Juli yesmin জুলি ইয়াছমিন

Website

Juli yesmin জুলি ইয়াছমিন Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Juli yesmin জুলি ইয়াছমিন, Barpather, Bongaigaon.

Juli Yesmin Writer🖋️📖
সব কষ্ট প্রকাশ করা যায় না,
কিছু কষ্টের কোনো ভাষা থাকে না।
তখন মানুষ কথা বলা কমিয়ে দেয়,
আর নিজের ভেতরেই একটা পৃথিবী বানিয়ে নেয় 🫀
আমি সেই নীরব পৃথিবীরই বাসিন্দা—
যেখানে না-বলা কথারা গল্প হয়,
অপ্রকাশিত অনুভূতিগুলো চরিত্র হয়

25/09/2026

#মাই_লিথাল_মেন #তৃতীয়_পর্ব
#লেখিকা_জুলি_ইয়াছমিন
🚫কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ🚫
ক্যাটাগরি:-ডার্ক রোমান্স

*যুবকটির সেই রাগী ও কদর্য কণ্ঠের ধমকে পুরো এলাকা যেন স্তব্ধ হয়ে গেল। কেউ একটা টু শব্দ করার সাহস পেল না। যুবকটি রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে হাতের রক্তমাখা ছুরিটা মাটিতে ছুঁড়ে ফেলল। তারপর নিজেই নিচু হয়ে অত্যন্ত যত্ন সহকারে, অথচ এক অদ্ভুত অধিকারবোধ নিয়ে অচেতন লিউকে কোলে তুলে নিল।বাকি গার্ডরা ভয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। যুবকটি লিউকে শক্ত বুকে জড়িয়ে ধরে ধীর পায়ে সেই অন্ধকার কালো ডুপ্লেক্স বাড়ির ভেতরে হেঁটে চলে গেল।
অচেতন লিউকে কোলে নিয়ে যুবকটি যখন সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠছিল, তখন পুরো বাড়িতে এক পিনপতন নীরবতা।
এই সুদর্শন যুবকের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়ানক অন্ধকার জগৎ। সে কোনো সাধারণ মানুষ নয়, বরং আন্ডারগ্রাউন্ডের সবচেয়ে বড় ও নিষ্ঠুর গ্যাংস্টার মাফিয়া ডন! তার আসল নাম
{সৈয়দ শাহজিল জাওয়াদ}
মাফিয়া জগতের বা সাধারণ মানুষের কেউ তার এই আসল নামটা জানে না। পুরো আন্ডারগ্রাউন্ড জগৎ তাকে চেনে এক আতঙ্কের নাম হিসেবে—"রেড শ্যাডো"!
এই একটি নাম শোনা মাত্রই দেশের বড় বড় অপরাধী থেকে শুরু করে বড় বড় পুলিশ অফিসারদের পর্যন্ত ভয়ে আত্মা শুকিয়ে যায়, বুক কাঁপতে থাকে। আইন যেখানে শেষ হয়, রেড শ্যাডোর রাজত্ব সেখান থেকে শুরু হয়। আর আজ সেই নিষ্ঠুর রেড শ্যাডোর কোলেই অচেতন হয়ে পড়ে আছে লিউ।

শাহজিল জাওয়াদ লিউকে নিয়ে তার বিশাল, রাজকীয় মাস্টার সাইজ বেডরুমে এসে ঢুকল। ঘরের আসবাবপত্র থেকে শুরু করে দেয়ালের রঙ—সবকিছুতেই এক রাজকীয় ও গম্ভীর আভিজাত্যের ছোঁয়া। সে অত্যন্ত সাবধানে লিউকে বিছানার নরম, আরামদায়ক গদির ওপর শুইয়ে দিল।

বৃষ্টির জলে ভেজা লাল বেনারসি শাড়ি পরিহিত লিউকে সেই বিশাল বিছানায় এক নিষ্পাপ পরীর মতো দেখাচ্ছিল।...
লিউকে শুইয়ে দিয়ে শাহজিল সোজা হয়ে দাঁড়াল। তার ঠোঁটের কোণে এবার এক ক্রূর, রহস্যময় এবং শয়তানি হাসি ফুটে উঠল।

*****
দীর্ঘদিনের কোনো এক প্রতিশোধ বা না বলা কোনো জেদ যেন আজ পূর্ণ হতে চলেছে, সেই হাসিতে তারই আভাস ছিল। সে লিউয়ের চেহারার দিকে শেষবারের মতো এক তীক্ষ্ণ নজর দিল।তারপর নিজের স্যুট আর টাইটা আলগা করতে করতে ধীর পায়ে ওয়াশরুমের দিকে এগিয়ে গেল। ওয়াশরুমে ঢুকে দরজাটা বন্ধ করে সে শাওয়ার ছেড়ে দিল। ঠাণ্ডা পানির নিচে দাঁড়িয়ে সে হয়তো ভাবছিল, শিকার তো এখন তারই খাঁচায় বন্দী। খেলাটা তার নিজের নিয়মে চলবে।...

ওয়াশরুমের দরজা খুলে শাহজিল বাইরে বেরিয়ে এল। তার চুলগুলো তখনো ভেজা, সেখান থেকে টুপটুপ করে পানির ফোঁটা ঝরছে। পরনে কেবল একটা কালো রঙের ট্রাউজার, উন্মুক্ত চওড়া বুক। বিছানার দিকে তাকিয়ে সে দেখল লিউ এখনো ঠিক আগের মতোই অচেতন হয়ে পড়ে আছে। তার ভেজা শাড়ি আর ভারী গয়নাগুলো তার শরীরকে আরও ক্লান্ত করে তুলেছে।শাহজিল ড্রয়ার থেকে নিজের ফোনটা বের করল। কোনো এক নাম্বারে ডায়াল করে অত্যন্ত গম্ভীর ও আদেশসূচক গলায় বলল,,

"আমার রুমে জলদি একজন ফিমেল মেড পাঠাও। এখনই!"

ঠিক কয়েক মিনিটের মধ্যেই দরজায় মৃদু টোকা পড়ল। শাহজিল দরজা খুলতেই এক ফিমেল মেড অত্যন্ত ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে ভেতরে ঢুকল। তার হাতে ছিল একটি নরম, আরামদায়ক অফ-হোয়াইট কালারের নাইট স্যুট। শাহজিল মেডটির দিকে তাকিয়ে ঠান্ডা গলায় বলল,,

"তার গায়ের ভেজা জামাকাপড় বদলে এই নাইট স্যুটটা পরিয়ে দাও। আর শোনো, কোনো হঠকারিতা যেন না হয়।"

এই বলেই শাহজিল ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে গেল, যাতে মেডটি নির্বিঘ্নে কাজ শেষ করতে পারে।কিছুক্ষণ পর মেডটি কাজ শেষ করে ঘর থেকে বেরিয়ে এল।

মেডটি করিডোরে দাঁড়িয়ে থাকা শাহজিলের সামনে এসে মাথা নিচু করে বলল,,

"বস, কাজ হয়ে গেছে। আমি ওনার ভেজা শাড়ি বদলে দিয়েছি।"

শাহজিল শুধু একটা ছোট মাথা নাড়ল। মেডটি চলে যাওয়ার পর সে ধীর পায়ে আবারও নিজের রুমে ফিরে এল।

রুমে ঢুকে বিছানার দিকে তাকাতেই শাহজিলের চোখ দুটোতে এক অদ্ভুত নেশা জড়িয়ে গেল। অফ-হোয়াইট নাইট স্যুটে লিউকে এখন ভীষণ নিষ্পাপ আর পবিত্র দেখাচ্ছে। তার ফর্সা মুখমণ্ডল আর ঠোঁটের কোণে এখনো ক্লান্তির ছাপ।

শাহজিল ধীর পায়ে হেঁটে বিছানার একদম কিনারে এসে বসল। তার ভারী শরীরটার চাপে জাজিমটা সামান্য দেবে গেল। সে আলতো করে ঝুঁকে পড়ল অচেতন লিউয়ের মুখের ওপর,তার ভেজা চুলের দু-এক ফোঁটা পানি লিউয়ের গালে এসে পড়ল।শাহজিলের হাত আনমনেই লিউযের সামনের চুলগুলো কানের পিঠে গুঁজে দিলে তার তপ্ত নিঃশ্বাস লিউয়ের কানের কাছে ফেলে অত্যন্ত নিচু, নেশাময় ও মাদকতাভরা ফিসফিস করে বলতে লাগল

"তোমার দিকে তাকাও, আমার মধু...তুমি কতটা অসহায়, অথচ এতটা শ্বাসরুদ্ধকর সুন্দর।নিজেকে একবার দেখো তুমার এই রূপ জাস্ট আমাকে টানছে
my red w**e... so beautiful. 🥴

তার নেশাময় কথাগুলো অচেতন লিউযের কানে পৌছাযলোনা শাহজিল আবারো বলল
"তুমি ভেবেছিলে তুমি সেই নরক থেকে পালাতে পারবে? তুমি ভেবেছিলে তুমি স্বাধীনতার দিকে দৌড়াচ্ছ? বোকা মেয়ে... তুমি তো সোজা আমার ফাঁদে এসে পা দিলে। আর এখন যখন তুমি এখানে, আমার ছাদের নিচে, আমার বিছানায়... আমি তোমাকে কখনো যেতে দেব না। "You are mine Honey...you completely mine..."

