24/06/2023
.......আশা করি অনেকের জুমার বয়ান হয়ে যাবে...... জিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০দিন নিয়ে সকল খুটিনাটি জেনে নিন‼️
রাসূল ﷺ বলেছেন, আল্লাহ তা'য়ালার নিকট জিলহজ্ব মাসের প্রথম ১০ দিনের আমলের চেয়ে অধিক প্রিয় আর অন্য কোনো দিনের আমল নয়। সুতরাং তোমরা এই দিনগুলোতে সিয়াম পালন করো এবং অধিক পরিমানে তাসবীহ তাহলীল, যিকির আযকার পাঠ করো। [মুসনাদে আহমাদ- ৫৪৪৬]
জিলহজ্ব মাস পবিত্র হজ্বের মাস,ত্যাগ ও কুর'বানীর মাস।এক কথায় বলা চলে লাইলাতুল ক্বদরের মতোই মূল্যবান।তাই আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকা দরকার এই পবিত্র মাসকে সর্বোত্তমভাবে কাটানোর।
যিলহজ্ব মাসের আমল:
১) যিলহজ্ব মাস কবে শুরু?
আরবী মাস চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল।
১৯ জুন যিলক্বদ মাসের ২৯ দিন শেষ হবে,ইন শা আল্লাহ।
ঐ দিন সন্ধ্যায় চাঁদ দেখতে হবে।কারণ আরবী মাস কখনো ২৯ দিনে হয় আবার কখনো ৩০ দিনে হয়।
২) রোযা রাখবো কবে?
যদি ১৯ জুন সোমবার সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা যায় তাহলে ঐ দিন রাতেই সাহরি খেয়ে ২০ জুন মঙ্গলবার থেকে যিলহজ্বের রোযা রাখা শুরু করতে হবে।
(সেই ভাবেই প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে)
আর যদি ১৯ তারিখ সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা না যায় তাহলে ২০ তারিখ মঙ্গলবার রাতে সাহরি খেয়ে ২১ তারিখ বুধবার থেকে রোযা রাখতে হবে।
৩) কতগুলো রাখবো?
রোযা মোট ৯ টা (১~৯ যিলহজ্ব)। সবগুলো রাখাই উত্তম।
সব না পারলে সাধ্যমত রাখতে হবে।
অন্তত কিছু না হলেও শেষের দুটো রোযা (৮, ৯ যিলহজ্জ) বা শেষ (৯ যিলহজ্জ) একটা রোযা রাখা উচিত।
এগুলো নফল রোযা।
কেউ না রাখলে গুনাহ হবে না।
কেউ আবার ভাববেন না যে রাখতেই হবে। আপনার ইচ্ছা, আপনি আপনার আখেরাত কেমন ভাবে গড়বেন।
যাদের রমজানের কাযা আছে তারা কাযা রোযার নিয়ত করতে পারেন।
৪) শুনেছি ঈদের আগের দিন রোযা রাখা হারাম?
ভুল শুনেছেন।
বছরের ৫ দিন রোযা রাখা হারাম।
শাওয়ালের ১ তারিখ (রোযার ঈদের দিন), যিলহজ্বের ১০, ১১, ১২, ১৩ তারিখ (কুরবানি ঈদের দিন ও পরের ৩ দিন)। মোট ৫দিন।
৫) আমি তো কুর'বানী দিবো না তাহলে?
এই রোযা গুলো নফল।
কুরবানীর সাথে সম্পর্ক না।
আপনি রাখলে সওয়াব পাবেন।
না রাখলে সমস্যা নাই।
৬ ) শুনেছি যারা কুরবানী করবে তারা নখ চুল ইত্যাদি কাটবে না?
জী। যারা কুরবানী করবে তাদের জন্য সুন্নাত হলো যিলহজ্ব শুরুর পর থেকে কুরবানী না করা পর্যন্ত চুল, নখ, গুপ্তাঙ্গ পরিষ্কার না করা।
এজন্য যিলহজ্ব মাস শুরুর আগেই এই কাজ গুলো করে নিতে হবে।
যারা কুর'বানী করবে না তারাও এই আমল গুলো করলে সওয়াব পাবে ইনশাআল্লাহ।নারী পুরুষ ছেলে মেয়ে সবাই করতে পারবে এই আমল।
এই আমল করতে চাইলে ১৯/২০ জুন যিলহজ্বের চাঁদ উঠার আগেই অর্থাৎ সন্ধ্যার আগেই সব কিছু পরিষ্কার করে নিতে হবে।সেই ভাবেই প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে সবাইকে।
৭) রোযা রাখতে গিয়ে যদি সাহরি খেতে না পারি?
