনই চলছিলো বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা। আব্দুল কাদিরও তখন বিক্ষোভ-সমাবেশে যোগদান করছিলেন। কুরআনের অবমাননা সইতে পেরে আব্দুল কাদির শ্রীনগরে খানকায়ে মাওলা মসজিদের প্রাঙ্গণে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে দাঁড়িয়ে এক আগুনঝরা ভাষণ দেন। সেই ভাষণেই তিনি উপরোল্লিখিত কথাগুলো বলেন।

সভায় ছদ্মবেশে থাকা ডোগরা প্রশাসনের গোয়েন্দারা তার এই বক্তব্য রেকর্ড করে নেয়। গভীর রাতে তিনি নাসিমবাগে ফিরে আসেন। তখন তাকে গেস্টাপো (গোপন পুলিশ) অনুসরণ করে। পরদিন ২৫শে জুন তার নিয়োগকর্তার হাউস-বোট থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ডোগরা প্রশাসন রণবীর পেনাল কোডের ১২৪ ও ১৫৩ ধারার অধীনে তাঁর ওপর রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আনে।

আবদুল কাদিরের গ্রেফতারের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে মুসলমানরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তীব্র জনস্রোতের ফলে পেশোয়ার পর্যন্ত যাতায়াত ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। ৪ জুলাই শ্রীনগরের দায়রা জজ আদালতে তার বিচার শুরু হয়। জুলাইয়ের ৪, ৬, ৭ এবং ৯ তারিখে চারটি তার মামলার শুনানি চলাকালীন এই বিচারের সাক্ষী হওয়ার জন্য কয়েক হাজার মুসলমান আদালতের প্রাঙ্গণে সমবেত হতেন।

শহীদি আযান
-------------------------

১৩ই জুলাই রবিবার আবদুল কাদির খানের মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল শ্রীনগর কেন্দ্রীয় কারাগারে। সকাল থেকেই কয়েক হাজার কাশ্মীরি মুসলমান আবদুল কাদিরের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

ম্যাজিস্ট্রেটকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য সবধরনের অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেইট পুলিশ সুপার, একজন ইন্সপেক্টর, ২ জন সাব ইন্সপেক্টর, ৫ জন হেড কনস্টেবল এবং ৪৪ জন পুলিশ সদস্য নিয়ে বিচারস্থলে আসেন।
এই বাহিনীর মধ্যে ২২ জন পুলিশ রাইফেল আর বাকিরা হ্যান্ডকাফ নিয়ে আসেন। আর ইন্সপেক্টরদের হাতে রিভলভার ছিল। এছাড়া কারাগারের ১১৯ পুলিশ সদস্য ডান্ডা এবং ১৯ জন পুলিশ রাইফেলে সজ্জিত ছিল।

কয়েক হাজার মুসল্লি কেন্দ্রীয় কারাগারের বাইরে জড়ো হন। দায়রা জজ আদালতে প্রবেশের পর তারা কম্পাউন্ডে প্রবেশের অনুমতি চান।
এক হিসেব অনুযায়ী চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ এই বিচারে সাক্ষ্য দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু মামলার শুনানি শুরু হওয়ার আগেই প্রায় দুই শতাধিক লোকের একটি দল কম্পাউন্ডে প্রবেশ করে জেল গার্ড লাইনের বাইরে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করে ।

হিন্দু ডোগরা পুলিশদের নিরাপত্তায় হিন্দু বিচারক জেলগেটে আসলে “ইসলাম জিন্দাবাদ, আবদুল ক্বাদির জিন্দাবাদ, আমাদের রায়বেরেলির ভাইকে মুক্তি দাও, রাওয়ালপিন্ডির ভাইকে মুক্তি দাও, আমাদের ভাইকে মুক্তি দাও-আমাদের বন্দি কর” স্লোগানে স্লোগানে জেলগেট মুখরিত করে তোলেন উপস্থিত প্রতিবাদকারীরা।

বেলা পৌনে ১ টার দিকে শান্তিপূর্ণভাবে জোহরের নামাজ আদায় করার জন্য কাতারে দাঁড়ান মুসলমানরা। আযান দেয়ার জন্য সামনে এগিয়ে আসেন আবদুল খালিক শোরা নামের এক যুবক। তার মুখ থেকে “আল্লাহু আকবার” আওয়াজ বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভয়ে কেঁপে ওঠে উপস্থিত ডোগরা রাজার কর্মকর্তারা।

হিন্দু গভর্নর ত্রিলোক চাঁদ পুলিশকে গুলি চালাতে নির্দেশ দেয়। আযানের প্রথম বাক্য শেষ না হতেই পুলিশ গুলি চালায় আবদুল খালেক শোরার ওপর। শাহাদাতের কোলে ঢলে পড়েন তিনি। এগিয়ে আসেন আকবর দার নামের আরেক যুবক। আযানের পরের লাইন উচ্চারণের সাথে সাথে আবারো পুলিশ গুলি চালায়। লুটিয়ে পড়েন তিনিও।

এভাবে উসমান মিসদার, আমীর উদ্দিন মাকায়ী, মুহাম্মাদ সুলতান খান - একে একে ২২ জন এগিয়ে আসেন আযান শেষ করতে। প্রত্যেককেই গুলি করে শহীদ করে দেয় হিন্দু ডোগরা পুলিশ।

আযান শেষ হতেই ইট-পাথর ছুঁড়ে পুলিশকে থামানোর চেষ্টা করে দিশেহারা কাশ্মীরি মুসলমানরা। প্রায় ঘন্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষ শেষ হলে শহীদানের লাশ উদ্ধার করা হয়। আহত অবস্থায় উদ্ধার হন প্রায় শতাধিক।

