ASHRU Archive

ASHRU Archive Ashru Archive is a non-profit research and resource organization. Established In loving memory of poet and social worker Shahida Musa Ashru (1933-2015).

It’s being built by the family and friends to commemorate the scintillating spirit of Shahida Musa Ashru (1933-2015) who was a poet and Social worker. Her poetry was published in Mahe-Now, one of the leading literary magazines of that time in 1951. She had played a pioneer role in rural cooperative movement in 1970s and inspired many village women to become self-reliant by their works of crafts (s

pecially Nakshikantha) in Kushtia (south-western district of Bangladesh). She received National Award for her contribution in the field of cooperative society movement in 1984. This organization is run by a Board of Trustees. Its primary objective is to facilitate preservation of all kind of written and printed material (Books, Journals, Maps, etc.) including works of art and crafts. It will play the role of a resource center for artists, researchers, readers and interested members of the public to learn deeply about social history, culture and arts. The archive now have the following sections:
i) A Library
ii) A Display of representatives works of art, crafts and culture
iii) A Residency facility for researcher

এক 'বুনো', আশীর্বাদের মুদ্রা ও আমাদের শহীদ মিনার​যাঁকে বলা যায় অবাধ্য ও অদম্য; সবাই ডাকত 'বুনো' বলে। তিনি বাংলার আধুনিক ...
06/05/2026

এক 'বুনো', আশীর্বাদের মুদ্রা ও আমাদের শহীদ মিনার

​যাঁকে বলা যায় অবাধ্য ও অদম্য; সবাই ডাকত 'বুনো' বলে। তিনি বাংলার আধুনিক ভাস্কর্যের পথিকৃৎ—নভেরা আহমেদ। সমাজের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, বাবার এক সহকর্মীর ছেলের সঙ্গে তাঁর বিয়ের কথা পাকাপাকি হয়েছিল। কিন্তু দৃঢ়চেতা কিশোরী নভেরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘না, আমি বিয়ে করতে চাই না। আমি ভাস্কর হব, ভাস্কর্য তৈরি করব।’ পঞ্চাশের দশকের গোড়ার দিকে তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজবাস্তবতায় একজন মুসলিম নারীর জন্য সেটি ছিল প্রায় অকল্পনীয় এক চিন্তা।

​সময়টি ছিল ১৯৫০ বা ১৯৫১ সাল, বিয়ের সে ধাক্কা কাটিয়েছেন। বয়স মাত্র তেরো। বাবা আইন পড়ার উদ্দেশ্যে লন্ডনে পাঠালেন কিন্তু তিনি গিয়ে ভর্তি হলেন ক্যাম্বারওয়েল স্কুল অব আর্টসে। ক্ষুব্ধ বাবা অর্থ পাঠানো বন্ধ করে দিলেও অদম্য নভেরা দমে যাননি। স্বীয় প্রচেষ্টায় লন্ডনের পাঠ চুকিয়ে তিনি ইতালির ফ্লোরেন্স ও ভিয়েনায় উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। এরপর যখন ঢাকায় ফিরে এলেন, তখন দেখলেন এক বিশাল শূন্যতা। সেই পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাঁর বাবা পরামর্শ দিলেন, ‘তুমি সিমেন্ট দিয়েই কাজ শুরু করো না কেন?’
​নভেরা তা-ই করলেন। এরপরের ঘটনা তাঁর জীবনের মোড় বদলে দিল..

​তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে সরকার একটি মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। দেশে তখন একমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ভাস্কর ছিলেন নভেরা আহমেদ। সরকারের অনুরোধে তিনি কাজ শুরু করেন এবং মিনারটির মূল নকশা তৈরি করেন। সহকারী হিসেবে তাঁর সঙ্গে যুক্ত হন চিত্রশিল্পী হামিদুর রাহমান।
​নভেরার ভাষ্যমতে, শহীদ মিনারের মূল অনুপ্রেরণা ছিল 'আশীর্বাদের মুদ্রা'। পাঁচটি স্তম্ভ মূলত জনতার প্রতি আশীর্বাদের পাঁচটি আঙুলের প্রতীক। প্রচলিতভাবে একে 'মা ও সন্তান' বলা হলেও প্রকৃত নকশাটি ছিল দার্শনিক ও বিমূর্ত। ১৯৫৮ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের কারণে নভেরাকে কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই লাহোরে চলে যেতে হয়। পরবর্তীতে হামিদুর রাহমান প্রকল্পটি সম্পন্ন করেন। ফলে অনেকের ধারণা এটি কেবল তাঁরই কাজ; কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদি স্রষ্টা ও মূল ভাবনার নেপথ্যে ছিলেন নভেরা আহমেদ।

​বিয়ে কিংবা আইন নিয়ে পড়লে গল্পটা ভিন্ন হতে পারত, বদলে যেত প্রেক্ষাপটও। কিন্তু সহজাত প্রবৃত্তি তাঁকে করে তুলেছে পূর্ববঙ্গের আধুনিক ভাস্কর্যের পথিকৃৎ। নভেরা কেবল আধুনিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন 'প্রিমিটিভ' বা আদিম রূপের অনুসারী। ভারতে রামকিঙ্কর বেইজ যেমন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নভেরা আহমেদও তেমন; বাংলায় তাঁর কোনো পূর্বজ নেই।

​তথ্যসূত্র:
১. 'নভেরার অজানা জীবন', প্রথম আলো, ৫ এপ্রিল ২০২৫।
(২০১৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার জাতীয় জাদুঘরে নভেরা সম্পর্কে তাঁর স্বামী গ্রেগোয়ার দ্য ফ্রঁস-এর দেওয়া বক্তব্য; অনুবাদ: জাভেদ হুসেন)।
২. 'বাংলার আধুনিক ভাস্কর্যের পথিকৃৎ নভেরা আহমেদ', ডেইলি স্টার বাংলা, ৬ মে ২০২৪।

