ইলিন রহমান উমিরা -Elin Rahman Umira

ইলিন রহমান উমিরা -Elin Rahman Umira أنا قصة لم تكتمل بعد 📖
~✿~I am a story still being written.
(1)

ধন্যবাদ তোমাদেরকে ফলো দেওয়ার জন্য 🌸🥹! Neyon Loskor, নাদিয়া আক্তার, Nusrat Jahan, Mahira Khan, Miftaul Jannat, অরাত্রিয...
05/03/2026

ধন্যবাদ তোমাদেরকে ফলো দেওয়ার জন্য 🌸🥹! Neyon Loskor, নাদিয়া আক্তার, Nusrat Jahan, Mahira Khan, Miftaul Jannat, অরাত্রিয়া রহমান, Rahiya Noor, Sanjida Islam Sanju, আব্বুর রাজকন্যা, Jaññat Islam, Puja Roy, LuBaba Ulshe, Tanbir Hossain, Abir Hasan, Tofa Jannat, Sadia Mozumdar Rim, Kim Chowa, Nusaiba Jahan Ayat, Nusrat Nishi, চিত্ত চিরে চৈত্রমাস, Halima Rahman, Tu Ki, দিগন্তের শেষে, Ratia Sultana, মায়া কন্যা

 #অদ্ভুত_চুক্তি(strange_agreement) #লেখনীতে : ইলিন_রহমান (উমিরা) #পর্ব:০৪ গভীর রাতে ঘুম ভাঙ্গে নেহলের ।নেহাল ঘুম ঘুম চোখ...
03/03/2026

#অদ্ভুত_চুক্তি(strange_agreement)
#লেখনীতে : ইলিন_রহমান (উমিরা)
#পর্ব:০৪

গভীর রাতে ঘুম ভাঙ্গে নেহলের ।নেহাল ঘুম ঘুম চোখে পানি খেতে উঠে।লাইট জ্বালিয়ে পানি ঢেলে খেয়ে সে গ্লাসটা রাখে এবং রুমের দিকে তাকায় দেখে আবারো সব কিছু ঠিক করে রাখা ।চোখ পরিষ্কার করে আবার তাকায় নাহ সব কিছুই গুছানো কিন্তু কিভাবে? তার পুরো খেয়াল আছে সে ব্যাগ টা মেঝেতে ছুঁড়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল।তার মানে তার রুমে কেউ আছে...!! নেহাল একবার রুমটাকে পুরো দেখে নেয়। নাহ পুরো রুমে নেহাল ছাড়া কেউ নেই।নেহাল ভয়ে চেচিয়ে উঠে....

『নেহাল : কেউ কি আছেন ???থাকলে সামনে আসুন 』

কোনো সাড়া নেই।নেহাল মনের ভুল ভেবে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ে।কিন্তু আচমকাই নেহালের রুমটা ঠান্ডা হয়ে আসে কারো ঠান্ডা নিশ্বাস নেহালের ঘাড়ের উপর পড়ে।পুরো জমে যাচ্ছে নেহাল। শরীরে কাঁপনি উঠে যাওয়ার মত অবস্থা নেহালের। কানের সামনে কারো ফিস ফিস আওয়াজ ভেসে আসছে তবে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না। নেহালের গলা শুকিয়ে গেছে।কাঠ কাঠ গলায় সে বলে উঠে***

নেহাল : ক...কে..কে এখানে ?

অপরিচিত মেয়েলী কন্ঠ : আমি "এলিজা "

নেহাল ভয়ে আতকে উঠে ভাঙ্গা ভাঙ্গা গলায় বলে উঠে..

নেহাল : অপ.... আপ...আপনি এ..এল..এলিজা... জা?

এলিজা :হ্যাঁ আমি এলিজা :D..!!

নেহাল : কি চা...চাই... আ...আপনার..!!??

এলিজা : যুবকের তাজা র/ক্ত হাহাহা...!!

নেহাল : কীহহহ!!???

এলিজা :কত বড় সাহস তোদের...!!ভূতকে ডেকেছিস...এবার তো ঘাড় মোটকাবো মুয়াহাহাহাহা...!!

নেহাল কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলে উঠে.....

*দেখুন আমার কোনো দোষ নেই সব ওদের জন্যই হয়েছে।আমাকে যা করতে বলেছে শুধু তাই করেছি এর চেয়ে বেশি কিছু না*

এলিজা :তাতে আমার কি এমনি তোমাকে দেখে সুস্বাদু মনে হচ্ছে না : ) তারপর ও অনেক দিন পর কোনো মানুষের র/ক্ত খাবো হাহাহাহা..!

নেহাল তাড়াতাড়ি করে আয়াতুল কুরসী পাঠ শুরু করে তবে অনেক লাইন বাদ দিয়ে আর ভুলভাল পড়ছে। এলিজা উচ্চস্বরে হেসে উঠলো এবং বলল এইভাবে ভুল পড়লে আমাকে তাড়াতে পারবে বলে আমার মনে হয় না।তোমাকে মেরে আমি চলেও যাবো।

নেহাল :প্লীজ এমনটি করবেন না...আমার এখনো অনেক স্বপ্ন বাকি আছে ।

এলিজা : তো ?আমি কি করবো ?তবে একটা উপায় আছে....

নেহাল :কি সেটা?

এলিজা :নিজের একটি গভীর ইচ্ছা বলো এবং সেটা পূর্ণ করে দিতে পারলে তোমার আমাকে একটি সাহায্য করতে হবে ।

নেহাল :আমার ইচ্ছা পূর্ণ দিয়ে কি হবে ?

এলিজা :একটি ভালো আইডিয়া দিচ্ছি ভালো না লাগলে মরার জন্য প্রস্তুত হয়ে থাকো হাহাহাহা।

নেহাল : নাহ নাহ...

এলিজা :তাহলে জলদি করে বলে ফেলো।

নেহাল কিছুই ভেবে পাচ্ছে না এমনি ভয় পেয়ে আছে তার উপর ইচ্ছা না বললে নিশ্চিত মৃত্যু কিন্তু কেমন ইচ্ছা পেশ করা যায়..!!সে কি করবে বুঝতেই পারছে না।হঠাৎ তার মাথায় বুদ্ধি আসে....

নেহাল :আমার ইচ্ছা হলো আপনি চলে যান..।

এলিজা দৃশ্যমান হয় এবং বলে.....

এলিজা : কিহ...??আমি চলে গেলে ইচ্ছে পূরণ কীভাবে করবো ?

নেহাল :আপনি চলে গেলে আমার ইচ্ছা পূর্ণ হয়ে যাবে তো..!!

এলিজা :তাহলে আমার কি হবে ?

নেহাল : সেটা আমি কি করে বলবো ?

এলিজা এবার রেগে গেলো রুমের সব কিছু শূন্যে ভাসতে থাকে এবং সব কিছু এইদিক সেইদিক ছুটতে থাকে।নেহাল ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলে। হটাৎ সব শান্ত হয়ে যায় ।আর কিছুর শব্দ শুনতে না পেয়ে সে মিট মিট করে তাকায়।তাকাতেই সে নিজেকে ভাসমান আবিষ্কার করে নিচে একদম রাস্তা গাড়ি চলাচল করছে ।আর সে আকাশে,পুরো শহর দেখা যাচ্ছে।নেহাল একদম ভয় পেয়ে যায়।এলিজা পিছে থেকে বলে উঠে।বলো এবার তোমার ইচ্ছা......

নেহাল :আমাকে এদিক থেকে নামাও প্লীজ...!!

এলিজা : আচ্ছা....

এই বলে এলিজা তাকে ছেড়ে দেয় পুরো উপর থেকে নেহাল পড়ে যেতে থাকে...নেহাল ভাবে তার আর এই যাত্রায় বেঁচে ফেরা হবে না।হঠাৎ ই সে আবার ঠান্ডা অনুভব করে এবং তার কানের সামনে এলিজা ফিস ফিস করে বলে......
"এখন ও সময় আছে বলে দিতে পারো তোমার ইচ্ছা".....নেহাল চোখ বড় বড় করে দেখতে পায়.........

