23/07/2026
“জুলাইয়ে পোস্টার গার্ল সাধারণ শিক্ষার্থী, এখন ছাত্রী সংস্থার শীর্ষ নেত্রী!”
জুলাই আন্দোলন চলাকালীন রাজপথে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত না থাকা ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ হিসেবে দাবি করে যে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী শায়লা আক্তার আন্দোলনের অন্যতম পোস্টার গার্ল ও পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন, সম্প্রতি তাঁর আসল রাজনৈতিক পরিচয় জনসমক্ষে উন্মোচিত হয়েছে। জানা গেছে, তিনি মূলত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারী সংগঠন 'ইসলামী ছাত্রী সংস্থা'র শীর্ষ পর্যায়ের নেত্রী ও কেন্দ্রীয় ফোরামের অন্যতম প্রতিনিধি। আন্দোলনের সময় নিজেদের নিরপেক্ষ বা ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’র মুখোস পরে সামনে এনে জামায়াত-শিবির কীভাবে তাদের প্রশিক্ষিত কর্মীদের কৌশলে মাঠে নামিয়েছিল, শায়লা আক্তারের এই ঘটনাকে তার অন্যতম জ্বলন্ত উদাহরণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার শুরু থেকেই রাজপথে নামা সমন্বয়ক ও আন্দোলনকারীদের একাংশকে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডার বলে দাবি করলেও সাধারণ মানুষ তখন তা বিশ্বাস করেনি; কিন্তু আজ সময় গড়িয়ে এত দিন পর একের পর এক শীর্ষ চেহারার আসল দলীয় পরিচয় উন্মোচিত হওয়ায় সাধারণ জনগণের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে চরম প্রতিক্রিয়া ও গভীর মনস্তাত্ত্বিক খটকা।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও অপরাধ কৌশলবিদদের মতে, শায়লা আক্তারের মতো শত শত দলীয় কর্মীকে ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ ব্যানারে সুকৌশলে রাজপথে নামানো এবং পরবর্তীতে তাদের মাধ্যমে পুরো আন্দোলনকে নিয়ন্ত্রণ করার এই কৌশল প্রমাণ করে যে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিষ্পাপ কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের দিকে ঠেলে দেওয়াটা কোনো হঠাৎ ঘটা ঘটনা ছিল না, বরং তা ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও ‘মেটিকিউলাস ডিজাইন’ (Meticulous Design)। শান্তিপূর্ণ দাবি আদায়ের নাম করে সাধারণ ছাত্র-জনতার ক্ষোভকে পুঁজি করে জামায়াত-শিবির তাদের গোপন ক্যাডার নেটওয়ার্ক ও গোয়েন্দা কৌশল ব্যবহার করে পুরো সরকারকে পতন ঘটানোর মূল ব্লুপ্রিন্ট বাস্তবায়ন করেছিল, যা আজ প্রায় দুই বছর পর একের পর এক মুখোস উন্মোচনের মাধ্যমে দিবালোকের মতো স্পষ্ট হচ্ছে।