​ #নভেরা_আহমেদ #শহীদ_মিনার #ভাস্কর #আধুনিক_ভাস্কর্য #আশীর্বাদের_মুদ্রা #বাংলার_নারী #ইতিহাস #ভাষা_আন্দোলন ্মৃতি #বুনো #অদম্য

গ্রন্থ: নারী জাগৃতির পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ালেখক: আনোয়ার মাহমুদপ্রকাশক: জ্যোৎস্না পাবলিশার্স, ঢাকাপ্রচ্ছদ: মোবারক হোসেন লিটনম...
06/05/2026

গ্রন্থ: নারী জাগৃতির পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া
লেখক: আনোয়ার মাহমুদ
প্রকাশক: জ্যোৎস্না পাবলিশার্স, ঢাকা
প্রচ্ছদ: মোবারক হোসেন লিটন
মুদ্রণে: রিলেশন, ঢাকা
প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ২০০৮
বিষয়বস্তু: বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জীবনী, সাহিত্যকর্ম এবং সমাজ সংস্কারমূলক কার্যক্রমের ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ।
মূল্য: ৩০০.০০ টাকা
পৃষ্ঠা: ৩১৮ টি
আইএসবিএন: 984 70148 0000 1

​‘নারী জাগৃতির পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া’ গ্রন্থটি বিংশ শতাব্দীর সমাজ সংস্কারক বেগম রোকেয়ার জীবন ও কর্মের ওপর একটি তথ্যভিত্তিক গবেষণামূলক কাজ। লেখক আনোয়ার মাহমুদ মোট ৩৩টি অধ্যায়ে রোকেয়ার ব্যক্তিগত জীবন, তৎকালীন সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক লড়াইয়ের বিবরণ উপস্থাপন করেছেন।
​গ্রন্থটিতে রোকেয়ার শৈশব, পারিবারিক শিক্ষার পরিবেশ এবং তাঁর বিকাশে বড় ভাই ইব্রাহিম সাবের ও বড় বোন করিমুন্নেসার দালিলিক ভূমিকা আলোচিত হয়েছে। স্বামীর প্রয়াণের পর কলকাতায় ‘সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল’ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার ক্ষেত্রে যেসব প্রশাসনিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল, লেখক তার নির্মোহ বিবরণ দিয়েছেন।
​বইটির একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো বেগম রোকেয়ার ‘সাংগঠনিক আধুনিকতা’র বিশ্লেষণ। লেখক ১৯ ও ২০ নম্বর অধ্যায়ে দেখিয়েছেন কীভাবে রোকেয়া কেবল লেখনীর মাধ্যমে নয়, বরং ‘আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম’-এর মতো সংগঠনের মাধ্যমে নারী সমাজকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। তৎকালীন দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে এই সাংগঠনিক মডেলটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত ও বাস্তবধর্মী।
​সাহিত্যের পর্যালোচনায় লেখক রোকেয়ার ‘মতিচূর’, ‘সুলতানার স্বপ্ন’ ও ‘পদ্মরাগ’ গ্রন্থগুলোকে তৎকালীন অবরোধ প্রথা ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে যৌক্তিক হাতিয়ার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিশেষ করে তাঁর লেখায় বিজ্ঞানমনস্কতা ও লিঙ্গীয় সমতার যে প্রতিফলন ছিল, তা সমকালীন অন্যান্য চিন্তাবিদদের তুলনায় কতটা অগ্রগামী ছিল, গ্রন্থটি সেই তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে।
​গ্রন্থের শেষাংশে সংযোজিত তথ্যনির্দেশ ও সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি একে একটি নির্ভরযোগ্য আকর গ্রন্থে পরিণত করেছে। বেগম রোকেয়ার জীবনপঞ্জি এবং তাঁর প্রকাশিত রচনার পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাঠককে তাঁর সামগ্রিক কর্মজীবন সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দেয়। গবেষণাধর্মী ও তথ্যবহুল হওয়ার কারণে বইটি এই অঞ্চলের সামাজিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত।

​বইটি অশ্রু আর্কাইভের সংগ্রহে রয়েছে।

​ #বেগম_রোকেয়া

#নারী_জাগৃতি
#বেগম_রোকেয়া_সাখাওয়াত_হোসেন
#আনোয়ার_মাহমুদ
#পুস্তক_পর্যালোচনা
#বইয়ের_জগৎ
#ইতিহাসের_বই
#গবেষণা
#অশ্রু_আর্কাইভ
#কুষ্টিয়া

'​নিষিদ্ধ' বইয়ের পাতা থেকে পাহাড়তলীর রণক্ষেত্রে​প্রীতিলতার বিপ্লবী সত্তার উন্মেষ ঘটেছিল শৈশবে পড়া ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক ‘...
05/05/2026

'​নিষিদ্ধ' বইয়ের পাতা থেকে পাহাড়তলীর রণক্ষেত্রে

​প্রীতিলতার বিপ্লবী সত্তার উন্মেষ ঘটেছিল শৈশবে পড়া ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক ‘নিষিদ্ধ’ কিছু বইয়ের পাতায়। তখন তিনি দশম শ্রেণির ছাত্রী। বড়দের চোখ এড়িয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে তিনি পড়তেন ‘দেশের কথা’, ‘বাঘা যতীন’, ‘ক্ষুদিরাম’ আর ‘কানাইলাল’-এর মতো বিপ্লবীদের বীরত্বগাথা। এসব বইয়ের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়েই তিনি তাঁর দাদা পূর্ণেন্দু দস্তিদারের কাছে বিপ্লবী সংগঠনে যোগ দেওয়ার তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করেন। যদিও সেই সময়ে সশস্ত্র বিপ্লবী সংগঠনে নারী সদস্য গ্রহণ করা ছিল অলিখিতভাবে নিষিদ্ধ, তবুও প্রীতিলতার অদম্য সংকল্প শেষ পর্যন্ত সেই প্রথা ভাঙতে বাধ্য করেছিল।

