বিক্রমপুর জাদুঘর

Call Directions Website Contact the museum

বিক্রমপুর জাদুঘর Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from বিক্রমপুর জাদুঘর, BIKRAMPUR MUSEUM, JODO NATH RAI BARI, Balasur, Rarikhal, Shreenagar. Bikrampur, Munshiganj.

আমাদের প্রিয় বিক্রমপুরের রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস। প্রাচীন পূর্ববঙ্গ বা সমতটের রাজধানী হিসেবে বিক্রমপুরের খ্যাতি কমপক্ষে ১২০০-১৫০০ বছরের। বিক্রমপুরের মাটি খুঁড়ে পাওয়া গেছে হাজার বছর আগের নৌকা, কাঠের ভাস্কর্য, পাথরের ভাস্কর্য, টেরাকোটাসহ অসংখ্য অমূল্য প্রত্নবস্তু। এ ছাড়াও বিক্রমপুরের মাটিতে জন্মগ্রহণ করেছেন অনেক মনীষী। বিক্রমপুরের এইসব অতীত ইতিহাস, ঐতিহ্য, লোকজীবন, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও প্রত্ন নিদর্শনাদি সংরক্ষণ করা সর্বোপরি প্রদর্শনের জন্য 'অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন' মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার রাড়িখাল ইউনিয়ন এর উত্তর বালাসুর গ্রামের জমিদার যদুনাথ রায়ের ১৯৬৫ সাল থেকে পরিত্যক্ত বাড়িতে “বিক্রমপুর জাদুঘর” (Bikrampur Museum) প্রতিষ্ঠা করে। সরকারকে বছরে প্রায় আড়াই লাখ টাকা লিজের অর্থ পরিশোধ করে (বাড়ির জমি, দিঘি, মন্দির সহ সমস্ত কিছুর জন্য) জাদুঘরটি পরিচালনা করে আসছে।
** ২০১০ সালের ২৯ মে জাদুঘর ভবনটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এম.পি।
**** ২০১৩ সালের ২৮ মে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ' বিক্রমপুর জাদুঘর-BIKRAMPUR MUSEUM '-এর শুভ উদ্বোধন করেন।
** ২০১৪ সালের ২০ জুন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি জাদুঘরটির দ্বারোদঘাটন করেন। পাশাপাশি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছে অনুযায়ী বাংলাদেশে একমাত্র "নৌকা জাদুঘর" ( Boat Museum) উদ্বোধন করেন।
প্রায় সাড়ে ১৩ একর জায়গা জুড়ে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ও সরকারি অর্থায়নে ২০১০ সাল থেকে ২০১৪ সালে নির্মাণ করা হয়েছে জাদুঘর এবং গেস্ট হাউজ বা পান্থশালা । আমরা আলোর পথযাত্রী! আলোকিত এবং দেশহিতব্রতে উজ্জীবিত মানুষ গড়ে তোলার বহুমুখী কর্মকাণ্ডে আমরা আমাদের ক্ষুদ্রশক্তি নিয়ে দুই যুগ পার করেছি। চলার পথে আমরা আপনাদের পরামর্শ, মতামত ও সহযোগিতা কামনা করছি। আপনিও আমাদের সহযাত্রী হোন।
সুধী আমরা আপনার সহযোগিতা চাই:
------=====***************====-------
প্রাচীন তৈজসপত্র, পাথর বা অন্যান্য ধাতু/চীনা মাটি ও মাটির নির্মিত থালা, বাসন, অতীত যুগের ব্যবহার্য সামগ্রী, কৃষি যন্ত্রপাতি, পুরাতন খাট পালং, চেয়ার, টেবিল, আলমারি, পুঁথি-পত্র, বই তালপাতায় বা হাতে বানানো কাগজে হাতে লেখা প্রাচীন গ্রন্থ, নৌকা, মৃৎশিল্প, পোড়ামাটির নিদর্শন, মূর্তি, কয়েন, অলংকার, হাতির দাঁতের শিল্পকর্ম, প্রাকৃতিক সম্পদ, ধাতব শিল্পকর্ম, পুতুল, বাদ্যযন্ত্র, পোশাক, নকশিকাঁথা, কাঠের শিল্পকর্ম,পাণ্ডুলিপি ইত্যাদি। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি বিজড়িত বস্তুগুলো নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে (প্রদর্শিত হচ্ছে) মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারি।