The mission of Anushandhitshu Chokro is to spread science education and practice among young people.
প্রগতি ও শান্তির জন্য বিজ্ঞান
>>>অনুসন্ধিৎসু চক্র
স্বাধীনতা পরবর্র্তীকালে পরবর্তীকালে দেশে বিজ্ঞান চর্চার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে ঢাকার কয়েকজন তরুণ ১৯৭৫ সালের ৬ ই সেপ্টেম্বর গড়ে তোলেন অনুসন্ধিৎসু চক্র। সেই থেকে আজ পর্যন্ত মানুষের কাছে সহজভাবে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানকে পৌঁছে দিতে অনুসন্ধিৎসু চক্র নিরল
সভাবে কাজ করছে। অনুসন্ধিৎসু চক্র (সংক্ষেপে অচ ) একটি বিজ্ঞান ক্লাব বা বিজ্ঞান সংগঠন।
আদর্শ
প্রগতি ও শান্তির জন্য বিজ্ঞান
উদ্দেশ্য
1. বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট তৎপরতার মাধ্যমে নির্দোষ আনন্দ লাভ এবং সমাজ ও সভ্যতার প্রয়োজনে সম্ভবপর ভূমিকা পালনে আন্তরিক সংঘবদ্ধ প্রয়াস চালানো।
2. বিজ্ঞান ভিত্তিক কর্মতৎপরতার মাধ্যমে চক্রের সদস্যদের বিজ্ঞান বিষয়ক জ্ঞানের উৎকর্ষ সাধন।
3. বিশেষভাবে শিশু-কিশোর ও তরুণদের সৃষ্টিশীল বিজ্ঞান মনীষা গড়ে তোলার নিরন্তর প্রয়াস চালানো।
4. মাতৃভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করা এবং গণমানুষকে বিজ্ঞান চর্চা করতে উদ্বুদ্ধ করা।
5. সামগ্রিকভাবে দেশে কুসংস্কার মুক্ত বিজ্ঞান চর্চার একটি যথার্থ সুস্থ সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাধ্যমত চেষ্টা করা।
6. দেশের স্বার্থে সমীক্ষামূলক প্রকল্প গ্রহণ এবং গ্রাম্য প্রযুক্তির উন্নয়নকল্পে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ।
সংগঠন পরিচালনা
অনুসন্ধিৎসু চক্র গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত বিজ্ঞান চর্চার একটি কেন্দ্র। দেশের নানা স্থানে এর শাখা রয়েছে।
কাজের প্রকৃতি ও ব্যাপ্তি
জ্ঞান লাভের উদ্দেশ্যকে সফল করার জন্য সদস্যরা প্রতি সপ্তাহে/পক্ষে/মাসে একবার একত্রিত হয়।এ সভায় গণিত, পদার্থবিদ্যা, জীববিদ্যা, রসায়নবিদ্যা, জ্যোতির্বিদ্যা, সামাজিকবিজ্ঞান, উড্ডয়নবিদ্যা, বিজ্ঞান সাহিত্য সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। সদস্যদের সৃজনশীলতা বিকাশে বিজ্ঞান বক্তৃতা, বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা, সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। চক্রের সদস্য নয় এমন সদস্যরাও এ সভায় থাকতে পারেন। ব্যবহারিক কর্মসূচীতে চক্রের সদস্যরা সহজলভ্য সামগ্রী দিয়ে বিভিন্ন ধরনের বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ও মডেল তৈরি করে। চক্র বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করার জন্য বিজ্ঞান ভিত্তিক প্রদর্শনী, পত্রিকা প্রকাশ, দেয়ালিকা প্রকাশ এবং পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার কার্যক্রম সাংগঠনিকভাবে পরিচালনা করে থাকে।
ক্লাবের বর্তমান কর্মসূচী
বর্তমানে অনুসন্ধিৎসু চক্র দেশজুড়ে বিজ্ঞান গণসাক্ষরতা অভিযান পরিচালনা করছে। এ অভিযানের অংশ হিসেবে Rb¯^v¯’¨ ও পরিবেশ সচেতনতা বিষয়ক কর্মসূচী, শিক্ষা ব্যবস্থার পাঠক্রম মূল্যায়ন, ভ্রাম্যমাণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর পরিচালনা, বিজ্ঞান মেলা ও বিজ্ঞান উৎসবের আয়োজন, বিজ্ঞান গ্রন্থমেলা আয়োজন, কুসংস্কার বিরোধী প্রচার, বিজ্ঞানের ইতিহাস নিয়ে প্রদর্শনী, বিজ্ঞান চর্চা বিষয়ক জরিপ সারা দেশে পরিচালনা করছে। বিজ্ঞান গণসাক্ষরতা অভিযানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিজ্ঞান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। যা পরবর্তীতে সেমিনার ও আলোচনার মাধ্যমে দেশের জনগণের নিকট প্রকাশ করা হবে। এছাড়া বন্যা, শীতসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অনুসন্ধিৎসু চক্র তার সাধ্যমত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে।