#চলবে
(end of part:০৪)

অপ্রাপ্তি প্রণয়  #পর্ব :১১ #ইলিন_রহমান_উমিরা আরুশি বাইকের পেছনে আড়ষ্ট হয়ে বসার পর শুভাদিত্য সামনের দিকে ঝুঁকে হ্যান্ডেল...
01/03/2026

অপ্রাপ্তি প্রণয়
#পর্ব :১১
#ইলিন_রহমান_উমিরা

আরুশি বাইকের পেছনে আড়ষ্ট হয়ে বসার পর শুভাদিত্য সামনের দিকে ঝুঁকে হ্যান্ডেল ধরল। স্টার্ট দেওয়ার আগে মিররে আরুশির দ্বিধাগ্রস্ত মুখটা একবার দেখে নিয়ে শান্ত গলায় বলল—
"একটু শক্ত করে ধরে বসুন, নাহলে পড়ে যেতে পারেন। রাস্তাটা বেশ এবড়োখেবড়ো।"
এতটা নিখুঁত আর সহজ বাংলা উচ্চারণ শুভাদিত্যের মুখে আশা করেনি আরুশি। সে এতটাই অবাক হলো যে নিজের অজান্তেই প্রশ্নটা করে ফেলল, "আপনি... আপনি বাংলা বলতে পারেন?"
শুভাদিত্য এবার সাইড লুকিং গ্লাসে আরুশির চোখের দিকে সরাসরি তাকালো। তার ঠোঁটের কোণে খুব সূক্ষ্ম একটা হাসির রেখা ফুটে উঠল— যা হয়তো কেবল গ্লাসেই ধরা সম্ভব। সে ধীরস্থিরভাবে জবাব দিল—

"হ্যাঁ, পারি তো। খুব একটা খারাপ কি বললাম?"
আরুশি লক্ষ্য করল শুভাদিত্যের কণ্ঠস্বরটা বেশ গম্ভীর হলেও তাতে এক অদ্ভুত প্রশান্তি আছে। তার চোখের দৃষ্টির সামনে আরুশি কেমন যেন গুলিয়ে ফেলল নিজেকে। দ্রুত দৃষ্টি নামিয়ে নিয়ে ওড়নাটা আঙুলে জড়াতে জড়াতে বলল—

"নাহ, আসলে আশা করিনি তো... তাই। নাহ, কিছু না।"
বাইকটা চলতে শুরু করতেই আরুশি ভারসাম্য রাখতে শুভাদিত্যের কাঁধটা আলতো করে ছুঁলো। পড়ন্ত বিকেলের বাতাসে তখন কেবল বাইকের ইঞ্জিনের শব্দ আর দু'জন মানুষের নীরব কথোপকথন।

জড়ো শোরো আওয়াজে বাড়ীর ভিতর বাইক ঢুকে পড়লো অনুরাধা বাহিরে বেরিয়ে দেখেন শুভাদিত্যের সাথে আরুশি ফিরেছে। শুভাদিত্যের বাইক থেকে নেমে যায় আরুশী অনুরাধা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন.." কি হয়েছে আরুশি এত দেরি করলে যে ফিরতে?"
আরুশী ভাঙ্গা ভাঙ্গা কন্ঠে বলল.." আন্টি শুভাদিত্য যদি না থাকতেন তাহলে আমার হয়তো আর কখনো ফিরা হতো না।"

অনুরাধা শুভাদিত্যের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন.."কি হয়েছে শুভ ?"

শুভাদিত্য বাইক থেকে নেমে বলল.."তেমন কিছু হয়নি কিছু রাস্তার কুকুর আছে না ঘেউ ঘেউ করার জন্য তারই শিকার হচ্ছিলো।"

এই বলে শুভাদিত্য ঘরের দিকে পা বাড়ায়। অনুরাধা আরুশিকে বলল.." তোমার এভাবে একা আসা ঠিক হয়নি আগে। আজ শুভ ছিল দেখে না হয় আমরা তোমার পরিবারের কাছে কি বলতাম বলো ?"

আরুশি মাথা নিচু রেখেই বলে উঠে.."আন্টি শুভাদিত্যের ঘাড় থেকে রক্ত বের হচ্ছে ।আরুশির কথা শেষ হওয়ার আগেই অনুরাধা আঁতকে উঠলেন। তিনি দ্রুত শুভাদিত্যের দিকে এগিয়ে গিয়ে ওর কাঁধের ওপরের জ্যাকেটটা টেনে ধরলেন। শুভাদিত্য তখনো নির্বিকার, যেন নিজের শরীরে চোটের চেয়েও আরুশির ফিরে আসাটুকুই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
অনুরাধা আর্তনাদ করে উঠলেন, "একি শুভ! এতোটা রক্ত বেরোচ্ছে আর তুই একটা কথাও বলছিস না?"

শুভাদিত্য থেমে গেল। পা বাড়াতে গিয়েও আরুশির করুণ মুখটার দিকে একবার আড়চোখে তাকালো। তারপর খুব নির্লিপ্ত গলায় বলল—
"আরে ও কিছু না মা। আরুশিকে বাঁচাতে গিয়ে ওই কুকুরগুলোর সাথে একটু ধ্বস্তাধস্তি হয়েছিল। জ্যাকেটের ভেতর দিয়ে হয়তো সামান্য নখ লেগেছে।"
আরুশির চোখ তখন জলে টলমল করছে। সে অপরাধীর মতো দাঁড়িয়ে দেখছিল— শুভাদিত্যের সাদা শার্টের কলারটা রক্তে ভিজে উঠেছে। সে কাঁপা গলায় বলে উঠল—
"আমার জন্যই এটা হয়েছে আন্টি। আমি যদি সাবধানে আসতাম..."

অনুরাধা আরুশির হাত ধরে একটু শান্ত করার চেষ্টা করলেন, কিন্তু তার চোখ ছিল ছেলের দিকে। তিনি বকা দেওয়ার সুরে বললেন—
"তুই চিরকালই এমন জেদি শুভ! যা, ঘরে গিয়ে বস। আমি ব্যান্ডেজ আর ওষুধ নিয়ে আসছি। আরুশি মা, তুমিও এসো। আগে ওর ক্ষতটা পরিষ্কার করতে হবে।"
শুভাদিত্য মৃদু হাসল, সেই একই রহস্যময় আর শান্ত হাসি। সে আরুশির চোখের দিকে তাকিয়ে নিচু স্বরে বলল—
"কান্না করলে আপনাকে সত্যি হিলেরিয়াস (হাস্যকর) লাগে।"

অনুরাধা দ্রুত ফার্স্ট এইড বক্স নিয়ে ফিরে এলেন। শুভাদিত্য ইতিমধ্যেই সোফার পাশে বসে জ্যাকেট খুলে রেখেছে। সাদা শার্টের কাঁধের অংশটা রক্তে ভিজে গাঢ় লাল হয়ে উঠেছে।
“শার্টটা খুলে ফেল,” কড়া গলায় বললেন অনুরাধা।
শুভাদিত্য এক মুহূর্ত চুপ করে রইল। তারপর ধীরে ধীরে বোতাম খুলতে শুরু করল। আরুশি দাঁড়িয়ে আছে একটু দূরে— কিন্তু চোখ সরাতে পারছে না।
শার্ট খুলতেই কাঁধের ওপরের কাটা দাগটা স্পষ্ট হয়ে উঠল। খুব গভীর না হলেও লম্বা চিরে যাওয়া ক্ষত। শুকনো রক্ত জমে আছে চারপাশে।
অনুরাধা তুলো ভিজিয়ে ক্ষত পরিষ্কার করতে শুরু করলেন।
“একটুও সাবধানে থাকতে পারিস না?” তার গলায় রাগের সঙ্গে ভয় মিশে আছে।
শুভাদিত্য কোনো উত্তর দিল না।
আরুশির বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল।
সে ধীরে ধীরে এগিয়ে এল।
“আমি... আমি সাহায্য করতে পারি?”
অনুরাধা তাকালেন তার দিকে। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন—
“এইটা ধরো।”
আরুশির হাতে তুলোর বাটি তুলে দিলেন।
আরুশির আঙুল কাঁপছিল। সে ধীরে ধীরে তুলো বাড়িয়ে দিল।
ঠিক তখনই শুভাদিত্যের চোখ তার হাতের দিকে গেল।
কাঁপছে।
সে চোখ সরিয়ে নিল।
অনুরাধা ব্যান্ডেজ করতে করতে বললেন—
“আজ থেকে একা কোথাও যাবে না, আরুশি। বুঝেছ?”
আরুশি মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।
“জি আন্টি।”