এই মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারির জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের ছবি, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহার্য জামা-কাপড়, বই-পত্র অন্যান্য সামগ্রী এবং নৌ জাদুঘরের জন্য নৌকা দান করলে জাদুঘরটি সমৃদ্ধ হবে। সকলের সমবেত প্রচেষ্টায় বিক্রমপুর জাদুঘর দেশের মধ্যে একটি উচ্চমানের সমৃদ্ধ সংগ্রহশালা হিসেবে গড়ে উঠুক এটা আমাদের একান্ত কামনা। আমরা চাই আপনিও আমাদের প্রচেষ্টার সহযাত্রী হোন - সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। এই 'বিক্রমপুর জাদুঘর'-এ প্রত্ন ও প্রাচীন সামগ্রী দান করে আপনিও হতে পারেন জাদুঘর গড়ে তোলার গর্বিত অংশীদার।
উল্লেখ্য যে আমরা প্রতিটি বস্তুর প্রাপ্তির পাকা রশিদ বা দানপত্রের কাগজ দিয়ে থাকি এবং প্রদর্শনীতে দাতার নাম, তাহার পিতার নাম, পূর্ণ ঠিকানা এবং সংগ্রাহকের নাম ঠিকানাও থাকে। দর্শনার্থী দেখে যেন তৃপ্তি পায় আমরা তাই করি আপনার দান অক্ষয় থাকুক। তাই বলছি পুরাতন জিনিস অযত্নে অবহেলায় ফেলে না রেখে আমাদের খবর দিন আমরা গিয়ে নিয়ে আসবো বা সংগ্রহ করবো।
ঘুরে আসুন বিক্রমপুর জাদুঘর:-
শত ব্যস্ততার শহরে একটু খোলামেলা জায়গায় দম ফেলার যেন ফুসরত নেই। কাজের ফাঁকে একটু ছুটি পেলেই তাই অনেকেই ছোটেন একটু বিনোদনের জন্য কিংবা ছুটির দিনে নিরিবিলি পরিবেশে ঘুরে বেড়াতে, প্রাণ খুলে নিঃশ্বাস নিতে রাজধানীর খুব কাছেই বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেস ওয়েতে (ঢাকা-মাওয়া হাইওয়েতে) মাত্র ৫০ মিনিটে পৌঁছে যাবেন ভাগ্যকূল জমিদার বাড়ি "বিক্রমপুর জাদুঘর"। বালাসুর চৌরাস্তা থেকে ডানে ঢুকে যাবেন বিলের ধারে প্যারিস শহর জমিদার যদুনাথ রায়ের পরিত্যক্ত বাড়িতে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন নামের একটি সামাজিক সংগঠন গড়ে তুলেছে তিন তলা বিশিষ্ট এই "বিক্রমপুর জাদুঘর" এবং একই প্রাঙ্গণে তিন তলা বিশিষ্ট একটি 'গেস্ট হাউস'।
তিনতলা ভবনের এ জাদুঘরে প্রবেশ করতেই দু’পাশে দুটি বড় মাটির পাতিল বা মটকা দেখতে পাবেন।
মোট ৭টি গ্যালারিতে রাখা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সব নির্দশন।
নিচতলার বাম পাশের গ্যালারি যদুনাথ রায়ের নামে। এ গ্যালারিতে বিক্রমপুরের প্রাচীন মানচিত্র, বিক্রমপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাওয়া মাটিরপাত্র, পোড়া মাটির খেলনাসহ প্রত্নতাত্ত্বিক বিভিন্ন নিদর্শন আছে।
নিচতলার ডান পাশের গ্যালারিটি স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর নামে। এ গ্যালারিতে আছে ব্যাসাল্ট পাথরের বাটি, গামলা, পাথরের থালা, পোড়া মাটির ইট, টালি ইত্যাদি এছাড়া বিক্রমপুরের নানা প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনার ছবিসহ বিভিন্ন নিদর্শন।
দ্বিতীয় তলার বাম পাশের মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারিতে আছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ছবি, ইতিহাস, দলিল, বই ও বিভিন্ন নমুনা। আর ডান পাশের গ্যালারিতে আছে বিক্রমপুরে জন্ম নেয়া মনীষীদের জীবন ও কর্মের বৃত্তান্ত। আরও আছে কাগজ আবিষ্কারের আগে প্রাচীন আমলে যে ভূর্জ গাছের বাকলে লেখা হতো সেই ভূর্জ গাছের বাকল।