এ ঘটনার জন্য গঠিত তদন্ত কমিশন জানায়, সেদিন মুসলমানদের ওপর ১৮০ রাউন্ড গুলি চালায় হিন্দু পুলিশ। ১৯৩১ সালের ২৮ জুলাই ভারতীয় মিডিয়া দ্য হিন্দু, ডেইলি ট্রিবিউন ২২ জন মুসলমানের শাহাদাতের ঘটনাকে 'অত্যন্ত ভয়াবহ ছিল' বলে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে।

শহীদদের জানাজা
--------------------
১৫ জুলাই ২২ জন শহীদের লাশ শ্রীনগরের 'খানকায়ে মাওলা মসজিদ' প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়। এখানেই শহীদানের জানাযা হয়। শ্রীনগরে খাজা বাহাউদ্দীন নকশবন্দীর মাজারের কবরস্থানে শহীদদের দাফন করা হয়। জায়গাটির নতুন নাম রাখা হয় 'মাযার-ই শুহাদা' বা শহীদদের কবরস্থান।

'ইয়াং মেন'স মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন' এর তৎকালীন নেতা চৌধুরী গোলাম আব্বাস খান তার আত্মজীবনীতে দিনটিকে স্মরণ করতে গিয়ে লিখেন-
'সেদিন আকাশ হঠাৎ ভয়ানক কালো মেঘে ছেয়ে যায়। মিছিলটি জামিয়া মসজিদে পৌঁছানোর সাথে সাথে শহরটি এক অস্বাভাবিক ধূলিঝড় প্রত্যক্ষ করে। সেদিন সরকার সামরিক আইন জারি করে এবং সেনাবাহিনীর কাছে শহর' হস্তান্তর করে।

সেদিনই কাশ্মীরের স্বাধীনতার বীজ অঙ্কুরিত হয়
---------------------
জ্যোতি ভূষণ দাস গুপ্ত তার 'জম্মু ও কাশ্মীর' বইয়ে লিখেছে-
আধুনিক কাশ্মীরের "স্বাধীনতা আন্দোলন" এর জন্ম হয় মূলত ১৯৩১ সালের ঐ ১৩ জুলাইতেই।

কাশ্মীরের সেক্যুলার রাজনীতিবিদ প্রেম নাথ বাজাজ লিখেছেন-
"ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিকভাবে ১৩ জুলাই ১৯৩১ ছিল সমসাময়িক কাশ্মীরের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিন থেকেই প্রকাশ্যে শুরু হয় কাশ্মীরের মুক্তি ও স্বাধীনতা সংগ্রাম"।

কাদির খানের কী হয়েছিল?
--------------------------

কাদিরকে বলা মেজর বাটের কথাগুলো অনুপ্রাণিত করেছিল বলে মনে হয়- 'তোমার প্রভুকে গিয়ে বলো কাশ্মীরকে এই অত্যাচারী শাসন থেকে মুক্ত করতে।' তাই তো লাখো কাশ্মীরীর দোয়া শ্রদ্ধা নিয়ে নীরবেই নিজের রবের কাছে চলে গেলেন।

কথিত রাষ্ট্রদ্রোহের মিথ্যা দাবি তুলে আব্দুল কাদিরের ফাঁসির রায় দেয় অভিশপ্ত ডোগরা ডোগরা প্রশাসনের হিন্দু বিচারক। ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার পর আবদুল কাদিরের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। কোথায় তাঁকে দাফন করা হয়েছিল কেউ জানে না।
নাম না জানা অনেক বীরের আত্মত্যাগ কাশ্মীরের স্বাধীনতার ইতিহাসের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।

শহীদদের আত্মত্যাগ আজও চির ভাস্বর
----------------------
মুসলমানদের অব্যাহত জুলুম, কুরআন অবমাননা ও একজন মুসলিম ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দেওয়া ২২জন মুসলিম যুবকের শাহাদাত কাশ্মীরের রক্তাক্ত ইতিহাসকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে। কাশ্মীরী মুসলিম যুবকদের এই কুরবানি ফেরাউনি শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য তাবৎ বিশ্বের পরাধীন জাতিগুলোর জন্য জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

১৯৩১ সালের এ ঘটনার পর থেকে ১৩ জুলাইকে কাশ্মীরে শহীদ দিবস হিসেবে স্মরণ করা হতো। পাকিস্তানেও দিনটি কাশ্মীর শহীদ দিবস হিসেবে আজও পালিত হয়।

২০১৯ সালে ভারত কাশ্মীরে এই দিনটিতে থাকা সরকারি ছুটি বাতিল করে। ভারত এই দিনটিকে কাশ্মীরের ইতিহাস থেকে বিলুপ্ত করতে নানা অপকৌশলে লিপ্ত হয়। কিন্তু অত্যাচারী ফেরাউনরা জানে না- রক্তে লেখা ইতিহাস কখনো কলমের কালি দিয়ে মোছা যায় না।

--
সৌজন্যে: ভুলে যাওয়া ইতিহাস: জানতে হবে আবার

07/11/2025

যে বর্বরতা মধ্যযুগের ভাইকিং দস্যুদের নির্মমতাকেও হার মানায়....

Address

Miami, FL
9458123

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ভুলে যাওয়া ইতিহাস posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Museum

Send a message to ভুলে যাওয়া ইতিহাস:

Featured

Share

Category