ASHRU Archive

ASHRU Archive Ashru Archive is a non-profit research and resource organization. Established In loving memory of poet and social worker Shahida Musa Ashru (1933-2015).

It’s being built by the family and friends to commemorate the scintillating spirit of Shahida Musa Ashru (1933-2015) who was a poet and Social worker. Her poetry was published in Mahe-Now, one of the leading literary magazines of that time in 1951. She had played a pioneer role in rural cooperative movement in 1970s and inspired many village women to become self-reliant by their works of crafts (s

pecially Nakshikantha) in Kushtia (south-western district of Bangladesh). She received National Award for her contribution in the field of cooperative society movement in 1984. This organization is run by a Board of Trustees. Its primary objective is to facilitate preservation of all kind of written and printed material (Books, Journals, Maps, etc.) including works of art and crafts. It will play the role of a resource center for artists, researchers, readers and interested members of the public to learn deeply about social history, culture and arts. The archive now have the following sections:
i) A Library
ii) A Display of representatives works of art, crafts and culture
iii) A Residency facility for researcher

গ্রন্থ: একাত্তরের চিঠিসম্পাদক: প্রথমা সংকলন (সহযোগিতায়: দৈনিক প্রথম আলো ও গ্রামীণফোন)প্রচ্ছদ: কাইয়ুম চৌধুরীঅলংকরণ: অশোক...
01/09/2026

গ্রন্থ: একাত্তরের চিঠি
সম্পাদক: প্রথমা সংকলন (সহযোগিতায়: দৈনিক প্রথম আলো ও গ্রামীণফোন)
প্রচ্ছদ: কাইয়ুম চৌধুরী
অলংকরণ: অশোক কর্মকার
প্রকাশক: মতিউর রহমান, প্রথমা প্রকাশন
প্রকাশকাল: প্রথম প্রকাশ, মার্চ ২০০৯
​বিষয়বস্তু: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, বুদ্ধিজীবী, চিকিৎসাধীন যোদ্ধা ও তাঁদের স্বজনদের লিখিত মূল চিঠিপত্রের ঐতিহাসিক সংকলন।
​মূল্য: ২৫০.০০ টাকা
পৃষ্ঠা: ১২৭ টি
ISBN: 978-984-8765-00-5

​‘একাত্তরের চিঠি’ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের একটি প্রামাণ্য ও নিবিড় ঐতিহাসিক দলিল। গতানুগতিক ইতিহাস গ্রন্থের বিবরণীর বাইরে গিয়ে রণাঙ্গনের যোদ্ধা, বুদ্ধিজীবী এবং তাঁদের পরিজনদের লিখিত মূল চিঠিপত্র প্রকাশের মাধ্যমে যুদ্ধকালীন বাস্তবচিত্র, মানসিক অবস্থা এবং স্বাধিকার আন্দোলনের বস্তুনিষ্ঠ নথি এতে উপস্থাপিত হয়েছে। তৎকালীন কঠিন ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে লিখিত এসব চিঠি মুক্তিযুদ্ধের সামাজিক ও সামরিক প্রেক্ষাপট বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করে।

​বইয়ের প্রথম অংশে রণাঙ্গনে কর্মরত যোদ্ধা ও তরুণ শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত চিঠিপত্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিবরণ, পরিবারকে দেওয়া সান্ত্বনা এবং যুদ্ধের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা প্রতিফলিত হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ছাত্র শহীদ কাজী নুরুন্নবী, এ বি এম মাহবুবুর রহমান ও শহীদ জিয়াদ আলী খানের চিঠিতে রণক্ষেত্রে যোগদানের প্রেক্ষাপট উঠে এসেছে। শহীদ শাফী ইমাম রুমীর চিঠি এবং কুষ্টিয়ার যোদ্ধা শহীদ মুন্সী আবু আহমাদ রশিদের চিঠিতে যুদ্ধের কৌশলগত পরিস্থিতি ও মুক্তিসংগ্রামের দৃঢ়তার তথ্য লিপিবদ্ধ রয়েছে।

​গ্রন্থের দ্বিতীয় অংশে যুদ্ধক্ষেত্রের আঞ্চলিক খবর, বুদ্ধিজীবী ও শিল্পীদের কার্যক্রম এবং আহত চিকিৎসাধীন যোদ্ধাদের পরিস্থিতি স্থান পেয়েছে। বহরমপুর হাসপাতাল থেকে লিখিত মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুর রহিমের চিঠি এবং মুক্তিযোদ্ধা নিতাইলাল হোড়ের চিঠিতে গোঁড়াপাড়া, দৌলতপুর, নালিতাবাড়ী ও বারোমারি অঞ্চলের সামরিক অপারেশন এবং সহযোদ্ধাদের উদ্ধারের বিবরণ পাওয়া যায়। চলচ্চিত্রকার ও লেখক শহীদ জহির রায়হান কর্তৃক চিত্রশিল্পী পটুয়া কামরুল হাসানকে লেখা চিঠিতে মুক্তিযুদ্ধকালীন শিল্পী-বুদ্ধিজীবীদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ বুদ্ধিজীবী সংগ্রাম পরিষদ’-এর কার্যক্রমের ঐতিহাসিক প্রমাণ মেলে। এছাড়া ড. আনোয়ার হোসেনের লেখায় গৌহাটি ও লক্ষ্ণৌ সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত কর্নেল তাহেরের চিকিৎসার বিবরণ এবং মুক্তিযোদ্ধা কে মুশতাক ইলাহীর চিঠিতে রংপুর-কুড়িগ্রামের যুদ্ধ পরিস্থিতির বাস্তব তথ্য উঠে এসেছে।

​শেষের অংশে যুদ্ধকালীন শরণার্থী শিবির, সংবাদ পরিবেশন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের বিষয়গুলো নথিভুক্ত হয়েছে। সংবাদপত্রের প্রতিনিধি সন্তোষকুমার গুহ ও শ্রীরমেশ দাস পুরকায়স্থের চিঠিতে শরণার্থী শিবিরের রসদ সরবরাহ ও তৎকালীন প্রশাসনিক চালচিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। প্রথমা প্রকাশন সংকলিত এই গ্রন্থে কাইয়ুম চৌধুরীর প্রচ্ছদ ও অশোক কর্মকারের অলংকরণ ঐতিহাসিক উপাদান হিসেবে চিঠির মূল আবহ বজায় রাখতে ভূমিকা রেখেছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে সাধারণ মানুষের চিঠি ও নথির আলোকে বিশ্লেষণের জন্য এই গ্রন্থটি গবেষক, শিক্ষার্থী ও ইতিহাস অনুরাগী পাঠকদের জন্য এক অত্যন্ত প্রয়োজনীয় আকর সংগ্রহ।

