24/05/2026
“ইতিহাসের পাতা থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেওয়া একটি অসাধারণ এবং আবেগঘন সাক্ষাৎকার”
যেখানে তিনি অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল ভাষায় ব্যাখ্যা করেছেন কীভাবে তিনি 'বঙ্গবন্ধু' এবং 'জাতির পিতা' উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন।
পুরো সাক্ষাৎকারটির বাংলা অনুবাদ নিচে দেওয়া হলো:👇👇
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী: "আমি জানি আপনাকে 'বঙ্গবন্ধু' বলা হয়, যার অর্থ 'বাংলার বন্ধু'।
কিন্তু আপনাকে কেন এই নামে ডাকা হয়, তার সঠিক কারণটি আমি ঠিক বুঝতে পারছি না।
আমার মনে হয় আপনাকে বরং 'বাংলার পিতা' বা 'জাতির পিতা' বলা উচিত।"
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: "এই উপাধিটি আমার দেশের মানুষ আমাকে দিয়েছিল, যখন আমাদের অধিকারের লড়াই চলছিল।
কারণ তখনকার পরিস্থিতিটা এমনই ছিল যে, আমাদের জোরপূর্বক পাকিস্তানের সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছিল।
এটা ছিল এক আবেগের ব্যাপার, আপনি জানেন...
তারা (পাকিস্তানি শাসকরা) মোটেও পছন্দ করত না যে আমরা নিজেদের 'বাঙালি' পরিচয় দিই।
তারা বাংলাদেশের নাম পরিবর্তন করতে চেয়েছিল।
তারা 'বাংলা' নাম পরিবর্তন করে রাখতে চেয়েছিল 'পূর্ব পাকিস্তান', বুঝতে পেরেছেন?
কিন্তু বাঙালিরা তা প্রত্যাখ্যান করে এবং এর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে।
তারা বলেছিল, 'আমরা আমাদের মাতৃভূমির নাম পরিবর্তন করতে দেব না।'
ঠিক এই কারণেই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।
আর আমি এই বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিই।
তখনই বাংলাদেশের মানুষ আমাকে এই উপাধি দেয়।
তারা বলে, 'আমরা শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' অর্থাৎ বাংলার বন্ধু বলে ডাকব।'
কারণ বাংলাই আমার ভাষা, বাংলাই আমার সংস্কৃতি, বাংলাই আমার মাটি, বাংলাই আমার সাহিত্য, বাংলাই আমার সবকিছু।
তাই আমার দেশের সেই গর্বিত মানুষেরা আমাকে এই উপাধিতে ভূষিত করে, যখন আমি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তি পেয়ে বের হয়ে আসি।
এটি এমন এক উপাধি যা তারা আমাকে দিয়েছে এবং তারাই এটি ব্যবহার করে। আমি নিজে এটি ব্যবহার করি না, তারা ভালোবেসে আমাকে এই নামে ডাকে।
তবে একই সাথে, যখন এই জাতীয়তাবোধ চূড়ান্ত রূপ নিল এবং আমি পুরো আন্দোলনের নেতৃত্ব দিলাম ও আমার দেশের মানুষকে নিয়ে লড়াই করলাম...
যেহেতু তারা আমাকে ভীষণ ভালোবাসে এবং আমিও তাদের প্রাণ দিয়ে ভালোবাসি,
তাই তারা আমাকে 'জাতির পিতা' বানিয়েছে।
কারণ এই জাতি এক নতুন জীবন এবং নতুন জন্ম লাভ করেছে। “আর এই কারণেই তারা আমাকে 'জাতির পিতা' বলে ডাকে”.
…