অনুরাধা ব্যান্ডেজ শেষ করে রান্নাঘরের দিকে গেলেন আরুশিকে চা করার কথা বলে। বসার ঘরে এখন শুধু শুভদিত্য আর আরুশি। শুভদিত্য সোফায় হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে আছে, ফর্সা কপালে কয়েকটা অবাধ্য চুল এসে পড়েছে। আরুশি ফার্স্ট এইড বক্সটা গোছাতে গিয়েও বারবার তার দিকে তাকাচ্ছে।
"দাগটা কি থেকে যাবে?" আরুশির খুব নিচু স্বরে করা প্রশ্নে শুভদিত্য চোখ মেলল।
সে একবার নিজের ব্যান্ডেজ করা কাঁধের দিকে তাকিয়ে পুনরায় আরুশির দিকে তাকাল। সেই অদ্ভুত জলপাই রঙের চোখে এখন কোনো কঠোরতা নেই।
"দাগ থাকা ভালো আরুশি।

আরুশি চুপ করে রইল। শুভদিত্য হঠাৎ একটু ঝুঁকে এসে বলল, "আচ্ছা, ওই সময় অত ভয় পেয়েছিলেন কেন? আমি কি দেখতে খুব বেশি ভুতুড়ে?"
আরুশি অপ্রস্তুত হয়ে বলল, "নাহ... মানে আপনি যেভাবে মারপিট করছিলেন, আর আপনার চোখগুলো..."
"চোখগুলো কী?" শুভদিত্যর কণ্ঠে এবার কৌতুক।
"খুব ভয়ংকর লাগছিল। মনে হচ্ছিল আপনি কাউকে মেরেই ফেলবেন।"
শুভদিত্য একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সোজা হয়ে বসল। "রাগের মাথায় মানুষ যা করে, তা সে নিজেও জানে না। কিন্তু আপনাকে যখন ওরা ওভাবে ঘিরে ধরেছিল, তখন আমার মাথা ঠিক রাখার মতো বিলাসিতা করার সময় ছিল না।"
আরুশি এবার সরাসরি তার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, "ধন্যবাদ। আপনি না থাকলে আজ আমার কী হতো আমি জানি না।"
শুভদিত্য তার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থেকে ধীর গলায় বলল, "ধন্যবাদ দিতে হবে না। শুধু একটা কথা মনে রাখবেন—দিল্লির রাস্তা যেমন এবড়োখেবড়ো, এখানকার মানুষগুলোও তেমন।

আর কোনো কথা না বারিয়ে শুভ নিজের রুমে চলে গেল । অনুরাধা চা নিয়ে হাজির হলেন.."আরুশি যাও ফ্রেশ হয়ে আসো আর বেশি ভেবো না সব ঠিক আছে কাল থেকে শুভকে বলবো ড্রপ করে দিয়ে আসতে কেমন, আর খবরদার তুমি এখানে নতুন শর্ট কাট নিতে যাবা না কখনো।" মাথায় হাত রেখে অনুরাধা বলে উঠলেন।

আরুশি আজকে বড় বাঁচা বেঁচে গেল ওয়াশরুমে গিয়ে আয়নায় তাকিয়ে অঝোরে কেঁদে উঠলো।আজ তার ইজ্জতের মূল্য থাকতো না নিজেকে কিভাবে বাঁচাতো ঠিক সময়ে শুভ না আসলে কি হতো ওর? রাত টা কোনো ভাবে ভয় আর চিন্তায় কেটে যাচ্ছে আরুশির বাড়ীর সবাই শুনে তাকে ভয় পেতে বারণ করেছে।তাঁরা আরুশির সাথে আছে বলে আরুশির ভয়টা অনেক খানি কমে গেল।

পরদিন সকাল থেকেই আরুশির মনটা উশখুশ করছে। কাল রাতে শুভদিত্যর ওই রক্তমাখা শার্ট আর শান্ত মুখটা বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। লোকটা তাকে বাঁচানোর জন্য নিজের শরীরের তোয়াক্কা করেনি, অথচ মুখে একটা টুঁ শব্দও করেনি। আরুশি ঠিক করল, আজ সে নিজের হাতে কিছু রান্না করে শুভদিত্যকে খাওয়াবে। এটাই হবে তার পক্ষ থেকে ছোট্ট একটা কৃতজ্ঞতা।বিকেলে সুপার শপে গিয়ে আরুশি ইলিশ মাছ আর সরষে জোগাড় করে বাড়ি ফিরলো। জানভি দরজা খুলে আরুশির হাতে বাজার দেখে জিজ্ঞাসা করে উঠলো..

— "কি ব্যাপার আরু দি? হঠাৎ রান্নার এতো শখ চাপল যে? মা তো রান্না করেই রেখেছে।"
আরুশি লাজুক হেসে বলল, "আসলে শুভদিত্যর জন্য আর কি। জানভি একসাইটেড হয়ে বলল... "দি তুমি রান্না করবে?"

আরুশি মাথা ঝাঁকালো।" জানভী আমাকে একটু হেল্প করতে হবে কিন্তু"

জানভি হাসি মুখে উত্তর দিলো..
—"অবশ্যই দি কেন নয়"

বিকেলে রান্নাঘরে আরুশির ব্যস্ততা শুরু হলোরান্নাঘর থেকে আসা সরিষার তেলের সেই তীব্র ঝাঁঝালো আর মশলাদার সুবাস যখন পুরো ড্রয়িং রুমে ছড়িয়ে পড়ল, জানভি বই ফেলে রান্নাঘরে ছুটে এল। সে নাকে হাত দিয়ে অদ্ভুত এক বিস্ময় নিয়ে আরুশির দিকে তাকাল।
— "ওহ মাই গড, আরু দি! এটা কিসের ঘ্রাণ? এত স্ট্রং আর ডিফারেন্ট!"
আরুশি তখন কড়াইতে সরিষা ইলিশের ঝোলটা কষাচ্ছিল। সে হেসে বলল, "এটা সরিষার তেল আর ইলিশ মাছের ঘ্রাণ জানভি। আমাদের বাংলাদেশে এটা খুব জনপ্রিয়।"
জানভি একদম কড়াইয়ের কাছে নাক নিয়ে এসে লম্বা একটা নিঃশ্বাস নিল। তার চোখেমুখে তখন একরাশ কৌতূহল।
— "ইট স্মেলস আমেজিং (It smells amazing)! আমি এর আগে কখনো এরকম কোনো ঘ্রাণ পাইনি। দিল্লির খাবারে তো আমরা গরম মশলা আর মাখনের ঘ্রাণ পাই, কিন্তু এই ঝাঁঝটা তো একদম আলাদা! দিদি, আমাকে একটু টেস্ট করতে দাও না প্লিজ?"
আরুশি একটা ছোট চামচে একটু ঝোল তুলে জানভির দিকে বাড়িয়ে দিল। রান্নাঘরের দরজায় দাঁড়াতেই অনুরাধা আর জানভী তাকে দেখে অবাক হলেন। বাসমতি চাল আর ইলিশ মাছের গন্ধ পেয়ে অনুরাধা ভ্রু কুঁচকে এগিয়ে এলেন।
— "এসব কী আরুশি মা? এই অসময়ে মাছ-পোলাওয়ের আয়োজন কেন?"

–" আসলে আন্টি আমি নিজের থেকে কিছু করতে চাইছিলাম আর শুভাদিত্যকে ভালোভাবে থ্যাঙ্ক ইউ জানানো হয়নি তাই আর কি.."

—তীব্র ঘ্রাণ শুভ সহ্য করতে পারবে না। ও তো এমনিতেই খুব সিলেক্টিভ খাবার খায়। ও যদি একতলা থেকে এই ঝাঁঝ পায়, তবে রেগে আগুন হয়ে যাবে। দিল্লিতে আমরা এতোটা মশলাদার আর তেলযুক্ত খাবার সচরাচর ঘরে বানাই না।"
জানভি মায়ের দিকে তাকিয়ে জেদ ধরল, "আরে ধুর মা! ভাইয়া কী বলবে সেটা পরে দেখা যাবে। আগে দেখো আরু দি কী অসাধারণ একটা জিনিস বানাচ্ছে! মা, আমি এর আগে কোনোদিন এরকম কিছু খাইনি। আমার আজ এটাই চাই!"
অনুরাধা আরুশির দিকে তাকিয়ে একটু নিচু স্বরে বললেন, "শুভ ওর ডায়েট নিয়ে খুব খিটখিটে। ও শুধু গ্রিলড ভেজিটেবল আর হালকা চিকেন পছন্দ করে। এই মাছের তীব্র আঁশটে গন্ধ আর সরিষার ঝাঁঝ ও একদমই পছন্দ করবে না। তুমি শুধু শুধু কষ্ট করছ মা, ও হয়তো এটা মুখেও তুলবে না।"
আরুশি একটু দমে গেল।আসলেই সে এটা ভাবেনি এখন সে কি করবে ?

