29/09/2026
দেশটা ভরে গেছে দালাল আর সিন্ডিকেটে।
আজ খুলনা মেডিকেলের নিজের অভিজ্ঞতা—
আজ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বহির্বিভাগে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলাম। আমার নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি তুলে ধরছি, যাতে মানুষ বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন হতে পারে।
🔴 ১. বহির্বিভাগ বন্ধ দেখলাম
আমি হাসপাতালে পৌঁছাই দুপুর ১২:২০ মিনিটে। গিয়ে দেখি বহির্বিভাগ বন্ধ।
অথচ সেখানে লেখা আছে, বহির্বিভাগ দুপুর ২টা পর্যন্ত খোলা।
বহির্বিভাগের সামনে একজন মহিলা বসে ছিলেন। আমার মনে হলো, তিনি হাসপাতালেরই কর্মী। তিনি আমাকে বললেন—
«“১২টায় বন্ধ হয়ে গেছে। আপনি চাইলে চেম্বারে দেখাতে পারেন, ১০০ টাকা ভিজিটে।”»
আমি ভাবলাম, কাল আবার আসার চেয়ে আজই দেখিয়ে যাই। ১০০ টাকা বেশি লাগলেও সমস্যা নেই।
🔴 ২. হাসপাতালের ভেতর থেকেই অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া
এরপর ওই মহিলা আমাকে নিয়ে কিছু দূর এগিয়ে গেলেন। হাসপাতালের ভেতরেই অনেকগুলো অটো দাঁড়িয়ে ছিল। সেখান থেকে একজন অটোওয়ালা আমাকে নিয়ে গেলেন হাসপাতালের সামনের কিছুটা ভিতরে, একটি গলির মধ্যে।
সেখানে গিয়ে ১০০ টাকা দিয়ে আমার নাম লেখানো হলো।
এরপর আমি সিরিয়ালে বসে অপেক্ষা করতে থাকলাম।
প্রায় ২০ মিনিট বসেছিলাম। সেখানে অসংখ্য রোগী ছিলেন।
🔴 ৩. প্রায় প্রত্যেক রোগীকেই একাধিক টেস্ট
সেখানে বসে থাকার সময় একটি বিষয় আমার চোখে পড়ে—প্রতিটি রোগীকেই তারা ৩টা, ৪টা, ৫টা করে টেস্ট দিচ্ছিল।
বিষয়টি আমার কাছে বেশ অস্বাভাবিক মনে হলো।
🔴 ৪. আমাকে যে ডাক্তার দেখলেন
পরে আমার সিরিয়াল আসে।
আমি যিনি আমাকে দেখেছেন, আমি হলফ করে বলতে পারি, উনি কোনোভাবেই MBBS ডাক্তার নন।
আমি মূলত স্কিনের সমস্যা ও অ্যালার্জির কারণে গিয়েছিলাম।
যিনি আমাকে দেখেছেন, তার নাম লেখা ছিল—
ডা. শেইখ আবদুল্লাহ আল মামুম।
পরে আমি খোঁজ নিয়ে দেখি, এই নামে খুলনা মেডিকেলের একজন বিখ্যাত ডাক্তার আছেন, যিনি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ।
কিন্তু আমি যাকে দেখিয়েছি, তিনি প্রায় সর্বোরোগ বিশেষজ্ঞের মতো। কারণ তার নামের নিচে লেখা ছিল—
মেডিসিন, কিডনী, ডায়েবেটিস, অ্যাজমা, চর্মরোগ—এমন আরও অনেক কিছু, যেগুলো এখন আমার মনে নেই।
🔴 ৫. আমার সমস্যাটি ঠিকমতো দেখলেন না
আমার পালা এলে আমি আমার সমস্যার কথা বললাম।
আমি বললাম, আমার মুখে, ঠোঁটের সাইডে কী সব বের হয়েছে।
কিন্তু উনি সেগুলো ভালোভাবে দেখলেন না।
শুধু আমার প্রেসার মাপলেন।
এরপর গড়গড় করে ৩টা টেস্ট লিখে দিলেন।
কোনো ওষুধ লিখলেন না।
বললেন—
«“টেস্টগুলো করিয়ে আনেন, তারপর ওষুধ লিখে দেবো।”»
🔴 ৬. টেস্ট করানোর জন্য চাপ
টেস্ট লেখা কাগজটি আমাকে না দিয়ে একজন এসে সেটি নিয়ে টেস্ট করানোর জন্য চলে গেলেন।
আমি বললাম—
“আমি এখন টেস্ট করাবো না।”
তখন তারা আমাকে জোরাজুরি করতে শুরু করলেন।
বলতে লাগলেন—
«“টেস্ট না করলে জানতে পারবেন না আপনার কী হয়েছে। টেস্ট রিপোর্ট দেখেই তো ডাক্তার আপনার ওষুধ লিখবে।”»
আরও বললেন—
«“টেস্ট করাতে বেশি টাকা লাগবে না। এখানে হাসপাতালের মতোই খরচ। বেশি নিই না আমরা।”»
আমি তখন বললাম, আমি একটু ভেবে নেই।
এই বলে ফোন নিয়ে বাইরে এসে জায়গাটির একটি ছবি তুলে নিই।
এরপর হাসপাতালে ফিরে এসে ওই মহিলারও ছবি তুলে নিয়ে সেখান থেকে চলে আসি। (ছবিটি আপলোড করলাম)
🔴 শেষ কথা
অর্থাৎ, আমার ১০০ টাকা খরচ হলো, কিন্তু আমি কোনো চিকিৎসা বা ওষুধ নিয়ে আসতে পারলাম না।
আমার কথা বাদ দিলাম, সেখানে দেখলাম অসংখ্য অসুস্থ, দরিদ্র, সহজ-সরল মানুষ এবং যারা হাসপাতালের নিয়ম-কানুন সম্পর্কে অজ্ঞ—তারা এই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।
এমন ভিকটিমের শিকার হচ্ছে অসংখ্য গরীব-দুঃখী, সহজ-সরল মানুষ।
আমার সঙ্গে আজ যা ঘটেছে, সেটি শুধু আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হিসেবে তুলে ধরলাম। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন—হাসপাতালের বহির্বিভাগ ২টা পর্যন্ত খোলা থাকার কথা থাকলে ১২:২০ মিনিটে কেন বন্ধ ছিল, এবং হাসপাতালের ভেতর থেকে রোগীদের এভাবে বাইরের চেম্বারে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি কীভাবে ঘটছে।