09/10/2024
আমাদের যাদের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে মফস্বল বাংলায় তাদের কাছে মহাষষ্ঠীই ছিল দুর্গোৎসবের সূচনাকাল। মাসদুয়েক ধরে চলতে থাকা কাউন্টডাউনের জিরো আওয়ার। সবচে কাছের প্যান্ডেলে ঢাকের আওয়াজ বুকের ভেতর হিল্লোল তুলে দিত। ঘুম থেকে উঠে কিশোর-মান্না-সন্ধ্যা-আরতির নতুন এলবাম বেজে উঠলেই টানা বর্ষায় স্যাঁতসেঁতে শরীর-মন-বাড়িঘর-পথঘাট কেমন সোনালি রোদ্দুরে ভরে যেত!
অবশ্য একটু বড় হয়ে শিক্ষালাভের আশায় কলকাতায় আসবার পর জানতে পারলাম এখানকার শৈশব-কৈশোর-যৌবন তাদের উদযাপন শুরু করে দেয় ষষ্ঠীর আগে থেকেই। আমরা যাকে বলতাম 'ঠাকুর দেখা' এখানে সেটা 'প্যান্ডাল হপিং'। তারপর গত পঁচিশ বছরে আরো অনেক কিছু বদলে বদলে গেছে। আমার তোমার মনে কিন্তু মহাষষ্ঠীতে সেই বোধনের ছবিটাই পার্মানেন্ট হয়ে আছে।
এবারের পুজো আমাদের কাছে নিঃসন্দেহে নিরানন্দময়। আত্মীয় বিয়োগ, বন্ধু বিয়োগের ব্যথা তো আছেই, সেসব ছাপিয়ে রয়েছে নারীহত্যার কালো অশৌচ। আমাদের মত যারা বছরভর জীবিকার জন্য পুজোর ভরসায় অপেক্ষা করে তাদের জন্যও এবারের পুজোবাজার হতাশার। আলোর রোশনাই, পথে ভিড়, ঝলমলে পোশাকের মিছিল সব পেরিয়ে কোথাও যেন বেজে চলেছে এক করুণ রাগের সানাই। মন ভাল নেই কারো।
তবু মা আসেন গ্রহ-নক্ষত্রের নির্ঘণ্ট মেনে। আসেন মানব কল্যাণের জন্য। এই কটা দিন তাঁর সন্তানেরা বিবাদ ভুলে একসঙ্গে তাঁকে ভক্তিভরে অঞ্জলি দিই, প্রার্থনা করি সবার মঙ্গল হোক। আমার সমস্ত বন্ধুবান্ধব শুভাকাঙ্খীদের জানাই দুর্গাপুজোর প্রীতি ও শুভেচ্ছা।
ছবি সৌজন্যে: Artist Leo Bose Arts