— "একদম না! মা ভয় পাচ্ছে তো কী হয়েছে? ভাইয়া না খেলে না খাবে, আমি আর তুমি মিলে সব সাবাড় করে দেব। আরু দি, তুমি রান্নাটা শেষ করো তো! এই ঘ্রাণটাই আমাকে পাগল করে দিচ্ছে, স্বাদটা না জানি কেমন হবে!"
অনুরাধা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ওড়নাটা মাথায় টেনে দিয়ে বেরিয়ে গেলেন। তিনি জানেন তাঁর মেয়ে একবার জেদ ধরলে তাকে থামানো মুশকিল। তবে তাঁর মনে ভয়— শুভদিত্য যখন ঘরে ফিরবে, তখন এই ঘ্রাণে হয়তো পুরো বাড়ি মাথায় তুলবে।
জানভি আরুশির পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিটি স্টেপ দেখতে লাগল। তার কাছে মনে হচ্ছে সে কোনো রহস্যময় জাদুকরী ল্যাবরেটরিতে দাঁড়িয়ে আছে।
— "জানো দিদি, দিল্লিতে আমরা সচরাচর মাটন বা চিকেন খাই, কিন্তু এই ফিশ কারিটা দেখতেই অন্যরকম লাগছে। তাড়াতাড়ি শেষ করো, আমি ওয়েট করতে পারছি না!"
রান্না শেষ হলো। বাসমতি চালের ধোঁয়া ওঠা পোলাও আর লালচে সরিষা ইলিশ যখন টেবিলে রাখা হলো, জানভি প্রায় প্লেট হাতে বসেই পড়েছিল। ঠিক তখনই বাইরে শুভদিত্যর বাইকের গর্জন শোনা গেল। জানভি জিব কেটে ফিসফিস করে বলল— "দ্য লায়ন ইজ হিয়ার
শুভদিত্য ঘরে ঢুকেই থমকে গেল। দিল্লির সেই শুকনো বাতাসে তখন বাঙালির খাঁটি ইলিশের রাজকীয় ঘ্রাণ। সে সরাসরি ডাইনিং টেবিলের দিকে এগিয়ে এল। আরুশি জড়োসড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। শুভদিত্য টেবিলের কাছে এসে বাটিটার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকালো।
— "হোয়াট ইজ দিস স্মেল?" শুভদিত্যর গম্ভীর কণ্ঠস্বর ড্রয়িং রুমে প্রতিধ্বনিত হলো।

(চলবে )

"তুমি জানো, প্রজাপতিরা তাদের ডানার রং দেখতে পারে না। কিন্তু আমরা মানুষ দেখতে পাচ্ছি ঠিক তারা কতটা সুন্দর🦋💗একই ভাবে.....ত...
27/02/2026

"তুমি জানো, প্রজাপতিরা তাদের ডানার রং দেখতে পারে না। কিন্তু আমরা মানুষ দেখতে পাচ্ছি ঠিক তারা কতটা সুন্দর🦋💗
একই ভাবে.....
তুমি নিজেকে হয়তো নিজেকে যথেষ্ট ভালো মনে করো না,কিন্তু অন্যরা দেখতে পারবে তুমি কতটা বিশেষ..!😌🎀

  Writer :  #ইলিন_রহমান_উমিরা নীল শান্ত সুরে বললেন আমদের যদি একটু সময় দেন স্যার আমরা আপনাকে প্রমাণ দিচ্ছি। নীল আমি সামন...
23/02/2026


Writer : #ইলিন_রহমান_উমিরা
নীল শান্ত সুরে বললেন আমদের যদি একটু সময় দেন স্যার আমরা আপনাকে প্রমাণ দিচ্ছি। নীল আমি সামনে যেতেই দেখি দেয়ালের সেই অংশটা এখন আবার একদম স্বাভাবিক। যেন কখনো কিছুই হয়নি।

অফিসার বিরক্ত গলায় বললেন— তোমরা দুজন নিজেদের মত মনগড়া গল্প বলে আমাদের এদিকে নিয়ে এসেছ!!

নীল বলল স্যার এইদিক টা এখন পুরো সাভাবিক হলেও আমি জানি এই দেয়াল টা সেই বাড়ীর সাথে কোনো না কোনো ভাবে অ্যাটাচ করা।" যদি আরেকটু সময় দেন তাহলে অবশ্যই আমি প্রমাণ করবোই, একটু অপেক্ষা করেন আর সকলের সেফটি কামনা করছি স্যার।" অফিসার দীর্ঘ শ্বাস ফেলে মাথা নাড়ল এবং বলল "আমি তোমাকে সাহায্য করবো তাড়াতাড়ি করতে হবে এই রাস্তা দিয়ে পুলিশ কার পাঠানো হয়েছে তোমার কথায় তারা বেরিয়ে গিয়েছে।" নীল সাড়া পেতেই আর দেরি করলো না চলে গেলো বাড়ীর দিকে। আলতো করে দরজা খুলে নীল ভিতরে ঢুকলো তার সাথে আমিও।