তৃতীয় তলায় তালপাতায় লেখা পুঁথি, পুরাতন খাট পালং, চেয়ার, টেবিল, আলমারী,কাঠের সিন্দুক, আদি আমলের মুদ্রা, তাঁতের চরকা, পোড়া মাটির মূর্তি, সিরামিকের থালাসহ প্রাচীন আমলে স্থানীয় মানুষদের ব্যবহার্য বিভিন্ন নিদর্শন।
মাটি খুঁড়ে পাওয়া ১০০০ বছর আগের বিক্রমপুরের হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস
বিক্রমপুরের হাজার বছরের প্রাচীন সভ্যতা মাটির নিচে চাপা পড়ে ছিল এতদিন। তা এখন অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রায় দেড় হাজার বছর আগের বৌদ্ধনগরী সহ বেশ কিছু প্রত্ননিদর্শন সন্ধান পায় মাটি খুঁড়ে বিভিন্ন পর্যায়ে এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০০ বছরের মধ্যে বিভিন্ন সভ্যতা গড়ে উঠেছে তার প্রমান করে মাটির নিচে প্রাচীন নগরসভ্যতার আবিষ্কার। ২০১২ সালে রামপালের রঘুরামপুরে বৌদ্ধবিহার আবিষ্কার, টঙ্গিবাড়ীর নাটেশ্বরে এক থেকে দেড় হাজার বছরের পুরোনো একটি বৌদ্ধনগরী আবিষ্কার করা হয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিক খননে প্রায় ৩ মিটার গভীর পর্যন্ত মানব বসতির চিহ্ন পাওয়া যায়।
মাটি খুঁড়ে পাওয়া বিক্রমপুরের হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস ঐতিহ্যর নিদর্শন নিয়ে একটি গ্যালারীতে নতুন মাত্রায় যোগ হয়েছে। রঘুরামপুর ও নাটেশ্বর থেকে প্রাপ্ত কিছু মহামূল্যবান নির্দশন এই গ্যালারিতে স্হান পেয়েছে। এসব নির্দশন বিক্রমপুরের অতীত ইতিহাস ও ঐতিহ্য বহন করছে।
প্রতিদিন শত শত দর্শক আসছে জাদুঘর পরির্দশন করতে। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে জাদুঘর প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠানমালার আয়োজন হয়ে থাকে।
বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন বাদে সপ্তাহের বাকি ৬ দিন জাদুঘরটি সর্বসাধারণের জন্যে উন্মুক্ত থাকে।
যা যা পাচ্ছেনঃ
• তিন তলা বিশিষ্ট এসি গেষ্ট হাউস
• কার পার্কিং সুবিধা
• অডিটোরিয়াম/ কনফারেন্স রুম
•শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বেডরুম,আধুনিক সুযোগ সম্বলিত ওয়াশরুম
• খেলার মাঠ
• ওপেন স্টেজ
• ২টি বিশাল বিশাল দিঘি
• ৪টি শান বাঁধানো পুকুর ঘাট
• জমিদারীর কাচারী ঘর
• ইউরোপিয়ানদের জন্য গেস্ট হাউস
• ভাগ্যকূলের জমিদার যদুনাথ রায়ের মুখিমুখি ২টি ভবন এবং অন্যান্য স্হাপনা
• তিন তলা বিশিষ্ট বিক্রমপুর জাদুঘর
• নৌকা জাদুঘর
• উন্মুক্ত জাদুঘর
• আরো দেখা যাবে কাচারি ঘর ও নানা প্রজাতির দূর্লভ সব ফুল ও ফলজ গাছ গাছালি।
** নিঃসন্দেহে ছবি তোলার জন্য একটি মনোরম পরিবেশ। আপনার ভ্যাকেশনের সময়গুলো ব্যস্ত শহর থেকে নিকট দূরেই সবুজের মাঝে বিক্রমপুর জাদুঘর ও গেষ্ট হাউস পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে হাস্যোজ্জ্বল সময় উপহার দেয়ার জন্যই আমাদের এই ছোট্ট প্রয়াস। মনোরম পরিবেশে পরিবার-পরিজন নিয়ে আছে জমিদার বাড়িতে উপভোগ করার পর্যাপ্ত আয়োজন।
∆ আশেপাশের উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
* স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর বাড়ি
* অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ এর বাড়ি
* আড়িয়াল বিল
* ভাগ্যকুল জমিদার বাড়ি
এ জাদুঘর চত্বরের আয়তন সাড়ে ১৩ একর। ইট পাথরের এই শহরের যান্ত্রিকতা থেকে দূরে পালিয়ে সপরিবারে/ সবান্ধব কিছুটা সময় নিজেদের মতো প্রকৃতির কাছাকাছি উপভোগ করতে চাইলে আজই চলে আসুন।