সাহরি খাওয়া সুন্নাত।
ইচ্ছা করে ত্যাগ করা যাবে না।
যদি ঘুমের কারনে টের না পাওয়া যায় তাহলে কিছু না খেয়ে শুধু নিয়ত করে রাখলেই রোযা হবে।
নফল রোযা রাখছি বললেই হবে।অন্যদিকে রোযা রাখার জন্য সাহরি করলেই নিয়ত হয়ে যাবে (ইনশা আল্লাহ) মুখে না বললেও চলবে।
৮ ) আরাফার দুআ ও তাকবীরে তাশরীক কি?
আরাফার দুআ আরাফার দিনে পড়তে হয়। তবে সেটা অন্যান্য যে কোন সময়ও পড়া যাবে।
দুআ টি হলোঃ
لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ
وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ
لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ
وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লাল্লহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু
ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাই ইং ক্বদির।
(আরবি উচ্চারণ কোন ভাষাতেই সঠিক ভাবে লেখা যায় না।তাই অবশ্যই আরবী দেখে পড়ে নিতে হবে)
৯) নীচের তাসবীহটি বেশী বেশী পড়বেন।
سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ وَسُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيْمِ
উচ্চারণ: সুবহানাল্লহি ওয়া বিহামদিহি ওয়া সুবহানাল্লহিল আযীম ।
একবার "সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি" পাঠ করা হলো আল্লাহর রাস্তায় পাহাড় পরিমান স্বর্ণ দান করার চেয়েও উত্তম। (সহীহ আত তারগীব ১৫৪১, তাবারানি ফিল কাবির ৭৭৯৫)
১০)দৈনন্দিন সকাল সন্ধ্যার জিকিরগুলো পড়া সাথে অন্যান্য জিকিরগুলো কাজের ফাকে, হাটতে চলতে করতে থাকা।
যেমনঃ সুবাহানআল্লাহ,আলহামদুলিল্লাহ,আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ইত্যাদি বেশি বেশি পাঠ করা
উম্মু হানি (র.) রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বলেন, “ইয়া রসূলুল্লাহ, আমি বৃদ্ধ ও দুর্বল হয়ে গিয়েছি, আমাকে এমন একটি আমল শিখিয়ে দিন যা আমি বসে বসে পালন করতে পারবো।
তিনি বলেনঃ "তুমি ১০০ বার "সুব'হানআল্লাহ" বলবে তাহলে ১০০টি ক্রী'তদা'স মুক্ত করার সমপরিমাণ সাওয়াব তুমি পাবে।
তুমি ১০০ বার "আলহামদুলিল্লাহ" বলবে, তাহলে আল্লাহর রাস্তায় ল'ড়া'ইয়েরর জন্য ১০০ টি সাজানো ঘোড়ায় মু*জা*হিদ প্রেরণের সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে।
তুমি ১০০ বার "আল্লাহু আকবার" বলবে, তাহলে ১০০টি মাকবুল উট কুর'বানির সমপরিমাণ সাওয়াব তুমি পাবে।তুমি ১০০ বার "লা-ইলাহা ইল্লাহ" বলবে, তাহলে তোমার সাওয়াবে আসমান ও জমীন পূর্ণ হয়ে যাবে (এবং তোমার কোন পাপই বাকি থাকবেনা)।”
(মুসনাদে আহমাদ ৬/৩৪৪, সুনানু ইবনু মাজাহ ২/১২৫২,নং ৩৮১০, নাসাঈ, কুবরা ৬/২১১, মুসতাদারাক হাকিম ১/৬৯৫, মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/৯২; আলবানী সহীহাহ ৩/৩০২,৩৯০,নং ১৩১৬)
১১)প্রতিদিন কুরআন শরিফ থেকে একশটি আয়াত পড়া।
তাহলে সারারাত্রিতে টানা তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করার সওয়াব পাওয়া যাবে ইন শা আল্লাহ। (সহিহুল জামে ৬৪৬৮)
(সূরা কদর থেকে সর্বশেষ সূরা নাস পর্যন্ত পড়া যায়।
কম সময়ে অতি সহজে ১০০ আয়াত পূর্ন হয় এতে)
