13/05/2015
[O.T]
আজ আপনাদের এক মায়ের কথা বলতে এসেছি। একটি নির্মম বাস্তবতার কথা বলতে এসেছি।
ছেলের বিয়ের পাগড়ি কিনতে ছেলের সাথে বাইকে চড়ে বের হয়েছেন মা। নভেম্বরে বিয়ে। তোড়জোড় চলছে খুব। ছেলের বিয়ের পাগড়ি আর কতো কী কেনার কথা সেদিন! টুকটাক কথা হচ্ছে দুজনের। সেন্টাল রোডের মোড় ঘোরার সময় হঠাৎ মায়ের মাথা ঘুরতে লাগলো। কোনোকিছু বুঝে ওঠার আগেই মা পড়ে গেলেন রাস্তায়। তার চোখ বন্ধ হয়ে আসছে। নাক-মুখ দিয়ে গলগল করে বেরিয়ে আসছে রক্ত। কাছেই সেন্ট্রাল হসপিটালে নেয়ার পর জানা গেলো মায়ের মাথার পেছনে আঘাত লেগে ব্রেন হেমোরেজ হয়ে গেছে। দুদিনের মধ্যেই তার একটি অপারেশন হয়। কিন্তু চোখ আর খোলে নি তার। অচেতন অবস্থায় টানা ৪ মাস।
রবিন নামের এই ছেলেটি, যে এই বছর ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ পাস করলো, গ্রামীন ফোনের পার্ট টাইম চাকরিটা ছেড়ে যে নতুন চাকরির ইন্টারভিউয়ে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, আর থেকে থেকে ভাবছিল ভালবাসার মানুষটির কথা, হুট করে তার জীবনটা কেমন বদলে গেলো। মায়ের সেবা করতে গিয়ে সে বাসায় ফেরে নি গত ৫ মাস।
বেসরকারি হাসপাতালের বিল বহন করা সম্ভব ছিল না এই মধ্যবিত্ত পরিবারটির। অনেক চেষ্টার পর শহীদ সোহরাওয়ার্দি হাসপাতাল হয়ে যতদিনে মাকে পিজিতে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি) নেয়া হয়েছে, ততদিনে লাখ লাখ টাকার বিল জমে গেছে মাত্র ১২ দিনেই। তবুও আশা কি ছেড়ে দেয়া যায়? কেউ কি কল্পনা করতে পারে মা ছাড়া একটা সংসার? ছেলেটি বাসার কথা ভুলে গেছে। হাসপাতালেই থেকে নিজ হাতে মায়ের যত্ন নিয়েছে, ক্রমাগত শুয়ে থেকে পিঠ ভিজে গেলে মাকে পাশ ফিরিয়ে দিয়েছে, ময়লা কাপড় নিজ হাতে ধুয়ে দিয়েছে। শুধু একটাই আশা- মা আবার চোখ খুলবে।
হ্যা, মা চোখ খুলেছে। কিন্তু ৪ মাস পর শুধু চোখই খুলেছে তার। তিনি কাউকে চিনতে পারেন না। কোনো কথা বলতে পারেন না। এমনকি নিজে কিছু খেতেও পারেন না। তার গলার ভেতর ফুটো করে নল দিয়ে খাবার দেয়া হয়। এই অবস্থাতে আপনি আমি হলে কী করতাম, কে জানে। ছেলেটি কিন্তু আশা ছাড়ে নি। ও বলছে- যেখানে যা আছে, সব বিক্রি করে ফেলবে। এরমধ্যেই তাদের সামান্য সঞ্চয় শেষ হয়ে এসেছে। প্রায় ২০-২৫ লাখ টাকা খরচ করে ফেলেছে এই পরিবারটি। তবুও তারা থামতে চায় না। হয়তো এরপর পথে দাঁড়াবে। তবুও মাকে কথা বলাতে হবে। এই পাগলকে অন্য কিছু বোঝানোর ক্ষমতা আমার ছিল না। আমি সেই চেষ্টাও করি নি।
আমরা একটা ফান্ড রেইজিং ইভেন্ট তৈরি করেছি মায়ের জন্য। ডাক্তাররা নিশ্চিত করে কিছু বলেন নি আরো কতদিন এভাবে চিকিৎসা চালাতে হবে। তবে নিঃসন্দেহে সেটা আরো ৪-৫ মাসের কম না। এখন প্রতি দিন প্রায় ৮,০০০ টাকা লাগছে চিকিৎসা খরচ, যেটা মাস শেষে প্রায় ২,৪০, ০০০ টাকা। আগামী ৪-৫ মাসে সেটা গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ১২,০০,০০০ টাকা। এই মুহূর্তে টাকা আসছে শুধু মাত্র ছেলের জমানো বিয়ের টাকা, বাবার প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা, বাবার বেতন আর আত্মীয়-বন্ধুদের সাহায্য থেকে। প্রতিদিনই ভয় হয়, কাল টাকা থাকবে তো?
ইভেন্টে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, বিকাশ ওয়ালেট নাম্বার সব দেয়া আছে। শুধু প্রয়োজন আপনাদের সাহায্যের। চলুন না, সবাই মিলে একটু একটু করে সাহায্য করি। ১৬ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ। সবাই মিলে একজন মাকে বাঁচাতে পারবো না? কী, করবেন না সাহায্য?
আমাদের মায়ের সম্পর্কে সমস্ত তথ্যঃ
রোগীর নামঃ রেহানা চৌধুরী
ছেলেঃ তৌফিক চৌধুরী রবিন (01711083836)
হাসপাতালঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি, ব্লক 'কেবিন', ৮ তলা, HDU-8
সাহায্যের জন্যঃ
বিকাশ নম্বরঃ
01674 002044
01911 254397
01842 678466
ডাচ বাংলা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টঃ
TAHMINA CHOWDHURY FAIZA
148.151.0082728
• বিকাশ-এ টাকা পাঠিয়ে যে নম্বরে বিকাশ করেছেন, সেই নম্বরে এবং ব্যাঙ্ক আকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে নিচের যোগাযোগের নম্বরগুলোয় আপনার নাম এবং টাকার পরিমাণ মেসেজ করে জানিয়ে দেয়ার অনুরোধ করছি।
যেকোনো যোগাযোগঃ
01711083836 (রবিন)
01773855521 (তৈমুর)
প্রাপ্ত টাকার হিসাবঃ
https://docs.google.com/…/1Ts1SWjwr14RPiStWxgX_662W…/pubhtml
চিকিৎসার মূল কাগজপত্রঃ
https://www.facebook.com/media/set/…
ইভেন্ট লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/events/1634259066807770/
পেজ লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/formother2015
ওয়েভ লিঙ্কঃ http://mayer-jonno.tk/
আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছি। খুব তাড়াতাড়ি অনলাইনের বাইরেও আমাদের কাজ শুরু করবো। শপিংমলে, বিকেলের আড্ডার জায়গায়, লোক জমায়েত হয়, এমন যেকোনো জায়গায় মায়ের জন্য সাহায্য চাইবো আমরা। কিন্তু সেজন্য অনেক ভলান্টিয়ার প্রয়োজন আমাদের। আগ্রহীরা দ্রুত ফোনে, ফেসবুকে যোগাযোগ করুন। কে জানে, এরপর আপনার কোনো বিপদের দিনে হয়তো প্রয়োজন পড়বে আমাদের মতো কিছু মানুেষর...