​বইটি অশ্রু আর্কাইভ-এর সংগ্রহে রয়েছে।

#একাত্তরেরচিঠি #মুক্তিযুদ্ধ১৯৭১
#মুক্তিযুদ্ধেরইতিহাস #ইতিহাসেরদলিল
#মুক্তিযুদ্ধেরচিঠি #আকরগ্রন্থ #প্রথমাপ্রকাশন
#বাংলাদেশ #বইপর্যালোচনা #মুক্তিযুদ্ধ
#অশ্রুআর্কাইভ #কুষ্টিয়া

শেষ কবে আপনি চিঠি লিখেছেন, মনে আছে? আমরা কেউই হয়তো সহজে প্রশ্নটির উত্তর দিতে পারব না। কথাসাহিত্যিক সমারসেট মম যথার্থই বল...
01/09/2026

শেষ কবে আপনি চিঠি লিখেছেন, মনে আছে? আমরা কেউই হয়তো সহজে প্রশ্নটির উত্তর দিতে পারব না। কথাসাহিত্যিক সমারসেট মম যথার্থই বলেছিলেন—চিঠি লেখা একটি হারিয়ে যাওয়া শিল্প।

হ্যাঁ, চিঠির ইতিহাস কিন্তু হাজার বছরের পুরোনো। গবেষকদের মতে, প্রায় ৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে পারস্যের রানি আতোসা প্রথম হাতে লেখা চিঠি পাঠিয়েছিলেন। বিশ্বসাহিত্যে চিঠি নিয়ে নানাবিধ রোমাঞ্চকর ঘটনাও রয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে ছোট চিঠিটি ফরাসি লেখক ভিক্টর হুগো লিখেছিলেন বলে মনে করা হয়। নতুন বইয়ের বিক্রি কেমন হচ্ছে তা জানতে তিনি কেবল একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন (?) পাঠিয়েছিলেন প্রকাশকের কাছে, জবাবে প্রকাশকও লিখেছিলেন একটি বিস্ময়বোধক চিহ্ন (!)। অন্যদিকে, ১৯৫২ সালে নিউইয়র্কের এক নারী কোরিয়ার যুদ্ধে থাকা তাঁর প্রিয়জনকে ৩,২০০ ফুট দীর্ঘ একটি চিঠি লিখেছিলেন, যা পৃথিবীর দীর্ঘতম চিঠি হিসেবে স্বীকৃত।

​ব্যক্তিগত বার্তাবহনের গণ্ডি পেরিয়ে চিঠি সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক সমৃদ্ধ ধারায় রূপ নিয়েছে। কাজী নজরুল ইসলামের পত্রোপন্যাস ‘বাঁধন হারা’, কবি জসীমউদ্দীন, বুদ্ধদেব বসু ও জীবনানন্দ দাশের পত্রাবলী এবং কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ছিন্নপত্র’ তৎকালীন বাংলার প্রকৃতি, সমাজ ও সাহিত্যচিন্তার অমূল্য আকর। সংগীতেও চিঠি পেয়েছে চিরন্তন আবেদন; কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ‘ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’ কিংবা সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতায় সলিল চৌধুরীর সুরের ‘রানার’ গানটি ডাকপিয়নের চিরন্তন আবেগকে অমর করে রেখেছে।

​রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাস বিনির্মাণেও চিঠির ভূমিকা অপরিসীম। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এলাহাবাদ জেলে বন্দি থাকাকালে কন্যা ইন্দিরা গান্ধীকে মানবসভ্যতার ইতিহাস শেখাতে যে চিঠিগুলো লিখেছিলেন, তা পরবর্তীতে ঐতিহাসিক গ্রন্থের রূপ নেয়। একইভাবে ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ কিংবা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে লেখা সাধারণ মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধাদের চিঠিগুলো আজ ইতিহাসের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা শফি ইমাম রুমীর চিঠিগুলো এর অন্যতম উজ্জ্বল উদাহরণ।

​ব্যক্তিগত অনুভূতির গণ্ডি ছাড়িয়ে চিঠি আসলে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অনন্য প্রাথমিক উৎস। ইতিহাস সংরক্ষণের এই গুরুত্ব বিবেচনা করেই 'অশ্রু আর্কাইভ' নিয়মিত পুরোনো চিঠি সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে চলেছে। আপনার সংগ্রহে এমন কোনো পুরোনো চিঠি থাকলে তা ইতিহাসের অংশ হিসেবে সংরক্ষণের জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

​যোগাযোগের ঠিকানা:
অশ্রু আর্কাইভ
৯, শহীদ ইঞ্জিনিয়ার নুরুল হক সড়ক, ঈদগাহপাড়া, কুষ্টিয়া
ই-মেইল: [email protected] |
ফোন: ০১৭১২-১২২৪১৫

তথ্যসূত্র:
১. 'বিশ্ব চিঠি দিবস আজ', প্রতিদিনের সংবাদ, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৩।
২. 'বিশ্ব চিঠি দিবস যেভাবে এল', কিশোর আলো, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
৩. 'বিশ্ব চিঠি দিবস: যে কথা চিঠিতেই বলা যায়', আজকের পত্রিকা, ৩০ আগস্ট ২০২৬।
৪. 'বিশ্ব চিঠি দিবস যেভাবে এলো', যুগান্তর, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
৫. বিশ্ব চিঠি দিবস: ফিরে দেখা কিছু বিখ্যাত চিঠির গল্প', VOA Bangla, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৩।

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ষাটের দশক এক আলোড়িত ও মোড়ঘোরানো সময়। এই সময়েই বাংলা ছোটগল্প ও উপন্যাসকে প্রথাগত আখ্যানের গণ্ডি থ...
01/09/2026

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ষাটের দশক এক আলোড়িত ও মোড়ঘোরানো সময়। এই সময়েই বাংলা ছোটগল্প ও উপন্যাসকে প্রথাগত আখ্যানের গণ্ডি থেকে বের করে যিনি আধুনিকতার এক নতুন মাত্রায় উন্নীত করেছিলেন, তিনি জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত।

​১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া জেলার আমলাবাড়িতে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত। তাঁর বাবা কৃষ্ণগোপাল দত্ত এবং মা সুধা দত্ত। শৈশবেই মাতৃহীন হওয়া এই কথাশিল্পীর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে মূলত পাবনা ও বগুড়ায়। শিক্ষাজীবনে তিনি ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে ডিপ্লোমা অর্জন করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালে উচ্চশিক্ষার্থে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে সাংবাদিকতায় পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের গৌরব লাভ করেন।