১২)প্রতিদিন কুরআন শরিফ থেকে দশটি আয়াত তিলাওয়াত করা। তাহলে আমলনামায় কিন্তার পরিমান সাওয়াব লিখা হবে।
কিন্তার হল পৃথিবী ও তার মধ্যস্থ সকল কিছুর চেয়েও শ্রেষ্ঠ।
(সহিহ তারগিব ৬৩৮)
১৩)সূরা ইখলাস যতক্ষণ পারা যায় পড়তে থাকা।
তিনবার সূরা ইখলাস পড়লে আমলনামায় পুরো এক খতম কুরআন পড়ার সাওয়াব লেখা হবে।
(সহীহ বুখারি ৫০১৫)
বেশি বেশি দুরুদ পড়া(দরুদে ইব্রাহিম সর্বোত্তম দরুদ) “সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম" শুধু এতটুকু পড়লেও দুরুদ পড়া হয়।
১৪)বেশি বেশি ইস্তিগফার পাঠ করা।
ছোট্ট একটা ইস্তেগফার হলোঃ
"আস্তাগফিরুল্লাহি ওয়াতুবু ইলাইহি"।
অথবা শুধু “আস্তগফিরুল্লাহ”
১৫)এই ১০ দিনের প্রতিদিন কমপক্ষে ১ টাকা করে হলেও দান করা।তাতে পবিত্র মাসে দানকারী হিসেবে আমলনামায় নাম লেখা হবে।সরাসরি দেয়ার ব্যবস্থা না থাকলে আলাদা একটা বক্সে নিয়্যাত করে রেখে দেয়া। পরে সুযোগ মতো হকদারকে সেটা দিয়ে দেয়া যায়।
১৬) আরাফার রোযা কবে?
আরাফার রোযা ৯ই যিলহজ্ব অর্থাৎ ঈদের আগের দিন। বাংলাদেশে ঈদ সৌদির একদিন পরে হয়।
তাই আলেমগণ বলেন ঈদের আগের দুই দিন রোযা রাখতে।
রাসূল সল্লল্লহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ
আরাফার দিনের রোজা সম্পর্কে আমি আল্লাহ্র কাছে আশাবাদী যে, এতে তিনি পূর্ববর্তী এক বছর এবং পরবর্তী এক বছরের গুনাহসমূহ মাফ করে দিবেন। -[সহিহ মুসলিম হাদিস নং- ২৬৩৬]
১৭)তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা।প্রত্যেক বালেগ পুরুষ ও নারীর উপর ফরয নামায শেষ করে ১ বার উচ্চস্বরে পড়া ওয়াজিব। নারীরা নিজে শুনতে পারবে এমন ভাবে পড়বে বেশি উচু স্বরে পড়বে না।
তাকবীর হলঃ
اَللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أكْبَرُ،
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ،
وَاللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ
ﻭ ﻟِﻠّﻪ الحَمْدُ
আল্লহু আকবার আল্লহু আকবার
লা-ইলাহা ইল্লাল্লহু
ওয়াল্লহু আকবার আল্লহু আকবার
ওয়ালিল্লাহিল হামদ
(আরবি উচ্চারণ বাংলাতে সঠিক ভাবে লেখা যায় না। কারো থেকে শিখে নিবেন)
কবে_কখন_পড়তে হবেঃ_______
০৯ যিলহজ্জ = ফজর যোহর আছর মাগরিব ইশা
১০ যিলহজ্জ = ফজর যোহর আছর মাগরিব ইশা
১১ যিলহজ্জ = ফজর যোহর আছর মাগরিব ইশা
১২ যিলহজ্জ = ফজর যোহর আছর মাগরিব ইশা
১৩ যিলহজ্জ = ফজর যোহর আছর..
সকল ওয়াক্তে ফরয নামাযের সালামের পরপর ১ বার পুরুষদের উচ্চ স্বরে পড়বেন আর নারীদের নিজে শোনার মত পড়তে হবে।এভাবে মোট ২৩ ওয়াক্ত।
সুন্নাত নফল ওয়াজিব নামাযে পড়া লাগবে না।
১৮) এ সময় কি যাকাত দেওয়া যাবে?
জী যাবে। যাকাত যে কোন সময় দেওয়া যায়।
যার যাকাত যখন ফরয হয় তখন দিয়ে দেওয়াই উত্তম।
২০)যার উপর কুর'বানী ওয়াজিব,তাঁর কুর'বানী করা।
মহিলাদের ক্ষেত্রেও কুরবানীর শর্ত পূরণ হলে তাঁকেও কুর'বানীর ওয়াজিব আদায় করতে হবে।
রব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে আমল করার তৌফিক দান করুন।সওয়াবের উদ্দেশ্যে পোস্ট টা কপি/শেয়ার করে নিজের আমলনামায় সওয়াবে জারিয়াহ এর ব্যবস্থা করতে পারেন ইনশাআল্লাহ।