ইতিহাস

ইতিহাস Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from ইতিহাস, Athens.

রবার্ট ফ্রস্ট : নিসর্গ প্রকৃতির কবিএকাকীত্ব, বেদনাবোধ, সাংসারিক ও পারিবারিক জীবনের হতাশা তার মাঝে মাঝে রোপন করেছিল কবিত্...
02/09/2022

রবার্ট ফ্রস্ট : নিসর্গ প্রকৃতির কবি

একাকীত্ব, বেদনাবোধ, সাংসারিক ও পারিবারিক জীবনের হতাশা তার মাঝে মাঝে রোপন করেছিল কবিত্বের বীজ। আজীবন প্রকৃতির বিচিত্র নিসর্গে নিজ জীবনের অর্থ ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। ইংরেজী সাহিত্যে ১০ জন প্রভাবশালী কবির কথা বললে তার নাম চলে আসবে অনায়াসে, তিনি হচ্ছেন রবার্ট ফ্রস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইংল্যাণ্ডের ছোট্ট একটি গ্রামে বেড়ে উঠা এ কবি, প্রকৃতির মাঝেই নিজ আবেগ, বেদনাবোধ এবং অতৃপ্তির ছবি একেছেন কবিতার রঙতুলি দিয়ে। লিখেছেন প্যাচপ্যাচে তুষার, জোনাকি, হেমলকের ডাল থেকে খসে পরা বরফ নিয়ে অপূর্ব সব কবিতা।

চারবার পুলিৎজার পুরষ্কার জয়ী এ কবি, কোন উদ্দীপনায় নিজেকে গড়ে তুলেন কবি হিসেবে? পাঠক হিসেবে তা জানতে ইচ্ছে হয় অনেকেরই। তার এই কবিত্বের পিছনে কি লুকায়িত রয়েছে, কোনো অপ্রাপ্তি নাকি গভীর হতাশাবোধ?

১৮৭২ সাল।
সাংবাদিক প্রেফকট ফ্রস্ট ভালোবেসে বিয়ে করেন সাহিত্যপ্রেমী ইসাবেল মুডিকে ( ইসাবেল বেশ ভালোই লিখতে পারতেন কবিতা, কবিত্বের সহজাত গুণখানা রবার্ট ফ্রস্ট তার মায়ের থেকেই পেয়েছিলেন)১৮৭৪ সালের ২৬ মার্চ তাদের ঘর আলোক করে জন্ম নেয় এক পুত্রসন্তান। বাবা মা খুব খুশি সেই শিশুকে নিয়ে। কিন্তু শিশুর নামকরণে দেখা দিলো বিভ্রান্তির। সাহিত্য অনুরাগী মা ছেলের নাম রাখতে চাইলেন বিশ্বখ্যাত কবি বিশ্বখ্যাত কবি রবার্ট বার্নসের নামানুসারে। অন্যদিকে মায়ের দেয়া এমন নাম মনঃপূত হলোনা বাবা উইলিয়ামের। তিনি চাইলেন জননন্দিত ব্যক্তিত্ব জেনারেল লি এর নামের অনুকরনেই রাখা হবে নবজাতকের নাম। সবশেষে, দুজনের নামের প্রতিই শ্রদ্ধা রেখে এই শিশুর নাম রাখা হয় রবার্ট লি ফ্রস্ট। অবশ্য, এ শিশুটিই পরবর্তীতে পৃথিবী জুড়ে পরিচিত হন রবার্ট ফ্রস্ট হিসেবে।..

নামকরণের সময় কি রবার্ট ফ্রস্টের মামা বাবা কখনো কল্পনা করেছিলেন? তাদের দেয়া এই নাম একদিন জগৎদ্বিখ্যাত হবে! কিংবা সেসময়ের ঐ নবজাতক আমেরিকার মতো প্রভাবশালী একটি রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির অভিষেক উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথির মর্যাদা নিয়ে The gift of the outright কবিতাটি আবৃত করতে পারবেন ।

নিজেকে খুব গর্বের সাথে একজন নিউ ইংল্যান্ডের অধিবাসী দাবী করলেও রবার্ট ফ্রস্টের জন্ম হয়েছিলো সানফ্রানসিসকোয়। রবার্টের বাবার পূর্বপুরুষরা ‘মেইন এন্ড নিউ হ্যাম্পাশায়ার’ এ বাস করতেন। ফ্রস্টের বাবা উইলিয়াম ফ্রস্ট হাভার্ড থেকে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করে এবং শিক্ষকতাকে পেশা করে নিজের জীবিকা নির্বাহ করতে লাগলেন। সানফ্রানসিসকোতেই শৈশব কাটছিলো রবার্টের। বলা যায় খুব ভালোভাবেই কাটছিলো। কিন্তু সুসময় কবির জীবনে খুব বেশীদিন স্থায়ী হলোনা। বাবা উইলিয়ামের মৃত্যু কালবৈশাখী ঝড়ের মতো তার জীবনের গতিপথ এলোমেলো করে দিল,১৮৮৫ সালে ক্ষয়রোগে মৃত্যুবরণ করেন তার বাবা উইলিয়াম ফ্রস্ট। কবির বয়স তখন মাত্র ৯!

এরপর কিছুদিন তার বাবার সমাধিস্থল তথা লরেন্সে তার দাদা দাদীর বাড়িতে অবস্থান করে, তার মা তাদের নিয়ে আসেন নিউ হ্যাম্পশায়ারে।

সাহিত্য জীবন

নিউ হ্যাম্পশায়ারে আসার পর কবি রবার্ট ফ্রস্ট আবর্তিত হতে থাকেন ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে। বাবা মায়ের কোলে বেড়ে উঠা আদরের ছোট্ট ছেলেটি কখনো হয়েছেন দিনমজুর, কখনো জুতার দোকানের কর্মচারী কিংবা কখনো কারখানার শ্রমিক। আবার কখনো বা ঠেলেছেন পশমের ববিন বোঝাই গাড়ি। তবুও থেমে থাকেনি কবির সাহিত্য সাধনা। জীবনসংগ্রাম থেকে প্রাপ্ত তিক্ত অভিজ্ঞতা চিত্রায়িত করেছেন তার কবিতার অসামান্য লাইনগুলোতে। জীবনের প্রথম দিককার কবিতাগুলোয় ভেসে উঠেছে নিউ হ্যাম্পাশায়ারের পথ, ঘাট, প্রকৃতি। তার কবিতায় ফুটে উঠেছে শরতের পাতা ঝরা রঙ ঝলমলে দিন, গ্রীষ্মের আলোকিত লম্বা দুপুর।আর বসন্তের সন্ধিক্ষণে পরিযায়ী পাখিদের ফিরে আসার গল্প।

তার এই সাহিত্য সাধনার শুরুর দিকে চরম বাধার সম্মুখীন হন তার আশেপাশের বন্ধুদের দ্বারা। উপহাসের পাত্র হয়েছিলেন বহুবার।

একবার দ্য আটলান্টিক মান্থলি নামে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ রবার্টের কবিতা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন (!) এই বলে যে, ‘মাসিক আটলান্টিক’-য়ে এসব কবিতার স্থান নেই। তখন রবার্ট খুব দুঃখ পেয়েছিলেন।
তাই হয়তো লিখে গিয়েছিলেন,

“Two roads diverged in a yellow wood, and I

I took the one less traveled by,

And that has made all the difference.”