লিউয়ের কোনো সাড়া শব্দ মিলল না। সে তখনো গভীর অপার্থিব এক ঘুমে মগ্ন। শাহজিল তার আঙুলের উল্টো পিঠ দিয়ে লিউয়ের নরম গালে আলতো করে একটু স্পর্শ করল, তার ঠোঁটের কোণে আবারও সেই চাণক্য শয়তানি হাসিটা ফুটে উঠল।
শাহজিল এক ধ্যানে নিথর হয়ে পড়ে থাকা লিউয়ের দিকে তাকিয়ে রইল। তার চোখে তখনো এক গভীর, অবাধ্য নেশার রেশ লেগে আছে। সে জোরে এক ঢোক গিলে নিজের মাথাটা ঝাকিয়ে নিল এবং নিজের এই অদ্ভুত দুর্বলতার ওপর নিজেই চরম বিরক্ত হলো। লিউয়ের এই নিষ্পাপ, দেবদূতের মতো সুন্দর ও অপরূপ চেহারাটা শাহজিলের ভেতরের সব হিসাব-নিকাশ ওলটপালট করে দিচ্ছে। চরম বিরক্তি নিয়ে বিছানা থেকে নেমে দাঁড়িয়ে আনমনে বিড়বিড় করে নিজের অবাধ্য মনকে বোঝাতে লাগল:

"তুই তোর এই সস্তা, নিষ্পাপ চেহারার মায়াজাল বিছিয়ে আমাকে ভুলাতে পারবি না,! তোর মতো কত শত রূপসী মেয়েকে আমি আমার এই জীবনে দেখেছি! না... না, নিজেকে শক্ত করতে হবে আমাকে। এই মেয়েটাকে দেখলেই আমার সব রাগ ধুলো হয়ে যাচ্ছে কেন? কেন আমি নিজের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছি? সামনে আমার আরও অনেক বড় এবং কঠিন খেলা বাকি আছে। অতীতের সেই হিসাব এখনো চুকানো হয়নি। সেই সব বড় মিশনের জন্য আমাকে নিজেকে কন্ট্রোল করতে হবে। এই মেয়েটি আমার শত্রুর রক্ত, স্রেফ সাধারণ একটা মেয়ে!"

শাহজিল ধীর পায়ে হেঁটে ঘরের কোণে রাখা রাজকীয় সোফাটায় গিয়ে বসল। সেখানে এক পায়ের ওপর অন্য পা তুলে আরাম করে বসে সে গ্লাসে দামী ড্রিংক ঢেলে এক চুমুকে তা শেষ করল। সে টেবিলের ওপর রাখা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি পেপারের দিকে নজর দিল।

কাগজগুলোর দিকে তাকিয়ে শাহজিলের ঠোঁটের কোণে এক মারাত্মক চাণক্য ও রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল। সে গ্লাসটা টেবিলে নামিয়ে রেখে লিউয়ের দিকে এক তীক্ষ্ণ দৃষ্টি হেনে নিজে নিজেই ফিসফিস করে বলল
"কালকে এই পেপারে সই করার জন্য একদম রেডি থেকো, আমার মিষ্টি মধু! তোমার ওই রূপ আর পবিত্রতার অহংকার কাল এই এক টুকরো কাগজের নিচে দাফন হয়ে যাবে। তুমি অনেক দুর্বলের লিউ ,তবে চিন্তা নেই আমি জানি আমার সাথে থাকতে থাকতে একদিন তুমি অমাকে বোকা বানানোর স্বপ্ন দেখবে কিন্তু সেটা যে আমি হতে দেবনা "

*****
পরদিন সকালে জানালার ভারী পর্দা ভেদ করে এক চিলতে রোদ এসে পড়ল লিউ ওয়াজিহার মুখের ওপর। লিউয়ের চোখের পাতা দুটো কাঁপতে কাঁপতে ধীর ধীরে খুলে গেল। প্রথম দিকে চারপাশটা তার কাছে ঝাপসা লাগছিল। কিন্তু পরক্ষণেই যখন সে সম্পূর্ণ সজগতায় ফিরে এল, সে চমকে উঠে বিছানায় উঠে বসল।এটা তো তার চাচার বাড়ির সেই চেনা, ভাঙা দেয়ালের জীর্ণ ঘর নয়! চারদিকে রাজকীয় আভিজাত্য, দামী আসবাবপত্র আর এক মস্ত মাস্টার সাইজ বেডরুম। হুট করেই লিউয়ের নজর গেল নিজের গায়ের দিকে। তার পরনে সেই ভারী বিয়ের বেনারসি শাড়ি বা গয়না কিছুই নেই, বরং তার জায়গায় রয়েছে একটা অচেনা অফ-হোয়াইট কালারের নাইট স্যুট!

তীব্র আতঙ্ক আর লজ্জায় লিউয়ের পুরো শরীর কাঁপতে লাগল। সে নিজের দুই হাত দিয়ে শরীরটাকে আড়াল করার চেষ্টা করতে করতে চিৎকার করে উঠল,,
"আমি কোথায় ? কে... কে আমার জামাকাপড় বদলেছে? আমি কোথায় আছি?"

ঠিক তখনই ঘরের এক কোণে রাখা রাজকীয় সোফা থেকে এক জোড়া ভারী পায়ের শব্দ এগিয়ে এল। লিউ তাকিয়ে দেখল, সেই কালরাতের কালো স্যুট পরা সুদর্শন যুবকটি—সৈয়দ শাহজিল জাওয়াদ ওরফে 'রেড শ্যাডো'

ধীর পায়ে তার দিকে এগিয়ে আসছে। তবে আজ তার চোখে কোনো দয়া বা নেশা ছিল না, ছিল চরম অবজ্ঞা আর কঠোরতা।শাহজিল বিছানার একদম কাছে এসে দাঁড়িয়ে লিউয়ের দিকে এক জোড়া তীক্ষ্ণ ও অপমানজনক দৃষ্টি হানল। সে অত্যন্ত রুক্ষ গলায় বলল,,
"চিৎকার বন্ধ করো, সস্তা মেয়ে! এখানে তোমার এই নাটক দেখার মতো কেউ নেই। বেশি সতীপনা দেখাতে এসো না। জামাকাপড় আমার বাড়ির কাজের মেয়ে বদলে দিয়েছে।"

লিউ ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বিছানার এক কোণে সেঁটিয়ে গিয়ে বলল,,
"আপনি কে? কেন আমাকে এখানে আটকে রেখেছেন? আমাকে যেতে দিন!"

শাহজিল মুখে এক কুৎসিত, ভয়ঙ্কর হাসি ফুটিয়ে বলল,,
"যেতে দেব? এত সহজে? তুমি এই খাঁচা থেকে আর কখনো বের হতে পারবে না। সোজা ভাষায় শুনে রাখো—তুমি এখন আমার বন্দীনি! আজ থেকে এই চার দেয়ালের ভেতর তুমি শুধুই আমার, অর্থাৎ আমার কোথায় চলবে ।"

লিউ শাহজিলের আসল পরিচয় বা তার এই ভয়ঙ্কর খেলার পেছনের কোনো রহস্যই বুঝতে পারল না। সে কেবল বুঝল, এই লোকটা তাকে চরম ঘৃণা করে এবং তাকে কোনো এক মারাত্মক জালে বন্দি করেছে। শাহজিল লিউকে নিয়ে নিজের মনে এক ভয়ঙ্কর খেলা শুরু করেছে, যেখানে প্রতি মুহূর্তে লিউকে মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে ফেলাই তার মূল উদ্দেশ্য, অথচ লিউ এর পেছনের কারণটা সম্পূর্ণ অজ্ঞাত।

*******
পুরো শহরে তখন এক তোলপাড় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। মেয়র-পুত্র আসলাম খান লিউকে খুঁজে বের করার জন্য শহরের প্রতিটি কোনায়, মোড়ে মোড়ে এবং অলিতে গলিতে পুলিশ ও নিজস্ব গুপ্তচরদের লেলিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও লিউয়ের কোনো হদিস মিলল না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হন্যে হয়ে খুঁজেও যেন লিউয়ের কোনো নাম নিশানা পেল না।খবরটা পাওয়া মাত্রই আসলাম নিজের ঘরে রাগে, ক্ষোভে আর হতাশায় একটা হিংস্র পশুর মতো চিৎকার করে উঠল। ঘরের টেবিলের ওপর থাকা কাঁচের ফুলদানিটা সে এক আছাড়ে মেঝেতে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল। তার চোখ দুটো দিয়ে তখন রাগের অশ্রু ঝরছিল।সে নিজের চুলে হাত দিয়ে টানতে টানতে ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলতে লাগল:

"কেন করলে লিউ এমনটা? কেন পালিয়ে গেলে তুমি? তুমাকে যে আমি পাগলের মত খুজছি ! আমি ভেবেছিলাম তোমার ওই নরক গুলজার চাচা-চাচির বাড়ি থেকে তোমাকে চিরতরে উদ্ধার করব। তোমার জীবনের সব কষ্ট, সব চোখের জল মুছে দিয়ে তোমাকে রাজকন্যার মতো একটা সুন্দর জীবন দেব! কিন্তু... কিন্তু আমারই ভুলের কারণে আজ এত কষ্ট হচ্ছে! আমার নিজের বোকামির জন্য আজ এই শাস্তি!"

