01/03/2026
অপ্রাপ্তি প্রণয়
#পর্ব :১১
#ইলিন_রহমান_উমিরা
আরুশি বাইকের পেছনে আড়ষ্ট হয়ে বসার পর শুভাদিত্য সামনের দিকে ঝুঁকে হ্যান্ডেল ধরল। স্টার্ট দেওয়ার আগে মিররে আরুশির দ্বিধাগ্রস্ত মুখটা একবার দেখে নিয়ে শান্ত গলায় বলল—
"একটু শক্ত করে ধরে বসুন, নাহলে পড়ে যেতে পারেন। রাস্তাটা বেশ এবড়োখেবড়ো।"
এতটা নিখুঁত আর সহজ বাংলা উচ্চারণ শুভাদিত্যের মুখে আশা করেনি আরুশি। সে এতটাই অবাক হলো যে নিজের অজান্তেই প্রশ্নটা করে ফেলল, "আপনি... আপনি বাংলা বলতে পারেন?"
শুভাদিত্য এবার সাইড লুকিং গ্লাসে আরুশির চোখের দিকে সরাসরি তাকালো। তার ঠোঁটের কোণে খুব সূক্ষ্ম একটা হাসির রেখা ফুটে উঠল— যা হয়তো কেবল গ্লাসেই ধরা সম্ভব। সে ধীরস্থিরভাবে জবাব দিল—
"হ্যাঁ, পারি তো। খুব একটা খারাপ কি বললাম?"
আরুশি লক্ষ্য করল শুভাদিত্যের কণ্ঠস্বরটা বেশ গম্ভীর হলেও তাতে এক অদ্ভুত প্রশান্তি আছে। তার চোখের দৃষ্টির সামনে আরুশি কেমন যেন গুলিয়ে ফেলল নিজেকে। দ্রুত দৃষ্টি নামিয়ে নিয়ে ওড়নাটা আঙুলে জড়াতে জড়াতে বলল—
"নাহ, আসলে আশা করিনি তো... তাই। নাহ, কিছু না।"
বাইকটা চলতে শুরু করতেই আরুশি ভারসাম্য রাখতে শুভাদিত্যের কাঁধটা আলতো করে ছুঁলো। পড়ন্ত বিকেলের বাতাসে তখন কেবল বাইকের ইঞ্জিনের শব্দ আর দু'জন মানুষের নীরব কথোপকথন।
জড়ো শোরো আওয়াজে বাড়ীর ভিতর বাইক ঢুকে পড়লো অনুরাধা বাহিরে বেরিয়ে দেখেন শুভাদিত্যের সাথে আরুশি ফিরেছে। শুভাদিত্যের বাইক থেকে নেমে যায় আরুশী অনুরাধা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন.." কি হয়েছে আরুশি এত দেরি করলে যে ফিরতে?"
আরুশী ভাঙ্গা ভাঙ্গা কন্ঠে বলল.." আন্টি শুভাদিত্য যদি না থাকতেন তাহলে আমার হয়তো আর কখনো ফিরা হতো না।"
অনুরাধা শুভাদিত্যের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন.."কি হয়েছে শুভ ?"
শুভাদিত্য বাইক থেকে নেমে বলল.."তেমন কিছু হয়নি কিছু রাস্তার কুকুর আছে না ঘেউ ঘেউ করার জন্য তারই শিকার হচ্ছিলো।"
এই বলে শুভাদিত্য ঘরের দিকে পা বাড়ায়। অনুরাধা আরুশিকে বলল.." তোমার এভাবে একা আসা ঠিক হয়নি আগে। আজ শুভ ছিল দেখে না হয় আমরা তোমার পরিবারের কাছে কি বলতাম বলো ?"