​কর্মজীবনে তিনি প্রকাশনা, সংবাদমাধ্যম, বাংলা একাডেমি কিংবা অধ্যাপনার মতো বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও মননে ও দর্শনে জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত ছিলেন কায়মনোবাক্যে একজন গল্পকার। ১৯৫৮ সালে 'কুয়াশা' নামের একটি কিশোর রহস্যোপন্যাস দিয়ে তাঁর সাহিত্যচর্চার সূচনা হলেও ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত প্রথম গল্পগ্রন্থ দুর্বিনীত কাল দিয়েই তিনি পাঠকমহলে আলোড়ন তোলেন। ষাটের দশকের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা, ১৯৪৭-এর দেশভাগ, সামাজিক বাস্তবতা এবং পরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত স্মৃতিকে তিনি তাঁর লেখায় প্রতীকী ও কাব্যিক সংকেতে উপস্থাপন করেছেন।

​উদাহরণস্বরূপ, তাঁর বিখ্যাত গল্প 'পরমাত্মীয়'-তে দেশভাগ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সূক্ষ্ম সংকট ফুটে উঠেছে। অন্যদিকে 'আমৃত্যু আজীবন', 'মুক্তিযোদ্ধারা', 'আমার ফুরানোর কাল' ও 'দিন ফুরানোর খেলা'-র মতো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পগুলোতে সরাসরি সংঘাত বা গোলাগুলির চেয়ে যুদ্ধের গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও রূপক সত্য উদঘাটিত হয়েছে। জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের বর্ণনারীতি প্রথাগত ধারার বাইরের—সেখানে অলংকার-আড়ম্বরহীন মায়াবী বাক্যগঠন ও নিখুঁত পরিমিতিবোধ লক্ষ করা যায়।

​গল্পের পাশাপাশি বাংলা সাহিত্যে তিনি এক নতুন আঙ্গিকের প্রবর্তন করেছেন, যা 'ছোট উপন্যাস' বা 'উপন্যাসিকা' নামে পরিচিত। এসব রচনা আয়তনে ছোটগল্পের চেয়ে বড় এবং উপন্যাসের মতো বিস্তৃত পটভূমি ধারণ করলেও আকারে সংক্ষিপ্ত ও অত্যন্ত ইঙ্গিতময়। শূন্য নভে ভ্রমি, স্বপ্নের সীমানায় পারাপার, উড়িয়ে নিয়ে যা কালো মেঘ, অমল তরণী তার ও সুখবাস-এর মতো সৃষ্টিগুলোতে তিনি প্রায়শই নির্দিষ্ট কোনো নাম ব্যবহার না করে সর্বনাম বা সংকেতের আশ্রয়ে মানবজীবনের গভীর জটিলতাকে উন্মোচিত করেছেন।

​সাহিত্যকে প্রাতিষ্ঠানিকতার বাইরে রেখে শিল্পের স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করা এবং জীবনের জটিল রূপকে ইঙ্গিতে ফুটিয়ে তোলার যে নিরবচ্ছিন্ন নিষ্ঠা তিনি দেখিয়েছেন, তা বাংলা কথাসাহিত্যকে চিরকাল সমৃদ্ধ করে রাখবে।

তথ্যসূত্র:
১. ড. মুহাম্মদ এমদাদ হাসনায়েন ও ড. সারিয়া সুলতানা, ‘কুষ্টিয়ার ইতিহাস’ (কণ্ঠধ্বনি প্রকাশনী, ফেব্রুয়ারি, ২০২০, পৃষ্ঠা: ৫৬৫-৬৬)
২. 'গল্পের কবি জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত', কালি ও কলম, নভেম্বর ২০১৩।
৩. 'জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত ও পূরবী বসু- সাক্ষাৎকার', ভিউজ বাংলাদেশ,৩১ জানুয়ারি ২০২৪।
৪. 'আমাদের যৌথ জীবন: পূরবী বসু-স্মৃতিকথা', সাম্প্রতিক দেশকাল, ১৫ জানুয়ারি ২০২৪।
৫. 'গল্পের কবি জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত', কালি ও কলম, নভেম্বর ২০১৩।

​ #জ্যোতিপ্রকাশ_দত্ত
​ #বাংলা_সাহিত্য
​ #কথাসাহিত্য
​ #বাংলা_ছোটগল্প
​ #উপন্যাসিকা
​ #ষাটের_দশকের_সাহিত্য
​ #দেশভাগ #মুক্তিযুদ্ধ
​ #কুষ্টিয়ান
​ #কথাশিল্পী
​ #সাহিত্যের_ইতিহাস
#অশ্রু_আর্কাইভ
#কুষ্টিয়া

31/08/2026

বিখ্যাত চিত্রশিল্পী রফিকুন্নবীর সৃষ্ট কালজয়ী চরিত্র 'টোকাই'-এর কথা মনে আছে?

১৯৭৮ সালে সাপ্তাহিক 'বিচিত্রা'র পাতায় শুরু হওয়া এই কার্টুন স্ট্রিপটি দীর্ঘ সময় ধরে স্থান করে নিয়েছে পাঠকদের মনে। সমাজের অসঙ্গতি, রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের যাপনচিত্র উঠে এসেছে এই চরিত্রের মাধ্যমে।

​ #রফিকুন্নবী
​ #রণবী
​ #টোকাই
​ #বাংলা_কার্টুন
​ #কার্টুন_সংগ্রহ
​ #শিল্প_ও_সংস্কৃতি
​ #আশ্রু_আর্কাইভ
#কুষ্টিয়া

গ্রন্থ: ইতিহাস কারখানা: প্রথম কাণ্ড — সত্য, সাদ্দাম হোসেন ও স্রাজেরদৌলালেখক: সলিমুল্লাহ খানপ্রচ্ছদ: সাখাওয়াত হোসেন হাওল...
31/08/2026

গ্রন্থ: ইতিহাস কারখানা: প্রথম কাণ্ড — সত্য, সাদ্দাম হোসেন ও স্রাজেরদৌলা
লেখক: সলিমুল্লাহ খান
প্রচ্ছদ: সাখাওয়াত হোসেন হাওলাদার
প্রকাশক: সলিমুল্লা খান, এশীয় শিল্প ও সংস্কৃতি সভা
প্রকাশকাল: প্রথম প্রকাশ, ফাল্গুন ১৪১৩ (ফেব্রুয়ারি ২০০৭)
​বিষয়বস্তু: সাম্রাজ্যবাদ, নব্য-উপনিবেশবাদ, ভাবমূর্তির রাজনীতি, সাংস্কৃতিক বর্ণবাদ এবং পশ্চিমা দর্শনের তাত্ত্বিক গলদ উন্মোচনের মাধ্যমে ইতিহাস, রাজনীতি ও সাহিত্য-দর্শনের বিকল্প বয়ানভিত্তিক সংকলন।
​মূল্য: ২০০.০০ টাকা (প্রকাশকালীন)
পৃষ্ঠা: ৯৬ টি
ISBN: 984-300-00259-6

