05/05/2026
মোল্লা-মাওলানাদের হারাম-হালালের ফতোয়া আর তাদের নিজেদের আয়ের উৎস
সাধারণ মানুষের জন্য হারাম-হালাল নিয়ে যখন কঠোর ফতোয়া দেয়া হয়, তখন একটি বড় প্রশ্ন অবশ্যই ওঠে—
তাদের নিজেদের আয়ের উৎস কতটা বৈধ? কতটা পবিত্র?
আসুন, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নেই সরাসরি আল্লাহর কিতাব—পবিত্র কুরআন থেকে। কুরআন এ ধরনের ধর্মীয় নেতৃত্ব ও আলেম সমাজ সম্পর্কে স্পষ্ট সতর্কবাণী দিয়েছে:
১. কিতাব গোপন করে অর্থ উপার্জন
“যারা আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাব গোপন করে এবং তার বিনিময়ে সামান্য মূল্য গ্রহণ করে, তারা নিজেদের পেটে আগুন ছাড়া আর কিছুই প্রবেশ করায় না।”
— সূরা আল-বাকারা (২:১৭৪)
২. নিজেদের লেখাকে আল্লাহর কথা বলে চালিয়ে দেওয়া
“হায় আফসোস তাদের জন্য, যারা নিজ হাতে কিতাব লিখে, অতঃপর বলে, ‘এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে’, যাতে তারা এর বিনিময়ে সামান্য মূল্য পেতে পারে।”
— সূরা আল-বাকারা (২:৭৯)
৩. জিহ্বা বাঁকিয়ে কথা বিকৃত করা
“তাদের মধ্যে একদল আছে যারা কিতাব পাঠ করার সময় জিহ্বা বাঁকিয়ে কথা বলে, যাতে তোমরা মনে করো যে, তা কিতাবের অংশ। অথচ তা কিতাবের অংশ নয়।”
— সূরা আল-ইমরান (৩:৭৮)
৪. আয়াতসমূহকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করা
“তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে সামান্য মূল্যে বিক্রি করে এবং মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বাধা দেয়। তারা যা করছে, তা কতই না নিকৃষ্ট!”
— সূরা আত-তাওবাহ (৯:৯)
৫. পন্ডিত ও দরবেশদের রব বানানো এবং সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস
“তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের আলেম ও দরবেশদের নিজেদের প্রভু বানিয়ে নিয়েছে।”
— সূরা আত-তাওবাহ (৯:৩১)
“হে মুমিনগণ! অনেক আলেম ও দরবেশ মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে এবং আল্লাহর পথ থেকে বাধা দেয়।”
— সূরা আত-তাওবাহ (৯:৩৪)
৬. দাওয়াতের মূল শর্ত: কোনো পারিশ্রমিক নয়
“বলুন, ‘আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোনো পারিশ্রমিক চাই না এবং আমি কোনো কপট ব্যক্তিও নই।’”
— সূরা সাদ (৩৮:৮৬)
উপসংহার
দ্বীন এসেছে মানুষকে মুক্ত করতে, তাদের ওপর নতুন নতুন বোঝা চাপিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে নয়।
যারা ফতোয়ার নামে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণ করেন, অথচ ‘হাদিয়া’, ‘চুক্তি’ বা ‘দান-খয়রাত’-এর নামে মানুষের সম্পদ ভোগ করেন—তাদের ব্যাপারে গভীরভাবে চিন্তা করার সময় এসেছে।
প্রশ্ন আপনার কাছে:
আপনি কি অন্ধভাবে মানুষের ফতোয়া মেনে চলবেন, নাকি আল্লাহর সরাসরি বাণী—পবিত্র কুরআন দিয়ে প্রত্যেক কথা যাচাই করে সত্য গ্রহণ করবেন?
দ্বীনকে ব্যবসা বানানোর বিরুদ্ধে কুরআনের সতর্কবাণী স্পষ্ট।
এখন সিদ্ধান্ত আপনার।