রবার্ট ফ্রস্টের প্রথম দুটি কবিতা প্রকাশিত হয় ১৮৯০ সালে, তার স্কুলের ম্যাগাজিনে (বয়স তখন তার ১৬)।
প্রথম কবিতার নাম ছিলো ‘লা নচে ট্রিস্ট’ আর দ্বিতীয়টির নাম “দ্যা সং অব দ্যা ওয়েভ”। পরের বছর ঐ স্কুল ম্যাগাজিনের ইডিটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন ফ্রস্ট। স্কুল জীবন শেষ করে হাবার্ট কলেজে ভর্তি হন ফ্রস্ট। তবে অর্থনৈতিক দুর্দশায় কলেজ ছাড়তে হয় তাকে। এরপর ১৮৯২ সালে ডারমাউথ কলেজে ভর্তি হন তিনি। এসময় তার স্কুল জীবনের সহপাঠিনী এলিনর মেরিয়ামকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হন। ডারমাউথ কলেজে থাকাকালীন মেথুয়েনের বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষকতা করেন তিনি।

১৮৯৪ সালের মার্চে ‘দি ইনডিপেন্ডেন্ট’ পত্রিকায় তার কবিতা ‘মাই বাটারফ্লাই’ এবং ‘এ্যান এলিজি’ প্রকাশিত হয়। বিনিময়ে তিনি ১৫ডলার সম্মানী পান। এই অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি ‘টোয়াইলাইট’বইয়ের দুটি কপি প্রকাশ করেন। তার একটি কপি তিনি প্রাণপ্রিয় এলিনরকে উপহার করেন। ভাগ্যের পরিহাস এমন হলো যে, এলিনর বইটি ছুড়ে ফেলে দেন। এঘটনার পর রবার্ট মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পরেন যে, তিনি সেই স্থান ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন।

এতসব নাটকীয়তার শেষে ১৮৯৫ সালের ১৯ডিসেম্বর লরেন্সে এলিনরের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন রবার্ট। ১৮৯৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তাদের প্রথম সন্তান ইলিয়টের জন্ম হয়। যদিও কয়েক বছর পরই তাদের এই সন্তান মৃত্যুবরণ করে। ১ম সন্তানের মৃত্যুতে তার স্ত্রী এলিনর প্রবল মানসিক আঘাতে ভেঙে পরেন। আর এর ফলে রবার্টের স্বাস্থ্যেরও চরম অবনতি ঘটে। সে বছরের ২ নভেম্বর তার মাও মৃত্যুমুখে পতিত হন । মা ও সন্তানের শোক কাটাতে না কাটাতেই পরের বছর তার দাদাও পাড়ি জমান পরপারে।

এসব ঘটনা রবার্টের জীবনের স্বাভাবিক গতি একেবারেই মন্থর করে ফেলে। তাই হয়তো এসময়ে নিজেকে একটি নীল পাখির সাথে তুলনা করে লিখেছিলেন,

“I have wished a bird would fly away,

And not sing by house all day;

Have clapped my hands at him from the door,

When it seemed as if I could bear no more.

The fault must partly have been in me,

The bird was not to blame for his key.

And of course there must be something wrong,

In wanting to silence my song.”

সবশেষে ১৯১২ সালে তিনি সপরিবারে ইংল্যাণ্ডে চলে আসেন এবং লোখালেখিতে মনোযোগ দেওয়া শুরু করেন। ১৯১৩ সালে ‘এ বয়েজ উইল’ নামে তার একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এ বইটি রবার্টকে সেসময়ের খ্যাতি প্রাপ্ত লেখকদের সান্নিধ্যে আসতে সাহায্য করে । এরপরের বছর মে মাসে তিনি “নর্থ অব বোস্টন” নামে আরেকটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেন। এই বইটি কবিকে জগৎজোড়া খ্যাতি দেন। সেসময়ের বিখ্যাত সব পত্রপত্রিকায় আলোচনা সমালোচনা করা হয় তার বইটিকে নিয়ে। এসময় কবির বন্ধু টমাস তাকে আরো বেশী করে কবিতা লিখতে পরামর্শ দেন।

তবে দুঃখের বিষয়, এসময় বিশ্বের বুকে নেমে আসে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কালো ছায়া । যে ছায়া থেকে পালাতে পারেননি কবি রবার্ট ফ্রস্টও। ইংল্যান্ডের তৎকালীন সরকার তাকে আমেরিকার গোপন গোয়েন্দা হিসেবে সন্দেহ করেন।ফলে পরের বছর ১৯১৫ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারি ফ্রস্ট চলে যান নিউওয়ার্কে। সে বছরের ২০ফেব্রুয়ারি তার লিখিত “নর্থ অব বোস্টন” পুনরায় প্রকাশিত হয় । এরপর ১৯১৬সালে রবার্ট প্রকাশ করেন- ‘মাউন্টেন ইন্টার্ভাল’ নামের একটি গ্রন্থ। একই বছরেই তিনি আর্মহাস্ট কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। ১৯১৭ সালে তিনি আর্মহাস্টে স্থানান্তর হন। তবে আর্মহাস্টে তার কর্মজীবন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কলেজ কমিটির সাথে মতবিরোধের কারন হেতু ১৯২০সালে ঐ কলেজ হতে ইস্তফা নেন রবার্ট। ১৯২১সালের মার্চে কুইন্স ইউনিভার্সিটি তাকে ‘পোয়েট ইন রেসিডেন্স’ মনোনীত করে। এবছরই মিসিগান ইউনিভার্সিটি থেকে ফেলোশিপ পান।১৯২৩ সাল ছিলো রবার্টের সাফল্যের স্বীকৃতি পাওয়ার বছর । সে বছর তিনি ডারমণ্ড বিশ্ববিদ্যালয় হতে LHD পুরষ্কার লাভ করেন। এসময় রবার্ট পুনরায় তার পূর্বের কর্মস্থল আর্মহাস্ট কলেজে নিযুক্ত হন। সেখানে তার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছিলেন, ১৯২৩ সালে কোয়ান্টাম মেথডের জন্য নোবেল প্রাপ্ত পদার্থবিজ্ঞানী নিলস বোর। সে বছরই তিনি প্রকাশ করেন তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘নিউ হ্যাম্পাশায়ার’ । যেটি ১৯২৪ সালে তাকে পুলিৎজার পুরষ্কার এনে দেয়। পুলিৎজার পাওয়ার পরপরই মিডিলবুরি কলেজ ও ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রী প্রদান করে। মিশিগান ইউনিভার্সিটি থেকে পান আমরণ ফেলোশিপ।১৯২৮ সালে রবার্টের ছোট বোন জিনি মৃত্যুবরণ করলে, আবারও তিনি মানসিকভাবে প্রচণ্ড ভেঙ্গে পরেন। এর দুবছর পর ১৯৩০ সালে ‘কালেক্টেড পয়েমস’ প্রকাশিত হয়। এ বইটির জন্য ১৯৩১ সালে পুনরায় পুলিৎজার পুরষ্কার লাভ করেন। এরপর ১৯৩৪সালে তার কণ্যা মার্জরি মৃত্যুবরণ করলে, দারুন শোকাহত হন রবার্ট। ১৯৩৬ সালে শোকাভূত কবি লিখে ফেললেন ‘এ ফার্দার রেন্জ’ নামক একটি গ্রন্থ। যা পরের বছর তাকে ৩য় বারের মতো পুলিৎজার পুরষ্কার এনে দেয়। সাথে সাথে তাকে আমেরিকান ফিলোসফিকাল সোসাইটির সদস্য করা হয়
১৯৩৯ সালে তিনি ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব আর্টস এন্ড লেটারস এর থেকে নিউইয়র্ক স্বর্ণপদক পান। এবছরই মে মাসে তিনি হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ রালফ ওয়ালডো এমার্সন ফেলো’ হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৪২ সালে প্রকাশ করেন ‘A winter age’ নামের একটি কাব্যগ্রন্থ। মাত্র দু মাসেই বইটি প্রায় দশ হাজার কপি বিক্রি হয় এবং বইটি তাকে ৪র্থ বারের মতো পুলিৎজার পুরষ্কারে ভূষিত করে।
রবার্ট ফ্রস্ট নোবেল কেনো জিতেন নি?

