History Hunters

Directions Contact the museum

History Hunters Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from History Hunters, Khulna.
(3)

Founder of ‘History Hunters’ – a research-based media platform sharing authentic historical facts, Islamic heritage, and archaeological discoveries through articles, videos, and social media to promote global historical awareness.

14/09/2026

ইসফারাহ অবরোধ—ভারতে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বহু আগে বাবরের এক যুদ্ধের গল্প

আজ আমরা বাবরকে চিনি ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে। কিন্তু দিল্লির সিংহাসনে বসার বহু বছর আগে তাঁর জীবন ছিল যুদ্ধ, পরাজয়, হারানো রাজ্য আর আবার ফিরে আসার এক দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প।

তিমুরের বংশধর জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর অল্প বয়সেই ফারগানার শাসক হয়েছিলেন। কিন্তু মধ্য এশিয়ার সেই সময়ের রাজনীতি ছিল ভীষণ অস্থির। নিজের রাজ্য ধরে রাখাই যেখানে কঠিন, সেখানে তিমুরের বিশাল সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার দাবি করে টিকে থাকা ছিল আরও কঠিন।

এই সংগ্রামেরই একটি অধ্যায় হলো ইসফারাহর অবরোধ ও যুদ্ধ। বাবুরনামা-য় বর্ণিত বাবরের মধ্য এশীয় সামরিক অভিযানগুলোর মধ্যে এই ঘটনাটিও স্থান পেয়েছে।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে একটি সুরক্ষিত নগর বা দুর্গকে ঘিরে তীব্র যুদ্ধের দৃশ্য। উঁচু প্রাচীরের ভেতরে প্রতিরক্ষাকারীরা অবস্থান করছে, আর বাইরে আক্রমণকারী বাহিনী এগিয়ে যাচ্ছে। ঘোড়া, সৈন্য, অস্ত্র আর দুর্গের প্রাচীর—সব মিলিয়ে মুঘল মিনিয়েচার শিল্পীরা যুদ্ধক্ষেত্রের এক জীবন্ত দৃশ্য ফুটিয়ে তুলেছেন।

তবে ছবিটির একটি মজার দিক আছে। এটি বাবরের সময়ের আঁকা কোনো প্রত্যক্ষ যুদ্ধচিত্র নয়। ঘটনাটির প্রায় এক শতাব্দী পরে, সম্রাট আকবরের শাসনামলে ছবিটি আঁকা হয়। তখন বাবরের স্মৃতিকথা বাবুরনামা চাগতাই তুর্কি ভাষা থেকে ফারসিতে অনুবাদ করা হচ্ছিল এবং তার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছিল অসাধারণ সব মুঘল মিনিয়েচার।

আর বাবুরনামা নিজেই ইতিহাসের এক অসাধারণ দলিল। বাবর সেখানে শুধু যুদ্ধ বা রাজনীতির কথা লেখেননি; তিনি লিখেছেন শহর, পাহাড়, নদী, মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ, খাবার, আবহাওয়া এবং তাঁর নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথাও। এমনকি নিজের পরাজয়, হতাশা ও কঠিন সময়ের কথাও তিনি অনেক ক্ষেত্রে অকপটে তুলে ধরেছেন।

তাই এই ছবির দিকে তাকালে শুধু একটি দুর্গ অবরোধের দৃশ্য দেখা যায় না। এর পেছনে দেখা যায় এমন এক তরুণ রাজপুত্রকে, যে বারবার নিজের অবস্থান হারিয়েও হাল ছাড়েননি।

ভারতে এসে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করার আগে বাবরকে মধ্য এশিয়ায় দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছিল। বহু যুদ্ধ, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, পরাজয় এবং নতুন করে শক্তি সঞ্চয়ের পর শেষ পর্যন্ত তাঁর ভাগ্য তাঁকে নিয়ে আসে কাবুল হয়ে ভারতবর্ষে।

আর তারপর ১৫২৬ সালের পানিপথের যুদ্ধ—যে যুদ্ধ ভারতীয় ইতিহাসের গতিপথই বদলে দেয়।

🔥 অর্থাৎ, বাবরের ভারত বিজয়ের গল্প আসলে শুরু হয়েছিল দিল্লিতে নয়—মধ্য এশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে, এক তরুণ রাজপুত্রের বেঁচে থাকার সংগ্রাম দিয়ে।