এবার আসা যাক এই জমিদার বাড়ি নিয়ে কিছু কথা___
রাজা সীতানাথ রায়ের দুই পুত্র যদুনাথ রায় এবং প্রিয়নাথ রায়। চল্লিশের দশকে পদ্মার ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আড়িয়ল বিলের কিনারে মনোরম ডুয়েল প্রাসাদ গড়ে তুলেছিলেন। যদুনাথ রায়ের বর্তমানের বাড়িখাল ইউনিয়নের উত্তর বালাশুরে (সে সময় ভাগ্যকুল নামে পরিচিত ছিল) হুবহু একই ধরণের দুটি ত্রিতল ভবন নির্মাণ করেন। যার একটি ছিলো জমিদার যদুনাথ রায়ের। আর অন্যটি ছিলো তারই ছোট ভাই প্রিয়নাথ রায়ের। বিশালাকৃতির দিঘি খনন করেন, নাট মন্দির ও দূর্গামন্দির স্থাপন করেন।
পূর্বধারের ভবনে থাকতেন যদুনাথ রায় এবং পশ্চিমধারের ভবনে থাকতেন প্রিয়নাথ রায়।
তার তিন ছেলে যথাক্রমেঃ মেঘনাদ রায়, শরতচন্দ্র রায় ও সতীশচন্দ্র রায়।
এই বাড়িতে তারা বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছিলেন, ছিল সোয়ারেজ লাইন, বিশালাকৃতির দুটি দিঘি ছিল, বাড়ি জুড়ে ছিল বহুরকমের ফুল ও ফলের গাছ। খাপড়াওয়ার্ড খ্যাত লেখক আব্দুস শহীদ তার ‘কারাস্মৃতি’ গ্রন্থে ফুল বাগানের বর্ণনা দিয়েছেন। এখনো বাহারী নাগলিঙ্গম, বিশালাকৃতির কাঠবাদাম, বোম্বে লিচু, সুমিষ্ট আম গাছ রয়েছে। অশোক গাছটিতে এখনো ফুল ফুটলে মনে হয় ভোরে সূর্য উকি দিয়েছে। পুকুর ছিল মাছে পরিপূর্ণ, আলাদাভাবে কূপে ছিল রঙিন মাছ।
ড. হুমায়ুন আজাদ এই বাড়িটিকে নিয়ে তার ফুলের গন্ধে দূরে পালিয়েঘুম আসে না গ্রন্থে লিখেছেন- বিলের ধারে প্যারিস শহর।
ইট পাথরের এই শহরের যান্ত্রি্্কতা থেকে সপরিবারে/ সবান্ধব কিছুটা সময় নিজেদের মতো প্রকৃতির কাছাকাছি উপভোগ করতে চাইলে আজই চলে আসুন।
"বিক্রমপুর জাদুঘর" (Bikrampur Museum)
(ভাগ্যকুলের সাবেক জমিদার যদুনাথ রায়ের বাড়ি)
বলাশুর, শ্রীনগর, বিক্রমপুর, মুন্সিগঞ্জ।
পরিচালনায়- অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন।
কেন্দ্রীয় কার্যালয়: কনকসার, লৌহজং, বিক্রমপুর, মুন্সিগঞ্জ।
ঢাকাস্থ কার্যালয়: আলেয়া হাউস, বাড়ি # ৩৬, সড়ক # ০২, ধানমন্ডি, ঢাকা।
যোগাযোগ করুন:-
কিউরেটর: নাছির উদ্দিন আহমেদ জুয়েল।
মোবাইল: ০১৭১১৩৬২৯১৩
ইমেইল: [email protected]
ভিজিট করুন ❁ লাইক দিন ❁ ফ্রেন্ডস ইনভাইট করুন ❁ শেয়ার করুন ❁ রিভিউ দিন ❁ কমেন্ট করুন
✔︎Our page
বিক্রমপুর জাদুঘর https://www.facebook.com/BikrampurMuseum/ https://www.facebook.com/groups/bikrampurjadughur
অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন https://www.facebook.com/AgrasharBikrampurFoundation/
ত্রৈমাসিক অগ্রসর বিক্রমপুর https://www.facebook.com/AgrasharBikrampurMagazine
বঙ্গীয় গ্রন্হ জাদুঘর https://www.facebook.com/groups/1981847948706359/
বিক্রমপুর জাদুঘর-BIKRAMPUR MUSEUM
মোবাইল: ০১৭১১৩৬২৯১৩
ইমেইল:
[email protected]
[email protected]
✔︎ Our YouTube Channel: https://youtube.com/channel/UCzCiIDrot2rbwmJuG8Uvi_w
✓গুগল ম্যাপ-এ ঘুরে আসুন বিক্রমপুর জাদুঘর
Bikrampur Museum
https://maps.app.goo.gl/1Cm7QUsMcFQobnJR8
#অগ্রসর_বিক্রমপুর_ফাউন্ডেশন
প্রধান কার্যালয়
#বঙ্গীয়_গ্রন্হ_জাদুঘর এবং
#আব্দুল_জব্বার_খান_মুক্ত_মঞ্চ
কনকসার, লৌহজং, বিক্রমপুর, মুন্সিগঞ্জ।
• https://web.facebook.com/page/BikrampuMuseum
• e-mail: [email protected]

