03/01/2026
৮৬ তলা থেকে ঝাঁপ—তবু বেঁচে ফেরা! নিউইয়র্কের এক অবিশ্বাস্য সত্য ঘটনা
নিউইয়র্কের এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং—নাম শুনলেই গা শিউরে ওঠে। এত উঁচু থেকে কেউ যদি নিচে ঝাঁপ দেয়, বাঁচার সম্ভাবনা কি আদৌ থাকে? আমরা সবাই বলব—শূন্য।
কিন্তু ১৯৭৯ সালের ২ ডিসেম্বর সেই ধারণাকেই ভুল প্রমাণ করেছিল বাস্তব।
২৯ বছর বয়সী এলভিটা অ্যাডামস। চরম ডিপ্রেশন, পকেটে মাত্র ১০০ ডলার, মাথার ওপর ঋণের বোঝা—সব মিলিয়ে তিনি জীবনের শেষ সিদ্ধান্ত নেন। এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের ৮৬ তলার ছাদ থেকে নিচে ঝাঁপ দেন।
ঠিক তখনই ঘটে পদার্থবিজ্ঞানের এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা।
উঁচু ভবনের আশপাশে বাতাসের গতি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়—এটাকে বলা হয় Wind Tunnel Effect। সেদিন বাতাসের বেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৬০ কিলোমিটার। তিনি যখন পড়ছিলেন, প্রবল বাতাস তাকে সোজা নিচে পড়তে দেয়নি; বরং ধাক্কা দিয়ে আবার ভবনের দিকেই ঠেলে দেয়।
ফলাফল?
প্রায় ১০০০ ফুট নিচের রাস্তায় পড়ে যাওয়ার বদলে, তিনি আছড়ে পড়েন মাত্র ১০ ফুট নিচে—৮৫ তলার একটি কার্নিশে।
নিরাপত্তারক্ষী ফ্রাঙ্ক ক্লার্ক জানালার পাশ থেকে গোঙানির শব্দ শুনে দ্রুত জানালা খুলে দেখেন—এলভিটা সেখানে পড়ে আছেন। তিনি জীবিত ছিলেন। শুধু পেলভিসের হাড় ভেঙে গিয়েছিল।
এই ঘটনাটি আজও বিজ্ঞানের ইতিহাসে এবং মানবজীবনের গল্পে এক আশ্চর্য উদাহরণ।
কখনো কখনো জীবন অবিশ্বাস্যভাবে “সেকেন্ড চান্স” দেয়—যখন আমরা নিজেরাই সেটা আশা করি না।
হতাশা চিরস্থায়ী নয়। সময় নিন। ধৈর্য ধরুন।
দুনিয়ার জানা–অজানা বিজ্ঞান ও বাস্তব জীবনের এমন গল্প পেতে আমাদের পেজটি ফলো করুন।