আরুশি মাথা নিচু রেখেই বলে উঠে.."আন্টি শুভাদিত্যের ঘাড় থেকে রক্ত বের হচ্ছে ।আরুশির কথা শেষ হওয়ার আগেই অনুরাধা আঁতকে উঠলেন। তিনি দ্রুত শুভাদিত্যের দিকে এগিয়ে গিয়ে ওর কাঁধের ওপরের জ্যাকেটটা টেনে ধরলেন। শুভাদিত্য তখনো নির্বিকার, যেন নিজের শরীরে চোটের চেয়েও আরুশির ফিরে আসাটুকুই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
অনুরাধা আর্তনাদ করে উঠলেন, "একি শুভ! এতোটা রক্ত বেরোচ্ছে আর তুই একটা কথাও বলছিস না?"
শুভাদিত্য থেমে গেল। পা বাড়াতে গিয়েও আরুশির করুণ মুখটার দিকে একবার আড়চোখে তাকালো। তারপর খুব নির্লিপ্ত গলায় বলল—
"আরে ও কিছু না মা। আরুশিকে বাঁচাতে গিয়ে ওই কুকুরগুলোর সাথে একটু ধ্বস্তাধস্তি হয়েছিল। জ্যাকেটের ভেতর দিয়ে হয়তো সামান্য নখ লেগেছে।"
আরুশির চোখ তখন জলে টলমল করছে। সে অপরাধীর মতো দাঁড়িয়ে দেখছিল— শুভাদিত্যের সাদা শার্টের কলারটা রক্তে ভিজে উঠেছে। সে কাঁপা গলায় বলে উঠল—
"আমার জন্যই এটা হয়েছে আন্টি। আমি যদি সাবধানে আসতাম..."
অনুরাধা আরুশির হাত ধরে একটু শান্ত করার চেষ্টা করলেন, কিন্তু তার চোখ ছিল ছেলের দিকে। তিনি বকা দেওয়ার সুরে বললেন—
"তুই চিরকালই এমন জেদি শুভ! যা, ঘরে গিয়ে বস। আমি ব্যান্ডেজ আর ওষুধ নিয়ে আসছি। আরুশি মা, তুমিও এসো। আগে ওর ক্ষতটা পরিষ্কার করতে হবে।"
শুভাদিত্য মৃদু হাসল, সেই একই রহস্যময় আর শান্ত হাসি। সে আরুশির চোখের দিকে তাকিয়ে নিচু স্বরে বলল—
"কান্না করলে আপনাকে সত্যি হিলেরিয়াস (হাস্যকর) লাগে।"
অনুরাধা দ্রুত ফার্স্ট এইড বক্স নিয়ে ফিরে এলেন। শুভাদিত্য ইতিমধ্যেই সোফার পাশে বসে জ্যাকেট খুলে রেখেছে। সাদা শার্টের কাঁধের অংশটা রক্তে ভিজে গাঢ় লাল হয়ে উঠেছে।
“শার্টটা খুলে ফেল,” কড়া গলায় বললেন অনুরাধা।
শুভাদিত্য এক মুহূর্ত চুপ করে রইল। তারপর ধীরে ধীরে বোতাম খুলতে শুরু করল। আরুশি দাঁড়িয়ে আছে একটু দূরে— কিন্তু চোখ সরাতে পারছে না।
শার্ট খুলতেই কাঁধের ওপরের কাটা দাগটা স্পষ্ট হয়ে উঠল। খুব গভীর না হলেও লম্বা চিরে যাওয়া ক্ষত। শুকনো রক্ত জমে আছে চারপাশে।
অনুরাধা তুলো ভিজিয়ে ক্ষত পরিষ্কার করতে শুরু করলেন।
“একটুও সাবধানে থাকতে পারিস না?” তার গলায় রাগের সঙ্গে ভয় মিশে আছে।
শুভাদিত্য কোনো উত্তর দিল না।
আরুশির বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল।
সে ধীরে ধীরে এগিয়ে এল।
“আমি... আমি সাহায্য করতে পারি?”