আসলাম দেয়ালে এক সজোরে ঘুষি মেরে কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগল,,

"আমি কেন তোমাকে আগে বলিনি যে আমার সঙ্গেই তোমার বিয়েটা ঠিক হয়েছে? আমি যদি একবার তোমাকে মুখ ফুটে বলতাম যে বর হিসেবে আমিই আসব, তাহলে কি আজ তুমি এভাবে পালিয়ে যেতে? কখনই না! আজ আমার সেই সারপ্রাইজ দেওয়ার জেদটাই আমাকে শেষ করে দিল। কোথায় তুমি লিউ? একটা বার শুধু আমার সামনে এসো!".....

চলবে,,,,
সম্পূর্ন গল্প অ্যাপ এ পড়তে পারবেন ।

25/09/2026

#পর্ব_৬ 🚫 কপি করা নিষেধ 🚫
*রায়ান পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণ খুলে বলার আগেই শাহজিলের চোখ দুটো রাগে লাল হয়ে গেল। সে এক ধমকে রায়ানের কথা থামিয়ে দিয়ে অত্যন্ত কঠোর ও গম্ভীর গলায় বলল,

"রায়ান! শাট আপ! বাইরের কোনো থার্ড পারসনের সামনে নিজের পার্সোনাল কথা বলতে নেই—এই মিনিমাম ম্যানার্সটুকু কি তুমি ভুলে গেছ?" 😤

শাহজিলের এমন আকস্মিক ধমকে রায়ান সঙ্গে সঙ্গে চুপ হয়ে গেল। সে মাথা নিচু করে নিজের ভুল বুঝতে পারল।
লিউ শাহজিলের এই রূঢ় আচরণ দেখে মনে মনে আরও বেশি ক্ষুব্ধ হলো।

সে বুঝতে পারল এই লোকটা যেমন নিষ্ঠুর, তেমনই নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চরম রহস্যময়। সে রায়ানের দিকে তাকিয়ে কিছুটা কর্কশ ও ক্ষুব্ধ গলায় বলল,,
"রায়ান! উনি একটা জল্লাদ! আমাকে জোর করে নিজের দেশ থেকে কিডন্যাপ করে, অত্যাচার করে এখানে নিয়ে এসেছেন।"

লিউয়ের মুখে ‘জল্লাদ’ আর ‘কিডন্যাপ’ শব্দ দুটো শুনে রায়ান ভীষণ চমকে উঠল। সে তার আব্বুর দিকে অবিশ্বাস্য চোখে তাকাতে গেল, ঠিক তখনই শাহজিল লিউয়ের হাতটা এমনভাবে মোচড় দিয়ে চেপে ধরল যে লিউ ব্যথায় ককিয়ে উঠল।শাহজিল রায়ানের দিকে তাকিয়ে বরফশীতল, কঠিন গলায় বলল,,
"রায়ান, এই সস্তা মেয়েটার একটা কথারও উত্তর দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আর একে বেশি মাথায় তোলারও দরকার নেই। এ এখানে কোনো মেহমান হয়ে আসেনি, নিজের যোগ্যতা মনে রেখে যেন কথা বলে।"

এরপর শাহজিল লিউয়ের মুখের একদম কাছে নিজের তপ্ত মুখটা নিয়ে এসে ফিসফিস করে হিংস্র গলায় বলল,,
"এটা প্যারিস, ওয়াজিহা! এখানে আন্ডারগ্রাউন্ডে শুধু আমার নাম চলে। বড় বড় মাফিয়ারা আমার নাম শুনলে থরথর করে কাঁপে। সুতরাং, নিজের মুখটা বন্ধ রাখো, নাহলে এই প্যারিসের বুকেই তোমাকে এমন এক নরক দেখাব যা তুমি স্বপ্নেও ভাবোনি।"

শাহজিলের এই ভয়ানক হুমকিতে লিউ একদম চুপ হয়ে গেল। তার চোখের কোণ দিয়ে আবার নোনতা জল গড়িয়ে পড়ল। রায়ান দুজনের মাঝের এই তীব্র উত্তেজনা দেখে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ে জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল।কিছুক্ষণ পর কালো লাক্সারি গাড়িটি এসে থামল প্যারিসের এক নির্জন, বিশাল পাহাড়ি এলাকার ওপর গড়ে ওঠা রাজকীয় ম্যানশনের সামনে। এটাই আন্ডারগ্রাউন্ডের ডন রেড শ্যাডোর মূল আস্তানা।চারদিকে আধুনিক অস্ত্রের পাহারায় মোড়া গার্ডরা দাঁড়িয়ে আছে। শাহজিল গাড়ি থেকে নেমে এক ঝটকায় লিউকে টেনে বের করল এবং সোজা ম্যানশনের ভেতরে নিয়ে যেতে লাগল।
_________
অন্যদিকে ইমরান ইমাইরাকে নিয়ে পৌঁছাল শাহজিলের শহরের বাইরের এক অত্যন্ত সুরক্ষিত ফার্ম হাউসে। ইমাইরা তখনো ফ্লাইটের সেই আতঙ্ক থেকে বের হতে পারেনি।ইমরান গাড়ি থেকে নেমে ইমাইরার জন্য গাড়ির দরজা খুলে দিয়ে অত্যন্ত মার্জিত কিন্তু গম্ভীর গলায় বলল,,

"মিস ইমাইরা,নেমে আসুন। এটা বসের ফার্মহাউস। আজ থেকে আপনি এখানেই থাকবেন। আপনার সুরক্ষার দায়িত্ব বস আমাকে দিয়েছেন, তাই পালানোর কোনো আত্মঘাতী চেষ্টা করবেন না। এখানে আপনার কোনো ক্ষতি হবে না, কিন্তু বসের নিয়ম ভাঙলে পরিণতি খুব খারাপ হবে।"

ইমাইরা গাড়ি থেকে নেমে চারদিকের কড়া নিরাপত্তা দেখে বুঝতে পারল, সে এক দুর্ভেদ্য জালের মাঝে বন্দি হয়ে গেছে।
________
ম্যানশনের ভেতরে ঢুকেই শাহজিল লিউকে টেনে-হিঁচড়ে একটি বিশাল বেডরুমে নিয়ে এল। শাহজিলের শক্ত বাঁধন থেকে মুক্ত হয়ে লিউ ঘরের মাঝখানে এসে দাঁড়াল। তার বুকের ভেতর এতদিনের জমে থাকা সমস্ত কষ্ট আর ক্ষোভ একবারে উগরে এল। সে ভাবল—ছোটবেলা থেকে আজ পর্যন্ত সে শুধু মানুষের আদেশ আর অত্যাচারেই বাঁচল। চাচার বাড়িতে চাকরানির মতো থাকা, নিজের অমতে বিয়ে ঠিক হওয়া—সবকিছু থেকে সে এত কষ্ট করে পালিয়েছিল নিজের মতো করে একটু স্বাধীনভাবে বাঁচবে বলে। কিন্তু কোথায় তার স্বাধীনতা? আজ সে এক নরক থেকে পালিয়ে অন্য এক মাফিয়ার নরকে এসে বন্দি হয়েছে!_
তীব্র রাগে লিউ ঘুরে দাঁড়িয়ে শাহজিলের চোখের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলল,

"আমাকে মুক্তি দিন! কেন আমাকে এখানে বন্দি করে রেখেছেন? আমি আপনার এখানে এক মুহূর্তও থাকব না! কী চান আপনি আমার কাছে? কেন আমাকে নিজের দেশ থেকে এভাবে তুলে নিয়ে এসেছেন?"

লিউয়ের মুখে এই অবাধ্যতা আর চিৎকারের আওয়াজ শুনে শাহজিলের চোখ দুটো হিংস্র পশুর মতো জ্বলে উঠল। সে কোনো কথা না বলে ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে ঘরের মস্ত বড় কাঠের দরজাটা এক সজোরে থপ করে বন্ধ করে দিল এবং লক করে দিল।দরজা বন্ধের শব্দে লিউয়ের বুকটা কেঁপে উঠল। সে কিছু বুঝে ওঠার আগেই, শাহজিল এক ঝটকায় এগিয়ে এসে লিউকে দুহাতে কোলে তুলে নিল এবং বিছানার নরম গদিতে হিংস্রভাবে ছুঁড়ে ফেলে দিল! লিউ আতঙ্কে বিছানার ওপর পিছিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেই শাহজিল তার ওপর চড়াও হলো। সে নিজের গায়ের স্যুট আর টাইটা এক টানে খুলে মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলে দিল এবং লিউয়ের দিকে ধীর পায়ে এগিয়ে যেতে লাগল।তার রাগী ও কর্কশ কণ্ঠস্বর পুরো ঘরে প্রতিধ্বনিত হয়ে উঠল,

"যদি আমার হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার এতই শখ থাকে,তবে সোজা এই পৃথিবী থেকে মুক্তি পেতে হবে! আমি এতদিন ভেবেছিলাম তোমার সাথে অন্তত এই ধরনের পশুর মতো আচরণ করব না। ভেবেছিলাম তোমাকে কিছুটা সময় দেব। কিন্তু না! তুমি নিজেই তোমার এই অবাধ্যতা দিয়ে আমাকে তোমার কাছে ডাকছ!"