লৌহজং উপজেলার প্রধান শিক্ষকদের বিক্রমপুর জাদুঘর পরিদর্শন: ইতিহাস-ঐতিহ্যভিত্তিক শিক্ষার এক অনন্য উদ্যোগবিক্রমপুরের ইতিহাস...
11/07/2026

লৌহজং উপজেলার প্রধান শিক্ষকদের বিক্রমপুর জাদুঘর পরিদর্শন: ইতিহাস-ঐতিহ্যভিত্তিক শিক্ষার এক অনন্য উদ্যোগ

বিক্রমপুরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে লৌহজং উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সম্মানিত প্রধান শিক্ষকদের বিক্রমপুর জাদুঘর পরিদর্শন একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অনুপ্রেরণাদায়ক ঘটনা। তাঁদের এই আন্তরিক উপস্থিতি ও আগ্রহ আমাকে গভীরভাবে আনন্দিত ও উৎসাহিত করেছে।

আমি ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত সকল প্রধান শিক্ষকদের সাথে আমার অনেক দিনের পরিচিত এবং আমার খুব কাছের মানুষ। সকল মাধ্যমিক শিক্ষকদের একটি সোস্যাল মিডিয়ার গ্রুপ আছে সেখানে সবাইকে আমি বিভিন্ন সময়ে বিক্রমপুর জাদুঘর পরিদর্শন করার জন্য আহ্বান করেছি, ব্রুশিয়ার নানা ডকুমেন্ট পাঠিয়েছি। আজকে তাঁদের একটি টিম বিক্রমপুর জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন। আমি সকল সম্মানিত প্রধান শিক্ষককে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন, শুভেচ্ছা এবং কৃতজ্ঞতা।