অনুরাধা তাকালেন তার দিকে। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন—
“এইটা ধরো।”
আরুশির হাতে তুলোর বাটি তুলে দিলেন।
আরুশির আঙুল কাঁপছিল। সে ধীরে ধীরে তুলো বাড়িয়ে দিল।
ঠিক তখনই শুভাদিত্যের চোখ তার হাতের দিকে গেল।
কাঁপছে।
সে চোখ সরিয়ে নিল।
অনুরাধা ব্যান্ডেজ করতে করতে বললেন—
“আজ থেকে একা কোথাও যাবে না, আরুশি। বুঝেছ?”
আরুশি মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।
“জি আন্টি।”
অনুরাধা ব্যান্ডেজ শেষ করে রান্নাঘরের দিকে গেলেন আরুশিকে চা করার কথা বলে। বসার ঘরে এখন শুধু শুভদিত্য আর আরুশি। শুভদিত্য সোফায় হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে আছে, ফর্সা কপালে কয়েকটা অবাধ্য চুল এসে পড়েছে। আরুশি ফার্স্ট এইড বক্সটা গোছাতে গিয়েও বারবার তার দিকে তাকাচ্ছে।
"দাগটা কি থেকে যাবে?" আরুশির খুব নিচু স্বরে করা প্রশ্নে শুভদিত্য চোখ মেলল।
সে একবার নিজের ব্যান্ডেজ করা কাঁধের দিকে তাকিয়ে পুনরায় আরুশির দিকে তাকাল। সেই অদ্ভুত জলপাই রঙের চোখে এখন কোনো কঠোরতা নেই।
"দাগ থাকা ভালো আরুশি।
আরুশি চুপ করে রইল। শুভদিত্য হঠাৎ একটু ঝুঁকে এসে বলল, "আচ্ছা, ওই সময় অত ভয় পেয়েছিলেন কেন? আমি কি দেখতে খুব বেশি ভুতুড়ে?"
আরুশি অপ্রস্তুত হয়ে বলল, "নাহ... মানে আপনি যেভাবে মারপিট করছিলেন, আর আপনার চোখগুলো..."
"চোখগুলো কী?" শুভদিত্যর কণ্ঠে এবার কৌতুক।
"খুব ভয়ংকর লাগছিল। মনে হচ্ছিল আপনি কাউকে মেরেই ফেলবেন।"
শুভদিত্য একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সোজা হয়ে বসল। "রাগের মাথায় মানুষ যা করে, তা সে নিজেও জানে না। কিন্তু আপনাকে যখন ওরা ওভাবে ঘিরে ধরেছিল, তখন আমার মাথা ঠিক রাখার মতো বিলাসিতা করার সময় ছিল না।"
আরুশি এবার সরাসরি তার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, "ধন্যবাদ। আপনি না থাকলে আজ আমার কী হতো আমি জানি না।"
শুভদিত্য তার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থেকে ধীর গলায় বলল, "ধন্যবাদ দিতে হবে না। শুধু একটা কথা মনে রাখবেন—দিল্লির রাস্তা যেমন এবড়োখেবড়ো, এখানকার মানুষগুলোও তেমন।
আর কোনো কথা না বারিয়ে শুভ নিজের রুমে চলে গেল । অনুরাধা চা নিয়ে হাজির হলেন.."আরুশি যাও ফ্রেশ হয়ে আসো আর বেশি ভেবো না সব ঠিক আছে কাল থেকে শুভকে বলবো ড্রপ করে দিয়ে আসতে কেমন, আর খবরদার তুমি এখানে নতুন শর্ট কাট নিতে যাবা না কখনো।" মাথায় হাত রেখে অনুরাধা বলে উঠলেন।
আরুশি আজকে বড় বাঁচা বেঁচে গেল ওয়াশরুমে গিয়ে আয়নায় তাকিয়ে অঝোরে কেঁদে উঠলো।আজ তার ইজ্জতের মূল্য থাকতো না নিজেকে কিভাবে বাঁচাতো ঠিক সময়ে শুভ না আসলে কি হতো ওর? রাত টা কোনো ভাবে ভয় আর চিন্তায় কেটে যাচ্ছে আরুশির বাড়ীর সবাই শুনে তাকে ভয় পেতে বারণ করেছে।তাঁরা আরুশির সাথে আছে বলে আরুশির ভয়টা অনেক খানি কমে গেল।
পরদিন সকাল থেকেই আরুশির মনটা উশখুশ করছে। কাল রাতে শুভদিত্যর ওই রক্তমাখা শার্ট আর শান্ত মুখটা বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। লোকটা তাকে বাঁচানোর জন্য নিজের শরীরের তোয়াক্কা করেনি, অথচ মুখে একটা টুঁ শব্দও করেনি। আরুশি ঠিক করল, আজ সে নিজের হাতে কিছু রান্না করে শুভদিত্যকে খাওয়াবে। এটাই হবে তার পক্ষ থেকে ছোট্ট একটা কৃতজ্ঞতা।বিকেলে সুপার শপে গিয়ে আরুশি ইলিশ মাছ আর সরষে জোগাড় করে বাড়ি ফিরলো। জানভি দরজা খুলে আরুশির হাতে বাজার দেখে জিজ্ঞাসা করে উঠলো..