​বিপ্লবের এই তাত্ত্বিক পাঠ যখন প্রীতিলতাকে অস্থির করে তুলছিল, ঠিক তখনই মাস্টারদা সূর্য সেনের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ এক ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ তৈরি করে। সেই প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মাস্টারদা লিখেছিলেন— “তাঁর চোখেমুখে একটা আনন্দের আভাস দেখলাম। এতদূর পথ হেঁটে এসেছে, অথচ তাঁর চেহারায় ক্লান্তির কোনো চিহ্নই লক্ষ্য করলাম না। যে আনন্দের আভা তাঁর চোখেমুখে দেখলাম, তার মধ্যে আতিশয্য নেই, চপলতা নেই; বরং এক গভীর আন্তরিকতা ও শ্রদ্ধার ভাব ফুটে উঠেছে।” প্রীতিলতার এই শান্ত অথচ দৃঢ় ব্যক্তিত্বই তাঁকে সূর্য সেনের অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোদ্ধায় পরিণত করে।

​তবে প্রীতিলতার ভেতরে সুপ্ত বিদ্রোহকে দাবানলে রূপান্তর করেছিলেন বিপ্লবী রামকৃষ্ণ বিশ্বাস। ১৯৩১ সালে আলিপুর জেলে থাকাকালীন রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের সাহচর্য এবং পরবর্তীতে তাঁর আত্মত্যাগ প্রীতিলতার জীবনের গতিপথ পুরোপুরি বদলে দেয়। রামকৃষ্ণদার ফাঁসি প্রীতিলতার হৃদয়ে যে ক্ষতের সৃষ্টি করেছিল, তা-ই তাঁকে চূড়ান্ত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়। প্রীতিলতার ভাষায়, “রামকৃষ্ণদার ফাঁসির পর বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে সরাসরি যুক্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমার অনেক বেড়ে গেল।” এই জেদ আর সংকল্পই তাঁকে নিয়ে গিয়েছিল পাহাড়তলীর ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণের মতো দুঃসাহসিক ও মরণজয়ী অভিযানে। সেই রাতে তাঁর আত্মত্যাগ কেবল এক বিপ্লবীর বিদায় ছিল না, বরং তা ছিল ভারতবর্ষের স্বাধীনতার ইতিহাসে এক অবিনাশী প্রেরণা।

তথ্যসূত্র:
১. শঙ্কর ঘোষ, 'প্রীতিলতা' (সম্পাদিত), আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা -১৯৮৭

#প্রীতিলতা_ওয়াদ্দেদার #মাস্টারদা_সূর্য_সেন #চট্টগ্রাম_অস্ত্রাগার_লুণ্ঠন #পাহাড়তলী_ইউরোপীয়_ক্লাব #অগ্নিযুগের_বিপ্লবী #বীরকন্যা #বাংলার_ইতিহাস #বিপ্লবী_আখ্যান #স্বাধীনতা_সংগ্রাম
#অশ্রু_আর্কাইভ #কুষ্টিয়া

গ্রন্থ: বাবার চিঠি (কন্যা ইন্দিরার কাছে নেহরুর চিঠি)মূল লেখক: জওহরলাল নেহেরুঅনুবাদ: হারুনুর রশীদ খানপ্রকাশক: জাকির হোসেন...
05/05/2026

গ্রন্থ: বাবার চিঠি (কন্যা ইন্দিরার কাছে নেহরুর চিঠি)
মূল লেখক: জওহরলাল নেহেরু
অনুবাদ: হারুনুর রশীদ খান
প্রকাশক: জাকির হোসেন, প্রতীতি প্রকাশ,ঢাকা
প্রচ্ছদ: আনওয়ার ফারুক
মুদ্রণে: রিকো প্রিন্টার্স, কাটাবন, ঢাকা
প্রকাশকাল: প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০০২
বিষয়বস্তু: বিশ্ব ইতিহাস ও মানব সভ্যতার বিবর্তনের প্রাথমিক ও তথ্যভিত্তিক আলোচনা।
মূল্য: ৬০.০০ টাকা (প্রকাশকালীন)
পৃষ্ঠা: ৮৮ টি

​‘বাবার চিঠি’ গ্রন্থটি জওহরলাল নেহেরুর মূল ইংরেজি রচনা ‘Letters from a Father to His Daughter’-এর বাংলা অনুবাদ। ১৯২৮ সালে নেহেরু যখন কারাগারে ছিলেন, তখন তাঁর দশ বছর বয়সী কন্যা ইন্দিরা গান্ধীকে ইতিহাসের প্রাথমিক পাঠ প্রদানের উদ্দেশ্যে এই চিঠিগুলো লিখেছিলেন। গ্রন্থটিতে ব্যক্তিগত আলাপচারিতার পরিবর্তে বিশ্ব ইতিহাস, ভূতত্ত্ব এবং সমাজবিজ্ঞানের প্রাথমিক বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে।

​গ্রন্থের শুরুতে লেখক পৃথিবীর সৃষ্টিতত্ত্ব এবং প্রাণিজগতের বিবর্তন নিয়ে আলোচনা করেছেন। নেহেরু এখানে পাঠ্যবইয়ের বাইরেও প্রকৃতি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ইতিহাস সন্ধানের পদ্ধতি ব্যাখ্যা করেছেন। আদিম মানুষের সমাজ গঠন, যাযাবর জীবন থেকে কৃষিভিত্তিক স্থায়ী সভ্যতায় রূপান্তর এবং বিভিন্ন ভাষার মধ্যে বিদ্যমান ভাষাতাত্ত্বিক মিলগুলো তথ্যগতভাবে এখানে উপস্থাপিত হয়েছে।