​গ্রন্থটিতে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও গবেষক সলিমুল্লাহ খানের ১৪০৯ থেকে ১৪১৩ বঙ্গাব্দের মধ্যে লিখিত ৭টি গুরুত্বপূর্ণ নিবন্ধ ও ২টি তাৎপর্যপূর্ণ তরজমা স্থান পেয়েছে। পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের ভণ্ডামি এবং রাজনৈতিক বয়ানের নেপথ্য উদ্দেশ্য উন্মোচনে ইতিহাস ও দর্শনের এক ক্ষুরধার ও অসামান্য পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়েছে। কেবল তোপের মুখে শক্তি প্রয়োগ নয়, বরং স্থানিক কালচার ও ইতিহাসকে কীভাবে বিকৃত করে শাসন জোরদার করা হয়, তা বস্তুনিষ্ঠ তাত্ত্বিক প্রমাণের নিরিখে গ্রন্থটিতে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

​বইয়ের প্রথমাংশে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের গোড়াপত্তন এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিনী আগ্রাসনের তাত্ত্বিক ব্যবচ্ছেদ স্থান পেয়েছে। বাংলায় বিজয়ের পর ইংরেজ শাসকরা নিজেদের দখলদারিত্বের বৈধতা দিতে সিরাজউদ্দৌলাসহ সাবেক শাসকদের ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করার যে কৌশল নিয়েছিল, তা প্রামাণ্যভাবে উন্মোচিত হয়েছে। একই সাথে ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের ঘটনা বিশ্লেষণ করে এবং ১৭৯৮ সালে নেপোলিয়ন বোনাপার্টের মিশর অভিযানের ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে লেখক দেখিয়েছেন কীভাবে ‘মুক্তি’ ও ‘স্বাধীনতার’ নাম দিয়ে নব্য-উপনিবেশবাদী দাসত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়।

​গ্রন্থের মধ্যাংশে ফরাসি দার্শনিকদের তত্ত্বজ্ঞান এবং ইউরোপীয় বর্ণবাদের ইতিহাস আলোচিত হয়েছে। জাক দেরিদার লোগোসেনট্রিজম বা সোপাধিক সত্যের সমালোচনা এবং পরবর্তীতে ‘মার্কসের ভূত’ (Specters of Marx) রচনার মাধ্যমে বুর্জোয়া উদারনীতিবাদের তাবেদারিতে পর্যবসিত হওয়ার সীমাবদ্ধতা এতে তুলে ধরা হয়েছে। আল্যাঁ বাদিয়ু ও ফ্রান্স ফানোঁর ভাবনার আলোকে ‘মানবাধিকার’ ও ‘লেখকের স্বাধীনতা’ সংক্রান্ত ইউরোপীয় ধারণার অন্তরালে লুকিয়ে থাকা কায়মি স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক বর্ণবাদকে কঠোরভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

​শেষাংশে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সাহিত্য এবং সাংস্কৃতিক বর্ণবাদের বৈজ্ঞানিক পাঠের সংযোজন রাখা হয়েছে। নোবেলজয়ী কবি হ্যারল্ড পিন্টারের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী কবিতার বাংলা তরজমা এবং জন নিউসিঙ্গারের ‘ভগবান গ্রেস্টোক ও ঘুরঘুটি আফ্রিকা: টারজান কেচ্ছার রাজনীতি’ প্রবন্ধের অনুবাদ সংকলনটির মূল সুরকে আরও শক্ত ভিত্তি দান করেছে। এডগার রাইস বোরোজের ‘টারজান’ সাহিত্য কীভাবে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদকে উসকে দিয়ে আফ্রিকানদের পশুতুল্যভাবে উপস্থাপন করেছে, তা উদঘাটিত হয়েছে। সাম্রাজ্যবাদ, রাজনীতি ও দর্শনের নিবিড় ব্যবচ্ছেদ বুঝতে এই গ্রন্থটি গবেষক, শিক্ষার্থী ও চিন্তাশীল পাঠকদের জন্য এক আকর দলিল।

​বইটি অশ্রু আর্কাইভ-এর সংগ্রহে রয়েছে।
আর্কাইভ অন্তর্ভুক্তি ক্রম: ০০০৭৬৮

#সলিমুল্লাহ_খান #ইতিহাস_কারখানা
#সাম্রাজ্যবাদ #নব্য_উপনিবেশবাদ
#ইতিহাস #গ্রন্থপর্যালোচনা
#অশ্রু_আর্কাইভ #কুষ্টিয়া

বাংলা গানের ইতিহাস আর স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ—এই দুটি ধারা যেখানে এসে মিলেছে, সেই মোহনার নাম আব্দুল জব্বার। লালন ...
30/08/2026

বাংলা গানের ইতিহাস আর স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ—এই দুটি ধারা যেখানে এসে মিলেছে, সেই মোহনার নাম আব্দুল জব্বার। লালন শাহের স্মৃতিবিজড়িত সাংস্কৃতিক আবহ ও বাউল-বৈষ্ণব ঐতিহ্যের জেলা কুষ্টিয়ার আড়ুয়াপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন এই গুণী শিল্পী।

​সংগীতের প্রতি শৈশবের অনুরাগ থেকে ওস্তাদ ওসমান গনি ও ওস্তাদ লুৎফুল হকের কাছে তাঁর গানে হাতেখড়ি হয়। ১৯৫৮ সালে তৎকালীন পাকিস্তান বেতারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে শুরু হয় তাঁর পেশাদার সংগীতযাত্রা। ১৯৬২ সালে চলচ্চিত্রে গান গাওয়ার পাশাপাশি ১৯৬৪ সালে জহির রায়হান পরিচালিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’-এ গাওয়ার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। ষাটের দশকে বাংলা আধুনিক ও প্লেব্যাক গানের যে স্বর্ণযুগ ছিল, সেখানে তাঁর আবেগময় ভরাট কণ্ঠ এক অনন্য উচ্চতা লাভ করে।

​১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আব্দুল জব্বার ছিলেন এক দুরন্ত কণ্ঠযোদ্ধা। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে তাঁর কণ্ঠে গীত ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’, ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ ও ‘আমি এক বাংলার মুক্তিসেনা’ গানগুলো অবরুদ্ধ স্বদেশ ও রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের বুকে জুগিয়েছিল অদম্য শক্তি। হারমোনিয়াম হাতে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন ক্যাম্পে ঘুরে ঘুরে তিনি গান গেয়ে সাহস সঞ্চার করেছিলেন। ভারতের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে মুম্বাইসহ বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠন এবং তহবিল সংগ্রহেও নামেন তিনি। যুদ্ধ চলাকালীন গণসংগীত গেয়ে সংগৃহীত ১২ লাখ রুপি তিনি নিজের কাছে না রেখে তুলে দিয়েছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ তহবিলে।