এই কারণেই বাবুরনামা-র এমন একটি যুদ্ধের ছবি আমাদের কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু একটি যুদ্ধের স্মৃতি নয়; এটি সেই বাবরকে দেখায়, যিনি একদিন ভারতের মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হওয়ার আগে বহু বছর ধরে নিজের ভাগ্যের সঙ্গে লড়াই করেছিলেন।

🏛️ ছবিটি বর্তমানে Walters Art Museum-এর সংগ্রহে রয়েছে।

কোন পদ্ধতিতে বাংলা ভাগ হলোঃতৎকালীন ব্রিটিশ লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের ২ জুন নিজের বাড়িতে তৎকালীন শীর্ষস্থানীয় নেতাদের...
14/09/2026

কোন পদ্ধতিতে বাংলা ভাগ হলোঃ
তৎকালীন ব্রিটিশ লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের ২ জুন নিজের বাড়িতে তৎকালীন শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সাথে একটা মিটিং আয়োজন করলেন।উদ্দেশ্য ছিলো বাংলাভাগ ও পাঞ্জাবভাগ নিয়ে আলোচনা করা।

মিটিংয়ে কংগ্রেস থেকে পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু, সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেল, আচার্য কৃপালনি।মুসলিম লীগ থেকে ডাকলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, লিয়াকত আলী খান, আব্দুর রব নিশতারকে।শিখ জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সরদার বল দেব সিং উপস্থিত ছিলেন।

সাতজনদের সাথে আলোচনা করলেন বাংলাভাগ করা যায় কি না,আর করলেও কোন পদ্ধতিতে করা হবে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।

এই সাতজন একটা গণতান্ত্রিক পদ্ধতির কথা মাউন্ট ব্যাটেনকে বললেন যে,বাংলার এসেম্বলিতে যত মেম্বার আছেন,হিন্দু অধ্যুষিত মেম্বারদের নিয়ে ও মুসলমান অধ্যুষিত মেম্বারদের নিয়ে আলাদা আলাদা করে মিটিং করা হোক।

সেই মিটিং এ যদি হিন্দু/মুসলিম অধ্যুষিত কোনো এক গ্রুপের এমএলএ যদি বাংলাভাগের পক্ষে রায় দেয়,তাহলে বাংলা ভাগ হবে।

এমএলএ রা যে রায় দিলোঃ
তৎকালীন সময়ে বাংলায় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা ছিলো ১৬ টি।

নোয়াখালী,চট্টগ্রাম,ত্রিপুরা,বাকেরগঞ্জ,ঢাকা,ময়মনসিংহ,ফরিদপুর,যশোর,মুর্শিদাবাদ,মালদহ,নদীয়া,বগুড়া,দিনাজপুর,পাবনা,রাজশাহী ও রংপুর।মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ সিলেট জেলা ছিলো তখন আসামের অংশ।

১৯৪৭ সালে বাংলার এসেম্বেলির সদস্য সংখ্যা ছিলো ২২৫ টি।১৬ টি জেলার এমএলএ র সংখ্যা ছিলো ১৪৫ টি।এর মধ্যে মুসলিম ছিলো ১০৩ টি,হিন্দু ৪১ টি,১জন ছিলো ইন্দো-খ্রিষ্টান।
এ মিটিং এ বাংলাভাগের পক্ষে রায় পড়ে ৩৪ টি,বিপক্ষে ১০৬ টি,৪ জন ভোটদান থেকে বিরত থাকে।

আপরদিকে,তৎকালীন বাংলার হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা ছিলো ১১ টি।

কলকাতা,হাওড়া,হুগলী,বীরভূম,চব্বিশ পরগণা,বাকুড়া,বর্ধমান, মেদেনীপুর,দার্জিলিং,জলপাইগুড়ি,খুলনা।

১১ টি জেলার মধ্যে এমএলএ র সংখ্যা ছিলো ৮০ টি।এরমধ্যে মুসলিম ২১ টি,হিন্দু ৫৪ টি,অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান ৪ টি,ইন্দো-খ্রিষ্টান ১ জন।এ মিটিংয়ে বাংলাভাগের পক্ষে রায় পড়ে ৫৮ টি,বিপক্ষে ২১ টি,ভোট দেননি ১ জন।