​বইটির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে রয়েছে প্রাচীন সভ্যতাসমূহের বিবরণ। মিশরীয় হায়ারোগ্লিফিক লিপি, মেসোপটেমীয় বাণিজ্য ব্যবস্থা এবং ভারতবর্ষের প্রাচীন ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত রূপরেখা এখানে স্থান পেয়েছে। লেখক সামাজিক শ্রম-বিভাগ, সম্পদের অসম বণ্টন এবং সমাজ কাঠামোয় শ্রেণিবৈষম্যের উদ্ভব নিয়ে সংক্ষিপ্ত অথচ যৌক্তিক আলোচনা করেছেন। বিষয়বস্তুগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যা একজন কিশোর পাঠকের জন্য ইতিহাসের জটিল পর্যায়গুলো বুঝতে সহায়ক হয়।

​অনুবাদক হারুনুর রশীদ খান মূল লেখার কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখে তথ্যনিষ্ঠ ভাষায় এটি অনুবাদ করেছেন। বইটির পরিশিষ্ট বা বিভিন্ন অধ্যায়ে সভ্যতার ক্রমবিকাশ ও ইতিহাসের ধারাক্রম স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।

​বইটি অশ্রু আর্কাইভের সংগ্রহে রয়েছে।

#বাবারচিঠি
#জওহরলালনেহেরু
#ইন্দিরাগান্ধী
#ইতিহাস #বিশ্বসভ্যতা #অনুবাদবই
#প্রতীতিপ্রকাশ #কিশোরপাঠ্য
#অশ্রুআর্কাইভ
#কুষ্টিয়া

'বাঘা যতীন'খ্যাত যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের 'দক্ষিণহস্ত' হিসেবে পরিচিত অতুলকৃষ্ণ ঘোষ ছিলেন যুগান্তর দল ও সশস্ত্র বিদ্রোহ...
04/05/2026

'বাঘা যতীন'খ্যাত যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের 'দক্ষিণহস্ত' হিসেবে পরিচিত অতুলকৃষ্ণ ঘোষ ছিলেন যুগান্তর দল ও সশস্ত্র বিদ্রোহের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। ১৮৯০ সালে কুষ্টিয়ার এতমামপুর-জাদুবয়রা গ্রামে তাঁর জন্ম। ১৯০৬ সালে নলিনীকান্ত করের মাধ্যমে তিনি যতীন্দ্রনাথের সান্নিধ্যে আসেন। ১৯১৩ সালে বি.এসসি পাসের পর প্রেসিডেন্সি কলেজে এম.এসসি-তে ভর্তি হলেও বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ডের টানে তিনি পড়াশোনা ত্যাগ করেন।

অতুলকৃষ্ণ ও বাঘা যতীন মিলে ‘পাথুরিয়াঘাটা ব্যায়াম সমিতি’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীতে বিপ্লবীদের প্রধান প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পরিণত হয়। অতুলকৃষ্ণের শারীরিক শক্তি ও উপস্থিত বুদ্ধি নিয়ে একটি রোমাঞ্চকর ঘটনা প্রচলিত রয়েছে; একবার এক অসুস্থ সহকর্মী হাসপাতালে পুলিশি পাহারায় বন্দী থাকা অবস্থায় অতুলকৃষ্ণ তাঁকে নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে হাসপাতালের বিশাল দেয়াল টপকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাঁর এই অসাধ্য সাধন বিপ্লবীদের মধ্যে তাঁকে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য করে তুলেছিল।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ‘ইন্দো-জার্মান কনস্পিরেসি’ বা হিন্দু-জার্মান ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনাকালে কলকাতার সংগঠনের পূর্ণ দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর। ১৯১৪ সালে ‘কোমাগাতামারু’ জাহাজের যাত্রীদের সহায়তা এবং ১৯১৫ সালে তহবিল সংগ্রহের জন্য 'গার্ডেনরিচ ট্যাক্সি ডাকাতি'র মতো দুঃসাহসিক অভিযানে তিনি সক্রিয় ছিলেন। উল্লেখ্য, এই অভিযানটি ছিল বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ডে ভারতের প্রথম মোটর গাড়ি ব্যবহারের অন্যতম উদাহরণ।

১৯১৫ সালে বুড়িবালমের যুদ্ধে বাঘা যতীনের মৃত্যু অতুলকৃষ্ণকে গভীরভাবে ব্যথিত করে। এরপর ব্রিটিশ পুলিশ হন্যে হয়ে তাঁকে খুঁজলেও তিনি দীর্ঘ ছয় বছর (১৯১৫-১৯২১) ছদ্মবেশে চন্দননগরে ফরাসি আশ্রয়ে আত্মগোপন করে থাকেন। ১৯২৪ সালে তিনি পুনরায় রাজবন্দী হন এবং ১৯২৬ সালে মুক্তির পর সক্রিয় রাজনীতি ছেড়ে ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন। জীবনের শেষ ভাগে তিনি আধ্যাত্মিক পথ বেছে নিয়েছিলেন।

​১৯৬৩ সালে বাঘা যতীনের নাতি পৃথ্বীন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন:
​"দাদা ছিলেন চুম্বক; আমরা ছিলাম লোহার টুকরো। তাঁর স্পর্শেই আমরা শক্তি পেতাম। তিনি যখন নেই, আমরা সবাই আবার সাধারণ লোহার টুকরোয় পরিণত হয়েছি।"

​নিভৃতচারী এই বিপ্লবী ১৯৬৬ সালের ৪ মে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র:
​১. ড. মুহাম্মদ এমদাদ হাসনায়েন ও ড. সারিয়া সুলতানা, ‘কুষ্টিয়ার ইতিহাস’ (কণ্ঠধ্বনি প্রকাশনী, ফেব্রুয়ারি, ২০২০), পৃষ্ঠা: ৪০১।
২. শ ম শওকত আলী, ‘কুষ্টিয়ার ইতিহাস’, সম্পাদক: আব্দুল্লাহ সাফিদ্, ২য় সংস্করণ, ১২ জুলাই, ২০১২, পৃষ্ঠা: ৬৮।