গত শতাব্দীতে যেসকল সাহিত্যিকদের নোবেল না পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠে তাদের মধ্যে রুশ সাহিত্যিক লিও তলস্তয়ের পরেই রবার্ট ফ্রস্টের নাম আসবে।

সর্বোচ্চ ৪ বার (১৯২৪,১৯৩১,১৯৩৭,১৯৪৩) পুলিৎজার পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি জেতা কবি নোবেল পাননি এটা সবাইকে অবাক করে। অবশ্য ৪ বার পুলিৎজার জয়ী তিনি একা নন। মার্কিন লেখক Eugene O’Neill ও ৪ বার পুলিৎজার জিতেছেন। তবে তার নোবেল পুরষ্কার জয় মিস হয়নি, তিনি ১৯৩৬ সালে নোবেল জিতেছিলেন।রবার্ট ফ্রস্ট তার পুরো জীবনে সর্বমোট ৩১ বার নোবেল পুরষ্কার এর জন্য নমিনেশন পেয়েছেন যা Bertrand Russell এর পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ৪৭ বার নমিনেশন পাওয়া Bertrand Russell অবশ্য ১৯৫০ সালে এসে নোবেল পেয়েছিলেন।
১৯৬১ সালে রবার্ট ফ্রস্ট কে নোবেল নমিনেশন এর তালিকা থেকে নাম বাদ দেয় নোবেল কমিটির জুরিরা এই বলে যে সে অনেক বয়ষ্ক। তখন রবার্ট ফ্রস্টের বয়স ৮৬! অবশ্য পরবর্তীতে রবার্ট ফ্রস্টের মতো বয়স কারো জন্য বাধা হয়ে দাড়ায় নি। ২০০৭ সালে সরিস লেসিং ৮৭ বছর বয়সে এসে নোবেল জিতেছিলেন।
নোবেল কমিটি সবসময় জনপ্রিয় লেখকদের নোবেল পুরষ্কার দেয়া থেকে গা এড়িয়ে চলেছেন সবসময়। নোবেল পেলে হয়তো তারা আরো বেশি জনপ্রিয় হয়ে যাবেন।
নোবেল হয়তো পান নি! তবে পাঠকদের ভালোবাসা পেয়েছেন প্রচুর। যতকাল সাহিত্য রবে ততকাল সাহিত্য প্রেমীদের মনে থাকবেন প্রিয় রবার্ট ফ্রস্ট।

রাজা ঈডিপাস: নিয়তি যার অভিশাপপৃথিবীর অন্যতম ট্রাজিক নাট্যকার সফোক্লিসের কালজয়ী নাটক ‘ঈডিপাস’। নাটকের কাহিনি সম্পর্কে বলা...
01/09/2022

রাজা ঈডিপাস: নিয়তি যার অভিশাপ

পৃথিবীর অন্যতম ট্রাজিক নাট্যকার সফোক্লিসের কালজয়ী নাটক ‘ঈডিপাস’। নাটকের কাহিনি সম্পর্কে বলার আগে সফোক্লিস সম্পর্কে বলা উচিত।

সফোক্লিস

বিখ্যাত গ্রীক নাট্যকার সফোক্লিস জন্মগ্রহণ করেছিলেন ৪৯৬ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে এথেন্সের নিকটবর্তী কলোনাস নামের এক গ্রামে। সফোক্লিস এর বাবা ছিলেন একজন অস্ত্র নির্মাতা সাথে সেই গ্রামের একজন জনপ্রতিনিধি। সে হিসেবে বলা যায় সফোক্লিস ছিলেন একজন ধনী ঘরেরই সন্তান।প্রাচীন গ্রীসের অন্যান্য অভিজাত পরিবারের মতোই সফোক্লিস কাব্য, সঙ্গীত, নৃত্যকলা ও শরীরচর্চায় বিশেষ বুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন। অবশ্য পরবর্তীতে তিনি সামরিক ও কূটনীতিক দিকেও যথেষ্ট বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছিলেন।

যুবক থাকাকালীন সময়েই সফোক্লিস সঙ্গীত ও নৃত্যকলায় তার দক্ষতা দেখিয়েছিেন। এথেন্স সেস সময়ে নৌযুদ্ধে পার্সিয়ানদের হারিয়ে জয়ী হয় তখন তিনি একটি কোরাস সঙ্গীত রচনা করে সারা ফেলে দিয়েছিলেন। আর এই কারনে তিনি এথেন্সের সরকারি প্রশাসনিক সদস্য হিসেবে যুক্ত নিযুক্ত হন। প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকাকালীন সফোক্লিস গ্ীক শিল্পকলায় যথেষ্ট প্রভাব রাখেন। নাটক লেখার পাশাপাশি সফোক্লিস ছিলেন একজন অসাধারণ অভিনেতা।

নাটক রচনায় সফোক্লিস সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছেন গ্রীক ট্রাজেডি নাটক রচয়িতা এস্কাইলাসের দ্বারা। একটা সময়ে তিনি এস্কাইলাস কে ও অতিক্রম করে যান। ৪৬৮ খৃস্টপূর্বাব্দে এথেন্সের নাট্যকলা প্রতিযোগিতায় ট্রাজেডি নাটক রচনা করে তিনি প্রথম পুরষ্কার জিতে নেন।

খৃস্টপূর্বাব্দের ৫ম শতাব্দী ছিলো গ্রীক ড্রামার সোনালী অধ্যায়। ট্রাজেডি নাটক রচয়িতা হিসেবে সফোক্লিস ছিলেন সেকালে একেবারে তুঙ্গে। সফোক্লিস কে বলা হয় গ্রীক ট্রাজেডি নাটকের সার্থক স্রষ্টা।

সফোক্লিসের বিখ্যাত নাট্যকর্মের মধ্যে অ্যজ্যাক্স, এন্টিগোনে, ইলেক্ট্রা, ঈডিপাস দি কিং, ঈডিপাস অ্যাট কলোনাস অন্যতম। জীবদ্দশায় সফোক্লিস ১২০ টির মতে নাটক রচনা করেছিলেন।এথেন্সের অভিজাত মহল থেকে শুরু করে সাধারণ দর্শক সকলেই সফোক্লিসের নাট্যকর্মের অনুরাগী দর্শক ছিলেন।

৪০৫ খৃস্টপূর্বাব্দে এই মহান গ্রীক নাট্যকার পৃথিবী ত্যাগ করেন।

নাটক রাজা ঈডিপাস
পৌরাণিক কাহিনীতে দেখা যায়, ল্যাবডেকাসের পুত্র লেয়াস থিবীসের রাজা। লেয়াসের স্ত্রীর নাম জোকাস্টা। বহুদিন ধরে সন্তান কামনা করছিলেন লেয়াস, কোন সন্তান না হওয়ায় এর মূল কারণ জানার জন্য তিনি গোপনে ডেলফির মন্দিরে গেলেন। দৈববানী এলো, তার এই সন্তান না হওয়াটা দুর্ভাগ্য কিংবা অভিশাপ নয় , এটাকে আশীর্বাদ বলে গ্রহণ করা উচিত। কারণ রানী জোকাস্টার সন্তান একদিন তাকেই হত্যা করবে। রাজা লেয়াস এ কথা জোকাস্টার কাছে প্রকাশ না করে জোকাস্টার কাছ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখলেন।

জোকাস্টা নানা ছলচাতুরীর দ্বারা রাজাকে প্রভাবিত করে গর্ভে সন্তান ধারণ করলেন। নয় মাস পর রানী সন্তান জন্ম দিলেন। রাজা লেয়াস নবজাত শিশুকে রানীর কোল হতে ছিনিয়ে নিলেন এবং একজন মেষপালকের হাতে তুলে দিলেন পর্বতের নির্জন কোন স্থানে নিয়ে তাকে হত্যা করার জন্য। নবজাতক শিশুর পা দুটো লোহার বেড়ী দ্বারা আটকে দেয়া হল যাতে সে গড়াগড়ি দিয়ে অন্য কোথাও সরে যেতে না পারে । কিন্তু নিয়তির বিধান ছিল তার বিপরীত। প্রাণে বেঁচে রইল নবজাতক শিশু।

পাশের রাজ্য করিন্থের এক মেষপালক তাকে কুড়িয়ে পেয়ে তার নাম রাখল ঈডিপাস। কারণ লোহার বেড়ী পরানোর কারণে পা দুটো তার ফুলে গিয়েছিল। ঈডিপাস শব্দের অর্থ হচ্ছে ফুলে যাওয়া পদযুগল। মেষ পালক তাকে নিয়ে এল করিন্থে।

সে সময় করিন্থের শাসক ছিলেন রাজা পলিবাস। রাজা পলিবাস ও তার রানী মেরোপীর কোন সন্তান ছিল না। তাই তারা নবজাত শিশুটিকে গ্রহণ করে নিজ সন্তানের মত লালন পালন করতে লাগলেন। একদিন করিন্থের এক যুবক ঈডিপাসকে উপহাস করে বলল, সে তার পিতা মাতার মত নয় দেখতে। ঈডিপাস মনে সন্দেহ নিয়ে গেল ডেলফির মন্দিরে। দৈববাণীর মাধ্যমে সঠিক উত্তর পেল না সে। তার বদলে তাকে জানানো হল, সে তার পিতাকে হত্যা করে নিজ মাতাকে বিবাহ করবে।