একটি জাদুঘর কেবল পুরোনো নিদর্শনের সংগ্রহশালা নয়; এটি একটি জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, জীবনধারা ও সভ্যতার জীবন্ত দলিল। বিক্রমপুর জাদুঘরও সেই দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে চলেছে।

এখানে সংরক্ষিত প্রত্ননিদর্শন, ঐতিহাসিক দলিল, প্রাচীন ব্যবহার্য সামগ্রী, লোকজ সংস্কৃতির উপকরণ এবং বিক্রমপুরের গৌরবময় অতীতের নানা স্মারক দর্শনার্থীদের ইতিহাসের সঙ্গে সরাসরি পরিচয় করিয়ে দেয়।
বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের পাশাপাশি ব্যবহারিক ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে জাদুঘর পরিদর্শন শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কার্যকর শিক্ষাসফর। বইয়ে পড়া ইতিহাস যখন বাস্তব নিদর্শনের মাধ্যমে চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে ওঠে, তখন শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ, অনুসন্ধিৎসা ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। তারা নিজেদের অঞ্চল, দেশ ও জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতি আরও সচেতন ও গর্বিত হয়ে ওঠে।

বিক্রমপুর হাজার বছরের ইতিহাস, জ্ঞানচর্চা, সংস্কৃতি ও সভ্যতার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এই অঞ্চলের গৌরবময় অতীত সম্পর্কে জানার অন্যতম সহজ ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হলো বিক্রমপুর জাদুঘর। তাই শিক্ষার্থীদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জনের জন্য বিদ্যালয়ভিত্তিক শিক্ষা সফরের গুরুত্ব অপরিসীম।

আমি আন্তরিকভাবে আশা করি, লৌহজং উপজেলার মতো মুন্সীগঞ্জ জেলার অন্যান্য উপজেলার বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকবৃন্দও তাঁদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে নিয়মিত শিক্ষা সফরের আয়োজন করবেন। এতে শিক্ষার্থীরা ইতিহাসের প্রতি আগ্রহী হবে, নিজেদের শিকড়কে চিনবে এবং দেশপ্রেম, ঐতিহ্যবোধ ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।

বিক্রমপুর জাদুঘর সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, ইতিহাসপ্রেমী ও সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত। আপনাদের সবার আন্তরিক সহযোগিতা, অংশগ্রহণ ও ভালোবাসায় এই জাদুঘর আরও সমৃদ্ধ হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিহাস সংরক্ষণের এই মহৎ উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হবে।

আবারও লৌহজং উপজেলার সকল সম্মানিত প্রধান শিক্ষককে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের এই সফর ইতিহাস ও ঐতিহ্যভিত্তিক শিক্ষার প্রসারে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
আসুন, শিক্ষা সফরের মাধ্যমে ইতিহাসকে জানি, ঐতিহ্যকে ভালোবাসি এবং নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দিই আমাদের গৌরবময় বিক্রমপুরকে।

ছবি : যশলদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়-এর প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান খান।

নাছির উদ্দিন আহমেদ
কিউরেটর
বিক্রমপুর জাদুঘর
তারিখ: ১০ জুলাই ২০২৬ ইং

11/07/2026
11/07/2026
10/07/2026

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা শুক্রবার (১০ জুলাই) বিক্রমপুর জাদুঘর প...

বিক্রমপুরের আলোকিত মানুষ কবি জীবনানন্দ দাশ-এর পিতা সত্যানন্দ দাশ====সত্যানন্দ দাশ (১৮৬৩–১৯৪২) ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাব...
09/07/2026

বিক্রমপুরের আলোকিত মানুষ কবি জীবনানন্দ দাশ-এর পিতা সত্যানন্দ দাশ
====
সত্যানন্দ দাশ (১৮৬৩–১৯৪২) ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, প্রাবন্ধিক, ব্রাহ্মধর্ম প্রচারক এবং পত্রিকা সম্পাদক। তিনি শুধু কবি জীবনানন্দ দাশ-এর পিতা নন, বরং উনিশ ও বিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাংলার উদার মানবতাবাদী চিন্তার অন্যতম প্রতিনিধি ছিলেন। তাঁর জীবন ও আদর্শ জীবনানন্দের চিন্তা, সাহিত্য ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