​সংগীতজীবনের চার দশকেরও বেশি সময়ে চলচ্চিত্রে এবং আধুনিক গানের ভুবনে তিনি উপহার দিয়েছেন একের পর এক কালজয়ী সৃষ্টি। ১৯৭৮ সালে ‘সারেং বৌ’ চলচ্চিত্রে আলম খানের সুর ও মুকুল চৌধুরীর কথায় তাঁর গাওয়া ‘ওরে নীল দরিয়া’ গানটি বাংলা সিনেমার ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। এছাড়া ‘তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়’ (এতটুকু আশা), ‘পিচঢালা এই পথটারে ভালোবেসেছি’ (পিচঢালা পথ), ‘সুচরিতা যেওনাকো, আর কিছুক্ষণ থাকো’ (ঢেউয়ের পর ঢেউ), ‘একবুক জ্বালা নিয়ে’, ‘তারা ভরা রাতে তোমার কথা মনে পড়ে’ কিংবা ‘বিদায় দাও গো বন্ধু তোমরা’—গানগুলো তাঁর অতুলনীয় গায়নশৈলী ও আবেগ প্রকাশের উজ্জ্বল স্মারক।

​এই কালজয়ী সৃষ্টির ধারাবাহিকতায় ২০০৬ সালে বিবিসি বাংলার ঐতিহাসিক শ্রোতা জরিপে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ২০টি বাংলা গানের তালিকায় স্থান করে নেয় তাঁর গাওয়া তিনটি গান—‘তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়’, ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’ ও ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’।

​বাংলা সংগীতে ও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আব্দুল জব্বার ১৯৮০ সালে ‘একুশে পদক’ এবং ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’-এ ভূষিত হন। দরাজ কণ্ঠের জাদু এবং নিখাদ স্বাজাত্যবোধ নিয়ে তিনি যে সুরের ভুবন সৃষ্টি করেছিলেন, তা যুগ থেকে যুগে বাঙালি হৃদয়কে ব্যাকুল করে যাবে।

তথ্যসূত্র:
১. 'কালজয়ী গানের উজ্জ্বল কণ্ঠশিল্পী আব্দুল জব্বারের জন্মদিন', ডেইলি স্টার বাংলা, ৭ নভেম্বর ২০২০।
২. 'এক নজরে আব্দুল জব্বার' ডেইলি স্টার বাংলা,৩০ আগস্ট ২০১৭।
৩. 'আবদুল জব্বারের জীবনের শেষ দিনগুলো ও জনপ্রিয় তিন গানের গল্প', প্রথম আলো, ৩০ আগস্ট ২০২৫।
৪. 'স্মৃতির অ্যালবামে আব্দুল জব্বার, সেরা এই দশ গানে অমর কণ্ঠশিল্পী', সমকাল, ৩০ আগস্ট ২০২৫।
৫. 'আজ প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী আব্দুল জব্বারের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী', দৈনিক ইনকিলাব অনলাইন, ৩০ আগস্ট ২০২৫।
৬. 'আব্দুল জব্বারের গান মানুষের মুখে মুখে ফেরে', আনন্দ ভূবন, ৩০ আগস্ট ২০২৩।
৭. 'তারা ভরা রাতে তোমার কথা মনে পড়ে', জনবানী, ২৭ আগস্ট, ২০২৬।

​ #আব্দুল_জব্বার
#কালজয়ী_শিল্পী
#তুমি_কি_দেখেছ_কভু_জীবনের_পরাজয়
#সালাম_সালাম_হাজার_সালাম
াংলা_বাংলার_জয়
#একুশে_পদক
#স্বাধীনতা_পুরস্কার
#কুষ্টিয়ান
#কুষ্টিয়ার_ইতিহাস
#অশ্রু_আর্কাইভ
#কুষ্টিয়া

গ্রন্থ: বাংলাদেশের কবি ও কবিতাসম্পাদনা: নজরুল ইসলাম সাচীঅনুবাদ: আজিমুদ্দীন চৌধুরীপ্রচ্ছদ ও অলংকরণ: আমীর হোসেন সেলিমপ্রকা...
30/08/2026

গ্রন্থ: বাংলাদেশের কবি ও কবিতা
সম্পাদনা: নজরুল ইসলাম সাচী
অনুবাদ: আজিমুদ্দীন চৌধুরী
প্রচ্ছদ ও অলংকরণ: আমীর হোসেন সেলিম
প্রকাশক: সাজ প্রকাশন, ঢাকা
প্রকাশকাল: আগস্ট, ২০০৬
বিষয়বস্তু: বাংলাদেশের আধুনিক ও সমকালীন কবিদের দ্বিভাষিক (বাংলা ও ইংরেজি) কবিতা ও পরিচিতি সংকলন
মূল্য: ১৯০.০০ টাকা / ২০ ইউএস ডলার (প্রকাশকালীন)
ISBN: 984-32-3518-5

​গ্রন্থটিতে সম্পাদক নজরুল ইসলাম সাচী বাংলাদেশের আধুনিক ও সমকালীন কবিদের নির্বাচিত কবিতা এবং কবিপরিচিতি দ্বিভাষিক বিন্যাসে সংকলন করেছেন। বিশিষ্ট লোকবিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক ড. আশরাফ সিদ্দিকী গ্রন্থটির ভূমিকায় এটিকে একটি সময়োপযোগী মননশীল গ্রন্থ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মূলত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পাঠকদের কাছে বাংলা কবিতার সমকালীন ধারা ও কবিদের চিন্তার জগতকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই সংকলনটি প্রকাশ করা হয়েছে।

​বইটির প্রথমাংশে মূলধারার অগ্রজ কবিদের পরিচিতি এবং তাদের নির্বাচিত কবিতার মূল বাংলা ও ইংরেজি অনুবাদ স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে কবি শামসুর রাহমানের মহাজাগতিক ও মনস্তাত্ত্বিক ভাবনার কবিতা ‘অরূপ নক্ষত্রালোকে’ এবং কবি আল মাহমুদের বিখ্যাত ‘চতুর্দশপদী’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া কবি জাকারিয়া চৌধুরীর রাজনীতি, আধ্যাত্মিকতা ও প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতাভিত্তিক কবিতার পাশাপাশি কবি আ. ফ. ম. আব্দুর রশিদের সমাজ সংস্কারমূলক লেখনী ও পরিচিতি যুক্ত করা হয়েছে। আজিমুদ্দিন চৌধুরীর ভাষান্তরে কবিতাগুলোর ভাবার্থ ইংরেজি অনুবাদের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।

