15/03/2026
******* মানুষের DNA কিভাবে কাজ করে ?
** মানুষের DNA (Deoxyribonucleic Acid) হলো জীবনের "ব্লু-প্রিন্ট" বা রান্নার রেসিপি বইয়ের মতো। আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষের ভেতর এই অতি ক্ষুদ্র অণুটি থাকে, যা নির্ধারণ করে আমাদের চোখ কী রঙের হবে, আমরা কতটা লম্বা হবো, বা আমাদের শরীর কীভাবে কাজ করবে।DNA কীভাবে কাজ করে তা বোঝার জন্য নিচের ধাপগুলো দেখা যেতে পারে:১. গঠন: পেঁচানো মই বা ডাবল হেলিক্সDNA দেখতে একটি মোচড়ানো বা পেঁচানো মইয়ের মতো, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ডাবল হেলিক্স (Double Helix) বলা হয়। এই মইয়ের দুই পাশের রেলিং তৈরি হয় চিনি (Sugar) এবং ফসফেট দিয়ে। আর মইয়ের ধাপগুলো তৈরি হয় চারটি বিশেষ রাসায়নিক ক্ষারক বা নাইট্রোজেন বেস দিয়ে:A (Adenine)T (Thymine)C (Cytosine)G (Guanine)এখানে একটি মজার নিয়ম আছে: A সবসময় T-এর সাথে জোড়া বাঁধে, আর C সবসময় G-এর সাথে।২. এটি কীভাবে তথ্য জমা রাখে?কম্পিউটার যেমন ০ এবং ১ (Binary code) দিয়ে সব তথ্য জমা রাখে, DNA ঠিক তেমনি এই চারটি অক্ষরের (A, T, C, G) বিন্যাস বা সিকোয়েন্সের মাধ্যমে তথ্য জমা রাখে। এই অক্ষরের নির্দিষ্ট সাজানো অংশকে বলা হয় জিন (Gene)। একটি জিনে লেখা থাকে শরীর কীভাবে একটি নির্দিষ্ট প্রোটিন তৈরি করবে।৩. প্রোটিন তৈরির কারখানা (Central Dogma)DNA নিজে সরাসরি কাজ করে না, বরং সে নির্দেশ দেয়। এর কাজ করার প্রক্রিয়াটি প্রধানত দুটি ধাপে সম্পন্ন হয়:ট্রান্সক্রিপশন (Transcription): কোষের নিউক্লিয়াসের ভেতর DNA থেকে তথ্যের একটি কপি তৈরি হয়, যাকে বলা হয় mRNA।ট্রান্সলেশন (Translation): এই mRNA কোষের রাইবোজোমে (প্রোটিন তৈরির কারখানা) যায়। সেখানে mRNA-র সংকেত অনুযায়ী অ্যামিনো অ্যাসিড জোড়া লেগে তৈরি হয় প্রোটিন।৪. বংশগতি ও অনুলিপি তৈরিযখন একটি কোষ বিভাজিত হয়ে নতুন কোষ তৈরি করে, তখন DNA নিজের হুবহু একটি কপি বা অনুলিপি তৈরি করতে পারে। একে বলা হয় রেপ্লিকেশন (Replication)। এর মাধ্যমেই বাবা-মায়ের বৈশিষ্ট্যগুলো সন্তানের শরীরে পৌঁছে যায়।সংক্ষেপে DNA-র কাজ:কাজবিবরণতথ্য ভাণ্ডারবংশগতির সব তথ্য ধরে রাখা।প্রোটিন সংকেতএনজাইম ও হরমোন তৈরির নির্দেশ দেওয়া।বংশবিস্তারএক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে বৈশিষ্ট্য স্থানান্তর।