জন্ম ও শিক্ষা
সত্যানন্দ দাশ বরিশালের এক শিক্ষিত ব্রাহ্ম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরে বর্তমান মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলা-র অন্তর্গত গাওপাড়া (বা গুয়াপাড়া) গ্রামে ( বহু বছর আগে গ্রামটি পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে তলিয়ে যায় তবে বর্তমানে সেখানে চর জেগে উঠেছে)।সত্যানন্দ দাশ এর পিতা সর্বানন্দ দাশগুপ্ত বরিশালে গিয়ে স্হায়ী বসবাস গড়ে তোলেন।

তিনি উচ্চশিক্ষা লাভের পর শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন এবং বরিশালের শিক্ষাজগতে একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

শিক্ষক ও সমাজসংস্কারক
তিনি বরিশালের ব্রজমোহন স্কুলে শিক্ষকতা করেন। শিক্ষাদানের পাশাপাশি সমাজে কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িকতা ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষের মুক্তির প্রধান পথ হলো শিক্ষা, যুক্তিবাদ এবং মানবসেবা।

'ব্রহ্মবাদী' পত্রিকার সম্পাদক
সত্যানন্দ দাশ ছিলেন ‘ব্রহ্মবাদী’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক। এই পত্রিকার মাধ্যমে তিনি ধর্ম, শিক্ষা, নারী-অধিকার, সামাজিক সংস্কার ও মানবকল্যাণমূলক নানা বিষয়ে প্রবন্ধ লিখতেন এবং জনমত গড়ে তুলতেন।

মানবতাবাদী চিন্তা
তাঁর চিন্তার মূল ভিত্তি ছিল মানুষ। তিনি ধর্মীয় বিভেদের চেয়ে মানুষের কল্যাণকে বেশি গুরুত্ব দিতেন। তাঁর লেখায় শিক্ষা, হাসপাতাল, জনকল্যাণ এবং সামাজিক উন্নয়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। তবে প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে উক্তিটি তাঁর নামে প্রচারিত হয়—“মন্দির, মসজিদ ও গির্জা ভেঙে হাসপাতাল ও স্কুল করা হোক”—এর নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক বা প্রকাশিত প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাই এটিকে সত্যানন্দ দাশের নিশ্চিত উক্তি হিসেবে উল্লেখ করা উচিত নয়।

জীবনানন্দ দাশের ওপর প্রভাব
সত্যানন্দ দাশের উদার, যুক্তিবাদী ও মানবিক পরিবেশেই জীবনানন্দ দাশ বেড়ে ওঠেন। তাঁর মা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি, আর বাবা ছিলেন চিন্তাবিদ ও সমাজসংস্কারক। এই পারিবারিক পরিবেশ জীবনানন্দের সাহিত্যিক মনন, প্রকৃতিপ্রেম, মানবতাবোধ ও স্বাধীন চিন্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মূল্যায়ন
সত্যানন্দ দাশকে কেবল একজন কবির পিতা হিসেবে দেখলে তাঁর অবদানকে ছোট করে দেখা হবে। তিনি ছিলেন একজন প্রগতিশীল শিক্ষাবিদ, সমাজচিন্তক ও মানবতাবাদী, যিনি শিক্ষা, যুক্তি ও মানবকল্যাণভিত্তিক সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর আদর্শ বাংলা সমাজসংস্কারের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
ছবি: সংগৃহীত ( রঙিন করা)
তথ্য সূত্রঃ Banglapedia, Wikipedia এবং The Daily Star
সম্পাদনায়: নাছির উদ্দিন আহমেদ জুয়েল
সম্পাদক ও প্রকাশক, বিক্রমপুর খবর

Address

BIKRAMPUR MUSEUM, JODO NATH RAI BARI, Balasur, Rarikhal, Shreenagar. Bikrampur
Munshiganj
1530

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বিক্রমপুর জাদুঘর posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Museum

Send a message to বিক্রমপুর জাদুঘর:

Shortcuts

Share