​গ্রন্থের শেষাংশে সমকালীন অন্যান্য কবিদের পরিচিতি ও সৃষ্টিশীলতা স্থান পেয়েছে। কবি, প্রাবন্ধিক ও শিশু সাহিত্যিক জাহানারা তোফাজ্জলের সাহিত্যিক অর্জন ও তাঁর ভ্রমণ এবং প্রকৃতির অনুষঙ্গে রচিত ‘পরিব্রাজক’ কবিতাটি এতে রয়েছে। পাশাপাশি কবি রোকেয়া ইউসুফের মানবমন ও প্রকৃতির রূপকনির্ভর কবিতা ‘নীল পাখা প্রজাপতি’ এবং স্বয়ং সম্পাদক ও কবি নজরুল ইসলাম সাথীর ‘অন্য পৃথিবীর খোঁজে’ ও ‘চলছে আমার জীবন ঘড়ি’ কবিতা দুটি সংকলিত হয়েছে।

​বাংলাদেশের আধুনিক কাব্যচর্চার বিবর্তন, সমকালীন কবিদের জীবনলেখ্য এবং বাংলা কবিতার আন্তর্জাতিক অনুবাদের ধারা পর্যালোচনার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য দলিল। সাহিত্যের শিক্ষার্থী, অনুবাদক এবং গবেষকদের জন্য গ্রন্থটি একটি প্রয়োজনীয় তথ্যসূত্র হিসেবে কাজ করবে।

​বইটি অশ্রু আর্কাইভ-এর সংগ্রহে রয়েছে।

#বাংলাদেশের_কবি_ও_কবিতা
#বাংলা_সাহিত্য
#কবিতা_সংকলন
#দ্বিভাষিক_বই
#বাংলাকবিতা
#অনুবাদ_সাহিত্য
#নজরুলইসলামসাচী


#অশ্রু_আর্কাইভ
#কুষ্টিয়া

গ্রন্থ: নজরুল সাহিত্যে উপমালেখক: ড. রিটা আশরাফপ্রচ্ছদ: ধ্রুব এষপ্রকাশক: মোঃ আলমগীর হোসেন, কালি কলম প্রকাশনা (৩৮/২ক, বাংল...
29/08/2026

গ্রন্থ: নজরুল সাহিত্যে উপমা
লেখক: ড. রিটা আশরাফ
প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ
প্রকাশক: মোঃ আলমগীর হোসেন, কালি কলম প্রকাশনা (৩৮/২ক, বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০)
প্রকাশকাল: প্রথম প্রকাশ, ফেব্রুয়ারি ২০১০
​বিষয়বস্তু: কাজী নজরুল ইসলামের কাব্য, কথাসাহিত্য, নাটক, পত্র ও প্রবন্ধে ব্যবহৃত অর্থালংকার, বিশেষত 'উপমা'র গঠন ও প্রয়োগরীতির তাত্ত্বিক ও বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ।
​মূল্য: ২৬০.০০ টাকা
পৃষ্ঠা: ২৫২ টি
ISBN: 984-70254-0066-3

​‘নজরুল সাহিত্যে উপমা’ গ্রন্থটিতে গবেষক ড. রিতা আশরাফ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব কাজী নজরুল ইসলামের রচনাবলীতে ব্যবহৃত উপমার নান্দনিক ও কারিগরির প্রয়োগ নিয়ে এক বিস্তৃত গবেষণা উপস্থাপন করেছেন। বইয়ের প্রথমাংশে উপমার অভিধানিক অর্থ, নান্দনিক সংজ্ঞা এবং বাংলা সাহিত্যে বিভিন্ন যুগে এর ব্যবহারের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরা হয়েছে। কবি নজরুল কীভাবে বাস্তব জগৎ, নিসর্গ এবং ভাবাবেগকে অলংকারিক উপমার মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন, তা রচনার রূপভেদ অনুযায়ী অধ্যায়ভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসে স্থান পেয়েছে।

​বইটির প্রথমাংশে নজরুলের কথাসাহিত্য ও গদ্য রচনায় ব্যবহৃত উপমার ধরন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ‘দুর্দিনের পথপ্রদর্শক’, ‘বুলবুলি’, ‘ব্যথার দান’, ‘রিক্তের বেদন’ ও ‘শিউলি মালা’র মতো গল্পসংগ্রহ এবং ‘বাঁধন-হারা’, ‘মৃত্যু-ক্ষুধা’ ও ‘কুহেলিকা’ উপন্যাসের চরিত্রচিত্রণ ও আবেগ প্রকাশের উপমাগুলো এখানে প্রামাণ্য উদাহরণসহ সংকলিত। এছাড়া ‘যুগবাণী’, ‘দুর্দিনের যাত্রী’ ও ‘রুদ্র-মঙ্গল’ প্রবন্ধ সংকলনের নিবন্ধগুলোতে (‘আমরা লক্ষ্মী ছাড়ার দল’, ‘জাগরণী’, ‘আমার পথ’, ‘বিষ-বাণী’) নজরুলের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক জাগরণের গদ্যে ব্যবহৃত রূপক ও ধারালো উপমার তাত্ত্বিক শ্রেণীকরণ করা হয়েছে।

​গ্রন্থের মধ্যাংশে নজরুলের নাট্য সাহিত্য, পত্রাবলি ও কাব্যগ্রন্থের উপমা-প্রয়োগ উদঘাটিত হয়েছে। ‘ঝিলিমিলি’, ‘আলেয়া’ ও ‘মধুমালা’ নাটকের সংলাপে প্রকাশিত ভাবালুতা, পৌরাণিক রূপক কিংবা বাস্তব জীবনের নানা প্রসঙ্গের উপমা এতে আলোচিত। পাশাপাশি নজরুলের ব্যক্তিগত পত্রাবলিতে ব্যবহৃত অন্তর্মুখী ও প্রকৃতি বিষয়ক রূপকের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। কাব্য অংশে ‘অগ্নি-বীণা’ (‘বিদ্রোহী’, ‘প্রলয়োল্লাস’, ‘কামাল পাশা’, ‘আনোয়ার’, ‘মোহররম’) ও ‘বিষের বাঁশি’ (‘কৈফিয়ত’) গ্রন্থদ্বয়ের পংক্তিমালা থেকে নজরুলের স্বাতন্ত্র্যসূচক উপমা-কাঠামো চিহ্নিত করা হয়েছে।

​শেষাংশে তাত্ত্বিক আলোচনার মাধ্যমে গবেষক ড. রিতা আশরাফ অধ্যাপক নরেন বিশ্বাসের অর্থালংকারের শ্রেণীবিভাগের নিরিখে নজরুলের সাহিত্যকর্মের পর্যালোচনা টেনেছেন। সাদৃশ্যমূলক অলংকারের অংশ হিসেবে উপমা, উৎপ্রেক্ষা ও রূপকের স্বচ্ছন্দ ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে লেখিকা নজরুলকে ‘উপমা সম্রাট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নজরুল-সাহিত্যের ভাষার গঠন, অলংকারিক বিন্যাস ও কাব্যিক কৌশল বিশ্লেষণে আগ্রহী পাঠকদের জন্য গ্রন্থটি একটি কার্যকর ও সুসংহত সহায়িকা।

