07/08/2026
উদ্বোধনের পরপরই জুলাই জাদুঘরের প্রতি মানুষের অবিশ্বাস্য আগ্রহ বলে দেয় জুলাই জনতার।
আমরা এই আগ্রহকে শ্রদ্ধা জানাই।
কিন্তু যেহেতু এই জাদুঘরে শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন আছে, আছে অনেক ভঙ্গুর জিনিসপত্র, জাদুঘরের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত দর্শনার্থী প্রবেশ করলে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে আপনার প্রাণের এই জাদুঘর।
পাশাপাশি অনেক মানুষ একসাথে প্রবেশ করলে আপনি জাদুঘরের সবকিছু ভালো করে মনোযোগ দিয়ে দেখতেও পারবেন না।
সবার প্রতি তাই অনুরোধ, অনলাইনে স্লট বুকিং দিয়ে জুলাই জাদুঘর পরিদর্শনে আসুন। প্রতিদিন কাউন্টার থেকে কেনা যাবে সীমিত সংখ্যক টিকেট। যারা কাউন্টারে এসে টিকেট পাবেন না, তাদের প্রতি অনুরোধ, পরবর্তী কোনো দিনে জাদুঘর পরিদর্শনের চেষ্টা করুন।
|| আজ ও গতকালের পরিস্থিতি ||
জুলাই জাদুঘরের মূল ভবন, অর্থাৎ গণভবন অনেক পুরনো একটি ভবন। এছাড়াও স্বৈরাচারী শাসকের বাসভবন হিসেবে জনগণের উগড়ে দেয়া ক্ষোভ ভবনটিকে আরো দুর্বল করে তুলেছে।
সেই দিকটি চিন্তা করে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট স্লটের টিকেট কেটে সেই নির্ধারিত সময়ে দর্শনার্থীরা ঘুরে দেখবেন। তাদের নির্ধারিত সময় শেষ হলে তারা বহির্গমন করবেন। এবং কেবলমাত্র তারপরই দ্বিতীয় স্লটের দর্শনার্থীরা জাদুঘরে প্রবেশ করবেন। ঠিক এই পরিকল্পনা অনুযায়ী জাদুঘরটি খোলা হয়েছে।
জাদুঘর উদ্বোধনের পর প্রথম দুইদিন দর্শনার্থীদের প্রচণ্ড ভিড় ও বিশৃঙ্খলভাবে ধাক্কাধাক্কিতে মূল ফটকটি নড়বড়ে হয়ে যায় ও জাদুঘর কর্তৃপক্ষের লোকজন আহত হয়।
দর্শনার্থীদের অনেকেই ঢাকার বাইরে থেকে জাদুঘর দেখতে এসেছেন। কেউ কেউ সঙ্গে এনেছেন পরিবার, সন্তান ও স্বজন। বৈরি আবহাওয়ার কারণে প্রায় সারাদিন চলছিল বৃষ্টি। দর্শকদের হতাশা ও চাপে টিকেট ব্যবস্থা অনেকটাই ভেঙে পড়ে এবং অপেক্ষমান দর্শনার্থীদের মধ্যে থাকা অনেক শিশু অসুস্থবোধ করতে শুরু করে। জাদুঘর কতৃপক্ষ বিশেষ বিবেচনায় এই দর্শনার্থীদের জন্য সেখানেই টিকেট দেয়ার ব্যবস্থা করেন।
জুলাই জাদুঘর কর্তৃপক্ষ মানবিক দিক বিবেচনা করে ধারণ ক্ষমতার বেশি মানুষকে প্রবেশ করতে দিলেও, তা দর্শনার্থী ও জাদুঘর উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
জুলাই জাদুঘরের প্রতি মানুষের উৎসাহ, আবেগ, উদ্দীপনা আমরা বুঝি। সঙ্গে সঙ্গে জাদুঘরের মহামূল্যবান সামগ্রীর নিরাপত্তা এবং দর্শনার্থীদের সুবিধার বিষয়টিও জরুরি।
তাই জুলাই জাদুঘর কর্তৃপক্ষ আপনাদের সহযোগিতা প্রত্যাশী।
আগামীকাল থেকে জুলাই জাদুঘর পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কঠোরভাবে স্লট ভিত্তিক টিকেট পদ্ধতির নিয়ম অনুসরণ করবে। অর্থাৎ, অনলাইনে পূর্বেই টিকেট কেটে ফেলা দর্শনার্থীরা তাদের বাছাই করা স্লটের বাইরে প্রবেশ করতে পারবে না এবং নির্ধারিত সময়ের পরে জাদুঘরে অবস্থান করতে পারবে না। অনলাইনের বাইরে জাদুঘরের প্রবেশমুখে খুবই সীমিত সংখ্যক টিকেট বিক্রয় হবে।
আমরা আপনাদের সহযোগিতা আশা করছি। এই জাদুঘর আপনাদেরই।