হতাশা আর ব্যথা বেদনায় ভেঙ্গে পড়ল ঈডিপাস, এ অবস্থায় সে আর করিন্থে ফিরে গেল না। একা একা উদ্দেশ্যবিহীনভাবে ঘুরতে ঘুরতে সে ডেলফি হতে বেশ দূরে কোসিস নামক স্থানের একটি তেমাথা পথের মোড়ে এল। সে সময় একজন বৃদ্ধ। রাজপুরুষ রথে আরোহণ করে যাচ্ছিলেন পরিচারক বর্গসহ। ঈডিপাসকে রাস্তা ছেড়ে দিতে বলা হল । কিন্তু ঈডিপাস মোটেই পথ থেকে সরে যাবেন না। শেষে রাজপুরুষ রথ চালনা করার নির্দেশ প্রদান করলেন। ধাবমান রথের চাকায় ঈডিপাসের পা থেতলে গেল, ঈডিপাস ক্রোধে দিশেহারা হয়ে রাজপুরুষ ও তার পরিচারকদের হত্যা করলেন। শুধু একজন অনুচর কোন রকমে প্রাণে রক্ষা পেয়ে থিবীসে এসে জানাল রাজা লেয়াস তার লোকজনসহ দস্যুদের হাতে নিহত হয়েছেন। দস্যুদলের কথাটা সে একটু বাড়িয়ে বলেছিল।

ঈডিপাস ঘুণাক্ষরেও জানতে পারল না যে, দৈববাণীর প্রথম অংশটুকু সে কার্যকর করে ফেলেছে এরই মাঝে, সে তার পিতাকে হত্যা করবে এটা সত্যি হল।

সে সময় থীবিসের জনগণ ‘স্ফিংস’ (দেহের উপরের অংশ নারী এবং নিচের অংশ সিংহের এমন দেহধারী) নামক এক দানবের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। একাকী কোন পথচারীকে সামনে পেলে স্ফিংস একটি ধাঁধা জিজ্ঞেস করত। ধাঁধার জবাব না দিতে পারলে পথচারীকে সে হত্যা করতো।

রাজা লেয়াসকে হত্যা করার পর ঈডিপাস থিবীসের দিকে যেতে থাকে। পথিমধ্যে সে স্ফিংসের কবলে পড়ে। স্ফিংস তাকে জিজ্ঞেস করেঃ- বল দেখি , এমন কোন প্রাণী আছে পৃথিবীতে যে সকালে চার পায়ে হাঁটে,দুপুরে দু’পায়ে হাঁটে আর বিকেল বেলায় হাঁটে তিন পায়ে?
ঈডিপাস জবাব দিলেন, সে প্রাণী হচ্ছে মানুষ। শৈশবে হামাগুড়ি দেয়, যৌবনে দু’পায়ে হাঁটে আর বৃদ্ধকালে দু’পা আর একটি লাঠি এই তিন দ্বারা হাঁটে।

স্ফিংস তার জবাব শুনে পাহাড় থেকে লাফিয়ে পড়ে নিহত হয়। কারণ এটাই ছিল তার নিয়তি। স্ফিংসের মৃত্যুতে নিশ্চিত ও কৃতজ্ঞ থিবীসের জনগণ ঈডিপাসকে তাদের রাজা হিসেবে বরণ করে নিল। ঈডিপাস থিবীসের রাজা হিসেবে অধিষ্ঠিত হয়ে প্রচলিত দেশাচার অনুযায়ী রাজার বিধবা স্ত্রী জোকাস্টাকে বিয়ে করল। ঈডিপাস জানতেও পারল না যে এই জোকাস্টাই তার গর্ভধারিণী মাতা।

এরপর পার হয়ে গেল দীর্ঘ ১৫ টি বছর। দ্বিবীসের রাজ্যভার গ্রহণ করে ঈডিপাস যথেষ্ট যোগ্যতার পরিচয় প্রদান করেছে দেশ শাসনের ক্ষেত্রে, এ কারণে সে রাজ্যের সবার কাছে প্রিয়। আর রানী জোকাস্টাকে রানী হিসেবে পেয়েও সে তৃপ্ত। এরই মাঝে ঈডিপাস ও রানী জোকাস্টার চারটি ছেলেমেয়ে জন্মগ্রহণ করেছে। দুই পুত্র একজনের নাম ইটিওক্লিস,অন্য জনের নাম পলিনিসেস। দু’বোনের একজনের নাম এন্টিগোনে , অন্যজনের নাম ইসমেনি ।। ইডিপাস ঘুণাক্ষরেও জানতে পারল না যে, সে তার নিজ মাতার শয্যাসঙ্গী হয়ে তার গর্ভে সন্তান উৎপাদন করেছে।

নাটকের ট্রাজেডি শুরু এখান থেকে
ঈডিপাস তখন রাজা হয়ে রাজ্য শাসন করছেন দীর্ঘদিন। হঠাৎই তার রাজ্যে শুরু হয় দুর্ভিক্ষ আর সাথে মহামারী। প্রজারা তার কাছে আসে এই কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে রাজার সাহায্য চাওয়ার জন্য। তারা রাজাকে বলছেন কোনো এক অদৃশ্য কারণে রাজ্যে ফসল উৎপন্ন হচ্ছে না, রমণীদের গর্ভে সন্তান আসছে না, প্লেগ মহামারিতে মানুষ মরছে অগণিত। এভাবে চলতে থাকলে রাজ্য তো গোরস্থান হয়ে যাবে।

রাজা ঈডিপাস প্রজাদের সেসব কথা শুনে ব্যাথিত হন। কোন কারণে তার রাজ্যে এমন মরক লেগেছে তা জানার জন্য সাথে সাথেই তার শ্যালক ও পরামর্শদাতা ক্রেয়নকে ডেলফির মন্দিরে পাঠান দৈববাণী জানার জন্য।

ক্রেয়ন ডেলফির মন্দির থেকে দৈববাণী নিয়ে ফেরত আসে এবং ঈডিপাস কে ক্রেয়ন সে দৈববাণী একান্তভাবে জানাতে চাইলে সে কথা প্রত্যাখান করে এবং তাকে সে কথা সবার সামনে বলতে নলে। ক্রেয়ন বলে এই রাজ্যের আগের রাজা লেয়াস কে যে হত্যা করেছে, সে এই রাজ্যেই অবস্থান করছে আর সে মহাপাপ লালন করছে। তার এই মহাপাপের জন্যই আজ রাজ্যের এই দুর্ভিক্ষ ও মহামারী।

ঈডিপাস তারপর শুরু করেন তদন্ত কে খুন করেছে রাজা লেয়াস কে? এজন্য তিনি অন্ধ জ্যোতিষী টেরেসিয়াস কে ডেকে পাঠান। টেরেসিয়াস ঈডিপাস কে সত্যি জানতে অস্বীকৃতি জানায়। কিন্তু ঈডিোস নাছোর বান্দা, সে সত্য জেনেই ছাড়বে। টেরেসিয়াস ঈডিপাস কে বলে এই সত্যি প্রকাশ করলে ঈডিপাসেরই ক্ষতি হবে।

কিন্তু ঈডিপাস টেরেসিয়াস এর কথা পাত্তা না দিয়ে তাকে কঠোর ভাবে তিরস্কার ও হুমকি দিতে থাকেন, সাথে তাকে মৃত্যু ভয় ও দেখান।

টেরিসিয়াস তখন বাধ্য হয়ে বলেন, যে রাজা লেয়াস কে হত্যা করেছে সে লেয়াসেরই বিধবা স্ত্রী অর্থাৎ নিজের মাকেই বিয়ে করে এই রাজ্য শাসন করছে। এই রাজা ঈডিপাসই লেয়াসের খুনি। সেই রাজ্যের মহামারী ও দুর্ভিক্ষের জন্য দায়ী।

এসব শুনে ঈডিপাস ক্রুদ্ধ হয়ে উঠেন। তিনি বলেন এসব কিছুই ক্রেয়নের ষড়যন্ত্র। ক্রেয়ন এই অন্ধ টেরেসিয়াস কে শিখিয়ে পড়িয়ে এসব আজগুবি কথা বলাচ্ছে যেনো তাকে সিংহাসন থেকে সরিয়ে ক্রেয়ন নিজে সিংহাসনে বসতে পারে। এরপর শুরু হয় ক্রেয়ন ও ঈডিপাসের মধ্যে বাকবিতণ্ডা। ঈডিপাস সিদ্ধান্ত নেয় ক্রেয়নকে নির্বাসনে পাঠানোর।