​বইটি অশ্রু আর্কাইভ-এর সংগ্রহে রয়েছে।

#নজরুল_সাহিত্যে_উপমা
#কাজী_নজরুল_ইসলাম
#নজরুল_সাহিত্য
#কালি_কলম_প্রকাশনা
#ধ্রুব_এষ #বাংলা_সাহিত্য
#অশ্রু_আর্কাইভ #কুষ্টিয়া

নজরুলের কুষ্টিয়া পর্ব​কাজী নজরুল ইসলাম ঠিক কবে প্রথম কুষ্টিয়ায় পা রেখেছিলেন, তার স্পষ্ট দিন-তারিখ নথিভুক্ত না থাকলেও ইতি...
29/08/2026

নজরুলের কুষ্টিয়া পর্ব

​কাজী নজরুল ইসলাম ঠিক কবে প্রথম কুষ্টিয়ায় পা রেখেছিলেন, তার স্পষ্ট দিন-তারিখ নথিভুক্ত না থাকলেও ইতিহাস ও স্থানীয় বিপ্লবীদের সাক্ষ্য বলে, তিনি ১৯২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রথম এখানে আসেন। বিপ্লবী রাজনৈতিক কর্মী ও পরবর্তীকালে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য সুধীর সান্যাল (নন্দ সান্যাল) এবং তৎকালীন অন্যান্য প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কবি ১৯২৭ সালে সস্ত্রীক ও শিশুসন্তানসহ কুষ্টিয়ায় এসেছিলেন। আমলাপাড়ায় বন্ধু হেমন্তকুমার সরকারের ‘ডিউকট’ নামের বাসভবনে তিনি প্রায় এক বছর অবস্থান করেন।

​১৯২৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ কিংবা মার্চের প্রথম সপ্তাহে (ফাল্গুন ১৩৩৫) হেমন্তকুমার সরকারের আয়োজনে কুষ্টিয়ায় কৃষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবারসহ যোগ দেন নজরুল। সঙ্গে ছিলেন ব্রিটিশ কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ফিলিপ স্প্রাট, কমরেড মুজাফফর আহমদ ও আবদুল হালিম। কমরেড মুজাফফর আহমদ তাঁর স্মৃতিকথায় উল্লেখ করেছেন, এইটিই ছিল নজরুলের সঙ্গে তাঁর শেষবার একসাথে রাজনৈতিক মঞ্চে দাঁড়ানোর স্মৃতি।

​সম্মেলন শেষে সঙ্গীরা ফিরলেও নজরুল কিছুদিন থেকে যান। বসন্তের রমজানে তিনি গড়াই নদী পার হয়ে হাটশ হরিপুর গ্রামে যান। রেজোয়ান আলী খান চৌধুরীর বাড়ি হয়ে বিকেলে কবি পৌঁছান সুহৃদ আজিজুর রহমানের বাড়িতে। ​নদীর চরে শিকারে গিয়ে সেবার কবির ভাগ্যে জুটেছিল একটি হারিয়াল ও একটি ঘুঘু পাখি। কবির নির্দেশে সেই পাখির মাংস রান্না হলো— প্রচুর ঝাল আর অল্প ঝোলে।

​সন্ধ্যায় চা-পর্বের পর কাপড়ে ঢাকা একটি হারমোনিয়াম নিয়ে আসা হলে কবি বসলেন গানের আসরে। আজিজুর রহমানের স্মৃতিকথা থেকে জানা যায়, কবি একে একে গাইতে লাগলেন— ‘আসে বসন্ত ফুলবনে’, ‘আমারে চোখ ইশারায় ডাক দিলে’, ‘বাগিচায় বুলবুলি তুই’, ‘চল চল চল’ এবং ‘বাজলো কিরে ভোরের সানাই’-এর মতো জনপ্রিয় সব গান। সুরের এমন মোহিনী মায়াজাল ছড়িয়ে পড়েছিল যে, হাতে লণ্ঠন নিয়ে তারাবির নামাজে যাওয়া মুসল্লিরাও মসজিদের পথে থমকে দাঁড়িয়ে কবির গান শুনতে লাগলেন।

​তারাবির নামাজের সময় হয়ে এলে কবিকে সাময়িকভাবে গান থামাতে হয়। উপস্থিত মাতব্বর ও শ্রোতারা অনুরোধ জানান পরদিন আসরে আবার বসার জন্য। কবি নিঃশব্দে সঙ্গীদের সঙ্গে চোখের ইশারায় কিছু পরামর্শ করে নিলেন। উপস্থিত সবাই কবির নীরবতাকে সম্মতি ভেবে নামাজে চলে গেলেন।

​কিন্তু পরদিন সকালে উঠে দেখা গেল এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য। আজিজুর রহমান লিখেছেন:
​“পরদিন সকালে উঠেই দেখি কবির বিছানা শূন্য, সেইসঙ্গে হেমন্তবাবু ও নিশিকান্তবাবুর বিছানাও শূন্য।”

​ঘটনা বুঝতে পেরে এক তরুণ সাইকেল নিয়ে খেয়াঘাটের দিকে ছুটল। খেয়ামাঝি জানান, রাতের আঁধার কাটতে না কাটতেই দিনের প্রথম খেয়ায় নদী পার হয়ে চলে গেছেন তাঁরা।

​হঠাৎ এই গোপন অন্তর্ধানের রহস্য উন্মোচিত হয় কিছুদিন পর। কবি চলে যাওয়ার পরপরই কুষ্টিয়ায় ‘মীরাট ষড়যন্ত্র মামলা’র অধীনে একাধিক রাজনৈতিক কর্মী ও বিপ্লবী গ্রেপ্তার হন। ব্রিটিশ গোয়েন্দা নজরদারি ও সম্ভাব্য গ্রেপ্তার এড়াতেই কবি কাকডাকা ভোরে সবার অজান্তে কুষ্টিয়া ত্যাগ করেছিলেন।

​তথ্যসূত্র:
১. 'অজ্ঞাত নজরুলের সন্ধানে', অধ্যাপক আবুল আহসান চৌধুরী (পৃষ্ঠা ৭২-৮০)
২. ‘কুষ্টিয়াতে নজরুল’, আজকের পত্রিকা, ২৬ নভেম্বর ২০২১

