02/12/2024
িনে
নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে প্রত্যেকটি রণাঙ্গনে গেরিলা বাহিনীর অভুতপূর্ব অগ্রগতি ও সাফল্যের সংবাদ পাওয়া যায়। নভেম্বরের শেষে রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, ফরিদপুর, পটুয়াখালী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, টাংগাইল ও নোয়াখালীর রণাঙ্গনগুলোতে দুর্বার গেরিলাদল ব্যাপকভাবে জল ও স্থল উভয়ক্ষেত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষতিসাধন করে। গেরিলাদের এই সাফল্য মূলবাহিনীর সম্মুখ সমরের পথ সুগম করে তোলে। সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে মুক্তিবাহিনী চারিদিক থেকে পাকিস্তানি বাহিনীকে ঘিরে ধরে। অবরুদ্ধ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অনেকগুলো মুক্তাঞ্চলের সৃষ্টি হয়। প্রবাসী সরকার অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায়, বাংলাদেশের বিজয় আসন্ন।
২ ডিসেম্বরের যুদ্ধেগুলোর মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সেক্টরের যুদ্ধ। ১ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী তিন দিক থেকে ঘিরে ধরে পাকিস্তানি বাহিনীকে। এইদিনও পাকিস্তানি সৈন্য ও মুক্তিবাহিনীর মধ্যে প্রচণ্ড সম্মুখ সমর চলে। যুদ্ধে পাকিস্তানিরা ট্যাংক ব্যবহার করে। গোলাবারুদ-শেলের শব্দে আখাউড়া সংলগ্ন আগরতলা শহরও কেঁপে ওঠে। মুক্তিবাহিনী কুমিল্লা–সিলেট সিএন্ডবি রোডের সংযোগ এবং চট্টগ্রাম–কুমিল্লা–ঢাকা রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ শমসেরনগর বিমানবন্দর মুক্তিবাহিনী সম্পূর্ণ দখল করে নেয়। মুক্তিবাহিনীর একটি নিজস্ব বিমানবন্দর হল।
বিশ্ব গণমাধ্যম মুক্তিবাহিনীর সাফল্যের সংবাদ প্রচার করতে থাকে। ২ ডিসেম্বর লন্ডনের গার্ডিয়ান পত্রিকা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রকাশিত নিবন্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ছেলে শেখ জামালের ছবি ফলাও করে ছাপায় – নয় নম্বর সেক্টরের গেরিলাযোদ্ধা শেখ জামাল বাংলাদেশ সীমান্তের দশ মাইল ভেতরে একটি রণাঙ্গনে সাবমেশিনগান হাতে যুদ্ধ করছে। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে পরিবারের বাকি সদস্যদের সাথে গৃহবন্দী শেখ জামাল পাকিস্তানী কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে আগরতলা গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে – আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই ছবি বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে।
তথ্যসূত্রঃ
বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ দলিলপত্র (হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত)
দি গার্ডিয়ান (২ ডিসেম্বর, ১৯৭১)
'৭১ এর দশ মাস – রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদী
#বিজয়ের_মাসে_এই_দিনে
#মুক্তিযুদ্ধেরগল্পশোনো