"সংগ্রাম থেকে স্বাধীনতা জাদুঘর" ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত একটি সম্পূর্ণ অলাভজনক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ ও লালন করে, অরাজনৈতিক, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের ও আন্তর্জাতিক ঐতিহাসিক, ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও প্রত্মতাত্ত্বিক, নৃ-তাত্ত্বিক, শিল্পকলা ও প্রাকৃতিক ইতিহাস সম্পর্কিত নিদর্শনাদি সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রদর্শন ও গবেষণার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠাকাল : ১২ ডিসেম্বর ২০০৭ সাল
।
প্রতিষ্ঠাতাঃ চৌধুরী সফিকুল ইসলাম
মোট নিদর্শনঃ
সংগ্রাম থেকে স্বাধীনতা জাদুঘরে এখন রয়েছে ১২ হাজার ৩৩টি নিদর্শন।
অভিলক্ষ্য :
বাংলাদেশ এবং বিশ্বের ঐতিহাসিক উপাদানের সংগ্রহশালা, যেখানে প্রত্মতাত্ত্বিক, ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক, বৈজ্ঞানিক, শিল্প-বিষয়ক প্রভৃতি বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন, দুষ্প্রাপ্য ছবি, ভিডিও, নথি, পত্রিকা,দলিল, দস্তাবেজ, সংকলন,সংরক্ষণ করে তা জনসাধারণের উদ্দেশ্যে স্থায়ীভাবে প্রদর্শনের ব্যবস্থার মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে বাংলার আবহমান ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ, লালন, সংরক্ষণ ও বিকাশে বিভিন্ন উপায়ে জ্ঞানচর্চা করা এবং শুধু তাই নয় দর্শনার্থীরা যাতে অতীতের ধ্যানধারণা থেকে বর্তমানের বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা পায়, সে ব্যবস্থা করা।
রুপকল্প : উত্তর প্রজন্মের মানুষদের জন্যে প্রাচীন যুগ থেকে আজকের বাংলাদেশ যতগুলো সিঁড়ি পার করেছে, তার সব কটির চিহ্ন ধরে জ্ঞ্যানের আলোয় আলোকিত করে, উদ্বুদ্ধ করে, উদ্বেলিত করা।
উদ্দেশ্যসমূহঃ
১ঃ প্রত্ননিদর্শন সংগ্রহ ও সংরক্ষণ:
জাদুঘরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের, বিভিন্ন যুগের নানা নিদর্শন সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে । জাদুঘরে প্রাচীন মুদ্রা, লিপি, নানা শিল্পকর্ম (ভাস্কর্য, স্থাপত্য, চিত্রকলা), দুষ্প্রাপ্য পুরাবস্তুসমূহ এবং নানা মডেল ও চার্ট সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
২ঃ প্রতিকৃতি নির্মাণ:
জাদুঘরে বিভিন্ন প্রাচীন, আধুনিক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শনের বা ক্রিয়াকলাপের বা বস্তুসমূহের বা ব্যক্তিসমূহের মডেল (Replica) নির্মাণ করা হচ্ছে। এই মডেলগুলি দর্শকদের দেখানাের লক্ষ্যে সাজিয়ে রাখা হয।
৩ঃ অতীত সমাজ-সভ্যতার ধারণা দান:
বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নানা নিদর্শনে সমৃদ্ধ এই জাদুঘরটি। প্রাচীন যুগ থেকে আজকের বাংলাদেশ যতগুলো সিঁড়ি পার করেছে, তার সব কটির চিহ্ন ধরে রেখে নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ধারনা দেয়।
বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে মানবসমাজ ও সভ্যতার যে অগ্রগতি ঘটেছে তার বিভিন্ন নিদর্শন ও স্মৃতিচিহ্নের আভাস মেলে জাদুঘরে সংরক্ষিত বিভিন্ন প্রত্নিদর্শনগুলি থেকে।