​ #অতুলকৃষ্ণঘোষ #বাঘাযতীন #বিপ্লবীভারত #অগ্নিযুগ #যুগান্তরদল #বীরবিপ্লবী #স্বাধীনতাশ্রমিক #দেশপ্রেমিক #অকুতোভয়
​ #ইতিহাসেরপাতা #গার্ডেনরিচডাকাতি #বুড়িবালমেরযুদ্ধ #ইন্দোজার্মানষড়যন্ত্র #সশস্ত্রবিদ্রোহ #ভারতেরস্বাধীনতা #বিপ্লবীইতিহাস
​ #স্মৃতিচারণ #বিপ্লবীচেতনা #বাঙালিবিপ্লবী #বিনম্রশ্রদ্ধা #গৌরবোজ্জ্বলইতিহাস #বিস্মৃতনায়ক #নিভৃতচারীবিপ্লবী
#অশ্রুআর্কাইভ #কুষ্টিয়া

গ্রন্থ: শতবর্ষে জসীম উদ্‌দীনসম্পাদনা: নাসির আলী মামুনপ্রকাশক: ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদ, মুজিব সড়ক, ফরিদপুরপ্রচ্ছদ: কাইয়ুম চ...
03/05/2026

গ্রন্থ: শতবর্ষে জসীম উদ্‌দীন
সম্পাদনা: নাসির আলী মামুন
প্রকাশক: ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদ, মুজিব সড়ক, ফরিদপুর
প্রচ্ছদ: কাইয়ুম চৌধুরী
মুদ্রণে: নাজমুল লেন্স, ঢাকা
প্রকাশকাল: ১ জানুয়ারি, ২০০৩
বিষয়বস্তু: জসীম উদ্‌দীনের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জীবন ও সাহিত্যকর্মের ওপর বিভিন্ন গবেষক ও লেখকের প্রবন্ধ সংকলন।
মূল্য: ৩০০.০০ টাকা / ১২.০০ ইউএস ডলার
পৃষ্ঠা: ৩১৯ টি

​‘শতবর্ষে জসীম উদ্‌দীন’ গ্রন্থটি কবি জসীম উদ্‌দীনের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে প্রকাশিত একটি স্মারক সংকলন। নাসির আলী মামুন সম্পাদিত এই গ্রন্থে বাংলা সাহিত্যের প্রথিতযশা প্রাবন্ধিক ও গবেষকদের মোট ৪৪টি নিবন্ধ স্থান পেয়েছে। জসীম উদ্‌দীনের সাহিত্যকে কেবল পল্লী-আঙ্গিকের সীমাবদ্ধতায় না রেখে বিশ্ব-সাহিত্যের প্রেক্ষাপটে তাঁর আধুনিকতা ও সামাজিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করাই এই গ্রন্থের মূল লক্ষ্য।

​গ্রন্থটিতে জসীম উদ্‌দীনের কাব্যশৈলী, শব্দচয়ন এবং লোকজ উপাদানের ব্যবহার নিয়ে প্রবন্ধ লিখেছেন সুনীলকুমার মুখোপাধ্যায়, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, শামসুর রাহমান এবং সৈয়দ শামসুল হকের মতো ব্যক্তিবর্গ। এতে কবির লোকসংগীত সংগ্রহ এবং ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ কাব্যের গঠনগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে দালিলিক আলোচনা করা হয়েছে। প্রবন্ধগুলোর মাধ্যমে নাগরিক আধুনিকতার বিপরীতে কবির গ্রামীণ সমাজ ও সাধারণ মানুষের জীবনচিত্র ফুটিয়ে তোলার সক্ষমতাটি যৌক্তিকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।

​বইটির একটি বিশেষ অংশে জসীম উদ্‌দীনের পূর্ণাঙ্গ জীবনপঞ্জি তুলে ধরা হয়েছে। ১৯০৩ সালে ফরিদপুরের তাম্বুলখানায় জন্ম থেকে শুরু করে ১৯৭৬ সালে মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকগুলো এখানে সংকলিত। বিশেষ করে ১৯৩৩ সালে ডক্টর দীনেশচন্দ্র সেনের অধীনে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে যোগদান, ১৯৩৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা এবং পরবর্তীকালে সরকারি চাকরিতে তাঁর অবদানের কথা উল্লেখ রয়েছে। এছাড়াও তাঁর প্রকাশিত ৪৩টি গ্রন্থের তালিকা এবং ইউনেস্কো পুরস্কার ও একুশে পদকের মতো প্রাপ্তিগুলো পাঠককে কবির কর্মজীবন সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দেয়।

​গ্রন্থটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এতে জসীম উদ্‌দীনের পাণ্ডুলিপি ও হস্তলিপির আলোকচিত্র যুক্ত করা হয়েছে। একইসাথে কবির ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে রোকসানা হাবীব ও অন্যান্যদের তথ্যনির্ভর স্মৃতিচারণ এখানে সংকলিত হয়েছে। সম্পাদক নাসির আলী মামুন ‘সম্পাদকের কথা’ অংশে কবির সাহিত্যিক উত্তরাধিকার সংরক্ষণের গুরুত্ব এবং সমকালীন সাহিত্য সমালোচনায় জসীম উদ্‌দীনের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেছেন।

​গ্রন্থের প্রচ্ছদ ও অলংকরণে কাইয়ুম চৌধুরীর কাজ বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। জসীম উদ্‌দীনের দর্শনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং লৌকিক সংস্কৃতির যে প্রভাব ছিল, তা বিভিন্ন নিবন্ধে তথ্য-উপাত্তসহ বিশ্লেষিত হয়েছে। গবেষক ও সাহিত্য অনুরাগীদের জন্য বইটি জসীম উদ্‌দীন সম্পর্কে জানার একটি প্রয়োজনীয় আকর গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

​বইটি অশ্রু আর্কাইভের সংগ্রহে রয়েছে।

#জসীম_উদ্দীন
#পল্লীকবি
#বাংলা_সাহিত্য
#বইপড়া
#বইয়ের_দুনিয়া
#স্মারক_গ্রন্থ
#নাসির_আলী_মামুন
#শতবর্ষে_জসীম_উদ্দীন
#নকশী_কাঁথার_মাঠ
#লোকসাহিত্য
#বাংলা_কবিতা
#ফরিদপুর_সাহিত্য_পরিষদ
#কাইয়ুম_চৌধুরী
#গবেষণা_গ্রন্থ
#সাহিত্য_সমালোচনা