পুরো বাড়িতে শুধু একটা হলুদ লাইট জ্বালানো সে ধীর পায়ে সামনে এগুচ্ছে উপর দিয়ে সিঁড়ি চলে যাচ্ছে তার নিচেই ছোট্ট একটি স্টোর রুম। কিন্তু সেটিতে তালা ঝুলানো। নীল আমার দিকে তাকিয়ে বলল..."এটায় তালা লাগানো" আমি বললাম "তো এখন কি করবেন ?"
সে আমাকে বলল.."আমাদের সেই জায়গাটাই খুলতে হবে যে করেই হোক।" আমারা তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়লাম।নীল ওই টানেলের কাছে এগিয়ে যায়। সেই দেয়ালের সামনে এসে টর্চ এর আলো ফেলে নীল সূক্ষ্ম নজরে দেখছে। অনেক খুঁজেও কিছু না পেয়ে নীল বলল "আমার কাছে সব তথ্য আছে হিসাব ও মিলানো শেষ কিন্তু প্রমাণ টা করতে পারছি না।" এই বলেই সজোরে দেয়ালে আঘাত করতেই একটি ইট ভিতরে ঢুকে গেল। নীল আর আমি দুজনই অবাক হয়ে গেলাম। হালকা করে খুলে গেল দেয়ালটি আমরা ভিতরে ঢুকে দেখলাম লোহার একটি দরজা গোল আকৃতির চারদিকে স্ক্রু লাগানো। নীল তার ব্যাগ থেকে স্ক্রু ড্রাইভার বের করলো আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম,"আপনি এইসব নিয়ে কেন ঘুরেন ?" নীল স্ক্রু খুলতে খুলতে বলতে লাগলো "প্রয়োজনীয় সব কিছুই রাখি" আমি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি তার দিকে। আস্তে আস্তে প্রায় সব স্ক্রু খোলা হতেই নীল হালকা ধাক্কা দেয় স্টিলের দরজা সাইড চেপে গেল খুলতেই আঁশটে একটা গন্ধ নাকে ভেসে আসলো।সে প্রথমে নেমে আমাকে হাত ধরে নামায়। রুমটায় লাল রঙের আলো জ্বলছে পাশে অনেক ড্রয়ার যেন একটি মর্গ ঘরে প্রবেশ করেছি। নীল একটি ড্রয়ার খুলতেই দেখি সাদা কাপড়ে ঢাকা কিছু। সে কাপড় উঠিয়ে যা দেখতে পায় সেটির জন্য সেও প্রস্তুত ছিল না। সাদা শরীর পুরো ছেলেটির ফ্যাকাশে চেহারা আমি দেখেই চোখ বন্ধ করে নীলের হাত খামচে ধরলাম গন্ধে বমি চলে আসছে।ভয়ে হাত পা আমার নড়ছে না নীল নিজে কোনো মতো সামলে বললো অফিসারকে কোনোভাবে এটা দেখাতে হবে।হঠাৎ কারো সামনে আসার শব্দ পেতেই নীল আমাকে বলল সেখানে চড়ে অফিসারকে ডাকতে আমার থেকে উচু হওয়ায় আমি উঠতে পারছি না সে আমার সামনে হাতের উপর হাত ভাঁজ করে রাখে আমি কোনমতে সেটায় পা রেখে চড়ে যাই। ততক্ষণে সেখানে একজন প্রবেশ করে আমি নীলের দিকে হাত বাড়াই নীল আমার হাত ধরে উঠতে যাবে ঠিক তখনই নীলের মাথায় একজন সজোরে আঘাত করলো নীল ছিটকে পড়ে গেলো আমার চোখ বড় বড় হয়ে গেল সামনে প্রফেসর নিজে দাঁড়িয়ে আমি নীল বলে চিৎকার করতেই প্রফেসর আমাকে ধরার চেষ্টা করলো কিন্তু পারলো না নীল তার পা ধরে রেখেছে। নীল আমাকে বলল.."গো সায়েরা ডোন্ট বি লেট।" আমি তাড়াতাড়ি বেরিয়ে অফিসার কে ডাক দিতেই সবাই দড়িয়ে আসলো। আমি চিৎকার করে বললাম " সেভ নীল প্লীজ...প্রফেসর আসল ক্রিমিনাল" অফিসার তাড়াতাড়ি করে লোক পাঠালো কিন্তু অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছে ঘরে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। সবাই টেন্ট থেকে বেরিয়ে পড়লো এমন আওয়াজে বাকি অফিসাররা তাদের এক জায়গায় একত্র করছে। সবাই ভয় পেয়ে আছে এমন ঘটনা দেখে। আমার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসলো আটকে যাচ্ছে একদম নীল ঘরে আটকা পড়েছে ধাউ ধাউ করে জ্বলছে আমি হাউ মাউ করে কেঁদে উঠলাম নীলের এভাবে আটকা পড়ে দেখে লামিয়া আমাকে জড়িয়ে ধরে আছে সেও কান্না করছে। যথেষ্ট চেষ্টা করা হচ্ছে পানি নিভানোর। ততক্ষণে সূর্য উদয় হতে লাগলো সবাই আতঙ্কে সবাইকে স্থির করার চেষ্টা করা হচ্ছে।আমার কান্না থামছে না বার বার বলছি "নীল কেন করলেন..!!! এভাবে কেন নিজের ঝুঁকি নিলেন। এইসব বলে আমি ধুকরে ধুকরে কাদছি । লামিয়া ও কান্না করতে করতে বলল.."হয়েছে সায়েরা কাদিস না সে আর ফিরবে না"। আমি নীলকে ডাকছি।পরিস্থিতি শান্ত হচ্ছে আগুন নিভে আসছে সূর্য এবার পুরোপুরি উঠে গিয়েছে। কান্না করতে করতে মনে পড়লো নীলের সাথে কাটানো মুহূর্ত গুলো। মনে পড়লো সেই ছোট বেলার ঘটনা কীভাবে সে করতে পারলো এমন। সবার বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা হচ্ছে, আমার কান্না শুকিয়ে গিয়েছে। অফিসার সেই বাড়িতে অনেক খুজা খুঁজি করলেন কিন্তু নীলের অস্তিত্ব পেলেন না তিনি নিজেও ভেঙে পড়েছিলেন। প্রায় ৫-৬ জন স্টুডেন্টকে খুন করা হয়েছে। পুলিশের হাতে ট্রাক আটক পড়েছে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে সেখানে ছিল ল্যাব এর অধ্যাপক সহ আরো দুজন স্যার অর্গান গুলো দেশের ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় সাপ্লাই এর জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সব উদ্ধার করা হয়। নীল এভাবে নিখোঁজ হওয়ার পর আমার সব ঘটনা বুঝে ওঠা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছিল। মাথার ভেতর শুধু একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল—
“কি হলো? নীল কি আর ফিরবে না" আমি কান্নায় আবারো ভেঙে পড়লাম।লামিয়া আমাকে বলছে এক্সিডেন্ট এবার থাম আমরা সবাই ভয় পেয়ে আছি।"

অপরদিকে,

কেউ নীলকে জঙ্গলের ভেতর টেনে নিয়ে যাচ্ছে হালকা হালকা করে জ্ঞান ফিরছে তার।হঠাৎ বিষয় টা বুঝতেই নীল হাতড়াছে কিছু দিয়ে সেই হাতে আঘাত করতে। একটি শুকনো কাঠ হাতে আসতেই সেটা দিয়ে সজোরে আঘাত করে নীল হাতে আঘাত পেতেই প্রফেসর ছেড়ে দিলো দিয়ে নীলের পা । নিজেকে ছাড়াতে পারলেও মাথায় টন টন করছে অনেক ঠিক ভাবে দাঁড়াতে পারছে না। "এমন হত্যা কেন ঘটালি তুই কি দোষ ছিল ওদের ?" প্রফেসর হেসে উঠে বলল..." কোনো দোষ নেই আর সেই অর্গান গুলো তো ভালোর জন্যই ব্যবহৃত হবে।" সে আরো উচ্চস্বরে হেসে উঠে নীলের চোখে ভেসে ওঠে ৩ বছর আগের সেই মর্মান্তিক ঘটনা।

তিন বছর আগে নীলের বড় বোন ফতেমা ও এসেছিল এই ক্যাম্পিং এর উদ্দেশ্যে সেটাই ফার্স্ট ক্যাম্পিং এর শুরু।ফতেমা সেই জায়গায় প্রত্যেকটা দৃশ্য নোট করতো এমন কি প্রফেসর এর সেই হাউস এর সম্পর্কেও অনেক কথা লিখে।কিন্তু হঠাৎ খবর আসে যে ৩ জন নিখোঁজ হয়েছে সেই ক্যাম্পিং এর সফরে তার মধ্যে ফাতেমা ও ছিল। নীল জানতো তার বোন এভাবে হারাতে পারে না নিশ্চয়ই তার কিছু হয়েছে। টানা ৩ বছর খুঁজে বেরিয়েছে তার বোন কে পায়নি একে একে সব ঘটনা মিলিয়েই সে বেরিয়েছিল এর ক্যাম্পিং এর উদ্দেশ্যে।