শাহজিলের এই ভয়ানক রূপ আর তার গা শিউরে ওঠা কথাগুলো শুনে লিউ আতঙ্কে বিছানায় ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। সে নিজের দুই হাত দিয়ে শাহজিলকে দূরে ঠেলার ব্যর্থ চেষ্টা করতে করতে আকুল কণ্ঠে মিনতি করতে লাগল,,

"প্লিজ! আল্লাহর দোহাই লাগে আমাকে স্পর্শ করবেন না! আমি পবিত্র! এভাবে আমার জীবনটা নষ্ট করে দেবেন না। আমি আপনার পায়ে পড়ছি, আমাকে ছেড়ে দিন!"

লিউয়ের এই কান্না আর পবিত্রতার কথা শুনে শাহজিলের ঠোঁটের কোণে এক নিষ্ঠুর ও পৈশাচিক হাসি ফুটে উঠল। সে লিউয়ের দুটো হাত এক হাত দিয়ে বিছানার সাথে শক্ত করে চেপে ধরে তার মুখের একদম কাছে ঝুঁকে এল। তার গরম নিঃশ্বাস লিউয়ের গালে আছড়ে পড়ছিল।শাহজিল অত্যন্ত নিচু কিন্তু বিষাক্ত গলায় বলল,,

"পবিত্র? রেড শ্যাডোর ডিকশনারিতে 'পবিত্র' বলে কোনো শব্দের অস্তিত্ব নেই, ওয়াজিহা। তুমি যখন আমার এই ডুপ্লেক্স গাড়িতে পা রেখেছিলে, তখনই তোমার ভাগ্য লেখা হয়ে গিয়েছিল। তুমি আমার শিকার, আর শিকারের জীবন নষ্ট হলো নাকি বাঁচল, তা শুধু তার শিকারি ঠিক করে। তোমার এই কান্না আজ তোমাকে আমার হাত থেকে বাঁচাতে পারবে না।"

লিউ যন্ত্রণায় আর লজ্জায় নিজের চোখ দুটো বন্ধ করে নিল, তার ফর্সা গাল বেয়ে অশ্রুর বন্যা বয়ে যেতে লাগল। সে বুঝতে পারল, এই অন্ধকার ঘরের ভেতর মাফিয়া ডন রেড শ্যাডোর নিষ্ঠুর খেলার প্রথম চাল শুরু হয়ে গেছে, যা থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো পথই তার জানা নেই।
________
ফার্ম হাউসের একটি বড় লিভিং রুমে ইমাইরা দাঁড়িয়ে ছিল। তার চারপাশটা দামী আসবাবপত্রে সাজানো থাকলেও, বাইরে সশস্ত্র গার্ডদের পাহারা তাকে মনে করিয়ে দিচ্ছিল যে সে স্বাধীন নয়। ঠিক তখনই ইমরান গম্ভীর মুখে ঘরের ভেতর প্রবেশ করল।ইমরানকে দেখামাত্রই ইমাইরা তার দিকে এগিয়ে গেল। তার চোখে ভয় আর ক্ষোভের এক মিশ্র অনুভূতি। সে ইমরানকে সরাসরি উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত কাঁপানো গলায় জিজ্ঞেস করল,,

"কেন আমাকে এখানে নিয়ে এসেছেন আপনি? আমি আমার নিজের ঘরে ঘুমাচ্ছিলাম। আমার মা, আমার পরিবার এখন আমার জন্য পাগল হয়ে যাচ্ছে! কার নির্দেশে আপনি আমাকে দেশ থেকে এভাবে তুলে এনে এই অচেনা দেশে আটকে রাখলেন? দয়া করে আমাকে যেতে দিন !"
#মাই_লিথাল_মেন
#জুলি_ইয়াছমিন

চলবে,,,,,,,,,

 #হৃদয়ের_নিষিদ্ধ_ব্যাকরণ   #পর্ব_২ #জুলি_ইয়াছমিন         {🚫কপি করা সম্পূর্ন নিষেধ🚫}আহমেদ সিদ্দিক সাহেব ডাইনিং টেবিল থে...
30/08/2026

#হৃদয়ের_নিষিদ্ধ_ব্যাকরণ #পর্ব_২
#জুলি_ইয়াছমিন
{🚫কপি করা সম্পূর্ন নিষেধ🚫}
আহমেদ সিদ্দিক সাহেব ডাইনিং টেবিল থেকে উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বললেন,,

"হ্যাঁ, আসাদ, আজই মেকানিক ডেকে এশার রুমের এসিটা ঠিক করাও। আর রুমা, রান্নাবান্নার দিকে একটু খেয়াল রেখো, গরমে সবার শরীর খারাপ হতে পারে।"

"আচ্ছা,"__বলে রুমা কাকিমা মাথা নিচু করে নিলেন, কিন্তু তাঁর ভেতরের হিংসার আগুনটা সামিলের ওপর আরও দ্বিগুণ হয়ে জ্বলে উঠল। সামিল টেবিল থেকে ওঠার আগে এশার দিকে তাকাল। এশা তখনো মাথা নিচু করে বসে আছে, তার চোখ দিয়ে এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল। সে বুঝতে পারছে, এই বাড়িতে কাকিমার এত ঘৃণার মাঝেও সামিল নামের এই মানুষটিই তার একমাত্র ঢাল, তার পরম আশ্রয়।🏡

দুপুর তখন : ২:৩০

এশা এইবার কলেজের সেকেন্ড ইয়ারে পড়ছে কিন্তু কলেজ গরমের বন্ধ দেওয়ায় বাড়িতে থাকতে আর ভালো লাগেনা এই বাড়িতে তার সমবয়সী আর মেয়ে মানুষ শুধু একজনই আছে সে হলো আনিকা । আনিকার সাথে তার অনেক ভাব কিন্তু তার সাথেও অল্প গল্প করতে পারেনা আনিকার মা রুমা ধমক দেয় নাহলে কথা শোনায় কিন্তু তবুও আনিকা লুকিয়ে হলেও দিনে ২-৩ বার তার সঙ্গে আড্ডা দিতে আসে এশা এখন ছাদের রেলিং হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে দূরে আকাশে দেখছে আজ বোধহয় রাতে বৃষ্টি আসবে আকাশটা মেঘে ঢেকে কালো হয়েছে হঠাৎ করেই তার পেছনে কারো উপস্থিত টের পায়

পেছনে তাকাতেই এশা দেখল তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে সামিল।সামিল এগিয়ে এসে গভীর চোখে তাকাল। তার গলা স্পষ্ট সে নরম সুরে জিজ্ঞেস করল,

“শরীরটা এখন কেমন রে তোর, এশা?”

সামিলের প্রশ্নটা শুনেই এশার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। লজ্জায় আর সংকোচে সে নিজের চোখ দুটো নামিয়ে নিল। সামিলের মুখের দিকে তাকানোর মতো সাহস তার হচ্ছিল না। কারণটা সে খুব ভালো করেই জানে।গত রাতে প্রচণ্ড গরম ছিল। আর ওই তীব্র গরমে এশার সেই চেনা পুরোনো অসুখটা চাড়া দিয়ে উঠেছিল—'থার্মোফোবিয়া'। এই অদ্ভুত রোগটি হলে অতিরিক্ত গরমে এশার মানসিক নিয়ন্ত্রণ ঠিক থাকে না। সে পুরোপুরি এক নেশাগ্রস্ত বা মাতাল মানুষের মতো আচরণ শুরু করে। তখন সে নিজে কী বলছে, কার সাথে কী করছে, তার কোনো হুঁশ থাকে না।

ভাগ্যিস ওই রাতে ঘরে সামিল ছাড়া আর কেউ ছিল না! সামিল যদি তখন তাকে সামলে না নিত, তবে কত বড় কলঙ্ক হয়ে যেত!লজ্জার তীব্র একটা অনুভূতি এশার কান-মাথা গরম করে দিল। তার স্পষ্ট মনে পড়ছে, গত রাতে সামিলের ঘরে ঢুকে সে কতটা কাছে চলে গিয়েছিল তার। নেশার ঘোরে সামিলকে জড়িয়ে ধরে উল্টোপাল্টা কীসব আবোলতাবোল কথা বলেছিল! অথচ সামিল পরম যত্নে, কোনো রকম সুযোগ না নিয়ে তাকে আগলে রেখেছিল।

সামিল আরেকটু এগিয়ে এসে এশার কপালে তার ডান হাতের উল্টো পিঠটা ঠেকাল। তার হাতের ঠান্ডা স্পর্শটা এশার তপ্ত চামড়ায় লাগতেই এশা শিউরে উঠল। লজ্জায় সে আরও আড়ষ্ট হয়ে এক কদম পিছিয়ে গেল।সামিল হাতটা নামিয়ে নিয়ে মৃদু স্বরে বলল, “গা তো এখনো বেশ গরম। রাতে তো পুরো জ্বর চলে এসেছিল। ওষুধটা খেয়েছিস দুপুরে?”