#অশ্রুআর্কাইভ
#কুষ্টিয়া

সত্যজিৎ রায়ের জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি​বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্রের প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব সত্যজিৎ রায়ের আজ...
02/05/2026

সত্যজিৎ রায়ের জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

​বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্রের প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব সত্যজিৎ রায়ের আজ জন্মবার্ষিকী।
​তাঁর হাত ধরেই আমরা পেয়েছি ফেলুদার শাণিত মগজাস্ত্র, প্রফেসর শঙ্কুর বৈজ্ঞানিক রোমাঞ্চ আর গুপী-বাঘার সুরের জাদু। সাহিত্য ও শিল্পের এমন বিচিত্র ও কালজয়ী সব চরিত্র সৃষ্টির জন্য তিনি আমাদের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। কেবল চলচ্চিত্রেই নয়, কিশোরদের উপযোগী মানসম্পন্ন সাহিত্য ও বিনোদন সৃষ্টিতেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।

​আমাদের সংগ্রহে থাকা তাঁর উল্লেখযোগ্য কিশোর উপন্যাসগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘ফটিকচাঁদ’। সত্তর দশকে প্রকাশিত এই গ্রন্থটি একটি রোমাঞ্চকর অভিযানের বাইরেও বন্ধুত্ব, সততা এবং মানবিক সম্পর্কের এক গভীর দলিল। গল্পের নায়ক কিশোর ফটিক (বাবলু) এবং ভবঘুরে হারুন দাসের মধ্যকার যে সহজ অথচ নিবিড় বন্ধন তিনি এঁকেছেন, তা আজও পাঠকদের সমানভাবে আলোড়িত করে।

​এই দিনে 'অশ্রু আর্কাইভ' তাঁর কালজয়ী সৃষ্টিশীলতাকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে।

​অশ্রু আর্কাইভ
কুষ্টিয়া।


#সত্যজিৎরায়





#বাংলাসাহিত্য

#ফেলুদা

#প্রফেসরশঙ্কু

#ফটিকচাঁদ




#অশ্রুআর্কাইভ

#কুষ্টিয়া

গ্রন্থ: বাউলকোষসংকলন ও সম্পাদনা: সুমন কুমার দাশপ্রকাশক: মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, অন্বেষা প্রকাশন, ৯ বাংলাবাজার, ঢাকাপ্রচ্...
02/05/2026

গ্রন্থ: বাউলকোষ
সংকলন ও সম্পাদনা: সুমন কুমার দাশ
প্রকাশক: মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, অন্বেষা প্রকাশন, ৯ বাংলাবাজার, ঢাকা
প্রচ্ছদ: সব্যসাচী হাজরা
মুদ্রণে: আর এস প্রিন্টিং প্রেস, পুরানা পল্টন
প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ২০১৩
বিষয়বস্তু: বাউল দর্শনের পরিভাষা ও শব্দভাণ্ডারের একটি বর্ণানুক্রমিক অভিধান।
মূল্য: ২০০.০০ টাকা / ৮.০০ ইউএস ডলার
আইএসবিএন: 978 984 8991 35 0

​‘বাউলকোষ’ গ্রন্থটি বাউল সম্প্রদায়ের ব্যবহৃত সংকেতপূর্ণ শব্দ ও পরিভাষার একটি সংকলন। বাউল সাধকেরা তাঁদের দর্শনের গূঢ় অর্থ প্রকাশে যেসব বিশেষ শব্দ ব্যবহার করেন, এই গ্রন্থে সেগুলোর আভিধানিক ও তত্ত্বগত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। মূলত গবেষক এবং সাধারণ পাঠকদের বাউলতত্ত্ব বুঝতে সহায়তা করাই এই কোষগ্রন্থটির লক্ষ্য।

​গ্রন্থটিতে বর্ণানুক্রমিকভাবে মোট ১৪৫১টি ভুক্তি সংকলিত হয়েছে। এতে বাউল দর্শনের দেহকেন্দ্রিক সাধনা ও যোগতত্ত্বের বিভিন্ন শব্দ যেমন—‘ছাইপা যাওয়া’, ‘ছয় লতিফা’, ‘চৌদ্দ ভুবন’ এবং ‘চারচন্দ্র’ ইত্যাদির অর্থ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। প্রতিটি শব্দের একাধিক সংজ্ঞাকে নম্বর দিয়ে ক্রমানুসারে সাজানো হয়েছে, যা তথ্য অনুসন্ধানে সহায়ক।

​এই গ্রন্থটি প্রণয়নে সম্পাদক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত গবেষকের কাজকে তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন। বিশেষ করে ডক্টর আহমদ শরীফ ও মো. আবদুল করিম মিঞার গবেষণার সহায়তা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সুধীর চক্রবর্তী, উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য এবং মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের গবেষণা ও অভিধান থেকেও প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বইয়ের শেষে একটি বিস্তারিত গ্রন্থপঞ্জি যুক্ত রয়েছে।

​শব্দের অর্থের পাশাপাশি এই গ্রন্থে কালা শাহ, কুবিব গোঁসাই এবং কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের মতো কয়েকজন বাউল সাধকের সংক্ষিপ্ত পরিচিতিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সম্পাদকের বক্তব্য অনুযায়ী, বাউল দর্শনের পরিভাষা সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই সংকলনটি তৈরি করা হয়েছে।

​ লোকসংস্কৃতি ও বাউলতত্ত্ব নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে এটি একটি প্রয়োজনীয় রেফারেন্স বই হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