যেহেতু একপক্ষ দেশভাগের পক্ষে রায় দেয়,সেহেতু দেশভাগের কার্যক্রম শুরু হয়।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্বেও পূর্ববঙ্গ(পাকিস্তান) যেসব এলাকা হারালোঃ
মালদহ জেলাঃ
রেডক্লিফের সিদ্ধান্তের অন্যতম একটি বিরোধ ছিলো মালদহ জেলা বিভক্তি।মালদহ ছিলো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা।দেশভাগের সময় প্রায় ৫৫% মুসলিম বাস করতো জেলাটিতে।স্বাভাবিকভাবেই এটি পাকিস্তানে যাবে এটিই ধারণা করেছিলো এখানকার অধিবাসীরা।

১৫ আগষ্টের পর ৩/৪ দিন এখানে পাকিস্তানের পতাকাও উড়েছিলো।কিন্তু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্বেও জেলাটির বেশীরভাগ অংশই ভারতকে দেওয়া হয়।

এর পেছনে যুক্তি হিসেবে দেওয়া হয় জেলাটির অবস্থান।মালদহ জেলা ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে নিরবিচ্ছিন্ন ভৌগলিক যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব ছিলোনা।

এটি পূর্ববাংলায় চলে গেলে পশ্চিমবঙ্গ দুইটি ভাগে ভাগ হয়ে যেতো।এজন্য জেলাটির বেশীরভাগ অংশ ভারতকে দেওয়া হয়।

তবে জেলাটির ৫ টি থানাঃ গোমস্তাপুর,নাচোল,ভোলাহাট,চাঁপাইনবাবগঞ্জ,শিবগঞ্জকে পূর্ববঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।বাকি ১১ টি থানা পশ্চিমবঙ্গকে দেওয়া হয়।

মুর্শিদাবাদঃ
বাংলার প্রাচীন রাজধানী ও নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার স্মৃতিবিজরিত মুর্শিদাবাদ জেলা ঐতিহাসিকভাবে একটি বিখ্যাত জেলা ছিলো।

জেলাটির ৭০% জনগণই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলো।স্বাভাবিকভাবেই এটি পূর্ববঙ্গের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা ছিলো।তবে এটিকেও পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্গত করা হয়।

এর স্বপক্ষে যুক্তি ছিলো কলকাতা বন্দরের নিরাপত্তা।
মূলত গঙ্গা নদীর একটি শাখানদী ছিলো ভগীরথী,যেটি মুর্শিদাবাদের কাছে গঙ্গায় মিলিত হয়েছে।আর এই ভগীরথীর মাধ্যমেই হুলগী নদী তথা কলকাতা বন্দরের নাব্যতা বজায় থাকতো।

যদি জেলাটি পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হতো তাহলে চাইলে সহজেই প্রতিবেশী দেশ এটির গতিপথে বাঁধা দিয়ে কলকাতা বন্দরকে নাব্য সংকটে ফেলতে পারতো।ফলে কলকাতা বন্দর কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়তো।

মূলত কলকাতা বন্দর রক্ষার্থে নিরঙ্কুশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলাটিকে রেডক্লিফ কমিশন ভারতে অন্তর্ভুক্ত করে।পূর্ববঙ্গ তথা বাংলাদেশ হারায় ঐতিহাসিক একটি জেলাকে।

দিনাজপুর জেলাঃ
দিনাজপুর জেলা অতি অল্প ব্যবধানে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলো(৫০.২%)।পূর্বদিকে মুসলিমদের সংখ্যা ছিলো বেশী,পশ্চিম অংশ হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলো।

তবুও ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ করায় স্বভাবতই পুরো দিনাজপুর পাকিস্তানের অংশ হওয়ার কথা।

তবে এক্ষেত্রেও ভৌগলিক কারণ একটি বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়।মালদহ জেলার মতো দিনাজপুর জেলাও যদি পূর্ববঙ্গে যুক্ত হতো তাহলে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ও দক্ষিন দিকের ভৌগলিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতো।

এই বিবেচনায় রেডক্লিফ কমিশন দিনাজপুরকে দুইটি ভাগে বিভক্ত করে পশ্চিমের অংশটুকু(এক-তৃতীয়াংশ) ভারতকে দেয়,বাকি অংশটুকু পূর্ববঙ্গে যুক্ত হয়।