#কাজী_নজরুল_ইসলাম
#নজরুলের_কুষ্টিয়া_পর্ব
#নজরুল_স্মৃতি
#জাতীয়_কবি
#মীরাট_ষড়যন্ত্র_মামলা
#বাংলা_সাহিত্য
#হরিপুর_কুষ্টিয়া
#গড়াই_নদী
#ঐতিহাসিক_কুষ্টিয়া
#বিপ্লবী_কবি
#হেমাঙ্গ_কুমার_সরকার
#মুজাফফর_আহমদ
#আজিজুর_রহমান
#অশ্রু_আর্কাইভ
#কুষ্টিয়া

গ্রন্থ: শ্রীহট্ট দর্পণলেখক: মৌলবি মাহাম্মদ আহমাদপ্রচ্ছদ: সমর মজুমদার প্রকাশক: উৎস প্রকাশন, ঢাকা (পরিমার্জিত সংস্করণ)প্রক...
28/08/2026

গ্রন্থ: শ্রীহট্ট দর্পণ
লেখক: মৌলবি মাহাম্মদ আহমাদ
প্রচ্ছদ: সমর মজুমদার
প্রকাশক: উৎস প্রকাশন, ঢাকা (পরিমার্জিত সংস্করণ)
প্রকাশকাল: প্রথম প্রকাশ, ১৮৮৬ (কলকাতা); পরিমার্জিত সংস্করণ, এপ্রিল ২০০৪
​বিষয়বস্তু: ১৯ শতকের শেষভাগে রচিত সিলেট (শ্রীহট্ট) অঞ্চলের ভূগোল, প্রশাসনিক পরিকাঠামো, জনসংখ্যাতত্ত্ব, রাজস্ব ব্যবস্থা, চিরস্থায়ী ও মেয়াদি মহালের হিসাব এবং কানুনগো ও স্থানীয় জমিদার পরিবারগুলোর ঐতিহাসিক আকর নথি বিশ্লেষণ।
​মূল্য: ৬৫ টাকা মাত্র (প্রকাশকালীন)
পৃষ্ঠা: ৮৪ টি
ISBN: 984-650-001-7

​গ্রন্থটিতে লেখক মৌলবি মাহাম্মদ আহমাদ সিলেট অঞ্চলের ভৌগোলিক গঠন, সামাজিক কাঠামো ও প্রশাসনিক ইতিবৃত্ত বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে সংকলন করেছেন। বইটিতে বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চল (রঘুনন্দন, বালিসিরা, শাৎফরগঞ্জ ও পথারিয়া) এবং প্রধান নদ-নদীর (কুশিয়ারা, সুরমা, পিয়াইন) দৈর্ঘ্য ও উচ্চতার সূক্ষ্ম পরিমাপের সাথে হাকালুকি হাওড়ের বিষদ বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৮৭১ ও ১৮৮১ সালের সরকারি আদমশুমারির উপাত্ত, ১৮৫৯-১৮৬৯ সালের শিক্ষা কাঠামোর বিস্তার এবং হযরত শাহ জালাল (র:)-এর শ্রীহট্টে আগমনের সময়কাল (৭৮৫ হিজরি / ১৩৮৪ খ্রিস্টাব্দ) ঐতিহাসিক তথ্যের আলোকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

​বইটির ৩য় ও ৪থ অধ্যায়ে শ্রীহট্টের আয়-ব্যয়, রাজস্ব নীতি এবং চিরস্থায়ী ও মেয়াদি মহালের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক বিবরণ নথিভুক্ত করা হয়েছে। এতে মোগল আমল (আকবরের রাজত্বে ১৬৭০৪০ টাকা) ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সময় (১৭৬৫ সালে ১৭৭৮০০ টাকা, ১৭৯৩ সালে ৮ লক্ষ কাহন) থেকে শুরু করে ১৮৮১ সালের জেলার আয়-ব্যয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ ছক আকারে উপস্থাপিত হয়েছে। ১৮৮১ সালে গভর্নমেন্টের মোট আয় ছিল ১১১০৬৯৯ টাকা এবং মোট ব্যয় ছিল ৭১১২১৪ টাকা। পাশাপাশি জেলার ৫০৯৯৫টি চিরস্থায়ী মহাল (বার্ষিক কর ৩৬৭৯৬০ টাকা) এবং ২৬৬৯টি মেয়াদি মহালের (বার্ষিক কর ২১৪২২২ টাকা) আইনি ও অর্থনৈতিক কাঠামো বর্ণিত হয়েছে।

​৫ম ও ৬ষ্ঠ অধ্যায়ে জেলার নিস্কর মহাল ও প্রধান কানুনগো পরিবারগুলোর ঐতিহাসিক তথ্য স্থান পেয়েছে। ১৭০৭টি নিস্কর মহালের তালিকার পাশাপাশি ১৫৮০ খ্রিস্টাব্দে আকবরের আমলে পরিমল দাস ও রাম দাস কানুনগোর নিয়োগ থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রভাবশালী পরিবারের প্রশাসনিক ভূমিকা পর্যালোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে কোম্পানি আমলে দীর্ঘ ৩৯ বছর দায়িত্ব পালনকারী মাহমুদ বখত মজুমদার, এবং ১৮৮২ সালে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভার সদস্য (এমএলসি) হিসেবে নিযুক্ত হাজি সৈয়দ বখত মজুমদারের কর্মকাণ্ড ও অবদান নথিসাপেক্ষে উপস্থাপন করা হয়েছে।

​গ্রন্থের শেষ অংশে আঞ্চলিক প্রশাসনিক উন্নয়ন, স্থানীয় মিউনিসিপ্যালিটি ব্যবস্থা, বাজার প্রতিষ্ঠা এবং রাজপরিবারগুলোর ভূমি স্বত্ত্ব সংক্রান্ত নথি পর্যালোচিত হয়েছে। ১৮৮৬ সালের মূল প্রকাশনার অবিকল রূপ ও তথ্যনিষ্ঠতা বজায় রেখে পুনঃপ্রকাশিত এই বইটি সিলেট অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি, রাজস্ব ইতিহাস এবং ঐতিহাসিক বংশলতিকা অনুসন্ধানে একটি নিরপেক্ষ ও নির্ভরযোগ্য আকর গ্রন্থ।

​বইটি অশ্রু আর্কাইভ-এর সংগ্রহে রয়েছে।
আর্কাইভ অন্তর্ভুক্তি ক্রম: ০০০৭৪৭

#শ্রীহট্টদর্পণ #সিলেটের_ইতিহাস #ঐতিহাসিক
#অশ্রু_আর্কাইভ #কুষ্টিয়া

Address

Kushtia

Opening Hours

Monday 15:00 - 20:00
Tuesday 15:00 - 20:00
Wednesday 15:00 - 20:00
Thursday 15:00 - 20:00
Saturday 10:00 - 18:00
Sunday 15:00 - 20:00

Telephone

+8801712122415

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ASHRU Archive posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Museum

Send a message to ASHRU Archive:

Shortcuts

Share

Category