৪ঃ মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসঃ
মুজিব কর্নার ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আর সেই সময়ের নানা দলিলপত্র, ছবি আর অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে সাজানো হয়েছে এ জাদুঘর। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের লক্ষ্য নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার ইতিহাস বিষয়ে সচেতন করে তোলা। বাংলার অতীত ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি, স্বাধীনতার জন্য বাঙালিদের সংগ্রাম, পাকিস্তানি শাসনকালের শুরু থেকে ১৯৭০ সালের নির্বাচন পর্যন্ত ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত পরিচয়, অস্থায়ী সরকারের মন্ত্রিসভার বিভিন্ন অনুলিপি দলিল, বৈদেশিক সমর্থন এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের চিত্রসহ নানা নিদর্শনের মাধ্যমে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা।
৫ঃ জনসচেনতা ও জ্ঞানের প্রসার:
জাদুঘরে সংরক্ষিত প্রত্ননিদর্শনগুলি দর্শকের মনে এক সচেতনতা জাগায়। এগুলি আবার গবেষণার কাজেও ব্যবহৃত করছে অনেকেই। প্রত্নিদর্শনগুলি দর্শনের ফলে দর্শকের জ্ঞানেরও প্রসার ঘটাতে সাহায্য করা ।
৬ঃ অতীত ইতিহাসের পুনরাবির্ভাবের সাহায্য:
দেশীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্প-সংস্কৃতির সংরক্ষণ, গবেষণা ও উন্নয়ন ও বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য, ইতিহাস ও চেতনার লালন করা।
জাদুঘরে যে সমস্ত ঐতিহাসিক নিদর্শন বা উপাদান সংগ্রহ করা হয়েছে সেগুলি অতীত ইতিহাসের পুনরাবির্ভাবে সাহায্য করে চলছে । বইয়ের পাতা থেকে উঠে আসা নানা প্রত্নিদর্শনগুলি আমাদের পাঠ্যকাহিনি বা ইতিহাসকে প্রাণবন্ত বা সজীব করে তােলে। অর্থাৎ বলা যায় জাদুঘর অতীত ইতিহাসের পুনরাবির্ভাবে সাহায্য করে থাকে।
৭ঃ গবেষণায় সাহায্য :
যেসকল ঐতিহাসিক নিদর্শন জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে তার প্রকৃত ইতিহাস কি তা নিয়ে গবেষণার সুযোগ করে দেওয়া।
৮ঃ প্রাণবন্ত ইতিহাস :
জাদুঘরের ঐতিহাসিক উপাদান গুলি তে ইতিহাসে তাত্বিকতার স্থান নেই, আছে অতীত ইতিহাসে বাস্তব অস্তিত্ব। জাদুঘর এই উপাদানগুলো সাহায্যে ইতিহাসকে প্রাণবন্ত করে তোলার চেষ্টা।
কর্নার সমুহঃ
১ঃ বঙ্গবন্ধু কর্নার
২ঃ সুবর্ণজয়ন্তী কর্নার
৩ঃ মুক্তিযুদ্ধ কর্নার
৪ঃ আঞ্চলিক ঐতিহ্য কর্নার
প্রদর্শনের বিভাগ সমুহঃ
১ঃ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধ্রুপদী শিল্পকলা বিভাগ
২ঃ প্রাকৃতিক ইতিহাস বিভাগ
৩ঃ জাতিতত্ত্ব ও অলংকরণ শিল্পকলা বিভাগ
৪ঃ সমকালীন শিল্পকলা ও বিশ্বসভ্যতা বিভাগ
৫ঃ বিশ্বসভ্যতা বিভাগ
৬ঃ প্রাচীন ডাক বিভাগ
৭ঃ বিজ্ঞান বিষয়ক বিভাগ
৮ঃ মুদ্রা বিভাগ
ভিডিওতে বিস্তারিতঃ
ইউটিউব লিংক-
যে কোন প্রয়োজনেঃ-
ইমেইলঃ
মোবাইলঃ ০১৯৭৭৭৭৩৮৩৫
ঠিকানাঃ পতাকা ভবন,হোল্ডিং নংঃ ১৮৮, আরকে রোড়, গোরস্থান পাড়া, কুড়িগ্রাম সদর, কুড়িগ্রাম ৫৬০০।
সকলে আমন্ত্রিত ।
আহবানে
অন্তু চৌধুরী
সহ প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি
সংগ্রাম থেকে স্বাধীনতা জাদুঘর
মোবাইলঃ ০১৯৭৭৭৭৩৮৩৫