প্রকৃতির রূপ দেখতে পঞ্চগড় যাচ্ছেন, ভালো কথা। জানেন কি, দেশের সম্ভাব্য সবচেয়ে পুরনো মাটিতে পা রাখতে যাচ্ছেন? এই বদ্বীপ সৃষ্টির একেবারের শুরুর সময়টার স্বাক্ষী পঞ্চগড়ের মাটি। লোকে বলে পঞ্চগড়ের মাটি খুড়লেই পাথর মেলে। লাখ লাখ বছরে ক্রমে জমাট বাঁধা খনিজ পাথর। প্রমাণ মেলে মহানন্দা নদীরে পারে গেলেই। কোনও দেশ গড়ার শুরুতে মানুষকে ঐতিহ্য, ইতিহাস জানাতে হয়। কাজটা কঠিন। এর ওপর ইতিহাস রচনার আলসেমিতে বাঙালির যথে
ষ্ট দুর্নাম রয়েছে। যারা সেই দুর্নাম ঘোচাতে চেয়েছেন তাদের কম নাজেহাল হতে হয়নি। পঞ্চগড় সদর মহিলা কলেজের প্রফেসর নাজমুল হক স্যার ছিলেন ওই মহাপ্রাণদের একজন। সব কাঁটা উপেক্ষা করে, মানুষকে ইতিহাস জানাতে তৎপর এ মানুষ দাঁতে দাঁত চেপে একটা জাদুঘর স্থাপন করেছিলেন। জাদুঘরের নাম রকস মিউজিয়াম। ১৯৯৭ সালে পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের অভ্যন্তরে উনার ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় গড়ে তোলা হয় এই জাদুঘর। এ জাদুঘরে লাখ লাখ বছরের ক্রমবিবর্তনে খনিজ পদার্থ থেকে শুরু করে গাছপালা- যা কিছু পাথরে রূপান্তরিত হয়েছে, ওইসব মহামূল্য বস্তু উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন অংশ চষে বহুকষ্টে এক-জায়াগায় করেছেন স্যার নাজমুল হক। রকস মিউজিয়ামে গেলে কেউ দেখতে পাবেন, নিতান্ত অবহেলায় প্রাকৃতিক ইতিহাসের সাক্ষী ওসব অমূল্য পাথর কলেজ পরীক্ষাগারের সামনে দায়সারাভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। মিউজিয়ামের বাইরে খোলা মাঠেই দেখা যাবে বিচিত্র পাথরগুলো। এরপর অফিসের স্টাফের সহায়তায় মিউজিয়ামের হলরুমে ঢুকলেই দেখা মিলবে দারুণ এসব নৃতাত্ত্বিক, প্রত্ন নিদর্শনের। স্যার ওসবের ওপর একটা ছাউনি দিতে চেয়েছিলেন। যতদূর জানা যায়, পরে রাগ করে রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যাওয়ায় তা আর হয়ে ওঠেনি। এ জাদুঘর নিয়ে স্যারের গর্ব যেমন আছে, আছে এক পাহাড় অভিমানও। পাথরের পাশাপাশি পঞ্চগড়ের লৌকিক ইতিহাসকে বহনকারী অসংখ্যা ছোট ছোট প্রত্ন উপকরণের দেখা মিলবে রকস মিউজিয়াম, মানে কলেজ ল্যাবের আলাদা করে রাখা বিশাল হলরুমে। কেউ যদি পঞ্চগড়ের প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাস রচনা করতে চান, তাকে অবশ্যই রকস মিউজিয়াম ঘুরে আসতে হবে। সদরের গোল চত্বর থেকে লোকমুখে শুনে পায়ে হেঁটেই মহিলা কলেজে চলে যেতে পারেন, মিনিট দশেক লাগবে। রিকশা ভ্যান ভাড়া করেও যেতে পারেন। ভাড়া জনপ্রতি দশ টাকা হতে পারে, বা আরও কম। মিউজিয়ামের বাইরে খোলা মাঠেই দেখা যাবে বিচিত্র পাথরগুলো। এরপর অফিসের স্টাফের সহায়তায় মিউজিয়ামের হলরুমে ঢুকলেই দেখা মিলবে দারুণ এসব নৃতাত্ত্বিক, প্রত্ন নিদর্শনের।