এশা নিচের দিকে তাকিয়ে পায়ের আঙুল দিয়ে ছাদের মেঝে ঘষতে ঘষতে ফিসফিস করে বলল,

“হুঁ, খেয়েছি। এখন একটু ভালো লাগছে।”

“ভালো লাগছে?” সামিল একটু বাঁকা হাসল, তবে সেই হাসিতে কোনো উপহাস ছিল না, ছিল এক অদ্ভুত মায়া। সে গলার আওয়াজ আরও নামিয়ে বলল,

“রাতে যা করছিলি, সকালে উঠে সব মনে পড়েছে তো? নাকি মাতলামির পার্ট টু এখনো বাকি আছে?”

এই কথায় এশার ফর্সা মুখটা মুহূর্তে টকটকে লাল হয়ে উঠল। সে দুই হাতে মুখ ঢেকে বলল, “প্লিজ সামু, আর বোলো না! আমি ইচ্ছে করে ওসব করিনি। আমার মাথা একদম কাজ করছিল না। আমি... আমি খুব লজ্জিত।”

সামিল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চারপাশটা দেখে নিল। তারপর এশার আরও কাছে এসে নিচু গলায় বলল,

“আমি জানি তুই ইচ্ছে করে করিসনি। থার্মোফোবিয়া হলে তোর নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না, সেটা আমি বুঝি। কিন্তু এশা, তুই কাল রাতে আমার এত কাছে চলে এসেছিলি... আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলি, হাত ছাড়তে দিচ্ছিলিস না। ওসব কথা যদি আজ বাড়ির অন্য কেউ জানত? মেজাজ ঠিক রাখতে না পেরে যদি আমি অন্য কিছু করে ফেলতাম? কতটা রিস্ক ছিল বল তো?”

এশা এবার মুখ থেকে হাত সরিয়ে সামিলের

দিকে তাকাল। তার চোখে জল টলমল করছে। সে অপরাধীর মতো বলল,

“আমি জানি সামু। তুমি কাল রাতে না থাকলে আমার কী হতো আমি জানি না। বাড়ির সবাই আমাকে ভুল বুঝত। তুমি... তুমি রাগ করেছ আমার ওপর?”

সামিল এশার চোখের দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বলল,

“রাগ করিনি রে, ভয় পেয়েছিলাম। তোকে নিয়ে ভয়, তুই তো জানিস আমি তর আংকেল হোই।এই শব্দটাই আমাকে অনেক বাঁধা দেয় তুই তো আমি ভাতিজি।”

ঠিক তখনি ছাদের দরজার ওপাশে একটা হালকা খসখস শব্দ হলো।

আসলে মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে আনিকা এশাকে খুঁজতে এই ছাদেই আসছিল। দ্রুত পায়ে সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় হুট করেই সামিল আর এশার গলার আওয়াজ তার কানে আসে। ‘জড়িয়ে ধরা’, ‘কাছে আসা’ আর ‘ভুল বোঝা’র মতো শব্দগুলো শুনেই থমকে যায় আনিকার পা।

সে ছাদের দরজার আড়ালে দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে পড়ল। নিজের অজান্তেই তার এক হাত মুখের ওপর চলে গেল। দরজার সামান্য ফাঁক দিয়ে সে দেখল, সামিল আর এশা একদম গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে কথা বলছে। এশার চোখে জল, আর সামিলের চোখে অন্যরকম এক গভীরতা।

আনিকা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। সে তার জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা খেল। তার প্রিয় বান্ধবী এশা আর তার নিজের চাচাত ভাই সামিলের মধ্যে এমন কী গোপন কথা, যা বাড়ির কেউ জানে না? গত রাতে আসলে কী হয়েছিল?

বিকেলের রোদের পর রাত নামতেই পুরো সিদ্দিক বাড়িতে এক থমথমে নীরবতা নেমে এসেছে।

তাদের কথোপকথন পুরোটা শুনে আনিকা নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেনি। সে কোনো শব্দ না করে পা টিপে টিপে ছাদ থেকে নিচে নেমে গিয়েছিল।

তাদের চাচাতো বড় ভাইয়ের মেয়ে হলো এশা। সম্পর্কে এশা সামিলের ভাতিজি

আনিকা আর এশা ফুপি-ভাতিজি কিন্তু সমবয়সী হওয়ায় তাদের সম্পর্কটা ছিল একদম পিঠাপিঠি দুই বান্ধবীর মতো।

________

রাত তখন ৯:৩০।

এশা নিজের ঘরের পড়ার টেবিলে বই খুলে বসেছে। কিন্তু পড়ার পাতায় তার মন নেই, বারবার দুপুরের সেই অস্বস্তিকর মুহূর্ত আর সামুর সেই গভীর চোখের চাউনি তার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। ঠিক তখনি ঘরের দরজাটা হালকা ঠেলে ভেতরে ঢুকল আনিকা। মায়ের কড়া নজর এড়িয়ে সে এই রাতে এশার ঘরে এসেছে, তবে তার চোখে-মুখে আজ রোজকার সেই চঞ্চলতা নেই। এক অদ্ভুত গম্ভীরতা।

আনিকা এসে সরাসরি এশার খাটের ওপর বসল। এশা বই থেকে মুখ তুলে আনিকাকে দেখে একটু অবাক হয়ে হাসার চেষ্টা করল। “কী রে আনিকা?দাদি আজ তোকে ছাড়ল কীভাবে? তুই তো দুপুরেও আসিসনি।”

আনিকা কিছুক্ষণ চুপ করে এশার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর নিচু কিন্তু শক্ত গলায় বলল,

“দুপুরে আমি ছাদে গিয়েছিলাম, এশা।”

কথাটা শুনেই এশার হাতের কলমটা টেবিলের ওপর পড়ে গেল। তার গায়ের রক্ত যেন মুহূর্তে হিম হয়ে গেল। সে তোতলামি করে বলল, “ছ... ছাদে? তুই...”

আনিকা সোজা হয়ে বসল

"হ্যাঁ, আমি সব শুনেছি,তুই আর সামিল ভাই... থার্মোফোবিয়া, গত রাতে তোকে আগলে রাখা, জড়িয়ে ধরা... সব শুনেছি। এশা, তুই আমার কাছে এত বড় একটা কথা লুকিয়ে গেলি? তোর এই চেনা বেমারের কথা বাড়ির কেউ জানে না, এমনকি আমিও না?”

এশা দুই হাতে মুখ ঢেকে কেঁদে ফেলল। তার চোখ দিয়ে টপটপ করে জল পড়তে লাগল। সে ফুঁপিয়ে উঠে বলল,

“আমি তোকে বলতে চেয়েছিলাম আনিকা। কিন্তু লজ্জায় আর ভয়ে বলতে পারিনি। বাড়ির সবাই জানে তুই বাদে? এই রোগের ওপর তো আমার হাত নেই। আর সামু... সামু যদি কাল রাতে না থাকত, আমি হয়তো নিজেকে শেষ করে দিতাম।”

এশার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল, “তুই কাঁদিস না এশা। আমি তোকে ভুল বুঝিনি। কিন্তু তুই আমাকে বলতে পারতিস। আমরা কতটা ক্লোজ তুই জানিস না?”

চলবে,,,,,
(সম্পূর্ণ গল্প অ্যাপ এ পড়ুন)

    #পর্ব_৪       {🚫কপি করা ❌সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ 🚫}একটি বিশাল, চোখ ধাঁধানো হল রুম। রুমটির ভেতরের প্রতিটি আসবাবপত্র, দেয়াল, ...
30/08/2026

#পর্ব_৪


{🚫কপি করা ❌সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ 🚫}
একটি বিশাল, চোখ ধাঁধানো হল রুম। রুমটির ভেতরের প্রতিটি আসবাবপত্র, দেয়াল, পর্দা থেকে শুরু করে প্রতিটি সূক্ষ্ম বস্তুর রঙ কুচকুচে লাল।যার নাম রাখা হয়েছে (রেড হাউচ)

এই রক্তিম আভার মাঝখানে একটি রাজকীয় চেয়ারে দুই পায়ের ওপর পা তুলে রাজার মতো আয়েশ করে বসে আছে সেই কালো স্যুট পরা যুবক—সৈয়দ শাহজিল জাওয়াদ ওরফে 'রেড শ্যাডো'।

তার এক হাতে জ্বলন্ত সিগারেট।🚬

তার পেছনেই শাড়ি শাড়ি হাত সোজা করে মূর্তির মত দাঁড়িয়ে আছে অনেক কালো পুষাকধারী গার্ড তাদের সামনেই অনেক মেয়ে হাত মুখ বাধা অবস্থায় ছটফট করছে

শাহজিল অত্যন্ত নিস্পৃহভাবে সিগারেটে শেষ টান দিয়ে মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলে জুতো দিয়ে পিষে দিল।

তারপর চেয়ার থেকে ঝটকা দিয়ে উঠে দাঁড়াল। তার চোখেমুখে চরম বিরক্তি। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক প্রধান গার্ডের দিকে তাকিয়ে সে কঠোর গলায় বলল,,

"এই মেয়েগুলোকে যেখান থেকে তুলে এনেছিলে, ঠিক সেখানেই আবার ফেরত দিয়ে এসো! কিন্তু খেয়াল থাকে যেন, এই খবর যেন বাইরে কেউ টের না পায়। শুধু শুধু এই ফালতু মেয়েগুলোর পেছনে আমার জীবনের দুটো সপ্তাহ নষ্ট হলো!ডিসগাস্টিং!"