নীল যখন জানলো তার বোনের হত্যা কারি আর কেউ না প্রফেসর যাকে সে ভালো ভাবতো সে নিজেই তখন আর তার জেদের বাঁধ থামলো না " জানোয়ার তুই এমন নির্মম ভাবে হত্যা করে বেঁচে যাবি ভেবেছিস আজাকে তোর মৃত্যু নিশ্চিত?" বলেই প্রফেসর এর দিকে তেড়ে আসে প্রফেসর ও ছুরি বের করে বলল ' এবার তুই ও পরপারে যাওয়ার জন্য তৈরি হো" নীল প্রফেসর এর গায়ে সেই কাঠ দিয়ে আঘাত করে নীল ফলস্বরুপ নীলের পেটের সাইড দিয়ে অনেক খানি কেটে গিয়ে রক্ত বইছে । প্রফেসর ছিটকে গেলেও তাড়াতাড়ি এসে নীলকে নিচে ফেলে গলা চেপে ধরে ছুরি দিয়ে আরেকটি আঘাত করতে যাবে নীল সেখানে থাকা বড় পাথর দিয়ে পুরো কান বরাবর আঘাত করে প্রফেসর ছিটকে পড়ে যায় নীল এবার বড় পাথর প্রফেসর এর মাথায় আঘাত করতেই সেন্সলেস হয়ে পড়ে যায় প্রফেসর নীল ভাবে যে সে মারা গিয়েছে নিশ্বাস নিচ্ছে না । নীল আর্তনাদ করে উঠে "আপু, আমি বিচার পেয়েছি, কিন্তু তোমাকে তো ফেরাতে পারলাম না।" নীল সেখান আর অপেক্ষা না করে দৌড়ে বেরিয়ে আসলো সে। সবাই পুলিশের আওতায় বাড়ি যাওয়ার জন্য বাসে উঠে গেলো। আমি যেতে চাইছিলাম না বার বার সেখানে চলে যেতে ইচ্ছে করছে। লামিয়া কোনমতে আমাকে বাসে চড়ায়। উইন্ডো ওপেন করা আমি সেই জঙ্গলের দিকে তাকিয়ে আছি। হঠাৎ একজন বেরিয়ে আসতেই আমি মাথা তুললাম। আরেকটু কাছে আসতেই দেখলাম নীল। আমি সিট ছেড়ে এক প্রকার দৌড়ে নীল বলে চিৎকার করে নেমে গেলাম। সবাই দেখছিল অফিসার ও নেমে এলেন। আমি গিয়েই নীলকে জড়িয়ে ধরলাম সেও এক প্রকার আমাকে জড়িয়ে ধরলো আমি কান্নায় পুরো ভেঙে পড়লাম সে আমাকে শান্ত করার ট্রাই করছে।আমার কান্না থামছেই না।
—“আপনি কেন এমন করলেন…! কেন নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেললেন…!”
নীল কিছুক্ষণ কিছু বলল না।
শুধু আমার মাথার ওপর হাত রাখল।
তার গলা দুর্বল, কিন্তু শান্ত—
—“কারণ এবারও দেরি করলে… কেউ আর ফিরত না।”
অফিসার এগিয়ে এলেন।
নীলের অবস্থা দেখে সঙ্গে সঙ্গে লোক ডাকলেন।
—“মেডিকেল টিম! দ্রুত!”
নীল দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিল না।
আমি তাকে শক্ত করে ধরে আছি।
সে হালকা হেসে বলল—
—“আপনি কাঁদছেন কেন?”
আমি রাগে কাঁপা গলায় বললাম—
—“আপনি নিখোঁজ হয়ে গেলেন… আগুন… সবাই ভাবলো…”
সে চোখ বন্ধ করে ফিসফিস করল—
—“আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম… আপনাকে আবার একা রেখে যাবো না।”
আমার বুক ধক করে উঠলো।
এই কথাটা…
এই একই কথা…
আমি যেন আগে কোথাও শুনেছি।
অনেক আগে।
হঠাৎ ছোটবেলার একটা দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে উঠল—
বৃষ্টিভেজা বিকেল।আমি ভয়ে কাঁদছি।একটা ছেলে বলছে—
—“আমি আছি। ভয় পেও না।”
আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম।
নীলের দিকে তাকালাম।
—“আপনি…!”
সে চোখ খুলে তাকালো।
একটু ক্লান্ত হাসি।
—“এবার মনে পড়ছে?”
আমি হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লাম আমি চিনি তাকে সে আমাকে অনেকবার সাহায্য করেছিল কিন্তু চিনতে পারিনি এবার আমি তাকে চিনেছি সে নীল যার সাথে আমার দেখা সেই ক্যাপ এর মাধ্যমে হয়েছিল এমন কি বৃষ্টির দিনে যখন রাস্তায় বজ্র পড়ার আওয়াজ শুনে কাদছিলাম। সে আমাকে সাহস দিয়ে বাড়ি অব্দি পৌঁছে দিয়েছিল সে আজ কত বড় হয়ে গিয়েছে।

অফিসার তখন বললেন—
—“কথা পরে হবে। আগে তাকে হাসপাতালে নিতে হবে।”
নীলকে স্ট্রেচারে তোলা হলো।
আমি তার হাত ছাড়তে পারছিলাম না।শেষ পর্যন্ত সবাইকে ফিরিয়ে নেওয়া হলো।
পুলিশ প্রফেসর এবং জড়িত সবাইকে নিয়ে গেল।
ঘটনার পর যেন সবাই এক অদৃশ্য ক্লান্তিতে ডুবে ছিল।
হাসি নেই, উত্তেজনা নেই…
শুধু বেঁচে ফেরার স্বস্তি।নীলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।কয়েকদিন সে অচেতন ছিল। জানা যায় প্রফেসর পালিয়েছে সর মারা যায়নি আমি প্রতিদিন যেতাম কখনো বাইরে বসে থাকতাম।কখনো চুপচাপ কাচের ওপাশ থেকে তাকিয়ে থাকতাম।
বলবার মতো কিছু থাকত না।
শুধু একটা প্রশ্ন —
সে ফিরবে তো?
চতুর্থ দিনে প্রথমবার সে চোখ খুলল।
ডাক্তার খবর দেওয়ার আগেই যেন আমি বুঝে গিয়েছিলাম।
ভিতরে ঢুকতেই দেখি সে তাকিয়ে আছে।
দুর্বল… কিন্তু জীবিত।
আমাকে দেখেই হালকা হাসল।
—“এবারও কাঁদবেন নাকি?”
আমার চোখ ভিজে উঠল।
কিন্তু এবার কাঁদিনি।
শুধু বললাম—
—“এবার আর আপনাকে হারাতে চাই না।”
সে কিছু বলল না।শুধু হাত বাড়িয়ে দিল।আমি তার হাত ধরলাম।কিছুক্ষণ পর লামিয়া ঢুকল।তারপর স্যাররাতারপর…আমাদের পরিবার।নীলের পরিবারও এসে গেছে।সবাই নীলকে দেখছে অনেক কথা শুনাচ্ছে কিন্তু নীলের ম্লান হাসি।তার মা কাদছেন তিনি ও ৪ দিন এখানেই ছিলেন। নীল জানালার দিকে তাকিয়ে আমাকে উদ্দেশ্য করে বলল—
—“শেষ হলো মনে হচ্ছে…”
আমি ধীরে বললাম—
—“হয়তো…”
সে আবার আমার দিকে তাকাল।
চোখে সেই পরিচিত ঝিলিক।

আমি এবার চোখ বন্ধ করলাম এবং বললাম আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই।প্রায় অনেকদিন পর নীল ও সুস্থ হয়ে উঠেছে। আমাদেরও চলে যাওয়ার সময় হয়ে গিয়েছে নীলকে আরেকবার দেখতে আসলাম সাথে বিদায় ও নীল আমাকে দেখে উঠে দাড়িয়ে হাত বাড়িয়ে ধরলো আমিও হাত মিলাতেই সে বলল..থ্যাঙ্ক ইউ মাই ইনভেস্টিগেটর পার্টনার। বলেই হ্যাঁচকা টান দিয়ে সে নিজের সাথে জড়িয়ে ধরে বলল.. কিছু বছর পর লাইফ পার্টনার ও হতে হবে আপনাকে।আমি অসভ্য বলে ছড়ানোর চেষ্টা করতেই সে আমাকে ছেড়ে দিয়ে বলল.. কন্ট্যাক্ট নম্বর সেভ করা আছে আপনার ফোনে ঢাকায় ফিরে কল দিয়েন অপেক্ষায় থাকবো। আর খুব শীঘ্রই আসছি... বুঝলাম সেদিন আমার মোবাইল নিয়ে যখন পুলিশ কে দেখলো দেখানো শেষে নীল আমার মোবাইলে নিজের নাম্বার সেভ করেছে।আমি লজ্জায় ফেটে পড়ছি তার সামনে গিয়ে গালে চুমু দেই তখনই লামিয়া চলে আসে।সে দেখে সাথে সাথে দরজা বন্ধ করে ফেলে আমি দৌড়ে গিয়ে দরজা টান দিতেই সে বলল "ভালোই রোমান্স হচ্ছে বাহ বাহ"
আমি কিছু বলতে যাবো তখন হেড অফিসার এসে আমাদের অনেক অনেক ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন জানান এমন কি কাল ইভেন্টার আয়োজন করা হয়েছে সেখানে উপস্থিত থাকতে হবে। তাই আরেকটা দিন থেকে সে জায়গায় যাওয়া হয় শোকাহিত সেই ছাত্র ছাত্রীদের মৃত্যুর জন্য তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হলো।শেষে নীলকে আর আমাকে সেরা ডিটেকটিভ আওয়ার্ড দিয়ে তিনি চলে যান। নীলকে ওইদিন দেখে মনে হচ্ছিল আমার যেমন বুদ্ধি তীক্ষ্ণ তেমনি তার সৌন্দর্য সেদিন নীল চশমা পড়েনি। শত শত মেয়ে তার পাশে ঘেরাও হয়েছে ফোন নম্বর অটোগ্রাফ এইসবের জন্য মনে মনে ঈর্ষান্বিত হচ্ছি লামিয়া আমার পাশে এসে বলে..লে তোর টু বি হাজবেন্ড কে আজকে মনে হয় এই মেয়েগুলো যেতেই দিবে না। তবে নীল নীল ভিড়ের মধ্য থেকে বেরিয়ে এসে যখন আমার হাতটা শক্ত করে ধরল, তখন মনে হচ্ছিল — এই হাত ধরা শুধু মুহূর্তের জন্য নয়, বরং এক অদৃশ্য প্রতিশ্রুতির মতো।আমরা দৌড়াচ্ছিলাম।পেছনে রয়ে যাচ্ছিল আওয়াজ, মানুষ, আলো, প্রশংসা…
আর সামনে খুলে যাচ্ছিল এক অজানা ভবিষ্যৎ।