— "কি ব্যাপার আরু দি? হঠাৎ রান্নার এতো শখ চাপল যে? মা তো রান্না করেই রেখেছে।"
আরুশি লাজুক হেসে বলল, "আসলে শুভদিত্যর জন্য আর কি। জানভি একসাইটেড হয়ে বলল... "দি তুমি রান্না করবে?"
আরুশি মাথা ঝাঁকালো।" জানভী আমাকে একটু হেল্প করতে হবে কিন্তু"
জানভি হাসি মুখে উত্তর দিলো..
—"অবশ্যই দি কেন নয়"
বিকেলে রান্নাঘরে আরুশির ব্যস্ততা শুরু হলোরান্নাঘর থেকে আসা সরিষার তেলের সেই তীব্র ঝাঁঝালো আর মশলাদার সুবাস যখন পুরো ড্রয়িং রুমে ছড়িয়ে পড়ল, জানভি বই ফেলে রান্নাঘরে ছুটে এল। সে নাকে হাত দিয়ে অদ্ভুত এক বিস্ময় নিয়ে আরুশির দিকে তাকাল।
— "ওহ মাই গড, আরু দি! এটা কিসের ঘ্রাণ? এত স্ট্রং আর ডিফারেন্ট!"
আরুশি তখন কড়াইতে সরিষা ইলিশের ঝোলটা কষাচ্ছিল। সে হেসে বলল, "এটা সরিষার তেল আর ইলিশ মাছের ঘ্রাণ জানভি। আমাদের বাংলাদেশে এটা খুব জনপ্রিয়।"
জানভি একদম কড়াইয়ের কাছে নাক নিয়ে এসে লম্বা একটা নিঃশ্বাস নিল। তার চোখেমুখে তখন একরাশ কৌতূহল।
— "ইট স্মেলস আমেজিং (It smells amazing)! আমি এর আগে কখনো এরকম কোনো ঘ্রাণ পাইনি। দিল্লির খাবারে তো আমরা গরম মশলা আর মাখনের ঘ্রাণ পাই, কিন্তু এই ঝাঁঝটা তো একদম আলাদা! দিদি, আমাকে একটু টেস্ট করতে দাও না প্লিজ?"
আরুশি একটা ছোট চামচে একটু ঝোল তুলে জানভির দিকে বাড়িয়ে দিল। রান্নাঘরের দরজায় দাঁড়াতেই অনুরাধা আর জানভী তাকে দেখে অবাক হলেন। বাসমতি চাল আর ইলিশ মাছের গন্ধ পেয়ে অনুরাধা ভ্রু কুঁচকে এগিয়ে এলেন।
— "এসব কী আরুশি মা? এই অসময়ে মাছ-পোলাওয়ের আয়োজন কেন?"
–" আসলে আন্টি আমি নিজের থেকে কিছু করতে চাইছিলাম আর শুভাদিত্যকে ভালোভাবে থ্যাঙ্ক ইউ জানানো হয়নি তাই আর কি.."