রাণী জোকাস্টা ঈডিপাস কে শান্ত করার চেষ্টা করে। এবং বুঝায় সে রাজাকে খুন করতে পারেই না। কারণ রাজার পুত্রসন্তান কে রাজা অনেক বছর আগে পাহাড়ের পাদদেশে ফেলে রেখে হত্যা করেছে। আর রাজা খুন হয়েছিল দস্যুদের হাতে। এটা রাজ্যের সবাই জানে।

এসব কথা শুনে ঈডিপাস চমকে উঠে। কারণ এই রাজ্যে ঢোকার মুখেই সে একজন রাজপুরুষ সহ কয়েকজন পেয়াদাকে হত্যা কারেছিল।

ঈডিপাস তখন তার জন্মরহস্য জানার জন্য মারিয়া হশে উঠে। রাণী জোকাস্টা অনেক নিষেধ করে। এবং বলে বেশি সত্য জানা ভালো ব্যাপার নয়। কিন্তু ঈডিপাস নাছোরবান্দা। তার সত্য খুঁজে বের করতেই হবে।

এমন সময় করিন্থ থেকে দূত এসে জানায় রাজা পলিবাস মৃত্যুবরণ করেছে। সে রাজ্যের সবাই ঈডিপাস কেই তাদের পরবর্তী রাজা বানাতে চায়। কিন্তু ঈডিপাস দৈববাণী শুনেছে সে তার মাতাকেই বিয়ে করবে। এ ভয়ে সে যেতে চাইল না, কারণ রাণী মেরোপি তখনো জীবিত।

করিন্থের রাজদূত জানাল, ঈডিপাসের কোন ভয় নেই। কারণ সে পলিবাসের আসল পুত্র নয়। তাকে পলিবাসের মেষপালক সিথেরন পাহাড়ে কুড়িয়ে পেয়েছিল। ঈডিপাস এবার সেই মেষপালককে খুঁজে আনার নির্দেশ দিল।

মেষপালক কে খুজে পাওয়া গেলো সে ততোদিনে ষাটোর্ধ বুড়ো। সে ঈডিপাস কে অনেক অনুনয় করে যে সত্য বলতে পারবে না এতে ঈডিপাসেরই ক্ষতি হবে। ঈডিপাস জের করতে থাকে তাকে সত্য বলার জন্য। তখন সেই বৃদ্ধ মেষপালক তার অতীত বলতে শুরু করে। সে জানাল ঈডিপাসই রাজা লেয়াসের পুত্র। এসব কথা রানী জোকাস্টা ও রাজ্যের প্রজা ও কর্মী সকলের সামনে এই সত্য প্রকাশ হয়।

ঈডিপাস বুঝল সে – ই তার পিতাকে হত্যা করে তার মাতা রানী জোকাস্টাকে বিয়ে করেছে। এটা প্রকাশ পাওয়ায় রানী জোকাস্টা শোকে দুঃখে লজ্জায় ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করল।

আর রাজা ঈডিপাস তার কৃত পাপকর্মের জন্য নিজের দু’চোখ উপড়ে ফেলে নিজেকে অন্ধ করে দিল। সে জানাল তাকে এ রাজ্য হতে দূরে কোথাও নির্বাসন প্রদান করা হোক।

আর সাথে সে তার শ্যালক ও মামা ক্রেয়নের কাছে খারাপ ব্যাবহারের জন্য ক্ষমা চায়। ক্রেয়ন তাকে নির্বাসনে না পাঠিয়ে প্রাসাদেই বন্দী করে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। আর অনুরোধ করে তার সন্তান/ তার ভাইবোন কে সে যেনো দেখেশুনে রাখেন।

ঈডিপাস ট্রাজেডি নাটকের সমাপ্তি এখানেই।

হিটলারের আত্মহত্যা: হিটলার কি আসলেই আত্মহত্যা করেছিলেন?এডলফ হিটলার ১৮৮৯ সালের এপ্রিল মাসের ২০ তারিখে অস্ট্রিয়ায় জন্মগ্রহ...
01/09/2022

হিটলারের আত্মহত্যা: হিটলার কি আসলেই আত্মহত্যা করেছিলেন?

এডলফ হিটলার ১৮৮৯ সালের এপ্রিল মাসের ২০ তারিখে অস্ট্রিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার জীবনযাপন ছিল সাধারণ আর ৮-১০ টা মানুষের চেয়ে উদ্ভট, পাগলাটে ও ক্ষ্যাপাটে।প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর তিনি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন এবং ক্ষমতায় এসে তিনি শপথ নেন জার্মান যা হারিয়েছে তা তিনি পুনরুদ্ধার করবেন।

পূর্ব এশিয়ায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের লক্ষে জাপান ইতোমধ্যেই ১৯৩৭ সালে প্রজাতন্ত্রী চীনে আক্রমণ করে। পরবর্তীতে ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর হিটলারের নাৎসি বাহিনী পোল্যান্ড আক্রমণ করে এবং তার ফলশ্রুতিতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। দ্বিতীয় ঘটনাটিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা বলে গণ্য করা হয়।

প্রায় ৬ বছরের দীর্ঘ যুদ্ধের পর, জার্মানির জন্য আপাতদৃষ্টিতে যুদ্ধ শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং এই যুদ্ধ জার্মানির হারতেই হবে তা অনিবার্য হয়ে উঠছিল।

এডলফ হিটলার তখন পারকিনসন (স্নায়ু-অধঃপতনজনিত) রোগে ভুগছিলেন, যা তিনি লুকানোর চেষ্টা করছেন। এক সময়কার কঠোর, রাগী দেশ পরিচালক হিটলার ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একদম শেষ প্রান্তে এসে বুঝতে পারেন, তিনি যুদ্ধে হারতে চলেছেন।

হিটলারের আত্মহত্যা
যেমনটি আমরা আমাদের ইতিহাসের বইয়ে পড়েছি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষদিকে এডলফ হিটলার যুদ্ধে জয়ের কোনও আশা দেখতে পাচ্ছিলেন না। তাই স্ত্রী ইভা ব্রাউনের সাথে তার ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে আত্মহত্যা করেছিলেন। নিজের মাথায় গুলি করার পর এবং ইভা একটি সায়ানাইড পিল খেয়ে আত্মহত্যা করে। হিটলারের পূর্বে লিখিত ও মৌখিক নির্দেশাবলী অনুযায়ী, সেই বিকালে তাদের দেহাবশেষ বাংকারের জরুরী বহির্গমন দিয়ে উপরে সিঁড়ি পর্যন্ত আনা হয় এবং বাংকারের বাইরে রাইখ চ্যান্সেলারি বাগানে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

১ মে জার্মান সরকার (নাৎসি পার্টি) হিটলারের মৃত্যু ঘোষণা দেয়। হিটলার কি আসলেই আত্মহত্যা করেছিলেন? নাকি পুরোটাই সাজানো নাটক?

যখন নাৎসি পর্টি রেডিওতে হিটলারের মৃত্যু ঘোষণা করে তখন মিত্র বাহিনী বার্লিনে যুদ্ধ করছিল, ফলে হিটলারের মৃত্যু যাচাই করে দেখার সুযোগ তাদের হয়নি।

যাইহোক, পরের দিন, সোভিয়েত সেনাবাহিনী একজন সাংবাদিক কে সাথে নিয়ে বাঙ্কারটি দখল করে এবং হিটলারের অনুমিত লাশ আবিষ্কার করে। প্রায় পুড়ে যাওয়া লাশে কালো চুল এবং সামান্য কালো গোঁফ ছিল। প্রথম নজরে, এটি হিটলারের সাদৃশ্যপূর্ণ মনে হলেও, পরে ডাক্তাররা বলেছিলেন যে এটি আসলে হিটলার ছিল না হিটলারের প্রতিকৃতি (অর্থাৎ নকল হিটলার) ছিলো।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ‘বডি ডাবলস’ মানে নকল প্রতিকৃতি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল। বলা হয় যে রুশ নেতা জোসেফ স্ট্যালিনের কাছে বেশ কয়েকটি নকল প্রতিকৃতির মানুষ ছিল এবং এমনকি উইনস্টন চার্চিলের অন্তত একটি ছিল বলে জানা গেছে।ইতিহাসবিদরা নিশ্চিত যে হিটলারও সেই প্রতিকৃতি মানে ‘নকল হিটলার’ কে ব্যবহার করেছিলেন।