গল্পের সেই রোমাঞ্চকর সফর হয়তো শেষ হয়েছে, কিন্তু আমাদের জীবনের এক নতুন গল্পের পাতা কেবল খুলতে শুরু করেছে। নীলিমার সেই শান্ত চোখগুলো আজ আমাকে বলছে— কিছু সমাপ্তি আসলে নতুন শুরুর নামান্তর।

~(সমাপ্ত)~

 #অদ্ভুত_চুক্তি(strange_agreement) #লেখনীতে:ইলিন_রহমান_( উমিরা)part:03নেহালের ঘুম ভাঙ্গলো এলার্ম এর আওয়াজে ।তবে সেটি বন...
21/02/2026

#অদ্ভুত_চুক্তি(strange_agreement)
#লেখনীতে:ইলিন_রহমান_( উমিরা)

part:03

নেহালের ঘুম ভাঙ্গলো এলার্ম এর আওয়াজে ।তবে সেটি বন্ধ করে সে আবার ঘুমিয়ে পড়ে ।হঠাৎ তার মনে পড়লো আজ কলেজে ফরহাদ স্যার এর ক্লাস আছে সেটাও আবার প্রথম ক্লাসেই । নেহাল ফরহাদ স্যারকে খুবই ভয় পায় কারণ স্যার খুবই স্ট্রিক্ট ।একমিনিট লেট হলে ক্লাসে ঢুকতে দেয় না। এর উপর কালকের ঘটনার জন্য পড়া কমপ্লিট করতে পারেনি আজকে ওর ১২ টা বাজবে ফুল সিওর।তাড়াহুড়ো করে ফ্রেশ হয়ে রুমের দিকে তাকাতেই তার চোখ আকাশে উঠে যাওয়ার মত অবস্থা ।রুম খুবই গুছানো কোনো কাপড় এলোমেলো নেই । বিছানার এক পাশে কলেজের ড্রেস প্রেস করে রাখা । ব্যাগ ও গুছানো সে কিছুই বুঝতে পারছে না।সে কি তার রুমে আছে নাকি ভুল করে অন্য রুমে চলে এসেছে ।সে একবার রুম থেকে বের হয়ে তার রুম প্লেটের নাম্বার দেখে নেয় ।নাহ ঠিকই তো আছে ।তবে রুম এত গুছানো কেনো? নাহ এখন আর এইসব বিষয়ে সময় নষ্ট করলে চলবে না তাড়াতাড়ি রেডী হওয়াটাই শ্রেয় । রেডী হয়ে কোনোমতে সে কলেজে এসেছে এখনো ৫মিনিট বাকি নিজের সবকিছু আবার চেক করে নেয় নাহ সব পারফেক্টলি আছে ।কিন্তু তার আইডি কার্ড টা সে পড়েনি লকারে কোথায় ফেলে রেখেছে সেটারও ঠিক নেই । লকারে খুজতে গেলে ১০-১২ মিনিট এর কম লাগবে না। আবার ফরহাদ স্যার যদি ঐটা নিয়ে বকাবকি করে হতাশা নিয়ে সে লকারটি খুলে । জিনিস পত্র পড়ে যাওয়ার ভয়ে সে চোখ বন্ধ করে ফেলে।তবে কিছুই পড়লো না মিট মিট করে তাকিয়ে দেখে লকারটিও গুছানো পিছে থেকে সৌরভ তার কাধে হাত রাখে ।আচমকাই চমকে উঠে সে ।

সৌরভ : কিরে আজকে এত তাড়াতাড়ি তোর আগমন যে কলেজে।

নেহাল ভয়ার্ত দৃষ্টিতে সৌরভের দিকে তাকিয়ে বলে....

নেহাল :দো.. দোস্ত... আমার সব কিছু এত পারফেক্ট ভাবে গুছানো কেনো ?

সৌরভ : কি ?

নেহাল হাতের ইশারায় সৌরভকে তার লকারটি দেখায় ।সৌরভ ও হালকা অবাক হয়ে তবে কিছু বলে না সে ভাবে নেহাল হয়তো নিজে ঠিক করে ওর সাথে মজা করছে ।

নেহাল :এখন দেখলি...!!

সৌরভ :চুপ থাকতো চল তুই ক্লাসে ।

নেহাল ও আর কিছু না বলে আইডি কার্ড নিয়ে চলে যায় ক্লাসে । স্যার ও ঢুকলেন সাথে সাথে ।ক্লাসে এসেই স্যার প্র্যাক্টিকাল গুলো দেখতে বলল ।নেহাল কি করবে ভেবে পাচ্ছে না সে তো প্র্যাক্টিকাল কমপ্লিট করেনি এখন কি হবে ?তার বন্ধুরাও একজন আরেকজনের দিকে তাকাকিয়ে দেখছে তাদের ও অবস্থা খারাপ । তবে সৌরভ বাদে। সৌরভ পড়াশুনায় খুবই ভালো এবং স্যার এর ক্লাসেও মনযোগী ক্লাসের কারো পড়া রেডী না থাকলেও সৌরভের সবসময় রেডি থাকে ।সৌরভের নোট চেক করে ফরহাদ স্যার নেহালকে বললেন প্র্যাক্টিকাল দেখাতে। নেহাল মনে মনে.....
"আজকেই স্যারকে আমার প্র্যাক্টিকাল দেখতে হবে আসলেই যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যা হয়..!!"আজকে তোর কি হবে রে নেহাল ?

ফরহাদ : কি হলো নেহাল ??? দেখাও...!!

নেহাল ব্যাগ থেকে প্র্যাক্টিকাল নোট এগিয়ে দেয় জানে কিছু লিখা নেই ।স্যার প্র্যাক্টিকাল নোট খুলে দেখে সব পারফেক্ট ভাবে নেহাল করেছে ...!!সবার থেকে সুন্দর এবং গুছানো লিখা।এইদিকে নেহাল খুবই ভয়ে আছে কখন যে স্যার অপমান করে আবার শাস্তিও দেয় । স্যার খুবই সুন্দর করে বলে বাহ্ নেহাল তুমি এত সুন্দর করে প্র্যাক্টিকাল করলে খুবই সুন্দর হয়েছে । সবার থেকে ইউনিক। নেহালসহ তার বন্ধুরাও তাজ্জব। সৌরভও অবাক তবে আবার খুশিও যে নেহালও পড়াশুনায় মনোযোগী হয়েছে । নেহালকে খুবই এপ্রিশিয়েট করে স্যার ।তবে যারা যারা করেনি তাদেরকে পুরো কলেজ পাঁচবার চক্কর কাটার শাস্তি দিয়েছে সাথে অপমান তো আছেই । কলেজ ও ছুটি হয়ে যায় ।তবে আজকের বিষয় নেহাল নিজেও কিছু বুঝতে পারছে না ।অনেক ম্যাজিকাল জিনিস ঘটলো আজকে । রুম, লকার গুছানো সাথে হোমওয়ার্ক ও কমপ্লিট ইসন্ট ইট রিয়েলি সারপ্রাইজিং ম্যাটার ? কিন্তু কেনো আর কিভাবে ঘটলো এই নিয়ে নেহাল খুবই চিন্তিত ।নাকি সে নিজেই এসব করে ভুলে গিয়েছে । সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে নেহাল পৌঁছে যায় তার ফ্ল্যাটে। সে একাই থাকে সেখানে।আগে তার সাথে একটা ছেলে থাকতো তবে সে ছেলেটি অন্য কোথাও শিফট হয়ে যায় । এইদিক সেইদিক ব্যাগ কলেজের কাপড় পাল্টে ছুঁড়ে মারে এলো মেলো অবস্থা করে রাখে পুরো।তারপর ক্লান্ত শরীর নিয়ে নেহাল গা এলিয়ে দেয় বিছানায় ।চোখ বুঁজে আসে তার কখন যে ঘুমিয়ে পড়ে বুঝতেই পারেনা।গভীর রাতে ঘুম.....(চলবে )