—তীব্র ঘ্রাণ শুভ সহ্য করতে পারবে না। ও তো এমনিতেই খুব সিলেক্টিভ খাবার খায়। ও যদি একতলা থেকে এই ঝাঁঝ পায়, তবে রেগে আগুন হয়ে যাবে। দিল্লিতে আমরা এতোটা মশলাদার আর তেলযুক্ত খাবার সচরাচর ঘরে বানাই না।"
জানভি মায়ের দিকে তাকিয়ে জেদ ধরল, "আরে ধুর মা! ভাইয়া কী বলবে সেটা পরে দেখা যাবে। আগে দেখো আরু দি কী অসাধারণ একটা জিনিস বানাচ্ছে! মা, আমি এর আগে কোনোদিন এরকম কিছু খাইনি। আমার আজ এটাই চাই!"
অনুরাধা আরুশির দিকে তাকিয়ে একটু নিচু স্বরে বললেন, "শুভ ওর ডায়েট নিয়ে খুব খিটখিটে। ও শুধু গ্রিলড ভেজিটেবল আর হালকা চিকেন পছন্দ করে। এই মাছের তীব্র আঁশটে গন্ধ আর সরিষার ঝাঁঝ ও একদমই পছন্দ করবে না। তুমি শুধু শুধু কষ্ট করছ মা, ও হয়তো এটা মুখেও তুলবে না।"
আরুশি একটু দমে গেল।আসলেই সে এটা ভাবেনি এখন সে কি করবে ?
— "একদম না! মা ভয় পাচ্ছে তো কী হয়েছে? ভাইয়া না খেলে না খাবে, আমি আর তুমি মিলে সব সাবাড় করে দেব। আরু দি, তুমি রান্নাটা শেষ করো তো! এই ঘ্রাণটাই আমাকে পাগল করে দিচ্ছে, স্বাদটা না জানি কেমন হবে!"
অনুরাধা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ওড়নাটা মাথায় টেনে দিয়ে বেরিয়ে গেলেন। তিনি জানেন তাঁর মেয়ে একবার জেদ ধরলে তাকে থামানো মুশকিল। তবে তাঁর মনে ভয়— শুভদিত্য যখন ঘরে ফিরবে, তখন এই ঘ্রাণে হয়তো পুরো বাড়ি মাথায় তুলবে।
জানভি আরুশির পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিটি স্টেপ দেখতে লাগল। তার কাছে মনে হচ্ছে সে কোনো রহস্যময় জাদুকরী ল্যাবরেটরিতে দাঁড়িয়ে আছে।
— "জানো দিদি, দিল্লিতে আমরা সচরাচর মাটন বা চিকেন খাই, কিন্তু এই ফিশ কারিটা দেখতেই অন্যরকম লাগছে। তাড়াতাড়ি শেষ করো, আমি ওয়েট করতে পারছি না!"
রান্না শেষ হলো। বাসমতি চালের ধোঁয়া ওঠা পোলাও আর লালচে সরিষা ইলিশ যখন টেবিলে রাখা হলো, জানভি প্রায় প্লেট হাতে বসেই পড়েছিল। ঠিক তখনই বাইরে শুভদিত্যর বাইকের গর্জন শোনা গেল। জানভি জিব কেটে ফিসফিস করে বলল— "দ্য লায়ন ইজ হিয়ার
শুভদিত্য ঘরে ঢুকেই থমকে গেল। দিল্লির সেই শুকনো বাতাসে তখন বাঙালির খাঁটি ইলিশের রাজকীয় ঘ্রাণ। সে সরাসরি ডাইনিং টেবিলের দিকে এগিয়ে এল। আরুশি জড়োসড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। শুভদিত্য টেবিলের কাছে এসে বাটিটার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকালো।
— "হোয়াট ইজ দিস স্মেল?" শুভদিত্যর গম্ভীর কণ্ঠস্বর ড্রয়িং রুমে প্রতিধ্বনিত হলো।
(চলবে )