পূর্ববঙ্গ পায় জেলাটির ৩০ টি থানার পূর্ণ ২০ টি আর হিলি থানার অর্ধাংশ।বাকি ৯ টি জেলা ও হিলির বাকি অর্ধাংশ পায় ভারত।

বালুরঘাট,গঙ্গারামপুর,রায়গঞ্জ মহাকুমা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও এদেরকে পশ্চিমবঙ্গের সাথে সংযুক্ত করা হয়।

তবে এরপরও ভারতের উত্তরবঙ্গের সাথে দক্ষিণবঙ্গের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

এজন্য বিহারের বাঙালি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ইসলামপুর মহাকুমাকে দিনাজপুরের সাথে সংযুক্ত করে পশ্চিমবঙ্গের নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ স্থাপন করা হয়।

দেশভাগের পরও বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একই নামের বিরাজমান একমাত্র জেলা হলো দিনাজপুর।তবে পশ্চিমবঙ্গের দিনাজপুরকে উত্তর ও দক্ষিণভাগে বিভক্ত করে নতুন দুইটি জেলা করেছে ভারত।

অপরদিকে বাংলাদেশের দিনাজপুরের পোর্শা,পত্নীতলা,সাপাহার,ধামুরহাট থানাকে নওগাঁ জেলাতে এবং অটোয়ারীকে পঞ্চগড়ের সাথে যুক্ত করা হয়েছে।

নদীয়াঃ
নদীয়া ও তৎকালীন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা ছিলো।জেলাটির ৬২% মানুষ মুসলিম ও ৩৮% হিন্দু ছিলো।

এখানকার মানুষও স্বাভাবিকভাবে ভেবেছিলো এটি পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হবে।প্রশাসনিকভাবেও সেই তৎপরতা শুরু হয়।

তবে,নাটকীয়ভাবে ১৭ আগষ্ট জানা যায় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলাটিকে দুইভাগে বিভক্ত করে পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গকে দেওয়া হবে।

এর স্বপক্ষে যে যুক্তি ছিলো,সেটাও ধর্মীয়।নদীয়াকে কেন্দ্র করেই হিন্দু সম্প্রদায়ের গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধারণা জন্মে।

বৈষ্ণবধারার গুরু শ্রী চৈতন্যের স্মৃতিবিজড়িত জেলাটিকে প্রথম থেকেই রাজনীতিবিদরা পশ্চিমবঙ্গে রাখতে জোর তদবির শুরু করে।পাশাপাশি নদীয়ার মহারাণী জ্যোতির্ময়ী দেবীও জেলাটিকে ভারতে রাখতে জোর তদবির করে।

ফলে জেলাটির ৫ টি মহাকুমার ২ টি কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা মহাকুমা পুরোপুরি এবং মেহেরপুর মহাকুমার ৫ টি থানার মধ্যে মেহেরপুর ও গাংনী থানা পায় পূর্ববঙ্গ।ভারত পায় কৃষ্ণনগর ও রানাঘাট মহাকুমা এবং মেহেরপুর মহাকুমার বাকি ৩ টি থানা (করিমপুর,তেহট্ট,চাপড়া)।

এ সিদ্ধান্তে পূর্ববঙ্গের বাঙালিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তার “অসমাপ্ত আত্মজীবণী” গ্রন্থে রানাঘাট,কৃষ্ণনগর ও মেহেরপুরের অংশ ভারতকে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

যশোর জেলাঃ
দেশভাগের সময় যশোর জেলার কিছু অংশও বিভক্ত হয়ে যায়।তৎকালীন যশোর জেলার ৫ টি মহাকুমা ছিলো।সেগুলো হলঃ যশোর,ঝিনাইদহ,মাগুরা,নড়াইল,বনগাঁও।

এরমধ্যে বনগাঁও মহাকুমা ৫৩% মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ার পরও একে পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

তবে বনগাঁও মহাকুমার একটি থানা মহেশপুরকে পূর্ববাংলার ঝিনাইদহ মহাকুমার সাথে সংযুক্ত করা হয়।

করিমগঞ্জ (সিলেট)
সিলেট তৎকালীন আসামের একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা ছিলো।

দেশভাগের সময় রেডক্লিফ কমিশন সিলেট জেলাকে গণভোটের মাধ্যমে তাদের রায় প্রকাশ করার সুযোগ দেয়।

