08/02/2026
আমাদের প্রিয় বন্ধু, গবেষক, গবচন্দ্র, জ্ঞানতীর্থ, জ্ঞানরত্ন সলিম খাঁ।
মূর্খের রাজ্যে এমন চিন্তক 'একমেবাদ্বিতীয়ম'।
সলিম খাঁ দীর্ঘদিন রতিকর্ম থেকে বিরত আছে। এই বিরত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মহিমান্বিত ঘটনা। এটি নিঃসন্দেহে চরম বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক প্রতিরোধ! পশ্চিমা নন্দনতত্ত্বের পরিভাষায় যেটিকে বলা যায় ‘সেলিব্যাসি অ্যাজ অ্যান আইডিওলজিক্যাল স্ট্রাগল’ বা এক প্রকার 'তাত্ত্বিক সন্ন্যাস'।
আপনারা জানেন, ইতোপূর্বে বাংলা সাহিত্যের 'কাউন্ট' ছফা ছাড়া আর কেউই এই রতিকর্মে বিরতি পালন করতে পারেনি।
ফ্রয়েডের ‘সাবলিমেশন’ কিংবা জ্যাঁ লাঁকার ‘ডিজায়ার’ তত্ত্ব দিয়ে ব্যবচ্ছেদ করলেই বোঝা যায়, বঙ্গীয় ভণ্ড বুর্জোয়া সমাজে ‘কাউন্ট’ আহমদ ছফা ব্যতিরেকে আর দ্বিতীয় কোনো সত্তা এইপ্রকার মহিমান্বিত ও ঐতিহাসিক কর্মবিরতি পালন করবার হিম্মত দেখাতে পারে নাই!
'কাউন্ট' ছফা যেভাবে রতিকর্ম প্রত্যাখ্যান করে নিজের বুদ্ধিভিত্তিক সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছিলেন, আমাদের বন্ধু সলিম খাঁ ঠিক সেভাবেই নিজের সমস্ত 'কামজ শক্তিকে' একীভূত করে এক তাত্ত্বিক বিস্ফোরণকে রূপান্তর করে 'রতিকর্মে বিরতি' শিরোনামে একটি অসামান্য, অসাধারণ, অতুলনীয় গ্রন্থ প্রসব করেছেন।
বাংলাদেশ প্রতিদিন ভোগবাদী নব্য-উদারনৈতিক সংস্কৃতির নর্দমায় নিমজ্জিত হচ্ছে, তাই আমাদের পক্ষে পবিত্র গ্রন্থ 'রতিকর্মে বিরতির' মাহাত্ম্য অনুধাবন করা অসম্ভব! কারণ, সলিম খাঁর রতিকর্ম বিষয়টি ব্যক্তিগত সংযম নয়, বরং মূর্খের রাজত্বে দাঁড়িয়ে এক পরম রাজনৈতিক প্রতিবাদ!
উল্লেখ্য যে, বিগত আওয়ামী লীগ আমলে তিনি নিয়মিত রতিকর্ম করতে সক্ষম ছিলেন। কিন্তু ২০২৪ থেকে চলতি ২০২৬ সালে তিনি রতিকর্ম থেকে বিরত আছেন। কেন ও কিভাবে, তার বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যাখ্যা তিনি এই গ্রন্থে তুলে ধরেছেন।
এছাড়া, তিনি এই গ্রন্থে আরও উল্লেখ করেছেন, ব্লু পিল থেকে শুরু করে হানি নাটস, জোঁকের তেল, হালুয়া, শিলাজিৎ ও বিবিধ হারবাল কিভাবে সাম্রাজ্যবাদী 'হেজিমনি'। একইসাথে তিনি এসব ব্যবহারের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেছেন তার নতুন পবিত্র গ্রন্থে।
আমরা সলিম খাঁ রচিত নতুন গ্রন্থ 'রতিকর্মে বিরতির' সাফল্য কামনা করছি।