এই বলেই সে আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াল না। রাগে হনহন করে সেই লাল রঙের অদ্ভুত প্রাসাদ 'রেড হাউস' থেকে বাইরের করিডোরে বেরিয়ে এল।

ঠিক তখনই এক সুদর্শন, লম্বা যুবক অত্যন্ত হন্তদন্ত হয়ে দৌড়ে তার দিকে এগিয়ে এল। তার চোখেমুখে চরম অস্থিরতা। সে রেড শ্যাডোর একদম কাছাকাছি এসে প্রায় ফিসফিস করে বলল,,

"বস! আলেক্স মাত্রই প্যারিস থেকে ফোন করে জানাল, তার আস্তানায় নাকি মোট ১০৪ জন ('জেনি')নামের মেয়েকে ধরে রাখা হয়েছে! সে আপনাকে আগামী দুদিনের মধ্যে যেকোনো উপায়ে প্যারিসে পৌঁছাতে বলেছে।"

এই লম্বা সুদর্শন পুরুষটি আর কেউ নয়,সে হলো রেড শ্যাডোর সবচেয়ে বিশ্বস্ত এবং পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ইমরান।

'জেনি' নামটা শোনা মাত্রই রেড শ্যাডোর চোখে এক তীব্র স্বস্তির আভাস ফুটে উঠল।

সে একটি গভীর ও দীর্ঘ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ইমরানের দিকে তাকিয়ে আদেশসূচক গলায় বলল,,

"তাহলে আর এক মুহূর্তও দেরি নয়! আজ রাতের মাঝেই প্যারিস যাওয়ার ভিআইপি ফ্লাইটের টিকিট বুক করো।"

শাহজিল দুই পা এগিয়ে গিয়ে হঠাৎ থমকে দাঁড়াল। তার মাথায় যেন নতুন কোনো চাণক্য বুদ্ধি খেলে গেল। সে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইমরানকে বলল,,

"আর শোনো! ওই যে মেয়েটি... লিউ, ওর সেই চাচাতো বোন, কী যেন নাম ছিল তার? হ্যাঁ, ইমাইরা! তাকে আজ রাতের ভেতরেই যেভাবেই হোক, যেখান থেকে পারো তুলে নিয়ে আসো। আর শোনো, তার একটা ডুপ্লিকেট পাসপোর্ট এবং প্যারিসের ভিসা তৈরি করো। আমরা ওকেও সাথে নিয়ে যাব। তবে সাবধান ইমরান! এই ঘরের ভেতর বন্দি থাকা লিউ নামের মেয়েটি যেন এই ব্যাপারে বিন্দুমাত্র কোনো কিছু জানতে না পারে!"

ইমরান বসের দিকে তাকিয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে বলল,,

"জি বস, এখনই সব ব্যবস্থা করছি।"

*****

গভীর রাত

সাইফুল ইসলামের বাড়ির সবাই ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে, তখন কয়েকজন কালো স্যুট পড়া পুরুষ বাড়ির ভেতরে ঢুকে

ইমরান তার চাল চালল। সে কোনো হইচই না করে, ভেন্টিলেটর দিয়ে অত্যন্ত নিঃশব্দে এক বিশেষ ধরনের ক্লোরোফর্ম গ্যাস

--'(স্লিপিং স্প্রে') ঘরের ভেতরে পুশ করে দিল। এই গ্যাসের প্রভাবে বাড়ির বাকিরা এমন এক গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল যে, ডিনামাইট ফাটলেও তাদের ঘুম ভাঙবে না!

ইমরান ও তার ব্ল্যাক স্কোয়াডের নিখুঁত পেশাদার গার্ডরা অত্যন্ত সাবধানে ইমাইরার ঘরে ঢুকল।

ঘুমন্ত ইমাইরাকে তারা আলতো করে তুলে নিয়ে পেছনের জানালার অন্ধকার পথ দিয়ে বেরিয়ে গেল। বাইরে পুলিশের গাড়ি টহল দিচ্ছিল ঠিকই, কিন্তু ইমরান মাফিয়াদের বিশেষ 'ব্ল্যাক-আউট' ভ্যান ব্যবহার করেছিল, যার নম্বর প্লেট প্রতি পাঁচ কিলোমিটার পর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বদলে যায়। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে, শহরের সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরা হ্যাক করে, ইমরান ঠিকই ইমাইরাকে অক্ষত অবস্থায় তুলে নিয়ে সোজা এয়ারপোর্টের দিকে রওনা দিল।

রাতের মাঝেই ইমরানের দক্ষ হ্যাকার দল ইমাইরার একটি নিখুঁত ডুপ্লিকেট পাসপোর্ট এবং প্যারিসের ভিআইপি ভিসা তৈরি করে ফেলল। সবকিছু এত দ্রুত আর নিখুঁতভাবে করা হলো যে সকালের আলো ফোটার আগেই ইমাইরাকে নিয়ে রেড শ্যাডোর প্রাইভেট জেট প্যারিসের উদ্দেশ্যে উড়াল দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেল।....✈️

*****

শাহজিলের সেই বিশাল ডুপ্লেক্স প্রাসাদের রাজকীয় মাস্টার বেডরুমে লিউ তখনো এক তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় বন্দি। শাহজিল নিজের ঘরে এসে লিউকে খুবলে খাওয়া দৃষ্টিতে দেখতে দেখতে আরও কয়েকটা কড়া কথা শোনাল, যাতে লিউ মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়ে এবং তার পুরো মনোযোগ শুধু নিজের কান্নাকাটির ওপরই থাকে। শাহজিল রুমের দরজা বাইরে থেকে এমনভাবে লক করে দিল এবং তার গার্ডদের কড়া নির্দেশ দিল

—"লিউ যেন এই ঘরের জানালার পর্দা সরানোরও অনুমতি না পায়।"

ইমাইরাকে যখন এই ডুপ্লেক্স বাড়ির অন্য একটা গোপন বেজমেন্টে সরাসরি এয়ারপোর্টের ভিআইপি লাউঞ্জে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, লিউ তখন নিজের ঘরের বিছানায় হাঁটুতে মুখ গুঁজে কাঁদছিল।

শাহজিল ধীর পায়ে ঘরের ভেতরে ঢুকল। লিউ তখন বিছানার এক কোণে গুটিসুটি মেরে বসে ছিল। শাহজিলকে দেখামাত্রই সে সমস্ত ভয় দূরে ঠেলে উঠে দাঁড়াল এবং আকুল কণ্ঠে বলল,,

"দয়া করে আমাকে ছেড়ে দিন! আমি আপনার কোনো ক্ষতি করিনি। কেন আমাকে এভাবে আটকে রাখছেন? আমি অনাথ সত্যি বলছি আমার কিছুই নেই, আমাকে যেতে দিন! দোহায় লাগে"

লিউয়ের মুখে এই মুক্তির আকুতি শোনা মাত্রই শাহজিলের চোখ দুটো রাগে চকচক করে উঠল। সে এক ঝটকায় লিউয়ের একদম কাছে এসে তার ফর্সা গলাটা নিজের শক্ত হাত দিয়ে চেপে ধরল! লিউয়ের দম আটকে আসতে লাগল, সে যন্ত্রণায় শাহজিলের হাতটা খামচে ধরার চেষ্টা করল।শাহজিল নিজের দাঁত কটমট করে, লিউয়ের মুখের একদম কাছে এসে হিংস্র গলায় বলল,

"ছাড় পাওয়ার আশা এই জন্মে আর করো না! ভালো করে চিনে রাখো আমাকে—আমি সৈয়দ শাহজিল জাওয়াদ, নিজের ইচ্ছায় রাজত্ব করি আমি! আমার ওপর কথা বলার বা আমাকে অর্ডার দেওয়ার সাহস এই পৃথিবীতে কারো নেই! আর শোনো, তোমার এই সস্তা কান্নার যত ড্রামা আছে, সব এই দেশেই ফেলে রেখে যাও। কারণ আমরা প্যারিস যাচ্ছি! সেখানে তোমার এই চোখের জলের কোনো দাম নেই। তুমি অনাথ বলেই তো তুমাকে বন্দী করে রেখেছি এই পৃথিবীতে অনাথ দের ওপর মায়া দেখানো কেউ নেই কেউ তোমার খোজ অব্দি নেবে না "