ষড়যন্ত্রটি ছিল, ‘মৃত্যুর’ কয়েক দিন আগে, হিটলার এবং ইভার দুটি প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়েছিল, এবং সেই হিটলার ও ইভার প্রতিকৃতিটিকে পরে হত্যা করা হয়েছিল। হত্যাটির রূপ এমনভাবে দেখানো হয়েছে যেনো মনে হয় তারা আত্মহত্যা করেছে। এই পরিকল্পনাটি হিটলারের ব্যক্তিগত সচিব ‘মার্টিন বোরম্যান’ দ্বারা পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

বোরম্যান হিটলারের যুদ্ধে বেঁচে থাকা নিশ্চিত করার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন এবং অ্যাডলফ ও নাৎসি দলের প্রতি অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন। শুধুমাত্র বোরম্যান এবং গেস্টাপো প্রধান হেনরিখ মুলার এই প্ল্যান সম্পর্কে জানতেন। এমনকি বডি ডাবলদেরও মানে ‘নকল হিটলার ও ইভার’ এইপরিকল্পনার কোনো ধারণা ছিল না।

যে কর্মীরা বাঙ্কারে টহল দিত তারা এই নকল হিটলার ও নকল ইভাকেই আসল হিটলার ও ইভা মনে করতো। কারণ আসল নকল যাচাই বাছাই করার জন্য ওদের কাছাকাছি যাওয়ার সাহস সেই কর্মীদের ছিল না।

হিটলার ও ইভানা সফলভাবে পালিয়ে গেছেন। তখন বোরম্যান বাঙ্কারে থাকা নকল হিটলার ও নকল ইভা কে হত্যা করে। হত্যাকান্ড কে এমনরূপ দেয় যেনো মনে হয় আত্মহত্যা করেছে। আর আগে থেকেই হিটলারের লেখা একটি চিঠি দেখায়। যেখানে বলা হয় তাদের লাশ যেনো পুড়ে ফেলা হয়। ঠিক সেভাই লাশ পোড়ানো হয়।

হিটলার মারা না গেলে সে কোথায় গিয়েছে?

ইতিহাসবিদ ‘ডগলাস ডিয়েট্রিচ’ একটি ধারণা প্রস্তাব করেছেন যে নাৎসিরা দক্ষিণ মেরুতে একটি গোপন উপনিবেশ তৈরি করেছিল। তিনি বলেছিলেন যে সেখানে ভূগর্ভস্থ হাসপাতাল, ডে কেয়ার সুবিধা এবং সুপারমার্কেট রয়েছে যেখানে যুদ্ধে ব্যর্থতার পরে নাৎসিরা পিছু হটবে।
যদিও এই ধারণাটিকে উদ্ভট মনে হয়। তবে যুদ্ধের পরে অস্ট্রিয়ায় শহরের প্রতিলিপি সহ বড় সুড়ঙ্গ আবিষ্কৃত হয়েছিল।

১৯৩৮ সালে নাৎসিরা ‘বৈজ্ঞানিক উদ্দেশ্যে’ দক্ষিণ মেরুতে একটি দল পাঠায়, তবে, মিশনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিটি একজন বিজ্ঞানী ছিলেন না – তিনি ছিলেন জার্মান বিমানবাহিনীর প্রধান হারমান গোরিং।

অনুমিতভাবে, তারা সেখানে ভূখণ্ড অধিগ্রহণ করতে গিয়েছিল কারণ জার্মানি অনুভব করেছিল যে তাদের নিজেদের হিসাবে অ্যান্টার্কটিকার একটি অংশ দাবি করার অধিকার রয়েছে। কিন্তু কেন তারা পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্গম জায়গা নিজেদের বলে দাবি করতে যাবে? কিছু তাত্ত্বিকবিদ বিশ্বাস করেন যে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যতের সম্ভাবনা আছে কিনা তা দেখার জন্য তারা সেখানে পরীক্ষা করতে গিয়েছিল।

১৯৪৩ সালে, ‘অ্যাডমিরাল ডনিটজ’, যিনি ‘জার্মান ইউ-বোট ফ্লিটের’ কমান্ডার ছিলেন। তিনি বলেছেন হিটলার কে পৃথিবীর অন্য কোনো দুর্ভেদ্য প্রান্তে দূর্গ তৈরি করার ব্যাপারে কথা বলতে শুনেছেন।

অনেক তাত্ত্বিকবিদরা বলেছেন, যে ১৯৪৫ সালের জুনে (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দুই মাস পরে) আর্জেন্টিনায় দুটি ইউ-বোটের আগমন ঘটেছিল। এটি প্রমাণ করে যে হিটলারের দুর্ভেদ্য দুর্গ হয়তো সেখানেই বিদ্যমান ছিল।

মিসিসিপির ফ্যান্টম নাপিত: এক রহস্যময় ভুতুড়ে নাপিত“‘লেডি অফ ভিক্টরিস’ নামে একটি আশ্রমে বসবাসকারী দুই তরুণী, সকাল বেলায় ঘু...
28/08/2022

মিসিসিপির ফ্যান্টম নাপিত: এক রহস্যময় ভুতুড়ে নাপিত

“‘লেডি অফ ভিক্টরিস’ নামে একটি আশ্রমে বসবাসকারী দুই তরুণী, সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠে বুঝতে পারে; কেউ তাদের চুল কেটে দিয়েছে! তখন তারা হতবাক হয়ে যায়। তারা দেখে কেউ তাদের রুমের জানালা রাতে ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেছিল। কিন্তু আশ্চর্য! ঘরের একটা জিনিস ও নেয় নি! কিন্তু চোর শুধু তাদের দুজনের মাথার চুল চুরি করে নিয়ে গেছে।”

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি রাজ্যের একটি ছোট শহর ‘পাস্কাগৌলা’। ১৯৪২ সালের জুন মাসের শুরুতে লেডি অফ ভিক্টোরিস আশ্রমের দুটো মেয়ের সম্পর্কে সংবাদপত্রে রিপোর্ট প্রকাশিত হলে মানুষজন তা দেখে হতবাক হয়ে যায়।

দুই তরুণী, মেরি ইভলিন ব্রিগস এবং এডনা মেরি হাইডেল দাবি করেছিলেন যে তাদের চুল আগের রাতে কেউ একজন লুকিয়ে কেটে নিয়েছে। দেখা গেল ১ সপ্তাহ পরে যে এই ঘটনাস্থল থেকে বেশখানিকটা দূরে মাত্র ৬ বছর বয়সী ‘ক্যারল’ নামে ছোট্ট একটি মেয়ের এমন রহস্যময় ভাবে চুল কাটা যায়।

‘পাস্কাগৌলা’ শহরে এর ফলে উদ্বেগ এবং ভয়ার্থ হয়ে উঠে। স্থানীয় সংবাদপত্র গুলো এই খবর খুব জোর দিয়ে প্রচার করতে থাকে এবং এই চুল চোরকে ‘Phantom Barber’ ডাক নাম দেয়, যার অর্থ ‘ভুতুড়ে নাপিত’। এই ভুতুড়ে নাপিত রাতে জানালা ভেঙ্গে অন্ধকারে তার শিকারের ঘরে প্রবেশ করতো; সকল ভুক্তভোগীরই বক্তব্য ছিলো সেদিন রাতে তারা খুব তাড়াতাড়ি ঘুমাতে বিছায় গিয়েছিল। প্রথম সপ্তাহেই তিন নারীর চুল চুরি করতে পেরেছিলেন এই ভুতুরে চুল চোর।ভুক্তভোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় মিল হচ্ছে তাদের সকলের চুলই ছিলো সোনালী বর্ণের। চুল চুরি করার জন্য এই ভুতুরে নাপিত যতগুলো ঘর ভেঙে প্রবেশ করেছিল সে চুল ছাড়া অন্য কোনো কিছু চুরি করেনি। এমনকি ধর্ষণ কিংবা যৌন নিপিড়নের খবর ও পাওয়া যায় নি। তার একমাত্র অপরাধ ছিলো চুল চুরি।সময়ের সাথে সাথে চুরির ঘটনার সংখ্যা ও বাড়তে থাকে, যার ফলে ‘পাস্কাগৌলা’ শহরের বাসিন্দারা তাদের সতর্কতা বাড়ায়। রাতে মহিলাদের বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়। এদিকে পুরুষরা তাদের বাড়ির চারপাশে পাহারা দিতে থাকেন।