18/02/2026

🥹🌸(অপ্রাপ্তি প্রণয়)

 #অদ্ভুত_চুক্তি(strange_agreement)লেখিকা : ইলিন রহমান (উমিরা)part:02সাফিন, সৌরভ,নেহাল,আবির ,রাফি এবং সাকিব সবাই চলে যায়...
15/02/2026

#অদ্ভুত_চুক্তি(strange_agreement)
লেখিকা : ইলিন রহমান (উমিরা)

part:02

সাফিন, সৌরভ,নেহাল,আবির ,রাফি এবং সাকিব সবাই চলে যায় সেই বিল্ডিং এ।সবাই কৌতুহল হয়ে ঢুকে পড়ে ... এক দু পা করে সবাই সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে উঠে যাচ্ছে ।সাফিন বলে......

" জানিস তোরা এলিজার জন্মদিনের উপহার কি ছিল?"

সবাই : কী?

সাফিন :বেদনা দায়ক মৃত্যু ।

সবাই সবার দিকে একবার করে তাকায় ।নেহাল তো শোকড সাথে সাথে ভয়েও চুপসে যাচ্ছে ।সৌরভ তার কাধে হাত রেখে সাহস দেয় ।

আবির : এলিজা না খুব হাসিখুশি মেয়ে ছিল ।

সাফিন : হ্যাঁ।আমার মনে হয় কি জানিস ওর বান্ধবী ওকে খুন করেছে..!
সৌরভ : সেই মেয়ের কথা তো উল্লেখ ছিল না ।নাম ও অজানাই ।

সাফিন : হ্যাঁ । এটাই তো সমস্যা...!!হয়তো টাকা খাইয়ে সব ঢাকা পরে গিয়েছে ।

আবির : এলিজা তো অনাথ ছিল ।

সাফিন : হয়তো।

সাকিব : বড়লোক হলে কি না করা যায়..!!

রাফি : হ্যাঁ।তবে সবাই খারাপ না।

সাফিন : এসে পড়েছি...!!

সৌরভ : দরজা তো লক করা ।চাবি কোথায় পাবি ?

সাফিন : হে হে হে...আমি আছি কেনো ???বললাম না আই কেন অ্যারেঞ্জ এনিথিং..

নেহাল আস্তে আস্তে করে বলে : তুই তো আছিস শুধু শো অফ করতে...-_-

সাফিন : এই তুই কী বললি আবার বলতো ...!!

নেহাল :নাহ কিছু না..

সাফিন ব্যাগ থেকে চাবি বের করে এবং দরজার তালাটা খোলে। মেঘ খুবই গর্জন করছে ।ওরা ৬জন লুকিয়ে লুকিয়ে এসেছে এইদিকে । ট্যারেস গিয়ে ওরা দেখতে পায় একটি কোণে সারি করে ফুলের টব লাগানো ।খুবই বড় ছাদ । বৃষ্টির মাঝে এই মনোরম পরিবেশ আবহাওয়া খারাপ থাকলেও বৃষ্টি প্রেমিকদের অতি পছন্দের মধ্যে একটি সময়..!!

সৌরভ : আমার তো একদম ও মনে হয়না যে আমরা কিছু পাবো।আর তার উপর গল্পটাও মিথ্যা মনে হয়।

সাফিন :আমি শিউর যে এটা সত্য...!

নেহাল : এমন ভাবে বলছিস মনে হচ্ছে তুই ছিলি সেখানে।

সাফিন : থাকলে ভালোই হতো রে...।

আবির : এই ঘটনাটি ২০ বছর আগের তখন তো সে হাটা ই শিখেনি বাচ্চা বাবু ছিল । ২৪ ঘণ্টাই কান্না করত । সারাক্ষণ দেখে রাখতে হতো বদমাশটাকে।

সাফিন : এমন ভাবে বলছিস যেন মনে হচ্ছে তুই আমার আম্মু ছিলি ।

আবির : আম্মু কেনো বলছিস আব্বা বল আব্বা...!!

সাফিন : আয় তোকে আব্বা ডাক শোনাচ্ছি।

রাফি : যে কাজ করতে এসেছিস সেটা কর না কি একটু পর পর কাহিনী করছিস..!

সাফিন এবার তার ব্যাগ থেকে উইজা বোর্ড বের করে ।

[বি দ্রঃ যাঁরা উইজা বোর্ড চিনেন না তারা পড়া বন্ধ করতে পারেন হেহেহে 😁আরেহ একটু মজা করলাম 🙂 উইজা বোর্ড হচ্ছে এমন একটি বোর্ড যার মাধ্যমে যেকোনো আত্মার সাথে কথা বলা যায়। এই বোর্ডে আলফাবেট দেওয়া থাকে এবং একটি dice থাকে যার মাধ্যমে কথা বলা যায় ]

সবাই বোর্ড এর চারপাশে ঘেরাও করে বসে পড়ে এবং ডাইসটির উপর হাত রাখে । একজন একজন করে বলা শুরু করে যদি কোনো আত্মা থেকে থাকো তাহলে আমাদের বুঝার জন্য ইশারা দাও শেষে পাল্লা আসে নেহালের । কিন্তু নেহাল তো অনেক ভয় পেয়ে আছে ঠিক করে কিছু বলতেও পারছে না।সবাই তো বিরক্ত হয়ে যাচ্ছে একে তো ভূতের কোনো নাম নিশানা নেই তার উপর এই ভীতু ও বলছে না কিছু জমে বরফ হয়ে গিয়েছে বললেই চলে । ডাইস টাও নড়ছে না শুধু শুধু সময় নষ্ট করলো তারা।

সাফিন : বলবি নেহাল...!!নাহয় তোকে এইদিকে আটকে চলে যাবো ?

সৌরভ :ওকে সময় তো দে ।

নেহাল ভয়েরচটে তাড়াতাড়ি ৩ বা এলিজার নাম নিয়ে বলে উঠে "যদি এলিজার আত্মা এইদিকে থেকে থাকেন তাহলে আমকে কিছু করবেন না আমি নির্দোষ আপনি যা চাইবেন সেটাই করবো "

এর মধ্যে দাড়োয়ান এসে হাজির ।সবাইকে বকাবকি করা শুরু করে একবার যে শুরু হয়েছে থামার নাম নেই । সবাই তাড়াহুড়ো করে ব্যাগ গুছিয়ে চলে যাচ্ছিল । নেহাল ও সব কিছু নিয়ে চলেই যাচ্ছিল এমন সময় তার হাতটা একটি কাঠের টুকরোর সাথে লেগে কেটে যায় ।পাশে একটি কাপড়ের কিছু দেখতে পেয়ে সেটা হাতে পেঁচিয়ে দৌড় দেয় নেহাল । সবাই চলে যেতে দাড়োয়ান ও দরজা বন্ধ করে চলে যায় । সেই ছাদে আমরা কারো অস্তিত্ব টের পাই । দারোয়ান তাদের কে নিচে গিয়েও বকাবকি করে...

দারোয়ান : বিনা পারমিশনে অন্য বিল্ডিং এ ঢুকে এইগুলা কি করছিলে তোমারা সবাই ? জানো না এই বিল্ডিং এর ছাদে যাওয়া নিষেধ..!!বদমাশ পোলাপান।

সবাই : আঙ্কেল আর এমনটি হবে না সরি।

দারোয়ান আঙ্কেলের সাথে তাদের আগে থেকে পরিচয় তাই বেশি কিছু বলেনি ।একটু বকুনি দিয়ে তিনি তাদের চলে যেতে বললেন ।সবাই চলেও যায়।নেহাল তার রুমে ফিরে ফ্রেশ হয়ে তার হাতের ক্ষত জায়গায় মলম লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। তার রুমে একটি ছায়াকে দেখা যায়......(চলবে)

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ইলিন রহমান উমিরা -Elin Rahman Umira posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category