ভ্রাম্যমাণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর
অনুসন্ধিৎসু চক্র ও বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি যৌথভাবে তৈরি করেছে বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র ভ্রাম্যমাণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর। এ জাদুঘর সব বয়সের মানুষের বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের কাছে বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ জাদুঘরে পদার্থবিদ্যা, রসায়নবিদ্যা, গণিতসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রকল্প রয়েছে।
ক্লাবের কৃতিত্বসমূহ
অনুসন্ধিৎসু চক্রের ব্যাপক ও বহুমুখী কার্যক্রমই তার সাফল্যের বড় পরিচায়ক। চক্র প্রতিবছর জাতীয়ভাবে অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান মেলায় পুরস্কার পেয়ে থাকে।
সদস্য
অনুসন্ধিৎসু চক্রের আদর্শ ও উদ্দেশ্যের সাথে একমত পোষণকারী যে কেউ অচ-র প্রাথমিক সদস্য হতে পারেন। প্রাথমিক সদস্যকাল অনূর্ধ্ব ১৬৫ দিন। প্রাথমিক সদস্য স্ব স্ব কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে সদস্যপত্র পূরণ করে পূর্ণ সদস্যপদ গ্রহণ করতে পারবেন।
শাখা গঠন
যে কেউ বিজ্ঞান চর্চা ও প্রসারে আগ্রহী হলে কেন্দ্রের অনুমতি নিয়ে অনুসন্ধিৎসু চক্রের শাখা খুলতে পারবেন।
অনুসন্ধিৎসু বিজ্ঞান গ্রন্থমালা
দেশের বিজ্ঞান চর্চার যথোপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি ও সহজে গণমানুষের কাছে মাতৃভাষায় বিজ্ঞানের বার্তা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে অনুসন্ধিৎসু বিজ্ঞান গ্রন্থমালা প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর আওতায় প্রকাশিত হচ্ছে বিভিন্ন ধারার বিজ্ঞান ভিত্তিক বই।
বিজ্ঞান পত্রিকা
উন্নয়নশীল দেশ সমূহে বিজ্ঞানের খবরাখবর জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দিতে বিজ্ঞান পত্রিকা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। এক্ষেত্রে অনুসন্ধিৎসু চক্র অনিয়মিতভাবে হলেও অণু বিজ্ঞান পত্রিকা বের করে সেই ভূমিকা পালন করছে। আর্থিক অসুবিধা অতিক্রম করে সহজভাবে বিজ্ঞানকে জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দিতে অণু প্রকাশ করতে চক্রের সদস্যরা চেষ্টা চালাচ্ছে।
আয়ের উৎস
চক্রের আয়ের উৎস হচ্ছে সদস্যদের দেওয়া নিয়মিত চাঁদা, ব্যক্তি বিশেষের কাছ থেকে পাওয়া এককালীন অনুদান ও চাঁদা, সরকারী অনুদান, প্রকাশনা বিক্রয়লব্ধ টাকা ইত্যাদি।
উপসংহার
অনুসন্ধিৎসু চক্র বিজ্ঞান প্রেমিকদের নিজস্ব ভুবন যেখানে অনুসন্ধিৎসুরা বয়সের ব্যবধান ভুলে গিয়ে কথায় ও কাজে অনেক কাছাকাছি চলে আসে এবং অব্যক্ত চিন্তাধারা বাসত্মবায়নে সচেষ্ট হয়। সমাজের কুসংস্কারাচ্ছন্ন অবৈজ্ঞানিক ভাবনাগুলোর পরিবর্তনে বিপ্লবাত্নক বিজ্ঞান আন্দোলন তারা কামনা করে।
বাংলাদেশের বিজ্ঞান ক্লাব ও অন্যান্য শিশু-কিশোর, যুব-প্রবীণ সংগঠনের প্রতি অনুসন্ধিৎসু চক্র আন্তরিকতা জ্ঞাপন করছে। চক্র তার কার্যক্রমে যুক্ত হয়ে বিজ্ঞান আন্দোলন এগিয়ে নিতে সকল বিজ্ঞান অনুসন্ধিৎসুদের আহ্বান জানাচ্ছে। চক্র চায় মানুষের চারপাশ ও জীবন কেন্দ্রিক বিজ্ঞান চর্চা করতে।
চক্র চায় সহযোগিতা, পরিবর্তে সবাইকে দিতে চায় সহমর্মিতার হাত- বিজ্ঞানের পথে, শান্তির পথে আর প্রগতির পথে।