প্রথম চুল চুরির ঘটনার এক সপ্তাহ পরে, ‘ডেভিড পিটির’ কন্যা ক্যারলের চুল চুরি করা হয়। কিন্তু এই ঘটনায়,চুল চোর নাপিত বিছানায় একটি নোংরা পায়ের ছাপ রেখে গেছে। যে সকল পুলিশরা এই মামলাটি তদন্ত করেছিল তারা বিভ্রান্ত হয়েছিল কারণ চুলের চোরের হদিস খুঁজে পাওয়া যায়নি। আর এছাড়া সেই শহরে ঐসময় সন্ত্রাসী হামলার তৎপরতা বেশি ছিল।

চুল চোর নাপিতকে পুলিশ ধরতে ব্যার্থ হয়ে একটি বিজ্ঞাপন ছাপায়। বিজ্ঞাপনে বলা হয়, যদি কেউ চুল চোর নাপিত সম্পর্কে কোনো সঠিক তথ্য দিতে পারে তাকে ৩০০ মার্কিন ডলার পুরষ্কার দেয়া হবে। সে সময়ে এই অর্থ ছিলো বিশাল অঙ্কের পুরষ্কার। কিন্তু কেউ সেই চুল চোর নাপিতের কোনো সঠিক তথ্য দিতে পারে নি। তার পরিচয় এখন পর্যন্ত রহস্যই রয়ে গেছে।

একদিন রাতে কেউ একজন ‘টেরেল হাইডেলবার্গ’ দম্পতির বাড়ি ভেঙে ফেলেছিল। অনুপ্রবেশকারী জানালা দিয়ে প্রবেশ করে। এই অনুপ্রবেশের ঘটনা ‘চুল চোর নাপিতের’ সাথে সম্পর্ক যুক্ত ছিল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, অনুপ্রবেশকারী এক চুলও নেয়নি! উল্টো স্বামী-স্ত্রীর ওপর নৃশংসভাবে হামলা চালায়। স্বামীকে লোহার পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়, আর স্ত্রী পিটিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে এবং সামনের দাঁত হারিয়ে ফেলে। সৌভাগ্যক্রমে সেই হামলায় বেঁচে যান স্বামী-স্ত্রী।

দুই মাস পর, ১৯৪২ সালের আগস্ট মাসে, পুলিশ উইলিয়াম এ ডলান নামে একজন কেমিস্ট কে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেয়, যিনি হাইডেলবার্গ দম্পতির উপর হামলা ও হত্যার চেষ্টার জন্য সন্দেহভাজন ছিলেন।

অবশেষে দোলনের বাসভবন তল্লাশি করা হয়, এবং তার বাড়ির ভেতর থেকে বেশ কিছু চুল কাটা পাওয়া যায়। কিন্তু ডলান জোর দিয়ে বলেছেন যে তিনি চুল চোর নাপিত নন যাকে সাধারণ জনগণ খুঁজছে। ব্যক্তিগত শত্রুতার জের ধরে ওই দম্পতির ওপর হামলা করেছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

শ্লীলতাহানি এবং হত্যার চেষ্টার জন্য ডলানকে অবশ্য ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। যাইহোক, তিনি চুল চুরির অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছিলেন কারণ ‘ক্যারলের’ ঘরে পাওয়া পায়ের ছাপগুলি ডলানের থেকে আলাদা ছিল এবং তিনি যেভাবে বাড়িতে প্রবেশ করেছিলেন তা ফ্যান্টম নাপিত যা করতেন তার থেকে আলাদা ছিল।তারপর থেকে, পাস্কাগৌলায় চুল চুরির আর কোনও ঘটনা ঘটেনি। আর এই ‘ভুতুরে চুল চোর’ নাপিত আসলে কে? এবং মহিলাদের চুল নেওয়ার ক্ষেত্রে তার উদ্দেশ্য কী ছিল তা আজও একটি রহস্যই রয়ে গেছে।

এলিজাবেথ ব্যাথরি: সৌন্দর্য চিরস্থায়ী করতে রক্ত স্নান করতেন তিনিএলিজাবেথ ব্যাথরি তার সমসাময়িক সময়ে ইউরোপের সবচেয়ে সুন্দ...
27/08/2022

এলিজাবেথ ব্যাথরি: সৌন্দর্য চিরস্থায়ী করতে রক্ত স্নান করতেন তিনি

এলিজাবেথ ব্যাথরি তার সমসাময়িক সময়ে ইউরোপের সবচেয়ে সুন্দরী নারীদের মধ্যে একজন বলে বিবেচিত হয়েছিলেন। তবুও, তার চরিত্র এবং আচরণ কম আকর্ষণীয় ছিল।একজন ধনী এবং সুশিক্ষিত হাঙ্গেরিয়ান কাউন্টেস (আগেকার দিনে বিশেষ করে ইউরোপের রাজারা তাদের ধনী প্রজা/ জমিদার কে কাউন্টস উপাধি দিতেন) হয়ে উঠেন ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর সিরিয়াল কিলারদের একজন। এলিজাবেথ ব্যাথোরি আনুমানিক ৬০০ এর বেশি কুমারি নারীকে হত্যা করেছিলেন। সেসব কুমারী মেয়েদের রক্ত দিয়ে তিনি রক্ত স্নান করতেন। এলিজাবেথ বাথোরির ধারণা ছিলো কুমারী মেয়ের রক্ত দিয়ে স্নান করলে তার শরীরের রূপ চিরদিনের জন্য তরুণ নারীদের মতো থাকবে।

প্রাথমিক জীবন

১৫৬০ সালের ৭ আগস্ট হাঙ্গেরির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলের নির্বাটোরের একটি সচ্ছল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এলিজাবেথ ব্যাথরি। তার বাবা জর্জ এবং মা আনা ব্যাথরি তখন ট্রান্সিলভেনিয়ার প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন।এলিজাবেথ ব্যাথরির প্রাথমিক জীবন বেশিরভাগই অজানা, যদিও ইতিহাসবিদরা কিছু জিনিস উন্মোচন করেছেন। এলিজাবেথ ব্যাথরি তার মায়ের পরিবারের মাধ্যমে প্রোটেস্টেন্ট খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিলেন। হাঙ্গেরিয় অভিজাত শ্রেণীর মানুষের মধ্যে এই দীক্ষা একপ্রকার রীতি বা সংস্কার ছিলো।

এলিজাবেথ ব্যাথোরির বাবা জর্জ মৃগী রোগী ছিলেন। এলিজাবেথ ব্যাথরিও সেই রোগটি জিন উত্তরাধিকারসূত্রে বাবার কাছ থেকেই পেয়েছিলেন। এজন্য ছোটবেলায় তার বেশ কয়েকবার গুরুতর খিঁচুনি হয়েছিল।এছাড়াও তিনি ছিলেন প্রচন্ড রকমের রাগী ও বদমেজাজি।ছোটবেলা থেকেই এলিজাবেথ ব্যাথরি ভয়ানক সব অত্যাচারের দৃশ্য দেখে অভ্যস্ত ছিল। সেইসব ভয়ানক ঘটনার একটি ঘটনা এমন ছিল যেখানে এলিজাবেথ দেখে একটি জীবন্ত ঘোড়ার পেট কেটে তাতে একজন অপরাধীকে ভিতরে ঢুকিয়ে দেয়া হয় এবং তারপর আবার পেট টা সেলাই করে দেয়া হয়। এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না ঘোড়া আর অপরাধী দুইজন ই মারা যায় ততক্ষন পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয়। মনে করা হয় এইরকম ভয়ানক দৃশ্য তার ভিতরের হিংস্রতা কে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।

মাত্র ১৩ বছর বয়সে একটি জারজ সন্তানের জন্ম দেয় এলিজাবেথ ব্যাথরি। ১৫৭৫ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে কাউন্টেস এলিজাবেথ ব্যাথরি কে ‘ফেরেঙ্ক নাডাসডি’ নামে একজন সেনাবাহিনীর কমান্ডারের সাথে বিয়ে দেয়া হয়। এই নাডাসডিও প্রচন্ড রকমের হিংস্র ছিলেন বলে গুজব আছে। তিনি নাকি যুদ্ধে বন্দী সাধারণ মানুষের উপর নৃশংস নির্যাতন চালাতেন। যাই হোক সে ব্যাপারে না আগাই।এই নবদম্পতি ‘ক্যাসেল কাচটিসে’ বসবাস করতে শুরু করেন। ১৫৮৫ সালে তারা ঐ স্থান ত্যাগ করে ততোদিনে এলিজাবেথ ব্যাথরি ৪ বার সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।এরপর থেকে যাওয়ার পরেই এলিজাবেথ ব্যাথরির নিষ্ঠুর অপকর্মের শুরু হয়। বেশ কয়েক বছর হত্যাকান্ড চলার পর বাথোরির নিষ্ঠুরতার ব্যাপারে গুজব শুরু হয়। একসময় তা সত্যি বলে প্রমাণিত হয়। লোকজন এলিজাবেথ ব্যাথরি কে ‘রক্ত পিপাসু ’ নামে আখ্যা দেয়।

কিভাবে তিনি রক্তাক্ত পিপাসু হয়ে উঠলেন?

