World History Center & Image Museum

World History Center & Image Museum World History Center & Museum
Open for all

17/04/2024

প্রথম সরকারের শপথ দিবস
আজ ১৭ এপ্রিলঐতিহাসিক দিন। মুজিবনগর দিবস। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে এ-দিনটি অবিস্মরণীয় দিন।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান আওয়ামী লীগের সাথে চলমান আলোচনা শেষ না করে গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন। সে রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয় এবং পূর্ব পাকিস্তানে নৃশংস গণহত্যা চালানো হয়। রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের নির্বিচারে গ্রেফতারও শুরু হয়। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের প্রাদেশিক সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ গোপনে ৩১ মার্চ মেহেরপুর সীমান্ত দিয়ে কোলকাতা পৌঁছান। ২ এপ্রিল তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সাথে দিল্লিতে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন এবং বঙ্গবন্ধুকে প্রধান করে গঠিত অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের পরিচয় প্রদান করেন। অবশ্য তার দেওয়া এ-তথ্যসমূহ সত্য ছিল না। কেননা, তখনো অস্থায়ী সরকারের গঠিত হয়নি এবং তিনি দিল্লি থেকে কোলকাতায় ফিরে এসে অস্থায়ী সরকার গঠনে তৎপর হন।
এই বিষয়টি তখন প্রবল বিতর্ক সৃষ্টি করে। প্রবীণ থেকে যুবনেতা সকলেরই একটি প্রশ্ন বড়ো হয়ে দেখা দেয়ইন্দিরা গান্ধীর নিকট তাজউদ্দীন আহমদ কেন নিজেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত করলেন? তার চেয়ে তো আওয়ামী লীগে বড়ো নেতা আছেন। জাতীয় পরিষদের সংসদীয় দলের উপনেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রাদেশিক পরিষদের সংসদীয় দলের নেতা এম মনসুর আলী, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এএইচএম কামরুজ্জামান। সেখানে তাজউদ্দীন আহমেদ মাত্র পূর্বপাকিস্তান প্রাদেশিক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

তিনি কীভাবে আওয়ামী লীগ কর্তৃক গঠিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হন?

ফলশ্রুতিতে একদা কোলকাতার ভবানীপুরের রাজেন্দ্র রোডের এক বাড়িতে উপস্থিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য ও যুবনেতাদের মধ্যে চরম বাকবিতণ্ডায় এক তিক্তকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সে-বাক-বিতণ্ডায় তাজউদ্দীন আহমেদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ অংশ, বিশেষ করে যুবনেতৃবৃন্দ এম মনসুর আলীকে কিংবা এএইচএম কামরুজ্জামানকে প্রধানমন্ত্রী করার জোর দাবি তোলেন।

কিন্তু ঘণ্টি তো আগেই বাজিয়ে ফেলেছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ। ২ এপ্রিল, ১৯৭১ইন্দিরা গান্ধীর খাতায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের নাম লিখে দিয়ে এসেছিলেন। ফলে তখন তো আর তার নাম কেটে অন্য কারো নাম সেখানে লিখে দেওয়া সম্ভবপর ছিল না। ফলে ঢেঁকি গিলতে হয় তাদের। আবার অনেক নেতা উদারতাও প্রদর্শন করেনবিশেষ করে এম মনসুর আলী। নিজেকে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করার বিষয়টি তাজউদ্দীন আহমেদের নীতি নৈতিকতা-বিরোধী কাজ হয়েছে বলে মনে করলেও তিনি তিনি সমকালীন প্রেক্ষাপট এবং বাঙালি জাতির মুক্তির দিক বিবেচনা করে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেনে নেন। অন্যদের সেটা মেনে নিতে অনুরোধ করেন। তবে ধূর্ত খন্দকার মোশতাক সেদিনও তাজউদ্দীন আহমেদ সে-জটিল পরিস্থিতির সুযোগ নেন। তিনি তাজউদ্দীন আহমেদকে সমর্থনের বিনিময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রিত্ব দাবি করেন। তাকে সেটা দেওয়াও হয়।

অস্থায়ী সরকার গঠন প্রক্রিয়া এগিয়ে চলে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়।

আজ নেই গৌরবান্বিত দিন। ১৯৭১ সালের এদিন মেহেরপুরভুক্ত বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে।
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা
ক্রমিক নাম পদবি
১ শেখ মুজিবুর রহমান
রাষ্ট্রপতি (পাকিস্তানের কারাগারে অন্তরীণ)
২ সৈয়দ নজরুল ইসলাম
উপ-রাষ্ট্রপতি /অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি
৩ তাজউদ্দীন আহ্মদ
প্রধানমন্ত্রী
৪ এম মনসুর আলী
মন্ত্রী
৫ খন্দকার মুশতাক আহ্মদ
মন্ত্রী
৬ আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামান
মন্ত্রী
৭ শেখ আবদুল আজিজ
মন্ত্রী
৮ ফনী ভূষণ মজুমদার
মন্ত্রী
৯ আব্দুস সামাদ আজাদ
মন্ত্রী
১০ জহুর আহ্মদ চৌধুরী
মন্ত্রী
১১ এম ইউসুফ আলী
মন্ত্রী

ভারত বিচিত্রায় ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের আন্তর্জাতিক তৎপরতা’ শিরোনামের লেখাটির পিডিএফ ভার্সন পড়তে ক্লিক করুন:https...
17/03/2024

ভারত বিচিত্রায় ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের আন্তর্জাতিক তৎপরতা’ শিরোনামের লেখাটির পিডিএফ ভার্সন পড়তে ক্লিক করুন:
https://hcidhaka.gov.in/.../BB_December_2023_05032024.pdf

Address

9/C Zoo Road
Mirpur
1216

Opening Hours

Monday 12:00 - 16:00
Tuesday 12:00 - 16:00
Wednesday 12:00 - 16:00
Thursday 12:00 - 16:00
Saturday 12:00 - 16:00
Sunday 12:00 - 16:00

Telephone

8801632224208

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when World History Center & Image Museum posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share