​বইটি অশ্রু আর্কাইভের সংগ্রহে রয়েছে।
আর্কাইভ অন্তর্ভুক্ত ক্রম :০০০০৩১

​ #বাউলকোষ
#সুমন_কুমার_দাশ
#বাউল_দর্শন
#লোকসংস্কৃতি
#বাউল_তত্ত্ব
#মরমী_সাহিত্য
#দেহসাধনা
#যোগতত্ত্ব
#অভিধান
#বাংলা_সাহিত্য
#গবেষণা_গ্রন্থ
#অন্বেষা_প্রকাশন
#সব্যসাচী_হাজরা
#লালন_দর্শন
#ফকিরি_তত্ত্ব
#বাউল_পরিভাষা
#বাংলা_লোকসংগীত
িচিতি
#অশ্রু_আর্কাইভ
#কুষ্টিয়া

১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসজুড়ে আবহাওয়া ছিল অত্যন্ত বৈরী। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নির্ধারিত হচ্ছিল। এ...
01/05/2026

১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসজুড়ে আবহাওয়া ছিল অত্যন্ত বৈরী। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নির্ধারিত হচ্ছিল। একদিকে স্বজন হারানোর বেদনা ও পরাজয়ের গ্লানি, অন্যদিকে ১৭ই এপ্রিল নিয়ে এসেছিল নতুন আশার আলো। এদিন ভোরেই ইপিআর-এর (EPR) একটি কোম্পানি মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় পৌঁছায়। যুদ্ধের শুরুতে বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া বাহিনীর সদস্যরা এখানে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হন।
​এদিন এই আম্রকাননেই স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার বা মন্ত্রিপরিষদের আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই বিশ্ববাসী একটি নতুন রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক যাত্রা সম্পর্কে অবহিত হয়। এই মুক্তাঞ্চলটি তখন থেকেই 'মুজিবনগর' নামে পরিচিতি পায়।
​তৎকালীন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এই ঐতিহাসিক ঘটনা সম্পর্কে জানান:
​"গৌরবের বিষয় যে, পলাশীর আম্রকাননে বাংলার স্বাধীনতা লুপ্ত হবার পর আবার বৈদ্যনাথতলায় আয়োজিত স্বাধীনতার উৎসবের মতো এত বড় একটি ঐতিহাসিক পর্বে স্বাধীনতা যুদ্ধে লিপ্ত কমান্ডোদের মধ্যে একমাত্র আমিই এবং বাংলার নারী জাতির প্রতিনিধি হিসেবে আমার স্ত্রী সেখানে উপস্থিত ছিলাম।"

-তথ্যসূত্র বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র (৯ম খণ্ড)

#মুজিবনগর_দিবস
​ #১৭ইএপ্রিল
​ #মুক্তিযুদ্ধের_ইতিহাস
​ #বাংলাদেশের_অস্থায়ী_সরকার
​ #মেহেরপুর
​ #বৈদ্যনাথতলা
​ #স্বাধীনতা৭১
​ #মুজিবনগর_সরকার
​ #মুক্তিসংগ্রাম










১৫ই এপ্রিল মেহেরপুরের প্রতিরক্ষা ফাঁড়িগুলো গুটিয়ে নেওয়া হয় এবং ১৬ই এপ্রিল মেহেরপুর পুরোপুরি শত্রুকবলিত হয়। ওই দিনই সদর দ...
01/05/2026

১৫ই এপ্রিল মেহেরপুরের প্রতিরক্ষা ফাঁড়িগুলো গুটিয়ে নেওয়া হয় এবং ১৬ই এপ্রিল মেহেরপুর পুরোপুরি শত্রুকবলিত হয়। ওই দিনই সদর দপ্তর চুয়াডাঙ্গা থেকে মেহেরপুরে স্থানান্তরিত করা হয়। সেই উত্তাল ও বৈরী আবহাওয়ার রাতে বৈদ্যনাথতলায় অবস্থানের মাধ্যমে পরবর্তী ঐতিহাসিক দিনের (১৭ই এপ্রিল) প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
​তৎকালীন সেক্টর কমান্ডার মেজর আবু ওসমান চৌধুরীর ভাষায়:
​"অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে ওই রাতেই সদর দপ্তর মেহেরপুর থেকে ভৈরব নদীর ওপারে ইছখালী বিওপিতে (BOP) স্থানান্তরিত করি। এই বিওপি থেকে ভারতীয় বিওপির দূরত্ব ছিল প্রায় ৬০০ গজ। সেখানে থাকার মতো কোনো সুব্যবস্থা না থাকায় সৈন্যদের যথাস্থানে মোতায়েন করিয়ে গাড়িতে করে আমার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে প্রথমবারের মতো ভারতে পদার্পণ করি।
​সে রাতের একটি সামান্য ঘটনা আমি কোনোদিন ভুলতে পারব না। ভারতীয় মাটিতে পা রাখার সাথে সাথেই আমার স্ত্রী নিজেকে অত্যন্ত অসহায় বোধ করে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। তিনি চেয়েছিলেন যতক্ষণ সম্ভব বাংলার মাটিতেই থাকবেন, তাই তাঁর ইচ্ছায় আমরা পুনরায় সেই ইছখালীতেই ফিরে আসি।"

-তথ্যসূত্র বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র (৯ম খণ্ড)

​ #মুক্তিযুদ্ধ
#বাংলাদেশ
#১৯৭১
#স্বাধীনতা
#স্মৃতিতে৭১
#মেহেরপুর
#বৈদ্যনাথতলা
#মুজিবনগর
#চুয়াডাঙ্গা
#মুক্তিযুদ্ধেরদিনলিপি
#ঐতিহাসিক১৭ইএপ্রিল
#আবুওসমানচৌধুরী
#সেক্টরকমান্ডার
#দেশপ্রেম
#যোদ্ধারপরিবার
#ইতিহাস
#বাংলাদেশেরইতিহাস

বাঙালির হাজার বছরের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির পরতে পরতে মিশে আছে বৌদ্ধ ঐতিহ্যের গভীর প্রভাব। পাহাড়পুর থেকে ময়নামতি কিংব...
01/05/2026