১৫৭৮ সালে অটোমানদের আক্রমণের সময় নাদাদি মানে এলিজাবেথ ব্যাথরির স্বামী বাড়ি থেকে অনেক দূরে দীর্ঘদিন কাটিয়েছিলেন তখন তিনি হাঙ্গেরিয়ান সেনাবাহিনীর কমান্ডার ছিলেন। এলিজাবেথ সম্ভবত এর ফলে বিরক্ত হয়েছিলেন।

১৫৮৫ সাল থেকে তিনি ও আরো ৫ জন লোক (এই ৫ জনের মধ্যে ৩ জন ছিলেন আদালতের পুরনো কর্মচারী), একজন ‘আনা দূর্বোলা’ (তিনি পরবর্তীতে এলিজাবেথ ব্যাথরির প্রেমিকা হয়ে উঠেন, মানে এলিজাবেথ ব্যাথরি সমকামী নারী ছিলেন) আর ছিলেন জ্যানোস উজভারি নামে একজন যুবক। সে এলাকার তরুণ আদালতের কর্মীদের এবং তরুণীদের নির্যাতন ও হত্যা করতো।এলিজাবেথ ব্যাথরির মাথায় অদ্ভুদ চিন্তা ভর করে, তার প্রবল বিশ্বাস হয়ে উঠে অল্পবয়সী কুমারী মেয়েদের রক্ত দিয়ে স্নান করলে এবং রক্ত পান করলে তিনি ‘চির যৌবন’ লাভ করবেন।প্রচলিত একটি গল্প আছে ১৫৮৫ সালের দিকে একটি অল্পবয়সী মেয়ে দাসী ভুলভাবে এলিজাবেথের চুল খুব জোর করে ব্রাশ করে, আর তাই এলিজাবেথ ব্যাথরি সেই দাসীকে খুব নিষ্ঠুরভাবে চড় মেরেছিল। ফলে ঐ দাসীর মুখ থাপ্পড়ে রক্তের মতো লাল হয়ে গিয়েছিল। এলিজাবেথ তখনই লক্ষ্য করলেন যে মেয়েটির গায়ের রং আরও বেশি তারুণ্যময় বলে মনে হচ্ছে।যেহেতু তার বিশ্বাস ছিলই কুমারী মেয়েদের রক্ত পান ও স্নান করলে তার ‘চীর যৌবন’ লাভ হবে। সেজন্য তিনি তার বিশ্বস্ত কিছু কর্মচারীকে মেয়েটিকে কেটে তার রক্ত বের করার আদেশ দেন। এরপর সেই মেয়ের রক্তে তিনি স্নান করেন। এরপর থেকে বহুবছর চলতে থাকে তার নৃশংস কর্মকাণ্ড।১৬০৪ সালে এলিজাবেথ ব্যাথরির স্বামী যুদ্ধে সংক্রমিত ক্ষতের কারনে মারা যায়। ফলে এলিজাবেথ তার স্বামীর সকল সম্পত্তি নিজের নামে পান।

তার স্বামীর মৃত্যুর পর, তিনি প্রথম কাজটি করেছিলেন তার বিচ্ছিন্ন শাশুড়ি উরসুলাকে নির্বাসনে পাঠিয়ে। এরপরের ৫ বছর এলিজাবেথ নির্বিচারে কুমারী মেয়েদের হত্যা করতে থাকেন।এলিজাবেথ ব্যাথরির দীর্ঘদিনের প্রেমিকা ‘আনা দুরভোল্যা’ ১৬০৯ সালে মারা যায়। দীর্ঘদিন গরীব ঘরের মেয়েদের হত্যা করার পর এলিজাবেথ ব্যাথরি এবার মধ্যবিত্ত ও ধনী শ্রেণীর মেয়েদের দিকে হাত বাড়ায়। এতেই এলিজাবেথ ব্যাথরির পাপ প্রকাশিত হয়ে যায়। গরীর ঘরের খবর কেউ রাখতো না কেউ সেসবের খোঁজ করতেও সাহায্য করতো না, ফলে গরীব পরিবার রা চুপ করে বসে থাকতো। কিন্তু মধ্যবিত্ত ও ধনীরা চুপ করে বসে থাকে নি, তারা সেসব বিষয়ে খোঁজ খবর চালাতে ও তদন্ত করতে শুরু করে।
সর্বশেষ যে হত্যা টি এলিজাবেথের কাল হয়ে দাড়ায় সেটি হল একটি গানের দলের প্রধান মেয়ে কে যখন সে হত্যা করে।

যেভাবে ধরা পড়লেন এলিজাবেথ ব্যাথরি

হাঙ্গেরির রাজা দ্বিতীয় ম্যাথিয়াসের আদেশে কাউন্ট গাইর্গি থুরজো, ১৬০৯ সালের ডিসেম্বর, মাসে আকস্মিক ভাবে এলিজাবেথ ব্যাথরির বাড়ি তল্যাসি করতে যান। এর জন্য এলিজাবেথ ব্যাথরি একদম প্রস্তুত ছিলেন না।সেখানে তল্লাসি চালিয়ে এলিজাবেথ ব্যাথরির বাড়ি থেকে কাউন্ট গাইর্গি থুরজো অনেকগুলো আহাত ও প্রায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া মেয়েদের উদ্ধার করেন। শুধু তাই নয় পুরো বাড়ি তে আরো ৫০ টি মৃতদেহ ও আবিষ্কার করেন।সাথে সাথেই এলিজাবেথ ব্যাথরি কে গ্রেপ্তার করা হয়। এলিজাবেথ ব্যাথরি কে সাহায্য করা তার কর্মচারীরা সব নৃশংস ঘটনাগুলো বিচারের সময় প্রকাশ করে। যখন তার বিচার করা হয় তখন প্রধান দুই সহযোগীর ভাষ্যমতে সে ৫০ জন মেয়েকে হত্যা করেছিল, এবং তৃতীয় জনের মতে ৮০ জন। এই ৮০ জন মেয়ের হত্যার দায়ে তাকে শাস্তি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আসলে তার হত্যা করা নারীর সংখ্যা ছিল ৬৫০ এরও অধিক যা জানা যায় নিজের হাতে লিখা ডায়েরি থেকেই।এলিজাবেথ তার অভিজাত্য এবং প্রভাবশালী পরিবারের সদস্যদের প্রভাবের কারণে মৃত্যুদণ্ড থেকে রক্ষা পান। কর্তৃপক্ষ তাকে তার নিজের দুর্গে (যেখানে এলিজাবেথ ব্যাথরি থাকতো) সেখানে। যে রুমে তাকে বন্দী করা হয় তা পুরোপুরি বদ্ধ ছিলো, সামান্য একটু খোলা জায়গা রাখা হয়েছিল যাতে সে খাবার এবং পানীয় পেতে পারে।

এলিজাবেথ বাথরির তিনজন সহযোগীকে জেলখানায় নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছিল, আর চতুর্থ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।এলিজাবেথের সম্পদ তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভাগ করা হয়েছিল।এলিজাবেথ ব্যাথোরি ২১ আগস্ট, ১৬১৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন,তাকে গৃহবন্দী করার কয়েক মাস পরে। এলিজাবেথ ব্যাথরি কে Csejte Church এর কবরস্থানে দাফন করা হয়।গুজব রয়েছে যে তার মৃতদেহ খুব শীঘ্রই কবর থেকে সরানো হয়েছিল। কেউ চায়নি এই খুনি মহিলাকে তাদের পবিত্র ভূমিতে সমাহিত করা হোক। এরপর তার স্বজনরা লাশ গ্রহণ করে অজ্ঞাত কোনো স্থানে পুনঃস্থাপন করে।

Address

Athens

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ইতিহাস posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share