এই বলেই সে লিউকে এক ঝটকায় বিছানায় ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। লিউ ফুপিয়ে উঠলো।

******

শাহজিলের নির্দেশে লিউ এবং ইমাইরাকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখা হয়েছিল। লিউকে প্রাইভেট জেটের একটি বিশেষ কেবিনে রাখা হয়, যেখানে ইমাইরাকে রাখা হয়েছিল অন্য একটি বেড-কেবিনে।

*******

বেশ কিছুক্ষণ পর, ইমাইরার চোখের পাতা দুটো ভারী হয়ে খুলে গেল। ক্লোরোফর্মের রেশ তখনো পুরোপুরি কাটেনি। সে নিজেকে আবিষ্কার করল একটি অত্যন্ত নরম আর বিলাসবহুল বিছানায়। তার চারপাশটা একদম অচেনা। ঘরের ঠিক পাশেই একটি মস্ত বড় কাঁচের জানালা।তীব্র এক অজানা আশঙ্কায় ইমাইরার বুক কাঁপতে লাগল। সে বিছানা থেকে নেমে অত্যন্ত ভয়ে ভয়ে ধীর পায়ে জানালার দিকে এগিয়ে গেল। বাইরে কী আছে দেখার জন্য সে জানালার কাঁচ দিয়ে নিচে উঁকি দিল।কিন্তু নিচে উঁকি দেওয়া মাত্রই ভয়ে তার আত্মা শুকিয়ে গেল, শরীর অবশ হয়ে এল! কারণ নিচে কোনো রাস্তা, গাড়ি বা গাছপালা ছিল না; চারপাশে কেবল সাদা মেঘের ভেলা ভেসে বেড়াচ্ছে! সে বুঝতে পারল এটা কোনো সাধারণ ঘর বা বাড়ি নয়—এটা একটা চলন্ত ভিআইপি ফ্লাইট, যা হাজার হাজার ফুট ওপর দিয়ে মেঘ চিরে উড়ে চলেছে!আতঙ্কে ইমাইরা নিজের মুখে হাত দিয়ে জানালার পাশে ধপ করে বসে পড়ল। সে কিছুতেই মেলাতে পারছিল না যে কাল রাতে নিজের ঘরে ঘুমিয়ে থাকা মেয়েটি আজ কীভাবে আকাশের বুকে এক রহস্যময় ফ্লাইটের ভেতর বন্দি হয়ে গেল!

********

লিউকে হারিয়ে আসলামের অবস্থা এখন এক হিংস্র ও উন্মাদ পশুর মতো।

তার ওপর এখন জানতে পারল ইমাইরাকে বাড়ি থেকে মাঝরাতে কেউ কিডন্যাপ করে নিয়ে গেছে লিউয়ের নিখোঁজ হওয়ার ধাক্কা সে সামলাতেই পারছিল না, তার ওপর সকাল হতেই যখন খবর এলো নিজের ঘর থেকে কে বা কারা উধাও করে দিয়েছে, আসলামের পায়ের তলা থেকে যেন মাটি সরে গেল।

সে নিজের বিলাসবহুল ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে দুই হাতে মাথা চেপে ধরে রাগে কাঁপতে লাগল।

চলবে....
{সম্পূর্ণ গল্প (ami poddoja app) (pratilipi app) (juli yesmin page ) পড়ুন।

 #তোমার_অবাধ্য_স্পর্শ  #পর্ব_২ #জুলি_ইয়াছমিন🚫কপি করা সম্পূর্ন ভাবে নিষেধ 🚫"নিখিল ভাই ঘুমিয়েছেন?"আয়না প্রায় আধঘন্টা য...
29/08/2026

#তোমার_অবাধ্য_স্পর্শ #পর্ব_২
#জুলি_ইয়াছমিন
🚫কপি করা সম্পূর্ন ভাবে নিষেধ 🚫

"নিখিল ভাই ঘুমিয়েছেন?"

আয়না প্রায় আধঘন্টা যাবৎ মাথা টিপে দিয়ে জিজ্ঞেস করলো

নিখিল অল্প হাসলো চোখ বন্ধ করেই বলল "না, কিন্তু তুই যেতে পারিস"

আর কোনো কথা বললনা আয়ানা অনুমতি পেয়েই নিজের রুমে চলে গেলো।

তাঁরা মামার বাড়ি আসলে আয়ানার সাথেই ঘুমায় আর ফাহিয়া আরশিয়ার সাথে থাকে ৩ নম্বর ফ্লোরে ৪টা গেস্ট রুম আছে। ওপরে কেউ থাকেনা কিন্তু নুশিমা, নাদিমা, নিখিল আসলে সেখানেই থাকে ।

২নম্বর ফ্লোরে চিকন লম্বা বারান্দা এক সাইড তিন মেয়ের রুম তাদের সম্মুখে ছেলেদের,

কিন্তু ২টো ছেলের রুম খালি পড়ে আছে একটা আয়ানার সামনের টা খালি যেখানে শিফাত থাকত অন্যটা বেলিনার রুমের সম্মুখেরটা খালি যেখানে রিফাত থাকতো ২দিন পর তারা আসবে তাই রুম আজকেই পরিষ্কার করা হয়েছে গুছিয়ে দিয়েছে ।

আসলে তাদের বাড়ি অনেক বড় ৫তালা বাড়ি বাড়ির সামনে বড় মেইন গেট ভেতরে ঢুকল আরও একটা ছোটো লোহার গেট

****

🎉🥳আরশ বাড়ীতে আজকে সকাল থেকে কোলাহল বাচ্চারা সবাই আনন্দ আত্মহারা মহিলারা সকাল থেকে এত ব্যস্ত শ্বাস নেওয়ার সময় নেই আজকে এত আয়োজন তাই আজ পুরুষেরাও অফিস ছুটি নিয়েছে সবাই লিভিং রুমে বসে আছে বাচ্চারাও সেখানেই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে

আজকে এত বছর পর বাড়ির বড় ছেলে এবং নতিদেরমুখ দেখবে মোহিনী,

কিন্তু সবার মাঝে একমাত্র বিরক্ত আয়ানা আয়ানা আজকে নিজের রুম থেকেই বাইরে আসেনি তার এমন কান্ড সকলের জন্য ভালো হয়েছে কারন এই মেয়ে যদি বের হয় বারি মাথায় তুলে নাচবে তাই কেউ তাকে আসতে জোর করেনি ।

*****

দুপুর তখন ১.৩৮

গাড়ীর শব্দ পেয়ে সকলে সদর দরজার সামনে দাঁড়ায় দরজা খুলতেই বাড়ীর করতারা ভেতরে ঢুকে তাদের পিছু দুই হ্যান্ডসাম যুবক সবাইকে জড়িয়ে ধরে মোহিনী নাতিদের চুমু খায় মেহদুল ছেলেদের বলে

"তুমরা নিজেদের রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসো"

এরা হলো বড় আব্বুর দুই ছেলে বড় ছেলে শিফাত ছোট ছেলে রিফাত

"আচ্ছা পাপা, কিন্তু রুম কোথায়?"

মোহিনী বারুনউদ্দ্যেশ্য করে বলল

"যা তো তাদের রুম দেখিয়ে আয়"

"ভাইয়া আসো আমার সাথে"

বারুনের পিছু পিছু শিফাত সিঁড়ি দিয়ে উঠে নিজের রুমে পা বাড়াবে তখনি সামনের রুম থেকে মেয়েলী কন্ঠ শুনে দাড়িয়ে পড়ল শিফাত।

আযানাকে ডাকতে এসেছিল আরশি আয়ানা আরশিকে বলল

"আমি বিড়াল হয়ে এদুরের সাথে কথা বলতে যাবো কেনো?"