বাঙালির হাজার বছরের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির পরতে পরতে মিশে আছে বৌদ্ধ ঐতিহ্যের গভীর প্রভাব। পাহাড়পুর থেকে ময়নামতি কিংবা চর্যাপদের প্রাচীন পদাবলি— সবকিছুই আমাদের ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই বিশেষ দিনে আমরা সেই সমৃদ্ধ ইতিহাস ও চেতনাকে পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।

​শান্তি, মৈত্রী ও মানবতার অমিয় বার্তায় সিক্ত হোক পৃথিবী। সবাইকে বৌদ্ধ পূর্ণিমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা।

​শুভেচ্ছান্তে,
অশ্রু আর্কাইভ
কুষ্টিয়া।

মোহিনী সুতো-কলের আন্দোলন আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস আমরা ফিরে দেখছি বৃহত্তর কুষ্টিয়ার শিল্প ঐতিহ্যের প্রাণকেন্দ্র— মোহিনী ম...
01/05/2026

মোহিনী সুতো-কলের আন্দোলন

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস আমরা ফিরে দেখছি বৃহত্তর কুষ্টিয়ার শিল্প ঐতিহ্যের প্রাণকেন্দ্র— মোহিনী মিলের শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের ইতিহাসের চোখে।
​এ মিলে মোট চারবার শ্রমিক ধর্মঘট হয়েছিল। ১৯৩৭ সালে দুইবার, ১৯৩৯ সালে তৃতীয়বার এবং ১৯৪০ সালে চতুর্থবার। সে সময়ের নগরায়ণ ও শিল্পায়নের সমান্তরালে মোহিনী মিল ছিল উন্নয়নের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ; ফলে চার বছরের এই পর্যায়ক্রমিক আন্দোলন কুষ্টিয়ার সাধারণ মানুষকেও আন্দোলিত করেছিল।

​১৯৩৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম ধর্মঘট হয়। মিল কর্তৃপক্ষ ১৭ ফেব্রুয়ারি কারখানার যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের অজুহাতে তৃতীয় শিফটের উৎপাদন বন্ধ করে দিলে এক হাজার শ্রমিক কর্মচ্যুত হন। প্রতিবাদে মিলের শ্রমিক ইউনিয়ন (TWU) বিক্ষোভ শুরু করে এবং কয়েকটি বিভাগে কর্মবিরতি পালনসহ একটি দাবিনামা পেশ করে। এর প্রতিক্রিয়ায় মিল কর্তৃপক্ষ ২৬ ফেব্রুয়ারি শ্রমিকদের জন্য 'লক-আউট' ঘোষণা করে কারখানায় প্রবেশে বাধা দিলে প্রায় চার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন। সরকারি মধ্যস্থতায় মালিক পক্ষ ২৯ মার্চ মিলের দরজা খুলে দেয়। প্রাথমিকভাবে ৩টি শিফটে ৬ ঘণ্টা করে কাজ শুরু হয় মোহিনী মিলে।

​১৯৩৭ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসে দ্বিতীয় ধর্মঘটটি হয়। এ বারের লড়াই ছিল আত্মসম্মান ও স্বচ্ছতার। দায়িত্বশীল পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মালিকপক্ষের অনুগত এক ব্যক্তিকে প্রাধান্য দেওয়ায় শ্রমিকেরা এই ধর্মঘটের ডাক দেন। সরকারি পর্যায়ে নদীয়ার জেলা শাসকের উদ্যোগে এই শ্রম-বিরোধের নিষ্পত্তির প্রচেষ্টা করা হয়।

​১৯৩৯ সালের সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। কিন্তু মোহিনী মিলের শ্রমিকদের মজুরি সেই অনুপাতে বাড়েনি। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় শ্রমিকেরা মজুরি বৃদ্ধি এবং বাড়তি 'মহার্ঘ ভাতার' দাবিতে আন্দোলনে নামেন।

​১৯৪০ সালের আন্দোলনের একটি বড় অংশ ছিল শ্রমিক ইউনিয়নের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ইউনিয়নের মাধ্যমে দাবি আদায়ের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা।

​আজ মোহিনী মিলের সেই সাইরেন আর বাজে না, তাঁতের শব্দে মুখর হয় না চারপাশ। তবে মিলের জৌলুশের সঙ্গে তাঁদের সংগ্রামের ইতিহাস বেঁচে আছে আমাদের স্মৃতি ও সংগ্রহে। মে দিবসে মোহিনী মিলের সেই স্বাধিকারকামী শ্রমজীবীদের তথা বিশ্বের সকল শ্রমজীবী মানুষের প্রতি রইল আমাদের গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

তথ্যসূত্র
১. রঞ্জিত সেন (সম্পাদিত), 'বাংলার শ্রমশক্তি', কলকাতা, অরুণা প্রকাশন, ১৪ এপ্রিল ২০০০, পৃষ্ঠা: ১৭০-১৭৩।
২. 'কুষ্টিয়ার ইতিহাসে মোহিনী মোহন চক্রবর্তী ও মোহিনী মিলস্', Kushtia 24 | News, ২১ জুলাই ২০১৮।

​ #মে_দিবস
#আন্তর্জাতিক_শ্রমিক_দিবস
#শ্রমিক_আন্দোলন
#মোহিনী_মিল
#কুষ্টিয়া
#শিল্প_ঐতিহ্য
#বাংলার_ইতিহাস
#কুষ্টিয়ার_ইতিহাস
#শ্রমিক_অধিকার
#ঐতিহাসিক_সংগ্রাম
#আর্কাইভ
#স্মৃতি_ও_সংগ্রহ




Address

Kushtia

Opening Hours

Monday 15:00 - 20:00
Tuesday 15:00 - 20:00
Wednesday 15:00 - 20:00
Thursday 15:00 - 20:00
Saturday 10:00 - 18:00
Sunday 15:00 - 20:00

Telephone

+8801712122415

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ASHRU Archive posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Museum

Send a message to ASHRU Archive:

Share

Category