এতে সিলেটবাসী পাকিস্তানে তথা পূর্ববঙ্গে আসার রায় প্রদান করে।

কিন্তু এরপরও পুরো সিলেট পূর্ববঙ্গের অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

সিলেটের ৫ টি মহাকুমার মধ্যে সিলেট,মৌলভীবাজার,হবিগঞ্জ,সুনামগঞ্জ পূর্ববাংলার অংশ করা হলেও করিমগঞ্জ মহাকুমার প্রায় সব অংশ ভারতের সাথে যুক্ত করা হয়।

এরমধ্যে করিমগঞ্জ থানার অর্ধাংশ (বর্তমানে জকিগঞ্জ উপজেলা)কে সিলেটের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

করিমগঞ্জকে ভারতে যুক্ত করার পেছনের যুক্তি দেখানো হয় এর ভৌগলিক অবস্থানকে।ভারতের মূল ভূখন্ডের সাথে সেভেন সিস্টার্সের যোগাযোগ রক্ষাকারী সবচেয়ে সহজ উপায় ছিলো করিমগঞ্জই।

এছাড়া আসামের সাথে ত্রিপুরার যোগাযোগের সবচেয়ে সহজ উপায়ও ছিলো করিমগঞ্জ।এজন্য করিমগঞ্জের বেশীরভাগ অংশই ভারতকে দেওয়া হয়।

হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ার সত্বেও পূর্ববঙ্গ(পাকিস্তান) যেসব এলাকা পেলোঃ
খুলনা জেলাঃ
অবিভক্ত বাংলার খুলনা জেলা ছিলো সামান্যতম হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ (৫২%),যার মধ্যে খুলনা মহাকুমা বাদে বাকি সব মহাকুমাই ছিলো মুসলিমপ্রধান।

খুলনা শহরে অনেক হিন্দু ধর্মবালম্বী বাস করতো।তা সত্বেও খুলনাকে পূর্ববঙ্গের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

মূলত ৭০% মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদকে ভারতের সাথে যুক্ত করার বদলে খুলনাকে পূর্ববঙ্গের সাথে সংযুক্ত করা হয়।

অবশ্য খুলনার পূর্ববঙ্গে সংযুক্তি আর্থ-সামাজিক ও ভৌগলিক দিক দিয়ে বর্তমান বাংলাদেশকে অনেক লাভবান হয়েছে।

খুলনার বদলে মুর্শিদাবাদ পূর্ববঙ্গে যুক্ত হলে আমরা পৃথিবীর ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে হারাতাম।তাছাড়া বঙ্গোপসাগরের একটা বিশাল অংশও হাতছাড়া হতো আমাদের।

পার্বত্য চট্টগ্রামঃ
পার্বত্য চট্টগ্রামঃ বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ পার্বত্য চট্টগ্রামবাসীদের দাবি ছিলো তাদেরকে যেনো ভারতের সাথে সংযুক্ত করা হয়।

তৎকালীন সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে ৯৮% বৌদ্ধ ও ২% মুসলিম বাস করতো।

এখানকার অধিবাসীদের ভারতের সাথে যুক্ত করার দাবি সত্বেও একে পূর্ববঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।এর স্বপক্ষে যুক্তি ছিলো চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা।

ভারতের দিক দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম অনেক দুর্গম এলাকা ছিলো।অপরদিকে চট্টগ্রামের দিক থেকে নিকটবর্তী ছিলো।তাছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যকারিতা চালু রাখার জন্য কর্ণফুলি নদীর নাব্যতা রক্ষা করা জরুরি ছিলো।

কর্ণফুলির উজানের অংশ পার্বত্য চট্টগ্রাম।যদি এটি ভারতের অন্তর্ভুক্ত হতো তাহলে প্রতিবেশীরা সহজেই নদীর পানিপ্রবাহ অকার্যকর করে বন্দরকে হুমকির মুখে ফেলার সুযোগ থাকতো।

পার্বত্য চট্টগ্রামকে পূর্ববঙ্গের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের ভৌগলিক দিক দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।

পঞ্চগড় ও দেবীগঞ্জঃ
কোচবিহার জেলার দেবিগঞ্জ থানা এবং জলপাইগুড়ি জেলার পঞ্চগড় মহাকুমাকে পূর্ববাংলার দিনাজপুর জেলার সাথে সংযুক্ত করা হয়।