"কি বলছিস তুই? তর পেচ-গোচ কথা এতো বুঝিনা, বড় আব্বু তোকে দেখবে ,জেদ করিসনা চল "

"আমার এগুলো বালের ঢং সহ্য হয়না যা তো আমি যাবনা যা সর শালী "

"মুখে লাগাম দে আয়ু আমি তোর শালি? বেয়াদব মেয়ে কোথাকার"

"তুই আমার রুম থেকে বের হ বাল"

রিফাত নিজের রুমে চলে গেছে শিফাত কে দাড়িয়ে থাকতে দেখে বারুন বলল

"বড় ভাইয়া ওখানে দাড়িয়ে আছো কেনো? তোমার রুম তো সামনেরটা "

শিফাত নিজের রুমে ঢুকে বারুণ কে সামনের রুম ইশারা করে বলল

"ওই রুমে কে থাকে ? "

"ওই রুমে বাড়ীর বাঁদর থাকে তার সামনে যেও না সে কিন্তু অনেক বেয়াদব 🙂"

শিফাত অবাক হলো সে স্বাভাবিক কন্ঠ বলে

"তাকে বলে দিশ এত জোড়ে জোড়ে কথা না বলতে আর মুখের ভাষা ঠিক করতে "

"🥲 আচ্ছা ভাইয়া "

বারুণ চলে যেতে যেতে নিজের মাঝেই বিড়বিড় করে বলল

"এই মেয়ে বড়দের কোথায় শুনেনা আর তোমার কথা শুনবে ? হাহা "🥲😅

• বাড়িতে এতবছর পড় অনেক আনন্দ কোলাহল সবাই খেয়ে নিজেদের রুমে চলে যায় আয়ানা আজকে সন্ধ্যাতেই খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে যেন কারো সাথে দেখা না হয় ,তাই মাঝরাতে ঘুম ভেংগে যায়।

****

ঘরীর কাটায় তখন রাত ১২.৪৫ ~

আয়ানা নিজের রুম থেকে বেরিয়ে আরশির রুম পার হয়ে অন্ধকারের অস্পষ্ট আলোয় আন্দাজ করতে করতে সিঁড়ি করে নামল আর তিনটে মাত্র সিঁড়ি পার হলেই লিভিং রুম কিন্তু পেছনে কারো পায়ের শব্দ পেয়ে দাড়িয়ে পড়লো মনে হচ্ছে কোনো পুরুষ হবে পেছনে ঘুরতে যাবে ঠিক তখনি নিজের পায়ে পা লেগে হুমড়ি খেয়ে পড়তে নিল তার আগেই পুরুষালি হাতের বাঁধনে বেছে গেলো পুরুষটিকে দেখতে পেছনে ঘুরবে দেখা আর হলোনা সামনে থেকে চিরচেনা বয়স্ক কাপা কন্ঠ শুনে সামনে তাকাতেই পুরুষটির বাঁধন খুলে গেলো মোহিনী আয়ানার কাছে এসে ভ্রু কুচকে বলল

"এই বিড়াল এত রাতে আবার কোন মাছ চুর করার প্লেন করছিস ? আর আমার নাতির লগে জোড়াজড়িয করছিস কেনো?"

আয়ানা বিরক্ত হয়ে বলল

"এই বুড়ি কি বলছ? ছিঃ এত বয়স হওয়া সত্ত্বেও এমন কথা বলতে লজ্জা লাগেনা ?"

মোহিনী আয়ানার নাক চেপে বলল

"😒 তুই যে করছিস এই খোলা বাড়িতে তখন লজ্জা লাগেনা?"

আয়ানা তার দাদির হাত ছাড়িয়ে হেসে উঠে

"😂 দাদিমা তুমি স্বপ্ন দেখছ নাকি? আসলে কি জানো? বয়স হলে চোখের পাওয়ার কমে যায় চিন্তা করনা আমি আছি না ?কালকে তুমাকে নতুন চশমা এনে দেবো"😁

"😒 এ..এ তর সাথে কথায় তো কোনদিন পারা যাবেনা"

"বুঝতে পেরেছ? তাহলে যাও ঘুমাবে"

আয়ানা মোহিনীকে আর কোনো কথা বলতে দিলনা নিজের রুমের দিকে একপ্রকার দৌড়েই চলে গেল তার কতক্ষণ আগেই সেই পুরুষটি চলে গেছে তাই দুজনের দেখা আর হয়না।

পরদিন সকাল ৬:৩০

সেই কখন থেকে ঈশানের মবাইল ভাইব্রেশন হচ্চে ইশান নিজের সাথে মিশে থাকা আরশিকে একবার দেখে নিজের ফন হাতে নিলো এত সকাল সকাল শিফাতের কল আসতে দেখে ভ্রু কুঁচকে রিসিভ করে ওপাশ থেকে শিফাত বলে উঠল

"ফোন রিসিভ করছিস না কেনো ইশান? আর তুই এখন কোথায় ? "

ঈশান বিরক্তকর এক শ্বাস নিয়ে জিজ্ঞেস করে

"কেনো ভাই? এতো সকাল সকাল ঘুম হারাম করে বলছিস আমি কোথায়?"

"আমি যেটা বলেছি উত্তর দে কোথায় তুই?"

"আমি আমার বউ কে কলে নিয়ে ঘুমাচ্ছি এখন রাখ ডিস্টার্ব করিসনা তো "

"বউকে নিয়ে ঘুমাচ্ছিস মানে কি ? তুই বিয়ে কবে করলি ? আচ্ছা বাদ দে তুই এটা বল তুই আমার বাড়ির সামনে কি করছিস?"

ইশান চমকে উঠল আসে পাসে চোঁখ বুলিয়ে একবার দেখে নিল শিফাত কোথায় কিন্তু রাস্তা অথবা আশে পাশে কেউ নেই

"ভাই তুই এত শিকল নেশা করেছিস নাকি ?তর বাড়ি আমি কি করে জানবো? আমি তো আমার হবু শশুর বাড়ীর বাইরে গাড়িতে বউ নিয়ে ঘুমিয়ে আছি 😅"

"তাহলে আমি যা বলছি সেটা সত্যি? Omg তর বউ কে ? তুই গাড়ি থেকে বাইর বেরহ এক্ষনি আমি আসছি ওখানেই থাক "

"আমি তোকে দেখতে পারছিনা। তাহলে আয় আমি গাড়ি থেকে বেরোচ্ছি।

কল কেটে দিয়ে আরশিকে ডাকলো আরশির চোখ ডলতে ডলতে উঠে নিজের চিটে বসে বলে

"তুমি আমাকে ডাকনি কেনো এখন আমি ভেতরে কি করে যাবো? কেও যদি দেখে নেয়? "😫

"কেও উঠেনি মনে হয় আর যদিও উঠে থাকে তাহলে তুমি বাগান দিয়ে যাও কেও জিজ্ঞেস করলে বলবে হাটছিলে যাও এখন"

আরশি দরজা খুলে বেড়িয়ে ঈশানের পাশে আসলো ইশান তার কপালে একটা শুকনো চুমু দিল তার পর গাড়িতে হেলান দিয়ে দাড়ালো আরশি গেটের পাশে যেতেই চমকে উঠে শিফাতকে দেখে দুজনেই দুজনকে দেখে অবাক হয় সিফাত বলে

"তুই এখানে কি করছিস? এতো সকাল বাইরে বের হয়েছিস কেনো ? "

আরশি কাপছে কিছু বলতে পারছেনা দূর থেকে তাদেরকে দেখে ইশান বুঝে গেলো আসলে আরশিযার বাড়ি আর শিফাতের বারি একটাই সে তড়িঘড়ি করে এসে তাদেরকে বলল

"কি হলো দুজনে এরকম করে দাঁড়িয়ে আছিস যে ? আরশি তুমি ভেতরে যাও। শিফাত তুই এখানে আয়"

ঈশান সিফাতকে কিছু বলতে না দিয়ে তাকে টেনেই গাড়ির কাছে গিয়ে দাঁড়ালো আরশিয়া ভয়ে দৌড়েই বাড়ির ভেতর ঢুকে গেলো । শিফাত রাগী চোখে তাকিয়ে আছে ঈশানের দিকে আসলে তারা দুজন আগে থেকেই ফ্রেন্ড তবে ঈশান কখনোই শিফাতের বারি আসেনি ।

ঈশানের মনে পড়ে গেলো আরশি তাকে বলেছিল তার চাচাতো ভাইয়েরা আসছে তার মানে সিফাত তার ভাই? আর শিফাতো বলেছিল তাদের বাড়িতে অনেক সদস্য এখন কি হবে ? ইশান হঠাত কেশে উঠলো তার পর নিজেকে শান্ত করে বলল

"দেখ ভাই আমি সত্যি জানিনি আরশি যে তর বন সরি ভাই "

"তুই এভাবে আরশি কে রাতে ডেকে নিয়ে আসিস?কি করেছিস তার সাথে সত্যি করে বল?তাও বাড়ীর সামনে?তর ভয় লাগেনা?"

ঈশান স্বাভাবিক কন্ঠ বলে

"😳🙄ভাই বিশ্বাসকর আমি কিছু করিনি শুধু ৫-৬ টা চুমু খেয়েছি আর আমার কোলে নিয়ে ঘুমিয়েছি"

"আমি আরশির বড় ভাই অভদ্র। আমকে এভাবে বলতে লজ্জা করেনা..?"

"ওপস সরি সম্বন্ধ এখন লজ্জা করছে "

"হয়েছে বাদ দে কিন্তু শুনে রাখ এরকম আর যাতে না হয় তুই কি তাকে ভালবাসিস ?"

ঈশান এইবার সিরিয়াস হয়ে বলে

"হ্যাঁ অবশ্য ভালবাসি আর আমি বিয়ে করবো তাকে আমি বিয়ে না করলে কে বিয়ে করবে ? কার এত সাহস?"

"তাহলে তুই বাড়ীতে প্রস্তাব নিয়ে আয় আমি আছি তোর সাথে এখন যা "

"আহ হা এটাই তাহলে হলো আমার দোস্ত আসি তাহলে সম্বন্ধী...উম্মাহ😘"

চলবে,,,,,

Address

Barpather
Bongaigaon
783381

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Juli yesmin জুলি ইয়াছমিন posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share