মূলত বাংলাভাগের মাধ্যমে তৎকালীন পূর্ববঙ্গ বর্তমান বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য কিছু এলাকা বিশেষত মুর্শিদাবাদ হাতছাড়া হওয়াই আঞ্চলিক নদীভিত্তিক রাজনীতিতে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়েছে।যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ গঙ্গা নদীতে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ ও উত্তরবঙ্গ মরুকরণ প্রক্রিয়া।

তবে খুলনা,পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রাপ্তি ভৌগলিকভাবে বাংলাদেশকে অনেক শক্তিশালী করেছে।

বিশেষত বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ঘেরা বনাঞ্চল বাংলাদেশের প্রকৃতিকে আলাদা বৈচিত্র্যময়তা প্রদান করেছে।

সাথে বাংলাদেশকে করেছে অর্থনৈতিক ও ভৌগলিকভাবে শক্তিশালী।

কপিরাইট আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
History Hunters এর লেখা চুরি থেকে বিরত থাকুন।
History Hunters

13/09/2026

🐘 হুমায়ূন জীবনে প্রথম গণ্ডার দেখতে বেরিয়েছিলেন বাবরের সঙ্গে!

১৫২৫ সাল। উত্তর ভারত জয়ের অভিযানের ঠিক আগে বাবর তখন বাগরামের কাছে অবস্থান করছিলেন। একদিন হঠাৎ খবর এলো—কাছাকাছি কোথাও একটি গণ্ডার দেখা গেছে।

গণ্ডার! 🐘

হুমায়ূন এর আগে জীবনে কখনো গণ্ডার দেখেননি। অচেনা এই বিশাল প্রাণীটি নিজের চোখে দেখার কৌতূহল সামলাতে না পেরে বাবরের সঙ্গে তিনিও বেরিয়ে পড়লেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন রাজকীয় সঙ্গীরাও।

আজকের মতো সেই সময়ে দূরদেশের অদ্ভুত কোনো প্রাণীকে ছবি বা ভিডিওতে দেখার সুযোগ ছিল না। তাই কোনো অচেনা প্রাণীর কথা শুনলে সেটিকে নিজের চোখে দেখার সুযোগ পাওয়াই ছিল এক বিশেষ অভিজ্ঞতা।

বাবরের নিজের লেখা স্মৃতিকথা ‘বাবরনামা’-তেই এই ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়।

এই ঘটনাকে ঘিরে প্রায় ১৫৯০ সালের দিকে একটি অসাধারণ মুঘল মিনিয়েচার চিত্রও তৈরি করা হয়েছিল। মজার বিষয় হলো, ছবিটিতে গণ্ডারটিকেই দেখা যাচ্ছে না! বরং দেখা যাচ্ছে বাবর, হুমায়ূন ও তাঁদের সঙ্গীদের পাহাড়ি পথ ধরে এগিয়ে যেতে।

চিত্রটি সম্রাট আকবরের শাসনামলে ‘বাবরনামা’-র একটি চিত্রিত ফারসি অনুবাদের অংশ হিসেবে তৈরি হয়েছিল।

ইতিহাসের পাতায় আমরা সাধারণত যুদ্ধ, রাজ্যজয় আর ক্ষমতার গল্পই বেশি দেখি। কিন্তু এমন ছোট্ট ঘটনাগুলোই কখনো কখনো সেই সময়ের মানুষদের আরও কাছ থেকে চিনতে সাহায্য করে।

প্রায় পাঁচশ বছর আগে একজন বাবা, তাঁর পুত্র এবং তাঁদের সঙ্গীরা—শুধু একটি অচেনা প্রাণীকে নিজের চোখে দেখার কৌতূহলে বেরিয়ে পড়েছিলেন। সেই ছোট্ট ঘটনাটিই আজ একটি চিত্রের মাধ্যমে আমাদের সামনে জীবন্ত হয়ে আছে। 🐘

আপনি যদি হুমায়ূনের জায়গায় থাকতেন, জীবনে প্রথমবার গণ্ডার দেখার জন্য বাবরের সঙ্গে বেরিয়ে পড়তেন?

History Hunters Collection

12/09/2026

১১৮৭ সালের ৪ জুলাই। ফিলিস্তিনের হাট্টিনের কাছে মুখোমুখি হয়েছিল সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর বাহিনী এবং জেরুজালেমের রাজা গাই দ্য লুসিনিয়ানের নেতৃত্বাধীন ক্রুসেডার বাহিনী।

শেষ পর্যন্ত হাট্টিনে ঘটে ক্রুসেডারদের বড় পরাজয়। রাজা গাই বন্দী হন এবং জেরুজালেম রাজ্যের সামরিক শক্তি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।

এই ভিডিওতে জানুন হাট্টিনের যুদ্ধের পেছনের ঘটনা, যুদ্ধের দিন কী ঘটেছিল এবং কীভাবে এই একটি যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিয়েছিল।

ইতিহাসের বিস্ময়কর যুদ্ধ, বিরল ঐতিহাসিক ছবি এবং প্রাচীন সভ্যতার গল্প পেতে History Hunters-এর সঙ্গে থাকুন।

স্প্যানিশ মুসলিমদের ইতিবৃত্ত: প্রাক-মুসলিম স্পেনছবির ক্যাপশনে দেখুন বিস্তারিত ইতিহাস
12/09/2026

স্প্যানিশ মুসলিমদের ইতিবৃত্ত: প্রাক-মুসলিম স্পেন
ছবির ক্যাপশনে দেখুন বিস্তারিত ইতিহাস

⚔️ ৪ জুলাই ১১৮৭—হাট্টিনের সেই ঐতিহাসিক দিন।সম্পূর্ণ ভিডিওটি ইউটিউবে দেয়া হয়েছে কমেন্টে লিঙ্ক দিয়ে দিলাম 🙂
09/09/2026

⚔️ ৪ জুলাই ১১৮৭—হাট্টিনের সেই ঐতিহাসিক দিন।

সম্পূর্ণ ভিডিওটি ইউটিউবে দেয়া হয়েছে কমেন্টে লিঙ্ক দিয়ে দিলাম 🙂

🐫 সিল্ক রোডের যে অন্ধকার ইতিহাস কেউ আপনাকে বলে না...ছবির ক্যাপশনে দেখুন বিস্তারিত ইতিহাস
09/09/2026

🐫 সিল্ক রোডের যে অন্ধকার ইতিহাস কেউ আপনাকে বলে না...
ছবির ক্যাপশনে দেখুন বিস্তারিত ইতিহাস

মুসলিম শাসকেরা কি শুধু ভোগ-বিলাসেই মগ্ন ছিলেন? ইতিহাস কিন্তু অন্য কথা বলে!ছবির ক্যাপশনে দেখুন বিস্তারিত ইতিহাস
07/09/2026

মুসলিম শাসকেরা কি শুধু ভোগ-বিলাসেই মগ্ন ছিলেন? ইতিহাস কিন্তু অন্য কথা বলে!
ছবির ক্যাপশনে দেখুন বিস্তারিত ইতিহাস

"বই শুধু কাগজ আর কালির লেখা নয়, এ হলো ইতিহাসের দ্বার। এক-একটা বই মানেই এক-একটা সময়কে বুকের ভেতরে আগলে রাখা। যারা ইতিহাস ...
07/09/2026

"বই শুধু কাগজ আর কালির লেখা নয়, এ হলো ইতিহাসের দ্বার। এক-একটা বই মানেই এক-একটা সময়কে বুকের ভেতরে আগলে রাখা। যারা ইতিহাস ভালোবাসে, তারা জানে পুরনো দিনের পাতায় কত মূল্যবান শিক্ষা আর রোমাঞ্চকর ঘটনার খনি লুকিয়ে আছে। আমি যখন এই বইগুলোকে এভাবে জড়িয়ে ধরি, মনে হয় সময় থমকে গেছে।"

অন্ধকার আমাজনের শেষ ঠিকানা: হারিয়ে যাওয়া ‘Z’ শহরের রহস্যছবির ক্যাপশনে দেখুন বিস্তারিত ইতিহাস
06/09/2026

অন্ধকার আমাজনের শেষ ঠিকানা: হারিয়ে যাওয়া ‘Z’ শহরের রহস্য
ছবির ক্যাপশনে দেখুন বিস্তারিত ইতিহাস

Address

Khulna
9100

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when History Hunters posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Museum

Send a message to History Hunters:

Shortcuts

Share